ঢাকা ০৫:০৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
আইইডিসিআর-এর পরিচালককে নিজ কার্যালয়ে মারধরের অভিযোগ আট বিভাগে বৃষ্টির আভাস, কমবে তাপমাত্রা এসআরবি-১৪, সিপিএসসি, ময়মনসিংহ এর পৃথক অভিযানে হত্যা ও অপহরণ মামলার ০২ আসামি গ্রেফতার। পুরান ঢাকায় এক পঙ্গু হতদরিদ্র ব্যক্তিকে হুইলচেয়ার উপহার দিলো ছাত্রদল নেতারা  হযরতপুরে চাচা হাজী দুঃখ মিয়া বিরুদ্ধে জাল দলিল ও জমি দখলের অভিযোগ তুলেছে ভাতিজা আলা. পুরান ঢাকার সফল সংগঠক মোস্তাকের জন্মদিন পালিত কেরানীগঞ্জে ডিবি পুলিশের অভিযানে ৫০ পিস ইয়াবাসহ একজন গ্রেপ্তার জেলা প্রশাসকের সঙ্গে অতুল বসাকের মতবিনিময়, রামরাই বিনোদন পার্কের প্রাচীর নির্মাণ নিয়ে আলোচনা সাংবাদিক মুন্না মিয়ার মৃত্যুতে ডিএসইসির শোক কেরানীগঞ্জে ডিবির বিশেষ অভিযান: ইয়াবা ও হেরোইনসহ দুই মাদক কারবারি গ্রেপ্তার, প্রতারণা মামলায় আরও দুইজন আটক।

প্রাথমিকে উপজেলা ভিত্তিক সকল শূন্য পদ পূরণের মাধ্যমে পূনরায় ফলাফল প্রকাশের দাবী

আরিফুজ্জামান (সাগর
  • আপডেট সময় : ১০:২৭:২৪ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ জানুয়ারী ২০২৫
  • / 177
আজকের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

প্রাথমিক সহকারী শিক্ষক নিয়োগ ২০২৩ এর তৃতীয় ধাপের চূড়ান্ত ফলাফল প্রকাশ করা হয় গত ৩১শে অক্টোবর, ২০২৪। এতে ঢাকা ও চট্টগ্রাম বিভাগের তিন পার্বত্য জেলা ছাড়া বাকি ২১ টি জেলায় ৩ লাখ ৪৯ হাজার ২৯৩ জন পরীক্ষার্থী অংশ নেন। এরমধ্যে লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছেন ৪৬ হাজার ১৯৯ জন এবং চূড়ান্ত নিয়োগ পান ৬ হাজার ৫৩১ জন। এক্ষেত্রে ৩৯ হাজার ৬৬৮ জন প্রার্থী বঞ্চিত হয়।

সরকারি চাকরির নিয়োগের ক্ষেত্রে সাধারণত ১টি শুন্যপদের বিপরীতে ৩ জন কিংবা ৪ জন প্রার্থীকে মৌখিক পরীক্ষার জন্য নির্বাচন করা হয়। সেক্ষেত্রে তৃতীয় ধাপের নিয়োগের ক্ষেত্রে শূন্যপদ থাকা সত্ত্বেও ১টি শুন্যপদের বিপরীতে গড় অনুপাত ৭.০৭ হারে চূড়ান্ত ফলাফল প্রকাশ করা হয়। অর্থাৎ প্রতি ৭ জনে ১ জন প্রার্থীকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

প্রথম ধাপে লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছেন ৯ হাজার ৩৩৭ জন ও চূড়ান্ত নিয়োগ পায় ২ হাজার ৪৯৭ জন। চূড়ান্ত ফলাফলে তাদের গড় অনুপাত ছিল ৩.৭৪ । অর্থাৎ প্রায় প্রতি ৪ জনে ১ জন কে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। দ্বিতীয় ধাপে লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছেন ২০ হাজার ৬৪৭ জন ও চূড়ান্ত নিয়োগ পায় ৫ হাজার ৪৫৬ জন। চূড়ান্ত ফলাফলে তাদের গড় অনুপাত ছিল ৩.৭৮ । অর্থাৎ প্রায় প্রতি ৪ জনে ১ জন কে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

