ঢাকা ১২:৫১ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
পুরান ঢাকায় এক পঙ্গু হতদরিদ্র ব্যক্তিকে হুইলচেয়ার উপহার দিলো ছাত্রদল নেতারা  হযরতপুরে চাচা হাজী দুঃখ মিয়া বিরুদ্ধে জাল দলিল ও জমি দখলের অভিযোগ তুলেছে ভাতিজা আলা. পুরান ঢাকার সফল সংগঠক মোস্তাকের জন্মদিন পালিত কেরানীগঞ্জে ডিবি পুলিশের অভিযানে ৫০ পিস ইয়াবাসহ একজন গ্রেপ্তার জেলা প্রশাসকের সঙ্গে অতুল বসাকের মতবিনিময়, রামরাই বিনোদন পার্কের প্রাচীর নির্মাণ নিয়ে আলোচনা সাংবাদিক মুন্না মিয়ার মৃত্যুতে ডিএসইসির শোক কেরানীগঞ্জে ডিবির বিশেষ অভিযান: ইয়াবা ও হেরোইনসহ দুই মাদক কারবারি গ্রেপ্তার, প্রতারণা মামলায় আরও দুইজন আটক। কেরানীগঞ্জে ডিবির অভিযানে ছাত্রলীগের সহসভাপতি গ্রেপ্তার সিনিয়র ক্রাইম রিপোর্টার মোঃ শাহাদাৎ হোসেন চাঁপাইনবাবগঞ্জে ১ কেজি গাঁজাসহ নারীসহ গ্রেপ্তার ২ মালয়েশিয়ায় পাঠানোর প্রলোভনে দুই কিশোরকে মিয়ানমারে পাচারের অভিযোগ

শিক্ষা উপদেষ্টা

সম্পদের অপ্রতুলতার কারণে শিক্ষকদের প্রাপ্য সম্মান দিতে পারছি না

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • আপডেট সময় : ০২:৫৯:১৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ১১ মে ২০২৫
  • / 151
আজকের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ড. সি আর আবরার বলেছেন, শিক্ষকতা একটি মহান পেশা, এটা বুলি নয়। শিক্ষকরা শুধু চাকরি করতে আসেন না, তারা শিক্ষার্থীদের দেশ গড়ার কারিগর হিসেবে গড়ে তোলার দায়িত্ব নিয়েছেন। আমাদের সম্পদের অপ্রতুলতার কারণে শিক্ষকদের প্রাপ্য সম্মান দিতে পারছি না। কিন্তু আমাদের দায়িত্ব রয়েছে এ মহান পেশায় যে শিক্ষকরা রয়েছেন, তাদের প্রাপ্য সম্মান দেওয়া।

শনিবার (১০ মে) প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মাল্টিপারপাস কনফারেন্স হলে ‘জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা সপ্তাহ ২০২৫’ উদ্বোধন ও প্রাথমিক শিক্ষা পদক ২০২৪ প্রদান অনুষ্ঠানে উপদেষ্টা এ কথা বলেন।

তিনি বলেন, প্রাথমিক শিক্ষক থেকে শুরু করে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য পর্যন্ত আমাদের আচার-আচরণে তাদের প্রাপ্য সম্মান দেওয়া উচিত। আজকের প্রাথমিক শিক্ষা সপ্তাহের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করছি, আমরা শিক্ষকদের মর্যাদা সমুন্নত রাখব। অন্যদিকে শিক্ষার্থীদের সুপ্ত প্রতিভা লালনের দায়িত্বও আমাদের নিতে হবে। দুই মন্ত্রণালয়ে আমাদের এমন কিছু কাজ করা প্রয়োজন যাতে আজকে কোমলমতি শিক্ষার্থীরা বিতর্ক প্রতিযোগিতার মাধ্যমে যে প্রতিভার স্বাক্ষর রেখে গেলো, তাদের সে প্রতিভা বিকাশের সুযোগ যেন তৈরি হয়।

তিনি বলেন, ‘মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করি বৈষম্যমুক্ত বাংলাদেশ গড়ি’ স্লোগান নিয়ে জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা সপ্তাহ উদযাপন করা হচ্ছে। শুধুমাত্র প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় নয়, সার্বিক শিক্ষা ব্যবস্থা কী হওয়া উচিত তা এ স্লোগানের মধ্যে অন্তর্নিহিত রয়েছে। আমাদের সীমিত সম্পদ, সরকারে আমাদের সীমিত সময় ও সুযোগের মধ্যে মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করার জন্য সবাইকে যার যার অবস্থান থেকে কাজ করতে হবে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান হচ্ছে দেশ গড়ার কারিগর তৈরির প্রতিষ্ঠান। এখানে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের জন্য কিছু একটা করার ক্ষেত্রে সরকারের সময় কম হলেও আমি দায়িত্বের চাপ অনুভব করছি।

মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করতে সহযোগিতা প্রয়োজন উল্লেখ করে তিনি বলেন, ছোটবেলা থেকে বিভিন্ন ধাপ পেরিয়ে শিক্ষার্থীদের টারসিয়ারি ইনস্টিটিউশন পর্যন্ত দেখভালের দায়িত্ব রাষ্ট্র বহন করছে। তাদের পরিবার এ দায়িত্ব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কাছে অর্পণ করেছে। কিন্তু আমরা জানি বহুলাংশে এগুলোর ক্ষেত্রে নানা রকমের ব্যত্যয় রয়েছে। সংশ্লিষ্ট এলাকার সামাজিক অবস্থান ও রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট যদি ভালো কিছু করে তাহলে ভালো হয়, আর খারাপ কিছু করলে খারাপ হয়। ভালো কিছু করার জন্য সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের স্থানীয় দায়িত্বপ্রাপ্ত সামাজিক ও রাজনৈতিকভাবে সবার সম্মিলিত সহযোগিতা প্রয়োজন।

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সমস্যা দূর করতে গভর্নিং বডিরও নজর দেওয়া প্রয়োজন উল্লেখ করে শিক্ষা উপদেষ্টা আরো বলেন, গভর্নিং বডি ছাড়া যারা অভিভাবক রয়েছেন, তারা যদি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের দিকে নজর রাখেন, তাহলে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সমস্যা থাকবে না। শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার পাশাপাশি নাচ, গান, আবৃত্তি, খেলাধুলা ও বিভিন্ন প্রতিযোগিতার আয়োজন করলে শিক্ষার্থীরা উৎসাহিত হবে, পড়াশোনার পাশাপাশি তাদের প্রতিভার বিকাশ ঘটবে। এসব আয়োজনে অভিভাবক ও সমাজের সব স্তরের লোকজনের সহযোগিতা প্রয়োজন। শিক্ষা হচ্ছে বৈষম্য দূর করার সবচেয়ে কার্যকর হাতিয়ার। একটি শিশুর বেড়ে ওঠার জন্য এবং আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে অবদান রাখার জন্য শিক্ষা বড় রকমের ভূমিকা পালন করে। রাষ্ট্রের উচিত এই শিশুদের এমন পরিবেশ সৃষ্টি করে দেওয়া যাতে তার সুপ্ত প্রতিভাগুলোর বিকাশ ঘটাতে পারে। শিক্ষা শুধু চাকরি বা ব্যবসা করার জন্য না। শিক্ষা হচ্ছে শিশুকে মানুষ হিসেবে গড়ে তোলার জন্য যাতে তার মধ্যে ন্যায়-নীতি প্রতিষ্ঠা লাভ করে। শিক্ষার্থীদের ওপর থেকে পড়ার চাপ কমিয়ে তাদের নাচ, গান, আবৃত্তি ও খেলাধুলায় আগ্রহী করে তোলার আহ্বান জানান তিনি।

সভা শেষে বিজয়ীদের মধ্যে প্রাথমিক শিক্ষা পদক ২০২৪ দেওয়া হয়। এসময় প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা অধ্যাপক ডা. বিধান রঞ্জন রায়ের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব আবু তাহের মো. মাসুদ রানা।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

শিক্ষা উপদেষ্টা

সম্পদের অপ্রতুলতার কারণে শিক্ষকদের প্রাপ্য সম্মান দিতে পারছি না

আপডেট সময় : ০২:৫৯:১৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ১১ মে ২০২৫

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ড. সি আর আবরার বলেছেন, শিক্ষকতা একটি মহান পেশা, এটা বুলি নয়। শিক্ষকরা শুধু চাকরি করতে আসেন না, তারা শিক্ষার্থীদের দেশ গড়ার কারিগর হিসেবে গড়ে তোলার দায়িত্ব নিয়েছেন। আমাদের সম্পদের অপ্রতুলতার কারণে শিক্ষকদের প্রাপ্য সম্মান দিতে পারছি না। কিন্তু আমাদের দায়িত্ব রয়েছে এ মহান পেশায় যে শিক্ষকরা রয়েছেন, তাদের প্রাপ্য সম্মান দেওয়া।

শনিবার (১০ মে) প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মাল্টিপারপাস কনফারেন্স হলে ‘জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা সপ্তাহ ২০২৫’ উদ্বোধন ও প্রাথমিক শিক্ষা পদক ২০২৪ প্রদান অনুষ্ঠানে উপদেষ্টা এ কথা বলেন।

