ঢাকা ০২:৩৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
পুরান ঢাকায় এক পঙ্গু হতদরিদ্র ব্যক্তিকে হুইলচেয়ার উপহার দিলো ছাত্রদল নেতারা  হযরতপুরে চাচা হাজী দুঃখ মিয়া বিরুদ্ধে জাল দলিল ও জমি দখলের অভিযোগ তুলেছে ভাতিজা আলা. পুরান ঢাকার সফল সংগঠক মোস্তাকের জন্মদিন পালিত কেরানীগঞ্জে ডিবি পুলিশের অভিযানে ৫০ পিস ইয়াবাসহ একজন গ্রেপ্তার জেলা প্রশাসকের সঙ্গে অতুল বসাকের মতবিনিময়, রামরাই বিনোদন পার্কের প্রাচীর নির্মাণ নিয়ে আলোচনা সাংবাদিক মুন্না মিয়ার মৃত্যুতে ডিএসইসির শোক কেরানীগঞ্জে ডিবির বিশেষ অভিযান: ইয়াবা ও হেরোইনসহ দুই মাদক কারবারি গ্রেপ্তার, প্রতারণা মামলায় আরও দুইজন আটক। কেরানীগঞ্জে ডিবির অভিযানে ছাত্রলীগের সহসভাপতি গ্রেপ্তার সিনিয়র ক্রাইম রিপোর্টার মোঃ শাহাদাৎ হোসেন চাঁপাইনবাবগঞ্জে ১ কেজি গাঁজাসহ নারীসহ গ্রেপ্তার ২ মালয়েশিয়ায় পাঠানোর প্রলোভনে দুই কিশোরকে মিয়ানমারে পাচারের অভিযোগ

সাভারে মাদক ও দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার গ্রেপ্তারের পর জামিনে মুক্তি!ফের মাদক ব্যবসার অভিযোগে ক্ষোভ এলাকাবাসীর?

অনলাইন ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ০৬:২৯:১৮ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২১ অগাস্ট ২০২৬
  • / 65
আজকের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

 

সাভার প্রতিনিধি:
ঢাকার সাভারে মাদক ও দেশীয় অস্ত্র উদ্ধারের ঘটনায় পাঁচজনকে গ্রেপ্তারের পরও এলাকায় মাদক ব্যবসা বন্ধ না হওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ ও ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযানে গ্রেপ্তার হওয়ার পর কয়েকজন জামিনে বেরিয়ে এসে ফের মাদক ব্যবসায় জড়িয়ে পড়েছেন। তবে নতুন করে কারও বিরুদ্ধে অপরাধের অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে কি না, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিশ্চিত বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

পুলিশের তথ্যমতে, ২০২৫ সালের ৪ জানুয়ারি রাত আনুমানিক ৯টা ২০ মিনিটে সাভার মডেল থানা পুলিশের একটি বিশেষ দল ভরারী-রাজফুলবাড়িয়া এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানে একটি পাঁচতলা ভবনের দ্বিতীয় তলার একটি ফ্ল্যাটে তল্লাশি চালিয়ে ১৫টি ধারালো দেশীয় অস্ত্র (রামদা) ও দুই লিটার বিদেশি মদ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

পুলিশ জানায়, সাভার মডেল থানার তৎকালীন অফিসার ইনচার্জের নেতৃত্বে এসআই (নিঃ) মো. কাদের শেখ সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে ‘লাকি ভিলা’ নামের ভবনের বি-৩ ফ্ল্যাটে অভিযান চালান। ফ্ল্যাটের একটি বেডরুমের খাটের নিচে থাকা সাদা প্লাস্টিকের বস্তা থেকে ১৫টি লোহার তৈরি ধারালো রামদা এবং দুটি বিদেশি মদের বোতল উদ্ধার করা হয়।

অভিযানে মো. শামীম খান (৪১) পিতা- নুরু খান, মো. সামিনুর রহমান (৪১) পিতা- কালু মিয়া, মো. শাহীন (৪০) মো. রাজা হোসেন (৩৫) পিতা- জুলহাস, মোঃ হাসানুজ্জামান (৩৬)—এই পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয় বলে পুলিশ জানায়। পরে উদ্ধারকৃত আলামত জব্দ করে তাদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের এবং আদালতে সোপর্দ করা হয়।

তবে স্থানীয়দের দাবি, ওই ঘটনার পর গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মধ্যে, মোঃ শামীম খান, মোহাম্মদ সামিনুর রহমান, মোঃ শাহিন, মোঃ রাজু,মোঃ হাসানুজ্জামান, বাবু- পিতা ওলিন, সাত্তার (৪০) সহ জামিনে মুক্ত হয়ে এলাকায় আবারও মাদকসংক্রান্ত কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়েছেন। বিশেষ করে তেঁতুলঝোড়া ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ড এলাকায় গটফাটার আব্বাস খান ও রহমান খানের নেতৃত্বে মাদক ব্যবসা পরিচালিত হচ্ছে—এমন অভিযোগ তুলেছেন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দা।

