ঢাকা ০৭:০৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
নবাবগঞ্জে ডিবি পুলিশের অভিযানে ইয়াবাসহ ৩ জন গ্রেপ্তার। আইইডিসিআর-এর পরিচালককে নিজ কার্যালয়ে মারধরের অভিযোগ আট বিভাগে বৃষ্টির আভাস, কমবে তাপমাত্রা এসআরবি-১৪, সিপিএসসি, ময়মনসিংহ এর পৃথক অভিযানে হত্যা ও অপহরণ মামলার ০২ আসামি গ্রেফতার। পুরান ঢাকায় এক পঙ্গু হতদরিদ্র ব্যক্তিকে হুইলচেয়ার উপহার দিলো ছাত্রদল নেতারা  হযরতপুরে চাচা হাজী দুঃখ মিয়া বিরুদ্ধে জাল দলিল ও জমি দখলের অভিযোগ তুলেছে ভাতিজা আলা. পুরান ঢাকার সফল সংগঠক মোস্তাকের জন্মদিন পালিত কেরানীগঞ্জে ডিবি পুলিশের অভিযানে ৫০ পিস ইয়াবাসহ একজন গ্রেপ্তার জেলা প্রশাসকের সঙ্গে অতুল বসাকের মতবিনিময়, রামরাই বিনোদন পার্কের প্রাচীর নির্মাণ নিয়ে আলোচনা সাংবাদিক মুন্না মিয়ার মৃত্যুতে ডিএসইসির শোক

খাদ্য গুদামে দুদকের অভিযান, সাড়ে তিন টন চাল উদ্ধার

অনলাইন ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ০২:৫০:৪৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ জানুয়ারী ২০২৬
  • / 210
আজকের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার রুহিয়া এলএসডি খাদ্য গুদামে সরকার নির্ধারিত নীতিমালা লঙ্ঘন করে ঘুষের বিনিময়ে নিম্নমানের ধান ও চাল সংগ্রহের অভিযোগে অভিযান চালিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। অভিযানে রেকর্ডবিহীন মালিকবিহীন সাড়ে তিন মেট্রিক টন চাল উদ্ধার করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) দুপুর থেকে বিকেল পর্যন্ত দুদকের সমন্বিত ঠাকুরগাঁও জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মো. আজমির শরিফ মারজীর নেতৃত্বে একটি এনফোর্সমেন্ট টিম এ অভিযান পরিচালনা করে।

দুদক সূত্রে জানা যায়, রুহিয়া খাদ্য গুদামে আমন মৌসুমে চিকন চাল সংগ্রহের কথা থাকলেও সেখানে নিম্নমানের মোটা চাল সংগ্রহ করা হয়েছে- এমন অভিযোগের ভিত্তিতেই অভিযান চালানো হয়। অভিযানের সময় ২০২৫-২৬ অর্থবছরের সংগৃহীত চালের মান যাচাইয়ের জন্য ১৪টি পৃথক খামাল থেকে সিলগালা করা ব্যাগে ১০০ গ্রাম করে চালের নমুনা সংগ্রহ করে ইনভেন্টরি করা হয়।

এনফোর্সমেন্ট টিম খাদ্য গুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার উপস্থিতিতে সব গুদামঘর পরিদর্শন ও রেকর্ডপত্র সংগ্রহ করে। এ সময় বস্তা গণনা করতে গিয়ে ৭ নম্বর গুদামের খামাল নম্বর ৩-এ কোনো রেকর্ডপত্র ছাড়া ৩ হাজার ৪৫০ কেজি চাল পাওয়া যায়। এ চালের বিষয়ে খাদ্য গুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সন্তোষজনক কোনো ব্যাখ্যা দিতে পারেননি। পরে মালিকবিহীন চালগুলো তিনজন সাক্ষীর উপস্থিতিতে ইনভেন্টরি করে দুদক টিম। একই সঙ্গে রেকর্ডবিহীন এই চাল রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা দেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয় এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাকে লিখিত ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়।

