ময়মনসিংহে জয়নুল উদ্যানে মিনি চিড়িয়াখানা উচ্ছেদ
- আপডেট সময় : ০৪:০৮:৫১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩১ জুলাই ২০২৫
- / 193
ময়মনসিংহ নগরের জয়নুল আবেদিন উদ্যানে প্রায় এক দশক ধরে গড়ে ওঠা মিনি চিড়িয়াখানা ও শিশুপার্ক উচ্ছেদ করা হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার (৩১ জুলাই) দুপুরে জেলা প্রশাসন ও ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশনের যৌথ উদ্যোগে পরিচালিত অভিযানে এসব স্থাপনা গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়।
সিটি করপোরেশনের তিনজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে এই উচ্ছেদ অভিযানে অংশ নেয় সেনাবাহিনী, পুলিশ, র্যাব, ফায়ার সার্ভিস, আনসার এবং বন বিভাগের সদস্যরা। অভিযানে এক্সকাভেটর ব্যবহার করে চিড়িয়াখানা ও শিশুপার্কের অবৈধ স্থাপনা ভেঙে দেওয়া হয়। এ সময় উদ্যান এলাকায় থাকা ভ্রাম্যমাণ দোকানপাটও উচ্ছেদ করা হয়।
সিটি করপোরেশনের (ভারপ্রাপ্ত) প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সুমনা আল মজীদ জানান, ইজারাপ্রাপ্ত ব্যক্তি চুক্তির শর্ত ভঙ্গ করেছেন এবং নির্ধারিত অর্থ পরিশোধ করেননি। ফলে চুক্তি বাতিল করে উচ্ছেদের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। তাঁর ভাষায়, “চুক্তি বাতিল করে আমরা জায়গাটি উদ্ধার করেছি। শিশুদের জন্য সেখানে ‘কিডস জোন’ গড়ে তোলা হবে। থাকবে লাইব্রেরি, খেলনা, রাইড ও একটি বাগান—যাতে শিশুরা আনন্দময় পরিবেশে খেলাধুলা করতে পারে।”
সিটি করপোরেশন সূত্র জানায়, ২০১৪ সালের ৩০ জুন তৎকালীন পৌরসভা ‘সেলিম এন্টারপ্রাইজ’-এর নামে মিনি চিড়িয়াখানাটি ১০ বছরের জন্য ৬ লাখ টাকায় ইজারা দেয়। তবে চুক্তির মেয়াদ শেষ হয় ২০২৪ সালের ৩০ জুন, অথচ পুরো মেয়াদে ইজারাগ্রহীতা জমা দিয়েছেন মাত্র ৩ লাখ ৩০ হাজার টাকা।
এছাড়া ওই বছরের ৩০ ডিসেম্বর চিড়িয়াখানার পাশের দুই শতক জমি মাসিক ১ হাজার টাকা ভাড়ায় এবং ১০ হাজার টাকা জমা নিয়ে ইজারা দেওয়া হয় একই ব্যক্তিকে। তবে চুক্তিপত্রে শিশুপার্কের কোনো উল্লেখ ছিল না। ফলে এই অংশটিকে ‘অবৈধ দখল’ বলে উল্লেখ করা হয় সিটি করপোরেশনের তদন্ত প্রতিবেদনে।
উচ্ছেদ হওয়া পার্ক ও চিড়িয়াখানার ইজারাপ্রাপ্ত মো. সেলিম মিয়া হলেন ময়মনসিংহ মহানগর আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও সিটি করপোরেশনের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর মাহবুবুর রহমানের শ্যালক। তবে প্রকৃতপক্ষে এই পার্ক ও চিড়িয়াখানার নিয়ন্ত্রণে ছিলেন মাহবুবুর রহমান নিজেই। তিনি চলতি বছরের ৮ মার্চ গ্রেপ্তার হয়ে এখন কারাগারে রয়েছেন।
এই পারিবারিক রাজনৈতিক সম্পর্ক এবং ক্ষমতার ছায়ায় কীভাবে এতদিন পর্যন্ত চুক্তি লঙ্ঘন ও বকেয়া থাকা সত্ত্বেও পার্কটি চালু ছিল, তা নিয়ে জনমনে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।
অভিযান শুরুর সময় চিড়িয়াখানায় থাকা প্রাণীগুলো হেফাজতে নেয় বন বিভাগ।
ময়মনসিংহ বন বিভাগের রেঞ্জ অফিসার রিদুয়ানুল হক বলেন, “চিড়িয়াখানাটি অবৈধ ছিল। জেলা প্রশাসন আমাদের কাছে চিঠি পাঠিয়েছে। এখানে পাঁচটি হরিণ, দুটি ময়ূর, দুটি ইমু পাখি, একটি গাধা ও কিছু ঘুঘু পাখি পাওয়া গেছে। এগুলো গাজীপুর সাফারি পার্কে অবমুক্ত করা হবে।”
নগরবাসীর একাংশ এই উচ্ছেদকে ইতিবাচক মনে করলেও অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন—যেখানে ১০ বছর ধরে শর্ত লঙ্ঘন, অর্থ পরিশোধে গড়িমসি, ও রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় এমন কার্যক্রম চলেছে, সেখানে এত দেরিতে ব্যবস্থা নেওয়া কেন?
এবং যেই ‘কিডস জোন’ নির্মাণের কথা বলা হচ্ছে, সেটিও কি আগামীতেও একই প্রভাবমুক্ত ও স্বচ্ছ ব্যবস্থাপনায় চলবে—না কি সেখানে আবারও গোপন প্রভাব বিস্তার ঘটবে?
