স্থানীয়দের ভাষ্য, মাদকবিরোধী অভিযানে গ্রেপ্তার ও মামলা হলেও পরবর্তীতে অভিযুক্তরা জামিনে বেরিয়ে এসে আবার একই ধরনের কর্মকাণ্ডে জড়ালে সাধারণ মানুষের মধ্যে হতাশা তৈরি হয়। এতে এলাকার তরুণ ও কিশোরদের একটি অংশ মাদকের ঝুঁকিতে পড়ছে বলেও অভিযোগ তাদের।

একজন স্থানীয় বাসিন্দা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘অভিযান চালিয়ে গ্রেপ্তার করা হলেও যদি পরে আবার এলাকায় মাদক বিক্রির অভিযোগ ওঠে, তাহলে স্থায়ীভাবে মাদক নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হয়ে পড়ে। আমরা প্রশাসনের কঠোর ও নিয়মিত নজরদারি চাই।’

এলাকাবাসীর অভিযোগ, মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িতদের বিষয়ে নিরপেক্ষ তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে মাদক কারবারের সঙ্গে কারা জড়িত, তাদের পেছনে কোনো প্রভাবশালী ব্যক্তি বা চক্র রয়েছে কি না—তা খতিয়ে দেখার দাবি জানিয়েছেন তারা।

স্থানীয়দের অভিযোগে ‘মাদক ব্যবসার গডফাদার’ হিসেবে আব্বাস খান ও রহমান খানের নাম উল্লেখ করা হলেও, তাদের বিরুদ্ধে নতুন করে মাদক ব্যবসার অভিযোগের সত্যতা কিংবা কোনো সাম্প্রতিক মামলার তথ্য এই প্রতিবেদনের মাধ্যমে স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি। ফলে তাদের বিরুদ্ধে উত্থাপিত বিষয়গুলোকে অভিযোগ হিসেবেই বিবেচনা করা হচ্ছে।

এলাকাবাসীর দাবি, শুধু বিচ্ছিন্ন অভিযান নয়—মাদক ব্যবসার মূল উৎস, সরবরাহকারী, অর্থের যোগানদাতা এবং পৃষ্ঠপোষকদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে হবে। পাশাপাশি মাদক ও দেশীয় অস্ত্র উদ্ধারে পুলিশের অভিযান আরও জোরদার করার আহ্বান জানিয়েছেন তারা এবং আমরা ৪ নং ওয়ার্ড বাসী বিএনপি’র জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ও ডাক্তার ও ঢাকা ২ আসনের সংসদ সদস্য আমান উল্লাহ আমান ও প্রশাসনের নিকট জোর দাবী জানাই এদের বিষয়টা খতিয়ে দেখে এবং তাদের কে আইনের আওতায় আনার জন্য আকুল আবেদন জানাচ্ছি

সাভার মডেল থানা পুলিশ জানিয়েছে, মাদক ও অপরাধবিরোধী অভিযান নিয়মিতভাবে পরিচালনা করা হচ্ছে। মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট তথ্য ও প্রমাণ পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

সাভারে মাদক ও দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার গ্রেপ্তারের পর জামিনে মুক্তি!ফের মাদক ব্যবসার অভিযোগে ক্ষোভ এলাকাবাসীর?

আপডেট সময় : ০৬:২৯:১৮ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২১ অগাস্ট ২০২৬

 

সাভার প্রতিনিধি:
ঢাকার সাভারে মাদক ও দেশীয় অস্ত্র উদ্ধারের ঘটনায় পাঁচজনকে গ্রেপ্তারের পরও এলাকায় মাদক ব্যবসা বন্ধ না হওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ ও ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযানে গ্রেপ্তার হওয়ার পর কয়েকজন জামিনে বেরিয়ে এসে ফের মাদক ব্যবসায় জড়িয়ে পড়েছেন। তবে নতুন করে কারও বিরুদ্ধে অপরাধের অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে কি না, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিশ্চিত বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

পুলিশের তথ্যমতে, ২০২৫ সালের ৪ জানুয়ারি রাত আনুমানিক ৯টা ২০ মিনিটে সাভার মডেল থানা পুলিশের একটি বিশেষ দল ভরারী-রাজফুলবাড়িয়া এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানে একটি পাঁচতলা ভবনের দ্বিতীয় তলার একটি ফ্ল্যাটে তল্লাশি চালিয়ে ১৫টি ধারালো দেশীয় অস্ত্র (রামদা) ও দুই লিটার বিদেশি মদ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

