ঢাকা ১১:৫৭ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
পুরান ঢাকায় এক পঙ্গু হতদরিদ্র ব্যক্তিকে হুইলচেয়ার উপহার দিলো ছাত্রদল নেতারা  হযরতপুরে চাচা হাজী দুঃখ মিয়া বিরুদ্ধে জাল দলিল ও জমি দখলের অভিযোগ তুলেছে ভাতিজা আলা. পুরান ঢাকার সফল সংগঠক মোস্তাকের জন্মদিন পালিত কেরানীগঞ্জে ডিবি পুলিশের অভিযানে ৫০ পিস ইয়াবাসহ একজন গ্রেপ্তার জেলা প্রশাসকের সঙ্গে অতুল বসাকের মতবিনিময়, রামরাই বিনোদন পার্কের প্রাচীর নির্মাণ নিয়ে আলোচনা সাংবাদিক মুন্না মিয়ার মৃত্যুতে ডিএসইসির শোক কেরানীগঞ্জে ডিবির বিশেষ অভিযান: ইয়াবা ও হেরোইনসহ দুই মাদক কারবারি গ্রেপ্তার, প্রতারণা মামলায় আরও দুইজন আটক। কেরানীগঞ্জে ডিবির অভিযানে ছাত্রলীগের সহসভাপতি গ্রেপ্তার সিনিয়র ক্রাইম রিপোর্টার মোঃ শাহাদাৎ হোসেন চাঁপাইনবাবগঞ্জে ১ কেজি গাঁজাসহ নারীসহ গ্রেপ্তার ২ মালয়েশিয়ায় পাঠানোর প্রলোভনে দুই কিশোরকে মিয়ানমারে পাচারের অভিযোগ

সাংবাদিক হত্যা ও হামলার প্রতিবাদে তাহিরপুরে মানববন্ধন, দোষীদের শাস্তি ও নিরাপত্তার দাবি

অনলাইন ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ০৯:৩৫:০৯ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬
  • / 26
আজকের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

 

 

তাহিরপুর (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি:

 

নেত্রকোনার দুর্গাপুরে সাংবাদিক লুৎফুজ্জামান আলিফ ফকিরকে গুলি করে হত্যা এবং সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজারে সাংবাদিক মোহাম্মদ আব্দুল মোতালিব ভূঁইয়ার ওপর হামলার প্রতিবাদে সুনামগঞ্জের তাহিরপুরে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। সাংবাদিকদের ওপর হামলা, হত্যা, হুমকি ও হয়রানি বন্ধ, হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্ত এবং জড়িতদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে এ কর্মসূচি পালন করা হয়।

 

মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) তাহিরপুর উপজেলায় কর্মরত সাংবাদিকদের আয়োজনে উপজেলার বাদাঘাট বাজারে অনুষ্ঠিত মানববন্ধনে বিভিন্ন গণমাধ্যমের সাংবাদিক, সামাজিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা অংশ নেন। এ সময় বক্তারা সাংবাদিকদের পেশাগত নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং স্বাধীনভাবে সংবাদ সংগ্রহ ও প্রকাশের পরিবেশ তৈরির জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানান।

 

উল্লেখ্য, গত ১৫ অক্টোবর রাতে নেত্রকোনার দুর্গাপুরে সাংবাদিক লুৎফুজ্জামান আলিফ ফকিরকে গুলি করে হত্যা করা হয়। তিনি বেসরকারি আইপিটিভি রূপসী বাংলার নেত্রকোনা প্রতিনিধি হিসেবে কর্মরত ছিলেন। এ ঘটনায় তাঁর স্ত্রী বাদী হয়ে হত্যা মামলা করেন। অন্যদিকে, গত ১৮ অক্টোবর সন্ধ্যায় দোয়ারাবাজারে মাদকসংক্রান্ত সংবাদ প্রকাশের জেরে দৈনিক সংবাদ পত্রিকাযর সাংবাদিক মোহাম্মদ আব্দুল মোতালিব ভূঁইয়ার ওপর হামলার ঘটনা ঘটে বলে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে। এসব ঘটনায় সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

