*দিনাজপুরের বিরলে তুচ্ছ ঘটনায় পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় দুই অভিযুক্তকে জামালপুর থেকে গ্রেফতার করেছে র্যাব।
- আপডেট সময় : ০৬:৩২:০৮ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২ জুলাই ২০২৬
- / 45
১। বাংলাদেশ আমার অহংকার’- এই মূলমন্ত্রকে ধারণ করে এলিট ফোর্স র্যাপিড এ্যাকশন ব্যাটালিয়ন চাঞ্চল্যকর হত্যা, ডাকাতি, অপহরণ, ধর্ষণ, রাহাজানিসহ মারাত্মক সব সামাজিক অপরাধের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করে আসছে। হত্যার মতো মারাত্মক সামাজিক অপরাধের ক্ষেত্রে র্যাব অত্যন্ত পেশাদারিত্বের সাথে দায়িত্ব পালন করে থাকে।
২। দিনাজপুরের বিরল উপজেলার পলাশবাড়ী ইউনিয়নের ধূলাতৈড় (ডাঙ্গাপাড়া) গ্রামে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে বাকবিতণ্ডার জেরে সৃষ্ট সংঘর্ষে মোঃ বাবু হত্যা মামলার ২নং এজাহারনামীয় আসামি মোঃ আইনুল ইসলাম (৩৮) এবং ৮ নং আসামি মোঃ রকি (২২) কে জামালপুর থেকে গ্রেফতার করেছে র্যাব।
৩। গত ২৩ জুন, ২০২৬ তারিখ মঙ্গলবার রাত আনুমানিক ০৮.০০ টার দিকে বিরল উপজেলার ১১ নম্বর পলাশবাড়ী ইউনিয়নের ধূলাতৈড় (ডাঙ্গাপাড়া) গ্রামে তুচ্ছ ঘটনার জের ধরে পিটিয়ে একই গ্রামের খলিল উদ্দীনের ছেলে মোঃ বাবু (৪৫)কে হত্যা করা হয়।

৪। বাদীর দায়েরকৃত এজাহার সূত্রে জানা যায় যে, নিহত বাবুর ছেলে রিফাত হোসেন (১৫) এর সাথে তুচ্ছ বিষয় নিয়ে এই মামলার ৪ নং আসামি শাহীনুরের কথা কাটাকাটি শুরু হয়। আসামি শাহীনুর একপর্যায়ে রিফাতকে মাটিতে ফেলে তার গলা চেপে ধরে। এই ঘটনা নিয়ে সৃষ্ট বাকবিতণ্ডা দুই পরিবারের সদস্যদের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে। পরে স্থানীয় লোকজন উভয়পক্ষকে শান্ত করে নিজ নিজ বাড়িতে পাঠিয়ে দেন।
৫। কিছুক্ষণ পর মমতাজ আলী, তার দুই ছেলে শাহিনুর রহমান ও শাখাওয়াত হোসেন, পরিবারের অন্যান্য সদস্য এবং একই এলাকার সাবেক গ্রাম পুলিশ আইনুল, আফজাল, ইউসুফ, মজিবরসহ কয়েকজন বাবুর বাড়িতে গিয়ে হামলা চালায়। এ সময় ধারালো কুড়াল দিয়ে বাবুর মাথায় আঘাত করা হয়। বাবুর স্ত্রী ও ছেলে রিফাত এগিয়ে এলে তাদেরও এলোপাতাড়ি মারধর করে গুরুতর জখম করা হয়।
৬। পরে স্থানীয়রা গুরুতর আহত অবস্থায় বাবু ও তার ছেলে রিফাতকে দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক বাবুকে মৃত ঘোষণা করেন। রিফাতের অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাকে হাসপাতালের আইসিইউতে ভর্তি করা হয়।
৭। এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের পর নিহত বাবুর ছেলে সাকিব রানা বাদী হয়ে গত ২৪ জুন, ২০২৬ তারিখ দিনাজপুরের বিরল থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন (মামলা নং-২৬)। ঘটনার পর থেকেই প্রধান আসামিরা এলাকা ছেড়ে আত্মগোপনে চলে যায়।
৮। মামলাটির গুরুত্ব বিবেচনায় আসামিদের গ্রেফতারে র্যাব-১৩ কর্তৃক গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করা হয়। এরই ধারাবহিকতায় সিপিসি-১, র্যাব-১৩, দিনাজপুর ক্যাম্প এবং সিপিসি-১, র্যাব-১৪, জামালপুর ক্যাম্পের একটি যৌথ আভিযানিক দল ০১ জুলাই, ২০২৬ তারিখ রাত ০৮.০৫ ঘটিকার সময় দিনাজপুর জেলার বিরল থানার বাবু হত্যা মামলার এজাহারনামীয় ২ নং আসামি মোঃ আইনুল ইসলাম (৩৮), পিতা-মোঃ ইচ্ছোফ আলী, সাং-ধুলাতৈর ডাঙ্গাপাড়া, ডাকঘর-সারাঙ্গাই, থানা-বিরল, জেলা-দিনাজপুর’কে জামালপুর জেলার সদর থানাধীন আমতলী এলাকা হতে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়।
৯। একই আভিযানিক দল সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে একই তারিখ রাত ০৮.৪৫ ঘটিকায় একই মামলার এজাহার নামীয় ০৮ নং আসামি মোঃ মেহেদী হাসান রকি (২২), পিতা-মোঃ আইনুল ইসলাম, সাং-ধুলাতৈর ডাঙ্গাপাড়া, ডাকঘর-সারাঙ্গাই, থানা-বিরল, জেলা-দিনাজপুর’কে জামালপুর জেলার সদর থানাধীন হবিদ্রাটা এলাকা হতে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়।
১০। গ্রেফতারকৃত আসামিদের পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। এছাড়া এই মামলার অন্যান্য আসামিদের গ্রেফতারে এবং সমাজ থেকে হত্যা, অপহরণ, ধর্ষণের মতো মারাত্মক অপরাধ দমনে র্যাবের এই নিয়মিত অভিযান অব্যাহত থাকবে।