পুলিশ জানায়, সাভার মডেল থানার তৎকালীন অফিসার ইনচার্জের নেতৃত্বে এসআই (নিঃ) মো. কাদের শেখ সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে ‘লাকি ভিলা’ নামের ভবনের বি-৩ ফ্ল্যাটে অভিযান চালান। ফ্ল্যাটের একটি বেডরুমের খাটের নিচে থাকা সাদা প্লাস্টিকের বস্তা থেকে ১৫টি লোহার তৈরি ধারালো রামদা এবং দুটি বিদেশি মদের বোতল উদ্ধার করা হয়।

অভিযানে মো. শামীম খান (৪১) পিতা- নুরু খান, মো. সামিনুর রহমান (৪১) পিতা- কালু মিয়া, মো. শাহীন (৪০) মো. রাজা হোসেন (৩৫) পিতা- জুলহাস, মোঃ হাসানুজ্জামান (৩৬)—এই পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয় বলে পুলিশ জানায়। পরে উদ্ধারকৃত আলামত জব্দ করে তাদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের এবং আদালতে সোপর্দ করা হয়।

তবে স্থানীয়দের দাবি, ওই ঘটনার পর গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মধ্যে, মোঃ শামীম খান, মোহাম্মদ সামিনুর রহমান, মোঃ শাহিন, মোঃ রাজু,মোঃ হাসানুজ্জামান, বাবু- পিতা ওলিন, সাত্তার (৪০) সহ জামিনে মুক্ত হয়ে এলাকায় আবারও মাদকসংক্রান্ত কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়েছেন। বিশেষ করে তেঁতুলঝোড়া ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ড এলাকায় গটফাটার আব্বাস খান ও রহমান খানের নেতৃত্বে মাদক ব্যবসা পরিচালিত হচ্ছে—এমন অভিযোগ তুলেছেন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দা।

স্থানীয়দের ভাষ্য, মাদকবিরোধী অভিযানে গ্রেপ্তার ও মামলা হলেও পরবর্তীতে অভিযুক্তরা জামিনে বেরিয়ে এসে আবার একই ধরনের কর্মকাণ্ডে জড়ালে সাধারণ মানুষের মধ্যে হতাশা তৈরি হয়। এতে এলাকার তরুণ ও কিশোরদের একটি অংশ মাদকের ঝুঁকিতে পড়ছে বলেও অভিযোগ তাদের।

একজন স্থানীয় বাসিন্দা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘অভিযান চালিয়ে গ্রেপ্তার করা হলেও যদি পরে আবার এলাকায় মাদক বিক্রির অভিযোগ ওঠে, তাহলে স্থায়ীভাবে মাদক নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হয়ে পড়ে। আমরা প্রশাসনের কঠোর ও নিয়মিত নজরদারি চাই।’

এলাকাবাসীর অভিযোগ, মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িতদের বিষয়ে নিরপেক্ষ তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে মাদক কারবারের সঙ্গে কারা জড়িত, তাদের পেছনে কোনো প্রভাবশালী ব্যক্তি বা চক্র রয়েছে কি না—তা খতিয়ে দেখার দাবি জানিয়েছেন তারা।

স্থানীয়দের অভিযোগে ‘মাদক ব্যবসার গডফাদার’ হিসেবে আব্বাস খান ও রহমান খানের নাম উল্লেখ করা হলেও, তাদের বিরুদ্ধে নতুন করে মাদক ব্যবসার অভিযোগের সত্যতা কিংবা কোনো সাম্প্রতিক মামলার তথ্য এই প্রতিবেদনের মাধ্যমে স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি। ফলে তাদের বিরুদ্ধে উত্থাপিত বিষয়গুলোকে অভিযোগ হিসেবেই বিবেচনা করা হচ্ছে।

এলাকাবাসীর দাবি, শুধু বিচ্ছিন্ন অভিযান নয়—মাদক ব্যবসার মূল উৎস, সরবরাহকারী, অর্থের যোগানদাতা এবং পৃষ্ঠপোষকদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে হবে। পাশাপাশি মাদক ও দেশীয় অস্ত্র উদ্ধারে পুলিশের অভিযান আরও জোরদার করার আহ্বান জানিয়েছেন তারা এবং আমরা ৪ নং ওয়ার্ড বাসী বিএনপি’র জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ও ডাক্তার ও ঢাকা ২ আসনের সংসদ সদস্য আমান উল্লাহ আমান ও প্রশাসনের নিকট জোর দাবী জানাই এদের বিষয়টা খতিয়ে দেখে এবং তাদের কে আইনের আওতায় আনার জন্য আকুল আবেদন জানাচ্ছি

সাভার মডেল থানা পুলিশ জানিয়েছে, মাদক ও অপরাধবিরোধী অভিযান নিয়মিতভাবে পরিচালনা করা হচ্ছে। মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট তথ্য ও প্রমাণ পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।