ঢাকা ০৫:১২ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
আইইডিসিআর-এর পরিচালককে নিজ কার্যালয়ে মারধরের অভিযোগ আট বিভাগে বৃষ্টির আভাস, কমবে তাপমাত্রা এসআরবি-১৪, সিপিএসসি, ময়মনসিংহ এর পৃথক অভিযানে হত্যা ও অপহরণ মামলার ০২ আসামি গ্রেফতার। পুরান ঢাকায় এক পঙ্গু হতদরিদ্র ব্যক্তিকে হুইলচেয়ার উপহার দিলো ছাত্রদল নেতারা  হযরতপুরে চাচা হাজী দুঃখ মিয়া বিরুদ্ধে জাল দলিল ও জমি দখলের অভিযোগ তুলেছে ভাতিজা আলা. পুরান ঢাকার সফল সংগঠক মোস্তাকের জন্মদিন পালিত কেরানীগঞ্জে ডিবি পুলিশের অভিযানে ৫০ পিস ইয়াবাসহ একজন গ্রেপ্তার জেলা প্রশাসকের সঙ্গে অতুল বসাকের মতবিনিময়, রামরাই বিনোদন পার্কের প্রাচীর নির্মাণ নিয়ে আলোচনা সাংবাদিক মুন্না মিয়ার মৃত্যুতে ডিএসইসির শোক কেরানীগঞ্জে ডিবির বিশেষ অভিযান: ইয়াবা ও হেরোইনসহ দুই মাদক কারবারি গ্রেপ্তার, প্রতারণা মামলায় আরও দুইজন আটক।

লাকীসহ অন্যদের বিরুদ্ধে হয়রানিমূলক মামলা প্রত্যাহার চায় সিপিবি

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • আপডেট সময় : ০২:০১:২১ অপরাহ্ন, রবিবার, ৪ মে ২০২৫
  • / 124
আজকের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য লাকী আক্তার, নাট্যকার মামুনুর রশিদসহ অন্য নিরপরাধ রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক কর্মীদের বিরুদ্ধে দায়ের করা হয়রানিমূলক মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারের আহ্বান জানিয়েছে মার্কসবাদী-লেনিনবাদী রাজনৈতিক দলটি।

রোববার (৪ মে) সংবাদ মাধ্যমে সিপিবির সভাপতি মোহাম্মদ শাহ আলম ও সাধারণ সম্পাদক রুহিন হোসেন প্রিন্সের পাঠানো বিবৃতিতে এ আহ্বান জানানো হয়।

বিবৃতিতে বলা হয়, ২০২৪ এর গণঅভ্যুত্থানের পরে নানাভাবে অভ্যুত্থানকে অপব্যবহার করা হচ্ছে। একটি গোষ্ঠী বাংলাদেশের মানুষের এই গণতান্ত্রিক অর্জনকে ভূলুণ্ঠিত করার জন্য নানা কৌশল ব্যবহার করছে। মৌলবাদী প্রতিক্রিয়াশীল শক্তি প্রগতিশীল ও গণতান্ত্রিক লড়াইয়ের সঙ্গীদের বিরুদ্ধে হয়রানিমূলক মিথ্যা মামলা দায়ের করছে। হয়রানিমূলক মিথ্যা মামলা দায়েরের মধ্য দিয়ে হত্যাকাণ্ড অপরাধের গুরুত্ব, প্রকৃত খুনিদের আড়াল করার চেষ্টা ও মামলা বাণিজ্য করা হচ্ছে। এই অপশক্তি নানাভাবে সাংস্কৃতিক কর্মী, সাংবাদিক, ঘটনাবলীর সঙ্গে জড়িত নয় এমন রাজনীতিকদেরও হয়রানি করার চেষ্টা করছে।

এতে আরও বলা হয়, ২০২৪ এর গণঅভ্যুত্থানের পর থেকেই মুক্তিযুদ্ধবিরোধী একটি অংশ সিপিবি কর্মী লাকী আক্তারের বিরুদ্ধে নানা ধরনের অপপ্রচার হুমকি ও মিথ্যা প্রচারণা করছে। আমরা অত্যন্ত উদ্বেগের সঙ্গে লক্ষ্য করলাম, যে সময় লাকী আক্তার ফ্যাসিস্ট হাসিনাবিরোধী আন্দোলনে রাজপথে সক্রিয়, সেই সময় তাকে উল্লেখ করে তার বিরুদ্ধে একটি হত্যাচেষ্টা মামলা দায়ের করা হয়েছে। এ মামলায় বিশিষ্ট সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বসহ এমন অনেককে আসামি করা হয়েছে, যা দেখে বোঝা যায় এ মামলা বিশেষ উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।