এদিকে দুদকের অভিযানের খবর ছড়িয়ে পড়লে কয়েকজন মিল মালিক খাদ্য গুদামে এসে হট্টগোল সৃষ্টি করেন।

স্থানীয় কৃষক রমজান ও আপেল বলেন, ধান ঘরে তুলেও আমরা ন্যায্য দাম পাই না। সরকারি গোডাউনে চাল দিতে গেলে নানা শর্ত আর দীর্ঘ অপেক্ষার মধ্যে থাকতে হয়। অথচ আজ শুনছি, সেই গোডাউনেই মালিকবিহীন তিন মেট্রিক টনের বেশি চাল পাওয়া গেছে। এই চাল এল কোথা থেকে, কার স্বার্থে রাখা হয়েছিল এর স্পষ্ট জবাব চাই।

রুহিয়ার বাসিন্দা জাহাঙ্গীর আলম ও আনোয়ার বলেন, সরকারি খাদ্য গুদাম সাধারণ মানুষের আস্থার জায়গা। সেখানে মালিকানা ছাড়া চাল মজুত থাকা গুরুতর অনিয়মের ইঙ্গিত দেয়। আমরা চাই নিরপেক্ষ তদন্ত, তদন্তের ফল প্রকাশ এবং দায়ীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি।

দুদকের সহকারী পরিচালক মো. আজমির শরিফ মারজী বলেন, আমাদের কাছে তথ্য ছিল যে রুহিয়া খাদ্য গুদামে চিকন চালের পরিবর্তে নিম্নমানের মোটা চাল সংগ্রহ করা হয়েছে। সেই তথ্যের ভিত্তিতেই অভিযান পরিচালনা করা হয়। পরিদর্শনে আমরা সাড়ে তিন মেট্রিক টন অতিরিক্ত চাল পেয়েছি, যার কোনো হিসাব বা ব্যাখ্যা দিতে পারেননি ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা।

তিনি আরও বলেন, চালের মান আপাতত দৃষ্টিতে নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। এজন্য ১৪-১৫টি খামার থেকে নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। নমুনাগুলো ল্যাবে পাঠানো হবে। ল্যাব রিপোর্ট ও রেকর্ডপত্র পর্যালোচনার পর কমিশন বরাবর বিস্তারিত প্রতিবেদন দাখিল করা হবে।

এ বিষয়ে রুহিয়া খাদ্য গুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শিপ্রা শর্মার সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

তবে সদর উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মো. জিয়াউল হক শাহ বলেন, দুদকের অভিযান পরিচালনার বিষয়টি আমি অবগত। সরকারি খাদ্য গুদামে মালিকবিহীন চাল থাকার কোনো সুযোগ নেই। যদি নিয়ম বহির্ভূতভাবে চাল মজুত বা স্থানান্তরের প্রমাণ পাওয়া যায়, তাহলে দায়ীদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

খাদ্য গুদামে দুদকের অভিযান, সাড়ে তিন টন চাল উদ্ধার

আপডেট সময় : ০২:৫০:৪৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ জানুয়ারী ২০২৬

ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার রুহিয়া এলএসডি খাদ্য গুদামে সরকার নির্ধারিত নীতিমালা লঙ্ঘন করে ঘুষের বিনিময়ে নিম্নমানের ধান ও চাল সংগ্রহের অভিযোগে অভিযান চালিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। অভিযানে রেকর্ডবিহীন মালিকবিহীন সাড়ে তিন মেট্রিক টন চাল উদ্ধার করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) দুপুর থেকে বিকেল পর্যন্ত দুদকের সমন্বিত ঠাকুরগাঁও জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মো. আজমির শরিফ মারজীর নেতৃত্বে একটি এনফোর্সমেন্ট টিম এ অভিযান পরিচালনা করে।

দুদক সূত্রে জানা যায়, রুহিয়া খাদ্য গুদামে আমন মৌসুমে চিকন চাল সংগ্রহের কথা থাকলেও সেখানে নিম্নমানের মোটা চাল সংগ্রহ করা হয়েছে- এমন অভিযোগের ভিত্তিতেই অভিযান চালানো হয়। অভিযানের সময় ২০২৫-২৬ অর্থবছরের সংগৃহীত চালের মান যাচাইয়ের জন্য ১৪টি পৃথক খামাল থেকে সিলগালা করা ব্যাগে ১০০ গ্রাম করে চালের নমুনা সংগ্রহ করে ইনভেন্টরি করা হয়।

