ঢাকা ০৫:৫৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
আইইডিসিআর-এর পরিচালককে নিজ কার্যালয়ে মারধরের অভিযোগ আট বিভাগে বৃষ্টির আভাস, কমবে তাপমাত্রা এসআরবি-১৪, সিপিএসসি, ময়মনসিংহ এর পৃথক অভিযানে হত্যা ও অপহরণ মামলার ০২ আসামি গ্রেফতার। পুরান ঢাকায় এক পঙ্গু হতদরিদ্র ব্যক্তিকে হুইলচেয়ার উপহার দিলো ছাত্রদল নেতারা  হযরতপুরে চাচা হাজী দুঃখ মিয়া বিরুদ্ধে জাল দলিল ও জমি দখলের অভিযোগ তুলেছে ভাতিজা আলা. পুরান ঢাকার সফল সংগঠক মোস্তাকের জন্মদিন পালিত কেরানীগঞ্জে ডিবি পুলিশের অভিযানে ৫০ পিস ইয়াবাসহ একজন গ্রেপ্তার জেলা প্রশাসকের সঙ্গে অতুল বসাকের মতবিনিময়, রামরাই বিনোদন পার্কের প্রাচীর নির্মাণ নিয়ে আলোচনা সাংবাদিক মুন্না মিয়ার মৃত্যুতে ডিএসইসির শোক কেরানীগঞ্জে ডিবির বিশেষ অভিযান: ইয়াবা ও হেরোইনসহ দুই মাদক কারবারি গ্রেপ্তার, প্রতারণা মামলায় আরও দুইজন আটক।

জামিনে মুক্ত সন্ত্রাসী ওয়াসিম, আতঙ্কে চুনারুঘাটের মানুষ—‘আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারীরা হতাশ, অপরাধীরা হাসছে

স্টাফ রিপোর্টার
  • আপডেট সময় : ০১:৩১:২৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ৩ নভেম্বর ২০২৫
  • / 89
আজকের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

হবিগঞ্জের চুনারুঘাটে পুলিশের বিশেষ অভিযান ‘অপারেশন ডেভিল হান্ট’-এ যুবলীগ নেতা ও কথিত আন্তঃজেলা ডাকাত দলের সরদার ইমান আলী ওয়াসিমকে গ্রেফতার করেছিল পুলিশ।
শুক্রবার (৩১ অক্টোবর) রাতে উপজেলার পাইকুরা এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করা হয়। তবে, সম্প্রতি আদালত থেকে জামিন পাওয়ার খবরে এলাকাবাসীর মধ্যে নতুন করে ভয় ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।

গ্রেফতারকৃত ওয়াসিম ৫নং শানখলা ইউনিয়নের পাইকুরা গ্রামের মোঃ কুদরত আলীর ছেলে। তিনি ইউনিয়ন যুবলীগের নেতা এবং দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় আওয়ামী যুবলীগের নাম ব্যবহার করে প্রভাব বিস্তার, চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ওয়াসিম একটি আন্তঃজেলা ডাকাত দলের নেতৃত্ব দিতেন। তার ভাইও ডাকাতি মামলায় কারাগারে রয়েছেন। হবিগঞ্জ সদর থানায় বৈষম্যবিরোধী মামলারও আসামি তিনি।

স্থানীয়দের অভিযোগ, ওয়াসিম ও তার সহযোগীরা দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় ভূমি দখল, ভয়ভীতি প্রদর্শন, মারধর, চাঁদাবাজি ও ডাকাতির মতো কর্মকাণ্ডে জড়িত। তারা শাকির মোহাম্মদ বাজার জামে মসজিদের নির্মাণকাজ আট বছর ধরে বন্ধ রেখেছে, গরুর বাজার ও সড়কের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নৈরাজ্য সৃষ্টি করেছে। দুইটি সিএনজি স্টেশনে হামলা চালিয়ে ড্রাইভারদের আহত করেছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।

