ঢাকা ০৫:৫৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
আইইডিসিআর-এর পরিচালককে নিজ কার্যালয়ে মারধরের অভিযোগ আট বিভাগে বৃষ্টির আভাস, কমবে তাপমাত্রা এসআরবি-১৪, সিপিএসসি, ময়মনসিংহ এর পৃথক অভিযানে হত্যা ও অপহরণ মামলার ০২ আসামি গ্রেফতার। পুরান ঢাকায় এক পঙ্গু হতদরিদ্র ব্যক্তিকে হুইলচেয়ার উপহার দিলো ছাত্রদল নেতারা  হযরতপুরে চাচা হাজী দুঃখ মিয়া বিরুদ্ধে জাল দলিল ও জমি দখলের অভিযোগ তুলেছে ভাতিজা আলা. পুরান ঢাকার সফল সংগঠক মোস্তাকের জন্মদিন পালিত কেরানীগঞ্জে ডিবি পুলিশের অভিযানে ৫০ পিস ইয়াবাসহ একজন গ্রেপ্তার জেলা প্রশাসকের সঙ্গে অতুল বসাকের মতবিনিময়, রামরাই বিনোদন পার্কের প্রাচীর নির্মাণ নিয়ে আলোচনা সাংবাদিক মুন্না মিয়ার মৃত্যুতে ডিএসইসির শোক কেরানীগঞ্জে ডিবির বিশেষ অভিযান: ইয়াবা ও হেরোইনসহ দুই মাদক কারবারি গ্রেপ্তার, প্রতারণা মামলায় আরও দুইজন আটক।

ইরানে বিক্ষোভে নিহত অন্তত ৬০০০

অনলাইন ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ১২:২৩:৪২ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৬ জানুয়ারী ২০২৬
  • / 214
আজকের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

সরকারবিরোধী বিক্ষোভ দমনে ইরানের নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযানে অন্তত ৬ হাজার মানুষের প্রাণহানির তথ্য নিশ্চিত করেছে যুক্তরাষ্ট্র-ভিত্তিক একটি মানবাধিকার সংস্থা। সোমবার হিউম্যান রাইটস অ্যাকটিভিস্টস নিউজ এজেন্সি (এইচআরএএনএ) প্রাণহানির এই তথ্য নিশ্চিত করেছে বলে জানিয়েছে এএফপি। এদিকে, ওয়াশিংটনকে নিজেদের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করার বিষয়ে হুঁশিয়ার করে দিয়েছে তেহরান।

 

গত বছরের ডিসেম্বরের শেষ দিকে অর্থনৈতিক অসন্তোষ থেকে শুরু হওয়া বিক্ষোভ দ্রুত ইসলামী প্রজাতন্ত্রের বিরুদ্ধে গণআন্দোলনে রূপ নেয়। ৮ জানুয়ারি থেকে কয়েক দিন ধরে সারাদেশে এই বিক্ষোভ ব্যাপক আকারে ছড়িয়ে পড়ে।

আন্তর্জাতিক বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থা বলেছে, ইন্টারনেট বন্ধ রেখে বিক্ষোভকারীদের লক্ষ্য করে সরাসরি গুলি চালিয়ে নজিরবিহীন দমন অভিযান পরিচালনা করেছে ইরানি কর্তৃপক্ষ। বিক্ষোভের সময় শুরু হওয়া ইন্টারনেট শাটডাউন এখন পর্যন্ত চলছে। টানা ১৮ দিন ধরে দেশটির ইন্টারনেটবিহীন অবস্থায় থাকার ঘটনাকে নজিরবিহীন বলছেন অনেকে।

১৯৭৯ সালের ইসলামী বিপ্লবের পর ক্ষমতায় আসা ধর্মীয় নেতৃত্ব বিক্ষোভ দমনের পর এখনো টিকে আছে। দেশটির ক্ষমতাসীন শাসকগোষ্ঠীর বিরোধিতাকারী অনেকে পরিবর্তনের সবচেয়ে সম্ভাব্য পথ হিসেবে এখনও বাইরের হস্তক্ষেপের দিকে তাকিয়ে আছেন।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প শুরুতে সামরিক হস্তক্ষেপ থেকে সরে আসার ইঙ্গিত দিলেও পরে জোর দিয়ে বলেছেন, সেটি এখনো একটি বিকল্প।