কিন্তু তৃতীয় ধাপের বিভিন্ন জেলা এবং উপজেলা ভিত্তিক গড় অনুপাতের আকাশ পাতাল ভিন্নতা দেখা যায়। ঢাকা বিভাগের গোপালগঞ্জ জেলায় লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ প্রার্থীর সংখ্যা ২৯৪৩ জন। আর চূড়ান্তভাবে মনোনীত করা হয় মাত্র ২৫৪ জন। যার গড় অনুপাত ছিলো ১১.৫৯। অর্থাৎ প্রায় প্রতি ১২ জনে ১ জনকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। আবার ঢাকা বিভাগের মুন্সিগঞ্জ জেলায় লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ প্রার্থীর সংখ্যা ১০৫৩ জন। কিন্তু চূড়ান্তভাবে মনোনীত করা হয় ২২২ জনকে। যার গড় অনুপাত ছিল ৪.৭৪ জন। অর্থাৎ প্রায় প্রতি ৫ জনে ১ জন কে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। ফরিদপুর জেলায় প্রতি ১০ জনে ১ জন। গাজীপুর জেলায় প্রতি ৯ জনে ১ জন। এছাড়াও মাদারীপুর, শরীয়তপুর, রাজবাড়ী, নরসিংদী, ব্রাহ্মনবাড়িয়া, চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার জেলায় প্রতি ৮ জনে ১ জন এবং কুমিল্লা, চাঁদপুর, নোয়াখালী, ফেনী, কিশোরগঞ্জ, নারায়নগঞ্জ জেলায় প্রতি ৭ জনে ১ জন। আবার কিশোরগঞ্জ জেলার হোসেনপুর উপজেলাতে ১২ জন প্রার্থী মৌখিক পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেন এবং ১২ জন প্রার্থীকেই চূড়ান্তভাবে মনোনীত করা হয়।

উল্লেখ্য, প্রাথমিক সহকারী নিয়োগ ২০২৩ সার্কুলারের ১০ নাম্বার বিধিতে স্পষ্টভাবে উল্লেখ রয়েছে, উপজেলা ভিত্তিক সকল শূন্যপদ পূরণ করা হবে এবং চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত প্রার্থীদের মেধাক্রম অনুসারে নিয়োগ প্রদান করা হবে। গত ২ ডিসেম্বর ২০২৪, জনপ্রশাসন মন্ত্রনালয় থেকে সংশ্লিষ্টদের কাছে প্রেরিত চিঠিতে সকল মন্ত্রণালয়/বিভাগ, অধীন দপ্তর/সংস্থা এবং মাঠ পর্যায়ের অফিসগুলোতে অনুমোদিত সকল শূন্য পদ পূরণের ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ প্রদান করা হয়। আর সেটা প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের জন্যও প্রযোজ্য।

প্রাথমিক সহকারী শিক্ষক নিয়োগ ২০২৩ এর তৃতীয় ধাপের নিয়োগ টি বর্তমানে আইনি জটিলতার মধ্যে রয়েছে। যা শুনানি শেষে আদালতের রায়ের অপেক্ষায় আছে। আগামী ৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৫, আইনগত ভাবে চূড়ান্ত নিষ্পত্তির সম্ভাবনা রয়েছে। তাই আমাদের ৩৯ হাজার ৬৬৮ জন সুবিধাবঞ্চিত প্রার্থীদের দাবী আইনগত জটিলতা অতিদ্রুত সমাধান করে সকল উপজেলার সকল শূন্যপদ পূরণ করে পূনরায় ফলাফল প্রকাশ করে বৈষম্য দূর করা হোক। এবং আমাদের কে বেকারত্ব থেকে মুক্তি দিয়ে; শিক্ষকতার মতো মহান পেশায় যুক্ত হওয়ার সুযোগ দেওয়া হোক।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

প্রাথমিকে উপজেলা ভিত্তিক সকল শূন্য পদ পূরণের মাধ্যমে পূনরায় ফলাফল প্রকাশের দাবী

আপডেট সময় : ১০:২৭:২৪ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ জানুয়ারী ২০২৫

প্রাথমিক সহকারী শিক্ষক নিয়োগ ২০২৩ এর তৃতীয় ধাপের চূড়ান্ত ফলাফল প্রকাশ করা হয় গত ৩১শে অক্টোবর, ২০২৪। এতে ঢাকা ও চট্টগ্রাম বিভাগের তিন পার্বত্য জেলা ছাড়া বাকি ২১ টি জেলায় ৩ লাখ ৪৯ হাজার ২৯৩ জন পরীক্ষার্থী অংশ নেন। এরমধ্যে লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছেন ৪৬ হাজার ১৯৯ জন এবং চূড়ান্ত নিয়োগ পান ৬ হাজার ৫৩১ জন। এক্ষেত্রে ৩৯ হাজার ৬৬৮ জন প্রার্থী বঞ্চিত হয়।

সরকারি চাকরির নিয়োগের ক্ষেত্রে সাধারণত ১টি শুন্যপদের বিপরীতে ৩ জন কিংবা ৪ জন প্রার্থীকে মৌখিক পরীক্ষার জন্য নির্বাচন করা হয়। সেক্ষেত্রে তৃতীয় ধাপের নিয়োগের ক্ষেত্রে শূন্যপদ থাকা সত্ত্বেও ১টি শুন্যপদের বিপরীতে গড় অনুপাত ৭.০৭ হারে চূড়ান্ত ফলাফল প্রকাশ করা হয়। অর্থাৎ প্রতি ৭ জনে ১ জন প্রার্থীকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