 

মানববন্ধনে বক্তব্য দিতে গিয়ে কালের কণ্ঠ মাল্টিমিডিয়ার তাহিরপুর প্রতিনিধি আবির হাসান মানিক বলেন, গত ১৫ অক্টোবর নেত্রকোনার দুর্গাপুরে সাংবাদিক লুৎফুজ্জামান আলিফ ফকিরকে গুলি করে হত্যার ঘটনা সাংবাদিক সমাজকে গভীরভাবে উদ্বিগ্ন করেছে। এ হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্ত, জড়িতদের উপযুক্ত শাস্তি এবং সাংবাদিকদের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিতের দাবিতে তাঁরা মানববন্ধনে দাঁড়িয়েছেন।

 

দৈনিক খোলা কাগজের উপজেলা প্রতিনিধি রোকন উদ্দিন বলেন, অন্যায়, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি ও মাদকের বিরুদ্ধে সংবাদ প্রকাশ করতে গিয়ে সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটছে। আলিফ ফকির হত্যাকাণ্ডের পরপরই দোয়ারাবাজারে আরেক সাংবাদিকের ওপর হামলার ঘটনা পরিস্থিতিকে আরও উদ্বেগজনক করে তুলেছে। সাংবাদিকদের কণ্ঠরোধের যেকোনো প্রচেষ্টার বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধভাবে প্রতিবাদ জানাতে হবে। একই সঙ্গে হামলাকারীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান তিনি।

 

দৈনিক মানবজমিনের সুনামগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি আব্দুর রাজ্জাক বলেন, সাংবাদিক আলিফ ফকিরকে প্রকাশ্যে গুলি করে হত্যার ঘটনায় তাঁর পরিবার ও সন্তানদের ভবিষ্যৎ নিয়ে গভীর উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত প্রত্যেককে শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে হবে। হত্যার আগে তিনি নিরাপত্তা নিয়ে কোনো আশঙ্কা জানিয়ে থাকলে সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের ভূমিকা যথাযথভাবে তদন্ত করারও দাবি জানান তিনি।

 

দোয়ারাবাজারে সাংবাদিকের ওপর হামলার প্রসঙ্গ তুলে আব্দুর রাজ্জাক বলেন, এ ঘটনায় জড়িত সবাইকে গ্রেপ্তার করতে হবে। শুধু একজনকে আটক বা গ্রেপ্তার করেই দায় শেষ করা যাবে না; হামলার পেছনে অন্য কেউ জড়িত থাকলে তাদেরও আইনের আওতায় আনতে হবে।

 

দৈনিক ইত্তেফাকের তাহিরপুর উপজেলা প্রতিনিধি সাব্বির আলম বলেন, সাংবাদিকরা সমাজের অন্যায়, অত্যাচার ও অবিচারের চিত্র তুলে ধরে প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। তাঁদের লেখালেখির মূল উদ্দেশ্য জনস্বার্থ রক্ষা, অন্যায়ের প্রতিকার এবং সমাজের উন্নয়নে ভূমিকা রাখা। অথচ সংবাদ প্রকাশ করতে গিয়ে সাংবাদিকদের জীবন ঝুঁকির মুখে পড়ছে। সাংবাদিকরা যাতে নির্ভয়ে দায়িত্ব পালন করতে পারেন, সে জন্য প্রশাসনকে আরও কার্যকর ভূমিকা রাখতে হবে।

 

সমাজসেবক ও সংগঠক আবুল হোসেন বলেন, সাংবাদিকরা সমাজের দর্পণ। তাঁরা সমাজের অসংগতি ও অনিয়ম তুলে ধরেন বলেই অন্যায়ের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিরা কখনো কখনো তাঁদের ওপর ক্ষুব্ধ হন। কিন্তু সাংবাদিকদের ওপর নির্যাতন ও হত্যার ঘটনা কোনোভাবেই চলতে দেওয়া যায় না। আলিফ ফকির হত্যাকাণ্ডের বিচার নিশ্চিত করার পাশাপাশি দোয়ারাবাজারে সাংবাদিকের ওপর হামলার ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধেও কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে হবে।