 

গত সপ্তাহে তিনি বলেন, প্রয়োজনে ব্যবহারের জন্য ওয়াশিংটন ওই অঞ্চলে একটি বিশাল নৌবহর পাঠাচ্ছে। সোমবার ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় যেকোনো আগ্রাসনের জবাবে পুরোপুরি ও দাঁতভাঙা জবাব দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে।

দমন-পীড়নে হতাহতের হিসাব রাখা বেসরকারি বিভিন্ন সংস্থা বলেছে, ইন্টারনেট বন্ধ থাকায় তাদের কাজ ব্যাহত হচ্ছে। তারা সতর্ক করে দিয়ে বলেছে, হতাহতের বিষয়ে এখন পর্যন্ত নিশ্চিত হওয়া পরিসংখ্যান প্রকৃত হতাহতের তুলনায় অনেক কম হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

এইচআরএএনএ বলেছে, তারা ৫ হাজার ৮৪৮ জনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছে; তাদের মধ্যে ২০৯ জন নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য। এছাড়া আরও ১৭ হাজার ৯১ জনের সম্ভাব্য মৃত্যুর ঘটনা নিয়ে এখনও তদন্ত চলছে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।

এইচআরএএনএর হিসাব অনুযায়ী, বিক্ষোভে অংশ নেওয়ায় ইরানে অন্তত ৪১ হাজার ২৮৩ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বিক্ষোভে হতাহতের প্রথম সরকারি হিসাব প্রকাশ করে ইরানি কর্তৃপক্ষ গত সপ্তাহে বলেছিল, ৩ হাজার ১১৭ জন নিহত হয়েছে। নিহতদের বেশিরভাগই নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য অথবা ‌‌দাঙ্গাবাজদের হাতে নিহত নিরীহ পথচারী।

নেটব্লকস বলেছে, ইরানে এখনও ইন্টারনেট ব্ল্যাকআউট রয়েছে। এই শাটডাউন বেসামরিক মানুষের বিরুদ্ধে চালানো প্রাণঘাতী দমন-পীড়নের প্রকৃত চিত্রকে আড়াল করে রাখছে।

গত সপ্তাহে ইরানের বাইরে অবস্থিত ফার্সি ভাষার টেলিভিশন চ্যানেল ইরান ইন্টারন্যাশনাল বলেছিল, ৮ থেকে ৯ জানুয়ারির মধ্যে নিরাপত্তা বাহিনীর হাতে ৩৬ হাজার ৫০০ জনেরও বেশি ইরানি নিহত হয়েছেন। নথি ও সূত্রের উল্লেখ করে ওই দাবি জানায় ইরান ইন্টারন্যাশনাল। তবে তাৎক্ষণিকভাবে তাদের এই প্রতিবেদন যাচাই করা সম্ভব হয়নি বলে জানিয়েছে এএফপি।

সূত্র: এএফপি।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ইরানে বিক্ষোভে নিহত অন্তত ৬০০০

আপডেট সময় : ১২:২৩:৪২ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৬ জানুয়ারী ২০২৬

সরকারবিরোধী বিক্ষোভ দমনে ইরানের নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযানে অন্তত ৬ হাজার মানুষের প্রাণহানির তথ্য নিশ্চিত করেছে যুক্তরাষ্ট্র-ভিত্তিক একটি মানবাধিকার সংস্থা। সোমবার হিউম্যান রাইটস অ্যাকটিভিস্টস নিউজ এজেন্সি (এইচআরএএনএ) প্রাণহানির এই তথ্য নিশ্চিত করেছে বলে জানিয়েছে এএফপি। এদিকে, ওয়াশিংটনকে নিজেদের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করার বিষয়ে হুঁশিয়ার করে দিয়েছে তেহরান।

 

গত বছরের ডিসেম্বরের শেষ দিকে অর্থনৈতিক অসন্তোষ থেকে শুরু হওয়া বিক্ষোভ দ্রুত ইসলামী প্রজাতন্ত্রের বিরুদ্ধে গণআন্দোলনে রূপ নেয়। ৮ জানুয়ারি থেকে কয়েক দিন ধরে সারাদেশে এই বিক্ষোভ ব্যাপক আকারে ছড়িয়ে পড়ে।