বিবৃতিতে সিপিবি নেতারা বলেন, আমরা সুস্পষ্টভাবে বলতে চাই- এ ধরনের কোনো কাজের সঙ্গে লাকী আক্তারের যুক্ত থাকার প্রশ্নই ওঠে না। এমন মামলা লাকী আক্তার ও সিপিবির বিরুদ্ধে একটি ষড়যন্ত্র। একইসঙ্গে হত্যাকাণ্ডগুলোকে গুরুত্বহীন ও প্রশ্নবিদ্ধ করারও একটি প্রক্রিয়া হিসেবে বিবেচিত। অন্তর্বর্তী সরকারকে দায়িত্ব নিয়ে এ মামলা প্রত্যাহারের ব্যবস্থা করতে হবে। অন্যথায় এ দায় তাদের নিতে হবে। শুধু লাকী আক্তার নন, আরও অনেকের ক্ষেত্রে দেখা গেছে, হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে ন্যূনতম যুক্ত থাকার সম্ভাবনা না থাকা সত্ত্বেও অনেকের বিরুদ্ধে হয়রানিমূলক মামলা দায়ের করা হয়েছে। এর ফলে প্রকৃত অপরাধীদের পার পেয়ে যাওয়া ও বিচার ব্যবস্থাকে প্রশ্নবিদ্ধ করার একটি প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।

তারা বিবৃতিতে নাট্যকার মামুনুর রশিদসহ অন্যান্য নিরপরাধ রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক কর্মীদের বিরুদ্ধে করা মিথ্যা মামলা অবিলম্বে প্রত্যাহারের ব্যবস্থা গ্রহণ করার দাবি জানান।

এতে আরও বলা হয়, গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী সময়ে নানাভাবে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধকে প্রশ্নবিদ্ধ করার চেষ্টা করা হচ্ছে। যারা মুক্তিযুদ্ধের সময় গণহত্যা চালিয়েছিল তাদের নানাভাবে জায়েজ করার চেষ্টা করা হচ্ছে। আমরা স্পষ্ট করে জানিয়ে দিতে চাই, একাত্তরের নৃশংসতম গণহত্যাকারীদের বাংলাদেশে কোনো ঠাঁই হবে না। গণআদালত ও গণজাগরণ মঞ্চের আন্দোলনের চেতনা অব্যাহত রাখতে হবে। একইসঙ্গে ২০২৪ এর জুলাই-আগস্ট হত্যাকাণ্ডের বিচার করতে হবে। এ ধরনের হয়রানিমূলক মামলা দায়েরকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

লাকীসহ অন্যদের বিরুদ্ধে হয়রানিমূলক মামলা প্রত্যাহার চায় সিপিবি

আপডেট সময় : ০২:০১:২১ অপরাহ্ন, রবিবার, ৪ মে ২০২৫

বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য লাকী আক্তার, নাট্যকার মামুনুর রশিদসহ অন্য নিরপরাধ রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক কর্মীদের বিরুদ্ধে দায়ের করা হয়রানিমূলক মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারের আহ্বান জানিয়েছে মার্কসবাদী-লেনিনবাদী রাজনৈতিক দলটি।

রোববার (৪ মে) সংবাদ মাধ্যমে সিপিবির সভাপতি মোহাম্মদ শাহ আলম ও সাধারণ সম্পাদক রুহিন হোসেন প্রিন্সের পাঠানো বিবৃতিতে এ আহ্বান জানানো হয়।

