ইন্টার্নদের হাত ধরেই চিকিৎসায় বিদেশমুখিতা বন্ধ হবে: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
- আপডেট সময় : ০২:৩২:৩৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ১১ জুলাই ২০২৬
- / 96
নিজস্ব প্রতিবেদক:
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, আজকের মেডিকেল শিক্ষার্থী ও ইন্টার্নদের হাত ধরেই দেশের চিকিৎসা ব্যবস্থার উন্নয়ন হবে এবং চিকিৎসার জন্য বিদেশমুখিতা কমে আসবে। তিনি বলেন, সরকার স্বাস্থ্যখাতকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে চিকিৎসাসেবার মানোন্নয়ন, জনবল বৃদ্ধি ও অবকাঠামো উন্নয়নে কাজ করছে।
শনিবার (১১ জুলাই) ঢাকা মেডিকেল কলেজের ৮১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, চিকিৎসকরা মানুষের সবচেয়ে কঠিন সময়ের নির্ভরতার জায়গা। একজন চিকিৎসকের আন্তরিক আচরণ ও পরামর্শ অনেক সময় ওষুধের মতোই কার্যকর ভূমিকা রাখে। তাই পেশাগত দক্ষতার পাশাপাশি মানবিক গুণাবলি অর্জনেরও আহ্বান জানান তিনি।
হাসপাতালের নিরাপত্তা জোরদারে প্রতিটি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ১০ জন করে আনসার সদস্য মোতায়েনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলেও জানান প্রধানমন্ত্রী। পাশাপাশি দ্রুত পাঁচ হাজার এমবিবিএস চিকিৎসক নিয়োগ এবং চিকিৎসক, নার্স, মেডিকেল টেকনোলজিস্ট, ফার্মাসিস্ট, মিডওয়াইফসহ বিভিন্ন স্বাস্থ্য পেশাজীবীর শূন্যপদ পূরণের কার্যক্রম চলছে।
‘Prevention is Better Than Cure’ নীতির ওপর গুরুত্বারোপ করে তারেক রহমান বলেন, পুষ্টি, টিকাদান, মাতৃস্বাস্থ্য, শিশুস্বাস্থ্য, ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, কিডনি রোগ, হৃদরোগ ও ক্যানসারসহ বিভিন্ন বিষয়ে আগাম স্বাস্থ্যসচেতনতা ও পরামর্শের মাধ্যমে অনেক রোগ প্রতিরোধ করা সম্ভব।
তিনি জানান, জনগণের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিতে সারাদেশে এক লাখ হেলথ কেয়ারার নিয়োগের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ৮০ শতাংশ নারী, যারা পরিবারভিত্তিক প্রতিরোধমূলক ও প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করবেন।
প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, চলতি অর্থবছরে স্বাস্থ্যখাতে ৬৯ হাজার ৪০৯ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে, যা দেশের ইতিহাসে শিক্ষাখাতের পর সর্বোচ্চ। আগামী পাঁচ বছরে স্বাস্থ্যখাতে জিডিপির ৫ শতাংশ ব্যয়ের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
চিকিৎসা ব্যয় কমাতে ডায়ালাইসিস ফিল্টার, হার্টের স্টেন্ট, হার্টের ভাল্ব, পেসমেকার, চোখের লেন্স ও ক্যানসার চিকিৎসার কিছু কাঁচামালের ওপর ভ্যাট ও কর কমানো বা প্রত্যাহার করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।
এ ছাড়া পর্যায়ক্রমে দেশের ৩১ ও ৫১ শয্যার উপজেলা হাসপাতালগুলোকে ১০১ শয্যায় উন্নীত করা, হাসপাতালের ছাদে সৌরবিদ্যুৎ স্থাপন এবং বরিশাল ও রাজশাহীসহ পাঁচটি বিশেষায়িত শিশু হাসপাতাল দ্রুত চালুর উদ্যোগের কথাও তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী।
মেডিক্যাল বর্জ্য ব্যবস্থাপনার গুরুত্ব উল্লেখ করে তিনি বলেন, স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করতে হাসপাতালগুলোতে বিজ্ঞানসম্মতভাবে মেডিক্যাল বর্জ্য অপসারণ এবং পরিচ্ছন্ন পরিবেশ বজায় রাখা অত্যন্ত জরুরি।
