আন্তর্জাতিক বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থা বলেছে, ইন্টারনেট বন্ধ রেখে বিক্ষোভকারীদের লক্ষ্য করে সরাসরি গুলি চালিয়ে নজিরবিহীন দমন অভিযান পরিচালনা করেছে ইরানি কর্তৃপক্ষ। বিক্ষোভের সময় শুরু হওয়া ইন্টারনেট শাটডাউন এখন পর্যন্ত চলছে। টানা ১৮ দিন ধরে দেশটির ইন্টারনেটবিহীন অবস্থায় থাকার ঘটনাকে নজিরবিহীন বলছেন অনেকে।

১৯৭৯ সালের ইসলামী বিপ্লবের পর ক্ষমতায় আসা ধর্মীয় নেতৃত্ব বিক্ষোভ দমনের পর এখনো টিকে আছে। দেশটির ক্ষমতাসীন শাসকগোষ্ঠীর বিরোধিতাকারী অনেকে পরিবর্তনের সবচেয়ে সম্ভাব্য পথ হিসেবে এখনও বাইরের হস্তক্ষেপের দিকে তাকিয়ে আছেন।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প শুরুতে সামরিক হস্তক্ষেপ থেকে সরে আসার ইঙ্গিত দিলেও পরে জোর দিয়ে বলেছেন, সেটি এখনো একটি বিকল্প।

 

গত সপ্তাহে তিনি বলেন, প্রয়োজনে ব্যবহারের জন্য ওয়াশিংটন ওই অঞ্চলে একটি বিশাল নৌবহর পাঠাচ্ছে। সোমবার ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় যেকোনো আগ্রাসনের জবাবে পুরোপুরি ও দাঁতভাঙা জবাব দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে।

দমন-পীড়নে হতাহতের হিসাব রাখা বেসরকারি বিভিন্ন সংস্থা বলেছে, ইন্টারনেট বন্ধ থাকায় তাদের কাজ ব্যাহত হচ্ছে। তারা সতর্ক করে দিয়ে বলেছে, হতাহতের বিষয়ে এখন পর্যন্ত নিশ্চিত হওয়া পরিসংখ্যান প্রকৃত হতাহতের তুলনায় অনেক কম হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

এইচআরএএনএ বলেছে, তারা ৫ হাজার ৮৪৮ জনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছে; তাদের মধ্যে ২০৯ জন নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য। এছাড়া আরও ১৭ হাজার ৯১ জনের সম্ভাব্য মৃত্যুর ঘটনা নিয়ে এখনও তদন্ত চলছে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।

এইচআরএএনএর হিসাব অনুযায়ী, বিক্ষোভে অংশ নেওয়ায় ইরানে অন্তত ৪১ হাজার ২৮৩ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বিক্ষোভে হতাহতের প্রথম সরকারি হিসাব প্রকাশ করে ইরানি কর্তৃপক্ষ গত সপ্তাহে বলেছিল, ৩ হাজার ১১৭ জন নিহত হয়েছে। নিহতদের বেশিরভাগই নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য অথবা ‌‌দাঙ্গাবাজদের হাতে নিহত নিরীহ পথচারী।

নেটব্লকস বলেছে, ইরানে এখনও ইন্টারনেট ব্ল্যাকআউট রয়েছে। এই শাটডাউন বেসামরিক মানুষের বিরুদ্ধে চালানো প্রাণঘাতী দমন-পীড়নের প্রকৃত চিত্রকে আড়াল করে রাখছে।

গত সপ্তাহে ইরানের বাইরে অবস্থিত ফার্সি ভাষার টেলিভিশন চ্যানেল ইরান ইন্টারন্যাশনাল বলেছিল, ৮ থেকে ৯ জানুয়ারির মধ্যে নিরাপত্তা বাহিনীর হাতে ৩৬ হাজার ৫০০ জনেরও বেশি ইরানি নিহত হয়েছেন। নথি ও সূত্রের উল্লেখ করে ওই দাবি জানায় ইরান ইন্টারন্যাশনাল। তবে তাৎক্ষণিকভাবে তাদের এই প্রতিবেদন যাচাই করা সম্ভব হয়নি বলে জানিয়েছে এএফপি।

সূত্র: এএফপি।