এলাকাবাসীর ভাষ্য, ওয়াসিম চক্রের কারণে বাজারের ইজারাদার, দোকান মালিক, এমনকি আওয়ামী লীগের স্থানীয় নেতারাও জিম্মি হয়ে পড়েছিলেন। তাদের অত্যাচারে সাধারণ মানুষ মুখ খুলতে ভয় পান। স্থানীয়রা বলছেন, গোপনীয় তদন্তের মাধ্যমে এই চক্রের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।

এদিকে, জনগণের প্রশ্ন—যে সন্ত্রাসীকে ধরতে পুলিশ রক্ত-ঘাম ঝরায়, সে কীভাবে আদালত থেকে জামিন পায়?
এতে একদিকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মনোবল ভেঙে যাচ্ছে, অন্যদিকে অপরাধীরা মুক্তভাবে হাসছে, এমন মন্তব্য করছেন সচেতন মহল।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

জামিনে মুক্ত সন্ত্রাসী ওয়াসিম, আতঙ্কে চুনারুঘাটের মানুষ—‘আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারীরা হতাশ, অপরাধীরা হাসছে

আপডেট সময় : ০১:৩১:২৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ৩ নভেম্বর ২০২৫

হবিগঞ্জের চুনারুঘাটে পুলিশের বিশেষ অভিযান ‘অপারেশন ডেভিল হান্ট’-এ যুবলীগ নেতা ও কথিত আন্তঃজেলা ডাকাত দলের সরদার ইমান আলী ওয়াসিমকে গ্রেফতার করেছিল পুলিশ।
শুক্রবার (৩১ অক্টোবর) রাতে উপজেলার পাইকুরা এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করা হয়। তবে, সম্প্রতি আদালত থেকে জামিন পাওয়ার খবরে এলাকাবাসীর মধ্যে নতুন করে ভয় ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।

গ্রেফতারকৃত ওয়াসিম ৫নং শানখলা ইউনিয়নের পাইকুরা গ্রামের মোঃ কুদরত আলীর ছেলে। তিনি ইউনিয়ন যুবলীগের নেতা এবং দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় আওয়ামী যুবলীগের নাম ব্যবহার করে প্রভাব বিস্তার, চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ওয়াসিম একটি আন্তঃজেলা ডাকাত দলের নেতৃত্ব দিতেন। তার ভাইও ডাকাতি মামলায় কারাগারে রয়েছেন। হবিগঞ্জ সদর থানায় বৈষম্যবিরোধী মামলারও আসামি তিনি।

স্থানীয়দের অভিযোগ, ওয়াসিম ও তার সহযোগীরা দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় ভূমি দখল, ভয়ভীতি প্রদর্শন, মারধর, চাঁদাবাজি ও ডাকাতির মতো কর্মকাণ্ডে জড়িত। তারা শাকির মোহাম্মদ বাজার জামে মসজিদের নির্মাণকাজ আট বছর ধরে বন্ধ রেখেছে, গরুর বাজার ও সড়কের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নৈরাজ্য সৃষ্টি করেছে। দুইটি সিএনজি স্টেশনে হামলা চালিয়ে ড্রাইভারদের আহত করেছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।

এলাকাবাসীর ভাষ্য, ওয়াসিম চক্রের কারণে বাজারের ইজারাদার, দোকান মালিক, এমনকি আওয়ামী লীগের স্থানীয় নেতারাও জিম্মি হয়ে পড়েছিলেন। তাদের অত্যাচারে সাধারণ মানুষ মুখ খুলতে ভয় পান। স্থানীয়রা বলছেন, গোপনীয় তদন্তের মাধ্যমে এই চক্রের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।

এদিকে, জনগণের প্রশ্ন—যে সন্ত্রাসীকে ধরতে পুলিশ রক্ত-ঘাম ঝরায়, সে কীভাবে আদালত থেকে জামিন পায়?
এতে একদিকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মনোবল ভেঙে যাচ্ছে, অন্যদিকে অপরাধীরা মুক্তভাবে হাসছে, এমন মন্তব্য করছেন সচেতন মহল।