প্রধান শিক্ষকের নিষেধ অমান্য ও ক্লাস বর্জন করে ধামরাইয়ে খিচুড়ির আয়োজন
- আপডেট সময় : ০৯:৩৫:৪১ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ মে ২০২৫
- / 445
ঢাকার ধামরাই উপজেলার ঐতিহ্যবাহী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ধামরাই বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় বর্তমানে লেখাপড়ার মান, শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের শৃঙ্খলা এবং অভ্যন্তরীণ কোন্দলের কারণে চরম বিশৃঙ্খলার মধ্যে রয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় আজ বৃহস্পতিবার (২৯ মে) ক্লাস চলাকালীন সময়ে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে দেখা যায় ব্যতিক্রমী ও অনভিপ্রেত চিত্র—বারান্দায় জাঁকজমকপূর্ণভাবে চলছে খিচুড়ি রান্নার আয়োজন, আর শ্রেণিকক্ষে শিক্ষক ক্লাসের বদলে ব্যস্ত গল্প-গুজবে।
বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক রবিউল আউয়াল জানান, তিনি বর্তমানে ঢাকায় ট্রেনিংয়ে অবস্থান করছেন এবং খিচুড়ি আয়োজনের বিষয়ে আগেই নিষেধ করেছিলেন। শিক্ষক বেনজির আহমেদ তাকে জানিয়েছিলেন যে, ভোকেশনাল শাখার নবম ও দশম শ্রেণির ছাত্রীরা খিচুড়ির আয়োজন করতে চায়। প্রধান শিক্ষক এ ব্যাপারে স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেন, স্কুল চলাকালীন সময়ে এমন আয়োজন করা যাবে না এবং বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও স্কুল ম্যানেজিং কমিটির সভাপতিকেও অবহিত করা হয়েছে। তিনি বলেন, “ছুটির দিনে আয়োজন করতে বলেছিলাম, কিন্তু কিভাবে, কার অনুমতিতে এই আয়োজন হয়েছে তা আমার বোধগম্য নয়।”
অন্যদিকে, বিদ্যালয়ের ভোকেশনাল শাখার ড্রেস মেকিং ট্রেড ইনস্ট্রাক্টর বেনজির আহমেদ জানান, খিচুড়ি আয়োজনটি ছাত্রীরা নিজেরা অর্থ ও উপকরণ দিয়ে করেছে এবং শিক্ষকদেরও দাওয়াত দেওয়া হয়েছিল। প্রধান শিক্ষকের নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও এমন আয়োজনের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, “ছাত্রীরা আগ্রহ দেখিয়েছে, আমরা তাদের মানা করতে পারিনি। সব ছাত্রীই এতে অংশ নিয়েছে।”
এ বিষয়ে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার দেলোয়ার হোসেন বলেন, “আমি আজ অসুস্থ থাকায় অফিসে আসতে পারিনি। তবে আমাদের এক অফিসার মোসাম্মৎ আইরিন আক্তারকে ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়েছে তদন্তের জন্য।” তিনি আরও জানান, “ক্লাস চলাকালীন সময়ে বিদ্যালয়ের ভেতরে এমন আয়োজন কোনভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। তদন্তে অভিযোগ সত্য প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট শিক্ষকদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মামনুন আহমেদ অনিক বলেন, “প্রধান শিক্ষক আমাকে বিষয়টি জানিয়েছিলেন এবং আমি পরিষ্কারভাবে নিষেধ করেছি। স্কুল চলাকালীন সময়ে রান্নাবান্না বা খিচুড়ি উৎসব করা যাবে না। এটি শিক্ষার্থীদের মনোযোগ নষ্ট করে এবং শিক্ষার পরিবেশ বিঘ্নিত করে।” তিনি আরও বলেন, “তদন্ত সাপেক্ষে যে শিক্ষক এর সঙ্গে জড়িত, তাকে শোকজ করা হবে।”
শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এ ধরনের অনিয়ম এবং কর্তৃপক্ষের নিষেধ অমান্য করে শিক্ষার পরিবেশ নষ্ট হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় সচেতন অভিভাবক মহলও। তারা দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য প্রশাসনের দৃষ্টি কামনা করেছেন।
























