মতলব সরকারি ডিগ্রি কলেজে এডমিট কার্ডের নামে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগ, তদন্তের দাবি
- আপডেট সময় : ০৯:১৪:০৩ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩০ জুন ২০২৬
- / 61
চাঁদপুরের মতলব সরকারি ডিগ্রি কলেজ-এ ২০২৬ সালের এইচএসসি ও এইচএসসি (বিএম) পরীক্ষার্থীদের কাছ থেকে এডমিট কার্ডের নামে জনপ্রতি ৫০০ টাকা আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও সচেতন মহলে তীব্র ক্ষোভ ও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, জেলার অন্যান্য সরকারি কলেজের তুলনায় এই অর্থ আদায় অস্বাভাবিকভাবে বেশি।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, জেলার বিভিন্ন সরকারি কলেজে এডমিট কার্ড বাবদ তুলনামূলক কম অর্থ নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে চাঁদপুর সরকারি কলেজে ৫০ টাকা, চাঁদপুর সরকারি মহিলা কলেজে ১০০ টাকা, ছেংগারচর সরকারি কলেজে ২০০ টাকা, হাইমচর সরকারি কলেজে ১২০ টাকা এবং ফরিদগঞ্জ সরকারি কলেজে ২০০ টাকা নেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে, কচুয়া বঙ্গবন্ধু সরকারি কলেজে এ খাতে কোনো অর্থ নেওয়া হয়নি। অথচ মতলব সরকারি ডিগ্রি কলেজে একই খাতে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে প্রায় ২ লাখ ৫৭ হাজার টাকা আদায় করা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, বিষয়টি নিয়ে একাধিকবার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ জমা দেওয়া হলেও এখন পর্যন্ত দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। এতে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে অসন্তোষ আরও বেড়েছে।
এদিকে বিএম শাখার পরীক্ষা কেন্দ্র নিজ কলেজে নির্ধারণ এবং পরীক্ষা ব্যবস্থাপনা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, মাত্র দুটি শ্রেণিকক্ষে প্রথম বর্ষের ৫২ জন এবং দ্বিতীয় বর্ষের ৮৪ জন পরীক্ষার্থীকে বসানোর পরিকল্পনা করা হয়েছে। সচেতন মহলের দাবি, এতসংখ্যক পরীক্ষার্থীকে সীমিত শ্রেণিকক্ষে বসিয়ে সুষ্ঠু ও নকলমুক্ত পরীক্ষা আয়োজন করা কঠিন হতে পারে।
কলেজের প্রশাসনিক দায়িত্ব বণ্টন নিয়েও বিতর্ক তৈরি হয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, অধ্যাপক সাইফুল ইসলাম একই সঙ্গে উচ্চমাধ্যমিক বিএম শাখার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা, শিক্ষক পরিষদের সম্পাদক এবং ডিগ্রি তৃতীয় বর্ষের আহ্বায়কসহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করছেন। এতে প্রশাসনিক ভারসাম্য ও জবাবদিহি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
এ ছাড়া কলেজের অধ্যক্ষ আবুল কালাম আজাদ এবং শিক্ষক পরিষদের সম্পাদক অধ্যাপক সাইফুল ইসলামের বিরুদ্ধে বিভিন্ন খাতে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত অর্থ আদায় ও আর্থিক অনিয়মের অভিযোগও উঠেছে। তবে এসব অভিযোগের স্বাধীন ও নিরপেক্ষ প্রমাণ এখনো পাওয়া যায়নি। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক তদন্ত ছাড়া অভিযোগগুলোর সত্যতা নিশ্চিতভাবে বলা সম্ভব নয়।
এ বিষয়ে কলেজের অধ্যক্ষ আবুল কালাম আজাদের সঙ্গে একাধিকবার মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। ভবিষ্যতে তাঁর বক্তব্য পাওয়া গেলে তা গুরুত্বসহকারে প্রকাশ করা হবে।
শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও সচেতন নাগরিকদের দাবি, অভিযোগগুলো দ্রুত তদন্ত করে সত্যতা যাচাই করা হোক। অনিয়ম বা অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি ভবিষ্যতে সরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে আর্থিক স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে কার্যকর নজরদারি জোরদার করা জরুরি।
























