জামিনে মুক্ত সন্ত্রাসী ওয়াসিম, আতঙ্কে চুনারুঘাটের মানুষ—‘আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারীরা হতাশ, অপরাধীরা হাসছে
- আপডেট সময় : ০১:৩১:২৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ৩ নভেম্বর ২০২৫
- / 89
হবিগঞ্জের চুনারুঘাটে পুলিশের বিশেষ অভিযান ‘অপারেশন ডেভিল হান্ট’-এ যুবলীগ নেতা ও কথিত আন্তঃজেলা ডাকাত দলের সরদার ইমান আলী ওয়াসিমকে গ্রেফতার করেছিল পুলিশ।
শুক্রবার (৩১ অক্টোবর) রাতে উপজেলার পাইকুরা এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করা হয়। তবে, সম্প্রতি আদালত থেকে জামিন পাওয়ার খবরে এলাকাবাসীর মধ্যে নতুন করে ভয় ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
গ্রেফতারকৃত ওয়াসিম ৫নং শানখলা ইউনিয়নের পাইকুরা গ্রামের মোঃ কুদরত আলীর ছেলে। তিনি ইউনিয়ন যুবলীগের নেতা এবং দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় আওয়ামী যুবলীগের নাম ব্যবহার করে প্রভাব বিস্তার, চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ওয়াসিম একটি আন্তঃজেলা ডাকাত দলের নেতৃত্ব দিতেন। তার ভাইও ডাকাতি মামলায় কারাগারে রয়েছেন। হবিগঞ্জ সদর থানায় বৈষম্যবিরোধী মামলারও আসামি তিনি।
স্থানীয়দের অভিযোগ, ওয়াসিম ও তার সহযোগীরা দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় ভূমি দখল, ভয়ভীতি প্রদর্শন, মারধর, চাঁদাবাজি ও ডাকাতির মতো কর্মকাণ্ডে জড়িত। তারা শাকির মোহাম্মদ বাজার জামে মসজিদের নির্মাণকাজ আট বছর ধরে বন্ধ রেখেছে, গরুর বাজার ও সড়কের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নৈরাজ্য সৃষ্টি করেছে। দুইটি সিএনজি স্টেশনে হামলা চালিয়ে ড্রাইভারদের আহত করেছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।
এলাকাবাসীর ভাষ্য, ওয়াসিম চক্রের কারণে বাজারের ইজারাদার, দোকান মালিক, এমনকি আওয়ামী লীগের স্থানীয় নেতারাও জিম্মি হয়ে পড়েছিলেন। তাদের অত্যাচারে সাধারণ মানুষ মুখ খুলতে ভয় পান। স্থানীয়রা বলছেন, গোপনীয় তদন্তের মাধ্যমে এই চক্রের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।
এদিকে, জনগণের প্রশ্ন—যে সন্ত্রাসীকে ধরতে পুলিশ রক্ত-ঘাম ঝরায়, সে কীভাবে আদালত থেকে জামিন পায়?
এতে একদিকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মনোবল ভেঙে যাচ্ছে, অন্যদিকে অপরাধীরা মুক্তভাবে হাসছে, এমন মন্তব্য করছেন সচেতন মহল।






