 

বাদাঘাট বাজার বণিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. হারুন অর রশিদ বলেন, হত্যাকারী যে-ই হোক, তার পরিচয় বা প্রভাব বিবেচনা না করে আইনের আওতায় আনতে হবে। সাংবাদিক আলিফ ফকির হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্ত ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার জন্য তিনি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতি আহ্বান জানান। একই সঙ্গে দেশে সংঘটিত সব হত্যাকাণ্ডের নিরপেক্ষ তদন্ত ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার দাবি জানান তিনি।

 

গণকল্যাণ ফাউন্ডেশনের সভাপতি সারোয়ার বলেন, সাংবাদিকদের জীবনের নিরাপত্তা আজ গভীর উদ্বেগের বিষয়। জনস্বার্থে সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে সাংবাদিকেরা নানা ধরনের ঝুঁকির মুখোমুখি হন। তাঁদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা না গেলে স্বাধীন সাংবাদিকতা বাধাগ্রস্ত হবে এবং নিরাপদ সমাজ প্রতিষ্ঠার প্রত্যাশাও প্রশ্নের মুখে পড়বে। তিনি আলিফ ফকির হত্যাকাণ্ডের বিচার এবং সারাদেশে সাংবাদিকদের জন্য কার্যকর নিরাপত্তাব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।

 

মানববন্ধনে উপস্থিত ছিলেন দৈনিক সংবাদের উপজেলা প্রতিনিধি কামাল হোসেন রাফি, দৈনিক বাংলার তাহিরপুর প্রতিনিধি আবুল কাশেম, এনটিভি মাল্টিমিডিয়ার উপজেলা প্রতিনিধি জাহাঙ্গীর আলম ভূঁইয়া, দৈনিক আলোর সকাল অনলাইন নিউজ পোর্টাল ও মাল্টিমিডিয়ার পরিচালক মোঃ আঃ মান্নান, দৈনিক নিউজ বাংলার তাহিরপুর প্রতিনিধি মোঃ বাবুল মিয়া, দৈনিক এদিনের তাহিরপুর প্রতিনিধি সামাউন এবং দৈনিক হাওর বাংলার তাহিরপুর উপজেলা প্রতিনিধি আজহারুল ইসলাম সোহাগসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমে কর্মরত সাংবাদিক ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।

 

মানববন্ধন থেকে সাংবাদিক হত্যা ও হামলার ঘটনাগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত, জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার, দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি, সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে হয়রানিমূলক মামলা বন্ধ এবং পেশাগত দায়িত্ব পালনে নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়।

 

বক্তারা বলেন, সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা শুধু সাংবাদিক সমাজের দাবি নয়; এটি জনস্বার্থ, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার সঙ্গেও জড়িত। তাই সাংবাদিকদের ওপর হামলা ও হত্যার ঘটনায় দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করতে হবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

সাংবাদিক হত্যা ও হামলার প্রতিবাদে তাহিরপুরে মানববন্ধন, দোষীদের শাস্তি ও নিরাপত্তার দাবি

আপডেট সময় : ০৯:৩৫:০৯ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬

 

 

তাহিরপুর (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি:

 

নেত্রকোনার দুর্গাপুরে সাংবাদিক লুৎফুজ্জামান আলিফ ফকিরকে গুলি করে হত্যা এবং সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজারে সাংবাদিক মোহাম্মদ আব্দুল মোতালিব ভূঁইয়ার ওপর হামলার প্রতিবাদে সুনামগঞ্জের তাহিরপুরে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। সাংবাদিকদের ওপর হামলা, হত্যা, হুমকি ও হয়রানি বন্ধ, হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্ত এবং জড়িতদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে এ কর্মসূচি পালন করা হয়।

 

মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) তাহিরপুর উপজেলায় কর্মরত সাংবাদিকদের আয়োজনে উপজেলার বাদাঘাট বাজারে অনুষ্ঠিত মানববন্ধনে বিভিন্ন গণমাধ্যমের সাংবাদিক, সামাজিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা অংশ নেন। এ সময় বক্তারা সাংবাদিকদের পেশাগত নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং স্বাধীনভাবে সংবাদ সংগ্রহ ও প্রকাশের পরিবেশ তৈরির জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানান।