প্রথম ধাপে লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছেন ৯ হাজার ৩৩৭ জন ও চূড়ান্ত নিয়োগ পায় ২ হাজার ৪৯৭ জন। চূড়ান্ত ফলাফলে তাদের গড় অনুপাত ছিল ৩.৭৪ । অর্থাৎ প্রায় প্রতি ৪ জনে ১ জন কে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। দ্বিতীয় ধাপে লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছেন ২০ হাজার ৬৪৭ জন ও চূড়ান্ত নিয়োগ পায় ৫ হাজার ৪৫৬ জন। চূড়ান্ত ফলাফলে তাদের গড় অনুপাত ছিল ৩.৭৮ । অর্থাৎ প্রায় প্রতি ৪ জনে ১ জন কে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

কিন্তু তৃতীয় ধাপের বিভিন্ন জেলা এবং উপজেলা ভিত্তিক গড় অনুপাতের আকাশ পাতাল ভিন্নতা দেখা যায়। ঢাকা বিভাগের গোপালগঞ্জ জেলায় লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ প্রার্থীর সংখ্যা ২৯৪৩ জন। আর চূড়ান্তভাবে মনোনীত করা হয় মাত্র ২৫৪ জন। যার গড় অনুপাত ছিলো ১১.৫৯। অর্থাৎ প্রায় প্রতি ১২ জনে ১ জনকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। আবার ঢাকা বিভাগের মুন্সিগঞ্জ জেলায় লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ প্রার্থীর সংখ্যা ১০৫৩ জন। কিন্তু চূড়ান্তভাবে মনোনীত করা হয় ২২২ জনকে। যার গড় অনুপাত ছিল ৪.৭৪ জন। অর্থাৎ প্রায় প্রতি ৫ জনে ১ জন কে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। ফরিদপুর জেলায় প্রতি ১০ জনে ১ জন। গাজীপুর জেলায় প্রতি ৯ জনে ১ জন। এছাড়াও মাদারীপুর, শরীয়তপুর, রাজবাড়ী, নরসিংদী, ব্রাহ্মনবাড়িয়া, চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার জেলায় প্রতি ৮ জনে ১ জন এবং কুমিল্লা, চাঁদপুর, নোয়াখালী, ফেনী, কিশোরগঞ্জ, নারায়নগঞ্জ জেলায় প্রতি ৭ জনে ১ জন। আবার কিশোরগঞ্জ জেলার হোসেনপুর উপজেলাতে ১২ জন প্রার্থী মৌখিক পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেন এবং ১২ জন প্রার্থীকেই চূড়ান্তভাবে মনোনীত করা হয়।

উল্লেখ্য, প্রাথমিক সহকারী নিয়োগ ২০২৩ সার্কুলারের ১০ নাম্বার বিধিতে স্পষ্টভাবে উল্লেখ রয়েছে, উপজেলা ভিত্তিক সকল শূন্যপদ পূরণ করা হবে এবং চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত প্রার্থীদের মেধাক্রম অনুসারে নিয়োগ প্রদান করা হবে। গত ২ ডিসেম্বর ২০২৪, জনপ্রশাসন মন্ত্রনালয় থেকে সংশ্লিষ্টদের কাছে প্রেরিত চিঠিতে সকল মন্ত্রণালয়/বিভাগ, অধীন দপ্তর/সংস্থা এবং মাঠ পর্যায়ের অফিসগুলোতে অনুমোদিত সকল শূন্য পদ পূরণের ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ প্রদান করা হয়। আর সেটা প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের জন্যও প্রযোজ্য।

প্রাথমিক সহকারী শিক্ষক নিয়োগ ২০২৩ এর তৃতীয় ধাপের নিয়োগ টি বর্তমানে আইনি জটিলতার মধ্যে রয়েছে। যা শুনানি শেষে আদালতের রায়ের অপেক্ষায় আছে। আগামী ৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৫, আইনগত ভাবে চূড়ান্ত নিষ্পত্তির সম্ভাবনা রয়েছে। তাই আমাদের ৩৯ হাজার ৬৬৮ জন সুবিধাবঞ্চিত প্রার্থীদের দাবী আইনগত জটিলতা অতিদ্রুত সমাধান করে সকল উপজেলার সকল শূন্যপদ পূরণ করে পূনরায় ফলাফল প্রকাশ করে বৈষম্য দূর করা হোক। এবং আমাদের কে বেকারত্ব থেকে মুক্তি দিয়ে; শিক্ষকতার মতো মহান পেশায় যুক্ত হওয়ার সুযোগ দেওয়া হোক।