ঢাকা ০১:৩৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
পুরান ঢাকায় এক পঙ্গু হতদরিদ্র ব্যক্তিকে হুইলচেয়ার উপহার দিলো ছাত্রদল নেতারা  হযরতপুরে চাচা হাজী দুঃখ মিয়া বিরুদ্ধে জাল দলিল ও জমি দখলের অভিযোগ তুলেছে ভাতিজা আলা. পুরান ঢাকার সফল সংগঠক মোস্তাকের জন্মদিন পালিত কেরানীগঞ্জে ডিবি পুলিশের অভিযানে ৫০ পিস ইয়াবাসহ একজন গ্রেপ্তার জেলা প্রশাসকের সঙ্গে অতুল বসাকের মতবিনিময়, রামরাই বিনোদন পার্কের প্রাচীর নির্মাণ নিয়ে আলোচনা সাংবাদিক মুন্না মিয়ার মৃত্যুতে ডিএসইসির শোক কেরানীগঞ্জে ডিবির বিশেষ অভিযান: ইয়াবা ও হেরোইনসহ দুই মাদক কারবারি গ্রেপ্তার, প্রতারণা মামলায় আরও দুইজন আটক। কেরানীগঞ্জে ডিবির অভিযানে ছাত্রলীগের সহসভাপতি গ্রেপ্তার সিনিয়র ক্রাইম রিপোর্টার মোঃ শাহাদাৎ হোসেন চাঁপাইনবাবগঞ্জে ১ কেজি গাঁজাসহ নারীসহ গ্রেপ্তার ২ মালয়েশিয়ায় পাঠানোর প্রলোভনে দুই কিশোরকে মিয়ানমারে পাচারের অভিযোগ

জুন থেকে ব্যারাকে ফিরছে সেনাবাহিনী

অনলাইন ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ০৮:১৪:২৯ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৭ মে ২০২৬
  • / 124
আজকের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

 

দীর্ঘ দুই বছর দেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় নিরলস ও প্রশংসনীয় দায়িত্ব পালন শেষে আগামী জুন থেকে পর্যায়ক্রমে ব্যারাকে ফিরছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী। দেশের এক সংকটকালে সাহসী ভূমিকা রেখে এবং জনগণের আস্থা অর্জন করে ব্যারাকে ফিরছেন সেনা সদস্যরা।

 

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, আগামী জুন থেকে সেনাবাহিনীর পাশাপাশি একই দায়িত্ব পালনের জন্য উপকূলীয় অঞ্চলে মোতায়েন থাকা নৌবাহিনীর সদস্যরাও নিজ নিজ ব্যারাকে ফিরে যাবেন।

মঙ্গলবার (৬ মে) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত ‘কোর কমিটির’ বৈঠকে এমন সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। এর আগে ‘ইন এইড টু সিভিল পাওয়ার’-এর আওতায় ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই ছাত্র-জনতার বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকার সশস্ত্র বাহিনীকে মাঠে নামায়। পরবর্তী সময়ে সে বছরের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতন হলে এবং দেশে অরাজক পরিস্থিতির সৃষ্টি হলে সেনাবাহিনী ও নৌবাহিনীর মাঠপর্যায়ের দায়িত্ব অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে দাঁড়ায়। বিশেষ করে পুলিশ বা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সে সময়ে চরম বিপর্যয়ের মুখে পড়লে সেনাবাহিনী তথা সশস্ত্র বাহিনী জনগণের মূল ভরসার জায়গায় পরিণত হয়।

সামাজিক অপরাধের ব্যাপক বিস্তার ঘটলে দেশের বিভিন্ন স্থানে অস্থায়ী ক্যাম্প বা কার্যালয় স্থাপন করে অপরাধ দমন ও সমাজে শান্তি-শৃঙ্খলা স্থাপনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে সেনা ও নৌবাহিনী। জনগণের ভোটে নির্বাচিত সরকার দায়িত্বভার গ্রহণ করার পর এখন সেনা, নৌ ও বিমান বাহিনীকে আনুষ্ঠানিকভাবে ব্যারাকে ফিরিয়ে নেওয়া হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