 

উল্লেখ্য, গত ১৫ অক্টোবর রাতে নেত্রকোনার দুর্গাপুরে সাংবাদিক লুৎফুজ্জামান আলিফ ফকিরকে গুলি করে হত্যা করা হয়। তিনি বেসরকারি আইপিটিভি রূপসী বাংলার নেত্রকোনা প্রতিনিধি হিসেবে কর্মরত ছিলেন। এ ঘটনায় তাঁর স্ত্রী বাদী হয়ে হত্যা মামলা করেন। অন্যদিকে, গত ১৮ অক্টোবর সন্ধ্যায় দোয়ারাবাজারে মাদকসংক্রান্ত সংবাদ প্রকাশের জেরে দৈনিক সংবাদ পত্রিকাযর সাংবাদিক মোহাম্মদ আব্দুল মোতালিব ভূঁইয়ার ওপর হামলার ঘটনা ঘটে বলে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে। এসব ঘটনায় সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

 

মানববন্ধনে বক্তব্য দিতে গিয়ে কালের কণ্ঠ মাল্টিমিডিয়ার তাহিরপুর প্রতিনিধি আবির হাসান মানিক বলেন, গত ১৫ অক্টোবর নেত্রকোনার দুর্গাপুরে সাংবাদিক লুৎফুজ্জামান আলিফ ফকিরকে গুলি করে হত্যার ঘটনা সাংবাদিক সমাজকে গভীরভাবে উদ্বিগ্ন করেছে। এ হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্ত, জড়িতদের উপযুক্ত শাস্তি এবং সাংবাদিকদের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিতের দাবিতে তাঁরা মানববন্ধনে দাঁড়িয়েছেন।

 

দৈনিক খোলা কাগজের উপজেলা প্রতিনিধি রোকন উদ্দিন বলেন, অন্যায়, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি ও মাদকের বিরুদ্ধে সংবাদ প্রকাশ করতে গিয়ে সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটছে। আলিফ ফকির হত্যাকাণ্ডের পরপরই দোয়ারাবাজারে আরেক সাংবাদিকের ওপর হামলার ঘটনা পরিস্থিতিকে আরও উদ্বেগজনক করে তুলেছে। সাংবাদিকদের কণ্ঠরোধের যেকোনো প্রচেষ্টার বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধভাবে প্রতিবাদ জানাতে হবে। একই সঙ্গে হামলাকারীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান তিনি।

 

দৈনিক মানবজমিনের সুনামগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি আব্দুর রাজ্জাক বলেন, সাংবাদিক আলিফ ফকিরকে প্রকাশ্যে গুলি করে হত্যার ঘটনায় তাঁর পরিবার ও সন্তানদের ভবিষ্যৎ নিয়ে গভীর উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত প্রত্যেককে শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে হবে। হত্যার আগে তিনি নিরাপত্তা নিয়ে কোনো আশঙ্কা জানিয়ে থাকলে সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের ভূমিকা যথাযথভাবে তদন্ত করারও দাবি জানান তিনি।

 

দোয়ারাবাজারে সাংবাদিকের ওপর হামলার প্রসঙ্গ তুলে আব্দুর রাজ্জাক বলেন, এ ঘটনায় জড়িত সবাইকে গ্রেপ্তার করতে হবে। শুধু একজনকে আটক বা গ্রেপ্তার করেই দায় শেষ করা যাবে না; হামলার পেছনে অন্য কেউ জড়িত থাকলে তাদেরও আইনের আওতায় আনতে হবে।

 

