চলন্ত অটোরিকশা থেকে লাফিয়ে প্রাণ বাঁচালেন তরুণ, ছিনতাই চক্রের ৩ সদস্য আটক
- আপডেট সময় : ১০:০৯:২৩ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১ জুলাই ২০২৬
- / 40
নিজস্ব প্রতিবেদক, ময়মনসিংহ
ময়মনসিংহ নগরে শেরপুরগামী বাসের অপেক্ষায় থাকা এক তরুণকে জোরপূর্বক ব্যাটারিচালিত অটোরিকশায় তুলে মারধর, ছিনতাই এবং হত্যার হুমকি দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। তবে র্যাবের টহল গাড়ি দেখে চলন্ত অটোরিকশা থেকে সড়কে লাফ দিয়ে প্রাণ রক্ষা করেন ওই তরুণ। পরে ঘটনাস্থল থেকে ছিনতাই চক্রের তিন সদস্যকে আটক করে র্যাব।
সোমবার (২৯ জুন) বিকেলে নগরের দিঘারকান্দা বাইপাস এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
ভুক্তভোগী লিখন হাসান (১৯) Nalitabari Upazila উপজেলার গুজারকুড়া গ্রামের মোক্তার হোসেনের ছেলে। তিনি স্থানীয় একটি মাদরাসার শিক্ষার্থী।
র্যাব সূত্রে জানা যায়, গাজীপুরে বোনের বাসা থেকে সোমবার বিকেলে নিজ বাড়ি শেরপুরে ফিরছিলেন লিখন। বিকেল সোয়া ৪টার দিকে ময়মনসিংহ নগরের দিঘারকান্দা বাইপাস এলাকায় বাস থেকে নেমে শেরপুরগামী অন্য বাস ধরতে পাটগুদাম ব্রিজ মোড় বাসস্ট্যান্ডে যাওয়ার জন্য অটোরিকশার অপেক্ষায় ছিলেন।
এ সময় একটি ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা এসে তার সামনে থামে। চালকসহ তিনজন সেখানে অবস্থান করছিলেন। অভিযোগ রয়েছে, তারা জোর করে লিখনকে অটোরিকশায় তুলে তার বাড়ির ঠিকানা জানতে চান। পরে তাকে মারধর করে সঙ্গে থাকা মোবাইল ফোন ও ৩১০ টাকা ছিনিয়ে নেয়। একই সঙ্গে হত্যার হুমকিও দেয়।
একপর্যায়ে দিঘারকান্দা বাইপাস থেকে কেওয়াটখালী বাইপাস সড়কের ময়নার মোড় এলাকায় যাওয়ার পথে র্যাবের একটি টহল গাড়ি দেখতে পান লিখন। সুযোগ বুঝে তিনি চলন্ত অটোরিকশা থেকে সড়কে লাফ দেন। পরে র্যাব সদস্যরা তাকে উদ্ধার করেন এবং অটোরিকশায় থাকা তিনজনকে আটক করেন।
আটককৃতরা হলেন— রাকিবুল ইসলাম ওরফে রাকিব (২০), সাব্বির হোসেন ওরফে তপন (২০) এবং মো. সোয়াদ (১৯)। তারা সবাই ময়মনসিংহ নগরের বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দা।
মঙ্গলবার আটক তিনজনকে Kotwali Model Police Station-এ হস্তান্তর করে র্যাব। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী লিখন হাসান বাদী হয়ে থানায় মামলা দায়ের করেন। পরে তাদের গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হয়।
Kotwali Model Police Station-এর ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. শিবিরুল ইসলাম বলেন, ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তাদের সঙ্গে আরও কেউ জড়িত আছে কি না, সেটিও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
Rapid Action Battalion-১৪ ময়মনসিংহের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. সামসুজ্জামান জানান, আটক ব্যক্তিরা দীর্ঘদিন ধরে মহাসড়কে সাধারণ যাত্রী ও পথচারীদের টার্গেট করে জোরপূর্বক ইজিবাইকে তুলে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে টাকাপয়সা, মোবাইল ফোন ও মূল্যবান সামগ্রী ছিনতাই করে আসছিলেন। চক্রটি বড় এবং এর অন্য সদস্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।