সশস্ত্র বাহিনীর একাধিক কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গত ১২ ফেব্রুয়ারি শান্তিপূর্ণভাবে জাতীয় সংসদ নির্বাচন সম্পন্ন হওয়ার পর রাজনৈতিক সরকার দায়িত্ব পালন শুরু করে। এরপর থেকে পর্যায়ক্রমে মাঠ থেকে সেনাবাহিনী ও নৌবাহিনীর সদস্য সংখ্যা কমানো হতে থাকে। সংখ্যা কমে আসলেও দেশের বিভিন্ন স্থানে এখনও সেনা ও নৌবাহিনী মোতায়েন রয়েছে।

তবে দীর্ঘদিন নিরলসভাবে মাঠে দায়িত্ব পালনের পর এখন ব্যারাকে ফিরতে অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন সৈনিকরা। সরকারের সবুজ সংকেত পেলেই তারা সম্পূর্ণভাবে ব্যারাকে ফিরে যাবেন। অবশ্য আনুষ্ঠানিকভাবে বাহিনীগুলোকে এখনও এই সিদ্ধান্তের বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়নি।

অন্যদিকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে আরও জানা গেছে, মাঠ থেকে চূড়ান্তভাবে সেনাবাহিনী প্রত্যাহার, দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, সারা দেশে চাঁদাবাজি রোধ এবং পুলিশের পোশাক পরিবর্তনসহ বিভিন্ন বিষয়ে মঙ্গলবার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কোর কমিটির বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি), ঢাকা মহানগর পুলিশ কমিশনার, বিজিবি মহাপরিচালকসহ বিভিন্ন সংস্থার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

 

প্রায় আড়াই ঘণ্টার এই সভায় মাঠ থেকে চূড়ান্তভাবে সেনাবাহিনী বা সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের প্রত্যাহার, চাঁদাবাজি প্রতিরোধ, পুলিশের পোশাক পরিবর্তন এবং দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিসহ বিভিন্ন বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

বৈঠকের তথ্যমতে, আগামী ৬ জুন থেকে সেনাসদস্যদের চূড়ান্ত প্রত্যাহার শুরু হবে। ধাপে ধাপে বিভাগীয় শহর এবং বড় জেলাগুলো থেকে তাদের তুলে আনা হবে। জুন মাসের মধ্যেই সেনাবাহিনীর সব সদস্যকে মাঠপর্যায় থেকে সরিয়ে নেওয়া হবে। প্রথম দিকে প্রত্যাহার প্রক্রিয়া শুরু হবে দূরবর্তী জেলাগুলো থেকে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, সারা দেশে মাঠপর্যায়ে এখনও ১৫ থেকে ১৭ হাজার সেনাসদস্য মোতায়েন রয়েছেন। এছাড়া উপকূলীয় এলাকায় নৌবাহিনীর বেশকিছু সদস্য কর্মরত আছেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

জুন থেকে ব্যারাকে ফিরছে সেনাবাহিনী

আপডেট সময় : ০৮:১৪:২৯ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৭ মে ২০২৬

 

দীর্ঘ দুই বছর দেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় নিরলস ও প্রশংসনীয় দায়িত্ব পালন শেষে আগামী জুন থেকে পর্যায়ক্রমে ব্যারাকে ফিরছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী। দেশের এক সংকটকালে সাহসী ভূমিকা রেখে এবং জনগণের আস্থা অর্জন করে ব্যারাকে ফিরছেন সেনা সদস্যরা।

 

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, আগামী জুন থেকে সেনাবাহিনীর পাশাপাশি একই দায়িত্ব পালনের জন্য উপকূলীয় অঞ্চলে মোতায়েন থাকা নৌবাহিনীর সদস্যরাও নিজ নিজ ব্যারাকে ফিরে যাবেন।

