বন্যার তিনদিন পর জোরদার ত্রাণ কার্যক্রম, তবুও সংকটে চট্টগ্রামের দুর্গত মানুষ
- আপডেট সময় : ০২:২৪:৩২ অপরাহ্ন, শনিবার, ১১ জুলাই ২০২৬
- / 84
নিজস্ব প্রতিবেদক:
টানা এক সপ্তাহের ভারী বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে চট্টগ্রামে ভয়াবহ বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে সাতকানিয়া ও বাঁশখালী উপজেলা। এছাড়া চন্দনাইশ, লোহাগাড়া, বোয়ালখালী, পটিয়া ও আনোয়ারার বিস্তীর্ণ এলাকা পানিতে তলিয়ে গেছে। তিনদিন ধরে পানিবন্দি থাকার পর অনেক এলাকায় ত্রাণ কার্যক্রম জোরদার হলেও এখনও খাদ্য, বিশুদ্ধ পানি ও আশ্রয় সংকটে ভুগছেন হাজারো মানুষ।
বন্যার কারণে বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্নতা ও যোগাযোগ ব্যবস্থা ভেঙে পড়ায় দুর্গত মানুষের দুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে। অনেক পরিবার উঁচু ভবন ও আশ্রয়কেন্দ্রে আশ্রয় নিয়েছে। গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ত্রাণ সংকটের বিষয়টি আলোচনায় আসার পর সরকার, বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, সেনাবাহিনী এবং স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনগুলো ত্রাণ কার্যক্রম আরও জোরদার করে।
শুক্রবার বাঁশখালীর বন্যাকবলিত এলাকা পরিদর্শন করেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধী দলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। তিনি দুর্গত মানুষের খোঁজখবর নেন এবং শুকনো খাবার ও আর্থিক সহায়তা বিতরণ করেন।
একইদিন সাতকানিয়ার বন্যাকবলিত এলাকা পরিদর্শন করেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা। তিনি ৮০০ পরিবারের মধ্যে জরুরি ত্রাণ বিতরণ করেন। এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন চট্টগ্রামের সিভিল সার্জন ডা. জাহাঙ্গীর আলম।
চট্টগ্রামের বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় জেলা প্রশাসনের অনুরোধে ‘ইন এইড টু সিভিল পাওয়ার’-এর আওতায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। সেনাবাহিনীর সদস্যরা উদ্ধার অভিযানের পাশাপাশি ইঞ্জিনচালিত নৌকায় করে দুর্গম ও বিচ্ছিন্ন এলাকায় চাল, চিড়া, মুড়ি, বিশুদ্ধ পানিসহ জরুরি খাদ্যসামগ্রী পৌঁছে দিচ্ছেন।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, কয়েকদিন ধরে খাদ্যসংকটে থাকা পরিবারগুলো সেনাবাহিনীর ত্রাণ পেয়ে কিছুটা স্বস্তি ফিরে পেয়েছে। তবে এখনও অনেক এলাকায় পর্যাপ্ত সহায়তা পৌঁছায়নি এবং বহু ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
সাতকানিয়া উপজেলা প্রশাসন জানিয়েছে, সেনাবাহিনী, পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস ও বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের সমন্বয়ে উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত এ কার্যক্রম চলবে।
শনিবার থেকে বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ও রাজনৈতিক দলের ত্রাণ বিতরণও বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশেষ করে আনোয়ারা ও চট্টগ্রাম নগর থেকে বিভিন্ন দল বাঁশখালীর দুর্গম গ্রামগুলোতে গিয়ে খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করছে।
এদিকে, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত জানিয়েছেন, প্রশাসনের পাশাপাশি কোস্ট গার্ড, বিজিবি, আনসার ও সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যরা সমন্বিতভাবে বন্যাদুর্গত মানুষের কাছে ত্রাণ পৌঁছে দিতে কাজ করছেন, যাতে প্রত্যন্ত এলাকার মানুষও সহায়তা থেকে বঞ্চিত না হন।
জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা বলেন, সরকার ও জেলা প্রশাসনের কাছে পর্যাপ্ত ত্রাণ মজুত রয়েছে। উদ্ধার, ত্রাণ বিতরণ ও চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে সব সংস্থা একযোগে কাজ করছে। পাশাপাশি তিনি বিত্তবান ব্যক্তি, সামাজিক সংগঠন ও স্বেচ্ছাসেবীদের বন্যাদুর্গত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান।
