তিনি বলেন, প্রাথমিক শিক্ষক থেকে শুরু করে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য পর্যন্ত আমাদের আচার-আচরণে তাদের প্রাপ্য সম্মান দেওয়া উচিত। আজকের প্রাথমিক শিক্ষা সপ্তাহের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করছি, আমরা শিক্ষকদের মর্যাদা সমুন্নত রাখব। অন্যদিকে শিক্ষার্থীদের সুপ্ত প্রতিভা লালনের দায়িত্বও আমাদের নিতে হবে। দুই মন্ত্রণালয়ে আমাদের এমন কিছু কাজ করা প্রয়োজন যাতে আজকে কোমলমতি শিক্ষার্থীরা বিতর্ক প্রতিযোগিতার মাধ্যমে যে প্রতিভার স্বাক্ষর রেখে গেলো, তাদের সে প্রতিভা বিকাশের সুযোগ যেন তৈরি হয়।

তিনি বলেন, ‘মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করি বৈষম্যমুক্ত বাংলাদেশ গড়ি’ স্লোগান নিয়ে জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা সপ্তাহ উদযাপন করা হচ্ছে। শুধুমাত্র প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় নয়, সার্বিক শিক্ষা ব্যবস্থা কী হওয়া উচিত তা এ স্লোগানের মধ্যে অন্তর্নিহিত রয়েছে। আমাদের সীমিত সম্পদ, সরকারে আমাদের সীমিত সময় ও সুযোগের মধ্যে মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করার জন্য সবাইকে যার যার অবস্থান থেকে কাজ করতে হবে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান হচ্ছে দেশ গড়ার কারিগর তৈরির প্রতিষ্ঠান। এখানে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের জন্য কিছু একটা করার ক্ষেত্রে সরকারের সময় কম হলেও আমি দায়িত্বের চাপ অনুভব করছি।

মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করতে সহযোগিতা প্রয়োজন উল্লেখ করে তিনি বলেন, ছোটবেলা থেকে বিভিন্ন ধাপ পেরিয়ে শিক্ষার্থীদের টারসিয়ারি ইনস্টিটিউশন পর্যন্ত দেখভালের দায়িত্ব রাষ্ট্র বহন করছে। তাদের পরিবার এ দায়িত্ব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কাছে অর্পণ করেছে। কিন্তু আমরা জানি বহুলাংশে এগুলোর ক্ষেত্রে নানা রকমের ব্যত্যয় রয়েছে। সংশ্লিষ্ট এলাকার সামাজিক অবস্থান ও রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট যদি ভালো কিছু করে তাহলে ভালো হয়, আর খারাপ কিছু করলে খারাপ হয়। ভালো কিছু করার জন্য সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের স্থানীয় দায়িত্বপ্রাপ্ত সামাজিক ও রাজনৈতিকভাবে সবার সম্মিলিত সহযোগিতা প্রয়োজন।

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সমস্যা দূর করতে গভর্নিং বডিরও নজর দেওয়া প্রয়োজন উল্লেখ করে শিক্ষা উপদেষ্টা আরো বলেন, গভর্নিং বডি ছাড়া যারা অভিভাবক রয়েছেন, তারা যদি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের দিকে নজর রাখেন, তাহলে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সমস্যা থাকবে না। শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার পাশাপাশি নাচ, গান, আবৃত্তি, খেলাধুলা ও বিভিন্ন প্রতিযোগিতার আয়োজন করলে শিক্ষার্থীরা উৎসাহিত হবে, পড়াশোনার পাশাপাশি তাদের প্রতিভার বিকাশ ঘটবে। এসব আয়োজনে অভিভাবক ও সমাজের সব স্তরের লোকজনের সহযোগিতা প্রয়োজন। শিক্ষা হচ্ছে বৈষম্য দূর করার সবচেয়ে কার্যকর হাতিয়ার। একটি শিশুর বেড়ে ওঠার জন্য এবং আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে অবদান রাখার জন্য শিক্ষা বড় রকমের ভূমিকা পালন করে। রাষ্ট্রের উচিত এই শিশুদের এমন পরিবেশ সৃষ্টি করে দেওয়া যাতে তার সুপ্ত প্রতিভাগুলোর বিকাশ ঘটাতে পারে। শিক্ষা শুধু চাকরি বা ব্যবসা করার জন্য না। শিক্ষা হচ্ছে শিশুকে মানুষ হিসেবে গড়ে তোলার জন্য যাতে তার মধ্যে ন্যায়-নীতি প্রতিষ্ঠা লাভ করে। শিক্ষার্থীদের ওপর থেকে পড়ার চাপ কমিয়ে তাদের নাচ, গান, আবৃত্তি ও খেলাধুলায় আগ্রহী করে তোলার আহ্বান জানান তিনি।

সভা শেষে বিজয়ীদের মধ্যে প্রাথমিক শিক্ষা পদক ২০২৪ দেওয়া হয়। এসময় প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা অধ্যাপক ডা. বিধান রঞ্জন রায়ের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব আবু তাহের মো. মাসুদ রানা।