দৈনিক ইত্তেফাকের তাহিরপুর উপজেলা প্রতিনিধি সাব্বির আলম বলেন, সাংবাদিকরা সমাজের অন্যায়, অত্যাচার ও অবিচারের চিত্র তুলে ধরে প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। তাঁদের লেখালেখির মূল উদ্দেশ্য জনস্বার্থ রক্ষা, অন্যায়ের প্রতিকার এবং সমাজের উন্নয়নে ভূমিকা রাখা। অথচ সংবাদ প্রকাশ করতে গিয়ে সাংবাদিকদের জীবন ঝুঁকির মুখে পড়ছে। সাংবাদিকরা যাতে নির্ভয়ে দায়িত্ব পালন করতে পারেন, সে জন্য প্রশাসনকে আরও কার্যকর ভূমিকা রাখতে হবে।

 

সমাজসেবক ও সংগঠক আবুল হোসেন বলেন, সাংবাদিকরা সমাজের দর্পণ। তাঁরা সমাজের অসংগতি ও অনিয়ম তুলে ধরেন বলেই অন্যায়ের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিরা কখনো কখনো তাঁদের ওপর ক্ষুব্ধ হন। কিন্তু সাংবাদিকদের ওপর নির্যাতন ও হত্যার ঘটনা কোনোভাবেই চলতে দেওয়া যায় না। আলিফ ফকির হত্যাকাণ্ডের বিচার নিশ্চিত করার পাশাপাশি দোয়ারাবাজারে সাংবাদিকের ওপর হামলার ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধেও কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে হবে।

 

বাদাঘাট বাজার বণিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. হারুন অর রশিদ বলেন, হত্যাকারী যে-ই হোক, তার পরিচয় বা প্রভাব বিবেচনা না করে আইনের আওতায় আনতে হবে। সাংবাদিক আলিফ ফকির হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্ত ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার জন্য তিনি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতি আহ্বান জানান। একই সঙ্গে দেশে সংঘটিত সব হত্যাকাণ্ডের নিরপেক্ষ তদন্ত ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার দাবি জানান তিনি।

 

গণকল্যাণ ফাউন্ডেশনের সভাপতি সারোয়ার বলেন, সাংবাদিকদের জীবনের নিরাপত্তা আজ গভীর উদ্বেগের বিষয়। জনস্বার্থে সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে সাংবাদিকেরা নানা ধরনের ঝুঁকির মুখোমুখি হন। তাঁদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা না গেলে স্বাধীন সাংবাদিকতা বাধাগ্রস্ত হবে এবং নিরাপদ সমাজ প্রতিষ্ঠার প্রত্যাশাও প্রশ্নের মুখে পড়বে। তিনি আলিফ ফকির হত্যাকাণ্ডের বিচার এবং সারাদেশে সাংবাদিকদের জন্য কার্যকর নিরাপত্তাব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।

 

মানববন্ধনে উপস্থিত ছিলেন দৈনিক সংবাদের উপজেলা প্রতিনিধি কামাল হোসেন রাফি, দৈনিক বাংলার তাহিরপুর প্রতিনিধি আবুল কাশেম, এনটিভি মাল্টিমিডিয়ার উপজেলা প্রতিনিধি জাহাঙ্গীর আলম ভূঁইয়া, দৈনিক আলোর সকাল অনলাইন নিউজ পোর্টাল ও মাল্টিমিডিয়ার পরিচালক মোঃ আঃ মান্নান, দৈনিক নিউজ বাংলার তাহিরপুর প্রতিনিধি মোঃ বাবুল মিয়া, দৈনিক এদিনের তাহিরপুর প্রতিনিধি সামাউন এবং দৈনিক হাওর বাংলার তাহিরপুর উপজেলা প্রতিনিধি আজহারুল ইসলাম সোহাগসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমে কর্মরত সাংবাদিক ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।

 

মানববন্ধন থেকে সাংবাদিক হত্যা ও হামলার ঘটনাগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত, জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার, দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি, সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে হয়রানিমূলক মামলা বন্ধ এবং পেশাগত দায়িত্ব পালনে নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়।

 

বক্তারা বলেন, সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা শুধু সাংবাদিক সমাজের দাবি নয়; এটি জনস্বার্থ, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার সঙ্গেও জড়িত। তাই সাংবাদিকদের ওপর হামলা ও হত্যার ঘটনায় দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করতে হবে।