এনফোর্সমেন্ট টিম খাদ্য গুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার উপস্থিতিতে সব গুদামঘর পরিদর্শন ও রেকর্ডপত্র সংগ্রহ করে। এ সময় বস্তা গণনা করতে গিয়ে ৭ নম্বর গুদামের খামাল নম্বর ৩-এ কোনো রেকর্ডপত্র ছাড়া ৩ হাজার ৪৫০ কেজি চাল পাওয়া যায়। এ চালের বিষয়ে খাদ্য গুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সন্তোষজনক কোনো ব্যাখ্যা দিতে পারেননি। পরে মালিকবিহীন চালগুলো তিনজন সাক্ষীর উপস্থিতিতে ইনভেন্টরি করে দুদক টিম। একই সঙ্গে রেকর্ডবিহীন এই চাল রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা দেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয় এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাকে লিখিত ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়।

এদিকে দুদকের অভিযানের খবর ছড়িয়ে পড়লে কয়েকজন মিল মালিক খাদ্য গুদামে এসে হট্টগোল সৃষ্টি করেন।

স্থানীয় কৃষক রমজান ও আপেল বলেন, ধান ঘরে তুলেও আমরা ন্যায্য দাম পাই না। সরকারি গোডাউনে চাল দিতে গেলে নানা শর্ত আর দীর্ঘ অপেক্ষার মধ্যে থাকতে হয়। অথচ আজ শুনছি, সেই গোডাউনেই মালিকবিহীন তিন মেট্রিক টনের বেশি চাল পাওয়া গেছে। এই চাল এল কোথা থেকে, কার স্বার্থে রাখা হয়েছিল এর স্পষ্ট জবাব চাই।

রুহিয়ার বাসিন্দা জাহাঙ্গীর আলম ও আনোয়ার বলেন, সরকারি খাদ্য গুদাম সাধারণ মানুষের আস্থার জায়গা। সেখানে মালিকানা ছাড়া চাল মজুত থাকা গুরুতর অনিয়মের ইঙ্গিত দেয়। আমরা চাই নিরপেক্ষ তদন্ত, তদন্তের ফল প্রকাশ এবং দায়ীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি।

দুদকের সহকারী পরিচালক মো. আজমির শরিফ মারজী বলেন, আমাদের কাছে তথ্য ছিল যে রুহিয়া খাদ্য গুদামে চিকন চালের পরিবর্তে নিম্নমানের মোটা চাল সংগ্রহ করা হয়েছে। সেই তথ্যের ভিত্তিতেই অভিযান পরিচালনা করা হয়। পরিদর্শনে আমরা সাড়ে তিন মেট্রিক টন অতিরিক্ত চাল পেয়েছি, যার কোনো হিসাব বা ব্যাখ্যা দিতে পারেননি ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা।

তিনি আরও বলেন, চালের মান আপাতত দৃষ্টিতে নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। এজন্য ১৪-১৫টি খামার থেকে নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। নমুনাগুলো ল্যাবে পাঠানো হবে। ল্যাব রিপোর্ট ও রেকর্ডপত্র পর্যালোচনার পর কমিশন বরাবর বিস্তারিত প্রতিবেদন দাখিল করা হবে।

এ বিষয়ে রুহিয়া খাদ্য গুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শিপ্রা শর্মার সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

তবে সদর উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মো. জিয়াউল হক শাহ বলেন, দুদকের অভিযান পরিচালনার বিষয়টি আমি অবগত। সরকারি খাদ্য গুদামে মালিকবিহীন চাল থাকার কোনো সুযোগ নেই। যদি নিয়ম বহির্ভূতভাবে চাল মজুত বা স্থানান্তরের প্রমাণ পাওয়া যায়, তাহলে দায়ীদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।