মঙ্গলবার (৬ মে) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত ‘কোর কমিটির’ বৈঠকে এমন সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। এর আগে ‘ইন এইড টু সিভিল পাওয়ার’-এর আওতায় ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই ছাত্র-জনতার বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকার সশস্ত্র বাহিনীকে মাঠে নামায়। পরবর্তী সময়ে সে বছরের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতন হলে এবং দেশে অরাজক পরিস্থিতির সৃষ্টি হলে সেনাবাহিনী ও নৌবাহিনীর মাঠপর্যায়ের দায়িত্ব অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে দাঁড়ায়। বিশেষ করে পুলিশ বা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সে সময়ে চরম বিপর্যয়ের মুখে পড়লে সেনাবাহিনী তথা সশস্ত্র বাহিনী জনগণের মূল ভরসার জায়গায় পরিণত হয়।

সামাজিক অপরাধের ব্যাপক বিস্তার ঘটলে দেশের বিভিন্ন স্থানে অস্থায়ী ক্যাম্প বা কার্যালয় স্থাপন করে অপরাধ দমন ও সমাজে শান্তি-শৃঙ্খলা স্থাপনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে সেনা ও নৌবাহিনী। জনগণের ভোটে নির্বাচিত সরকার দায়িত্বভার গ্রহণ করার পর এখন সেনা, নৌ ও বিমান বাহিনীকে আনুষ্ঠানিকভাবে ব্যারাকে ফিরিয়ে নেওয়া হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

সশস্ত্র বাহিনীর একাধিক কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গত ১২ ফেব্রুয়ারি শান্তিপূর্ণভাবে জাতীয় সংসদ নির্বাচন সম্পন্ন হওয়ার পর রাজনৈতিক সরকার দায়িত্ব পালন শুরু করে। এরপর থেকে পর্যায়ক্রমে মাঠ থেকে সেনাবাহিনী ও নৌবাহিনীর সদস্য সংখ্যা কমানো হতে থাকে। সংখ্যা কমে আসলেও দেশের বিভিন্ন স্থানে এখনও সেনা ও নৌবাহিনী মোতায়েন রয়েছে।

তবে দীর্ঘদিন নিরলসভাবে মাঠে দায়িত্ব পালনের পর এখন ব্যারাকে ফিরতে অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন সৈনিকরা। সরকারের সবুজ সংকেত পেলেই তারা সম্পূর্ণভাবে ব্যারাকে ফিরে যাবেন। অবশ্য আনুষ্ঠানিকভাবে বাহিনীগুলোকে এখনও এই সিদ্ধান্তের বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়নি।

অন্যদিকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে আরও জানা গেছে, মাঠ থেকে চূড়ান্তভাবে সেনাবাহিনী প্রত্যাহার, দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, সারা দেশে চাঁদাবাজি রোধ এবং পুলিশের পোশাক পরিবর্তনসহ বিভিন্ন বিষয়ে মঙ্গলবার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কোর কমিটির বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি), ঢাকা মহানগর পুলিশ কমিশনার, বিজিবি মহাপরিচালকসহ বিভিন্ন সংস্থার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

 

প্রায় আড়াই ঘণ্টার এই সভায় মাঠ থেকে চূড়ান্তভাবে সেনাবাহিনী বা সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের প্রত্যাহার, চাঁদাবাজি প্রতিরোধ, পুলিশের পোশাক পরিবর্তন এবং দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিসহ বিভিন্ন বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

বৈঠকের তথ্যমতে, আগামী ৬ জুন থেকে সেনাসদস্যদের চূড়ান্ত প্রত্যাহার শুরু হবে। ধাপে ধাপে বিভাগীয় শহর এবং বড় জেলাগুলো থেকে তাদের তুলে আনা হবে। জুন মাসের মধ্যেই সেনাবাহিনীর সব সদস্যকে মাঠপর্যায় থেকে সরিয়ে নেওয়া হবে। প্রথম দিকে প্রত্যাহার প্রক্রিয়া শুরু হবে দূরবর্তী জেলাগুলো থেকে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, সারা দেশে মাঠপর্যায়ে এখনও ১৫ থেকে ১৭ হাজার সেনাসদস্য মোতায়েন রয়েছেন। এছাড়া উপকূলীয় এলাকায় নৌবাহিনীর বেশকিছু সদস্য কর্মরত আছেন।