বিবৃতিতে বলা হয়, ২০২৪ এর গণঅভ্যুত্থানের পরে নানাভাবে অভ্যুত্থানকে অপব্যবহার করা হচ্ছে। একটি গোষ্ঠী বাংলাদেশের মানুষের এই গণতান্ত্রিক অর্জনকে ভূলুণ্ঠিত করার জন্য নানা কৌশল ব্যবহার করছে। মৌলবাদী প্রতিক্রিয়াশীল শক্তি প্রগতিশীল ও গণতান্ত্রিক লড়াইয়ের সঙ্গীদের বিরুদ্ধে হয়রানিমূলক মিথ্যা মামলা দায়ের করছে। হয়রানিমূলক মিথ্যা মামলা দায়েরের মধ্য দিয়ে হত্যাকাণ্ড অপরাধের গুরুত্ব, প্রকৃত খুনিদের আড়াল করার চেষ্টা ও মামলা বাণিজ্য করা হচ্ছে। এই অপশক্তি নানাভাবে সাংস্কৃতিক কর্মী, সাংবাদিক, ঘটনাবলীর সঙ্গে জড়িত নয় এমন রাজনীতিকদেরও হয়রানি করার চেষ্টা করছে।

এতে আরও বলা হয়, ২০২৪ এর গণঅভ্যুত্থানের পর থেকেই মুক্তিযুদ্ধবিরোধী একটি অংশ সিপিবি কর্মী লাকী আক্তারের বিরুদ্ধে নানা ধরনের অপপ্রচার হুমকি ও মিথ্যা প্রচারণা করছে। আমরা অত্যন্ত উদ্বেগের সঙ্গে লক্ষ্য করলাম, যে সময় লাকী আক্তার ফ্যাসিস্ট হাসিনাবিরোধী আন্দোলনে রাজপথে সক্রিয়, সেই সময় তাকে উল্লেখ করে তার বিরুদ্ধে একটি হত্যাচেষ্টা মামলা দায়ের করা হয়েছে। এ মামলায় বিশিষ্ট সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বসহ এমন অনেককে আসামি করা হয়েছে, যা দেখে বোঝা যায় এ মামলা বিশেষ উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।

বিবৃতিতে সিপিবি নেতারা বলেন, আমরা সুস্পষ্টভাবে বলতে চাই- এ ধরনের কোনো কাজের সঙ্গে লাকী আক্তারের যুক্ত থাকার প্রশ্নই ওঠে না। এমন মামলা লাকী আক্তার ও সিপিবির বিরুদ্ধে একটি ষড়যন্ত্র। একইসঙ্গে হত্যাকাণ্ডগুলোকে গুরুত্বহীন ও প্রশ্নবিদ্ধ করারও একটি প্রক্রিয়া হিসেবে বিবেচিত। অন্তর্বর্তী সরকারকে দায়িত্ব নিয়ে এ মামলা প্রত্যাহারের ব্যবস্থা করতে হবে। অন্যথায় এ দায় তাদের নিতে হবে। শুধু লাকী আক্তার নন, আরও অনেকের ক্ষেত্রে দেখা গেছে, হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে ন্যূনতম যুক্ত থাকার সম্ভাবনা না থাকা সত্ত্বেও অনেকের বিরুদ্ধে হয়রানিমূলক মামলা দায়ের করা হয়েছে। এর ফলে প্রকৃত অপরাধীদের পার পেয়ে যাওয়া ও বিচার ব্যবস্থাকে প্রশ্নবিদ্ধ করার একটি প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।

তারা বিবৃতিতে নাট্যকার মামুনুর রশিদসহ অন্যান্য নিরপরাধ রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক কর্মীদের বিরুদ্ধে করা মিথ্যা মামলা অবিলম্বে প্রত্যাহারের ব্যবস্থা গ্রহণ করার দাবি জানান।

এতে আরও বলা হয়, গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী সময়ে নানাভাবে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধকে প্রশ্নবিদ্ধ করার চেষ্টা করা হচ্ছে। যারা মুক্তিযুদ্ধের সময় গণহত্যা চালিয়েছিল তাদের নানাভাবে জায়েজ করার চেষ্টা করা হচ্ছে। আমরা স্পষ্ট করে জানিয়ে দিতে চাই, একাত্তরের নৃশংসতম গণহত্যাকারীদের বাংলাদেশে কোনো ঠাঁই হবে না। গণআদালত ও গণজাগরণ মঞ্চের আন্দোলনের চেতনা অব্যাহত রাখতে হবে। একইসঙ্গে ২০২৪ এর জুলাই-আগস্ট হত্যাকাণ্ডের বিচার করতে হবে। এ ধরনের হয়রানিমূলক মামলা দায়েরকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।