ঢাকা ০৬:৪৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
আইইডিসিআর-এর পরিচালককে নিজ কার্যালয়ে মারধরের অভিযোগ আট বিভাগে বৃষ্টির আভাস, কমবে তাপমাত্রা এসআরবি-১৪, সিপিএসসি, ময়মনসিংহ এর পৃথক অভিযানে হত্যা ও অপহরণ মামলার ০২ আসামি গ্রেফতার। পুরান ঢাকায় এক পঙ্গু হতদরিদ্র ব্যক্তিকে হুইলচেয়ার উপহার দিলো ছাত্রদল নেতারা  হযরতপুরে চাচা হাজী দুঃখ মিয়া বিরুদ্ধে জাল দলিল ও জমি দখলের অভিযোগ তুলেছে ভাতিজা আলা. পুরান ঢাকার সফল সংগঠক মোস্তাকের জন্মদিন পালিত কেরানীগঞ্জে ডিবি পুলিশের অভিযানে ৫০ পিস ইয়াবাসহ একজন গ্রেপ্তার জেলা প্রশাসকের সঙ্গে অতুল বসাকের মতবিনিময়, রামরাই বিনোদন পার্কের প্রাচীর নির্মাণ নিয়ে আলোচনা সাংবাদিক মুন্না মিয়ার মৃত্যুতে ডিএসইসির শোক কেরানীগঞ্জে ডিবির বিশেষ অভিযান: ইয়াবা ও হেরোইনসহ দুই মাদক কারবারি গ্রেপ্তার, প্রতারণা মামলায় আরও দুইজন আটক।

১০ মাস শেষে ঘাটতির পাহাড়, ১.০৪ লাখ কোটি টাকা পিছিয়ে এনবিআর!

অনলাইন ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ০৫:১০:৩১ অপরাহ্ন, বুধবার, ২০ মে ২০২৬
  • / 106
আজকের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম ১০ মাসে (জুলাই-এপ্রিল) শেষে রাজস্ব ঘাটতির পাহাড়ের মুখে পড়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। এপ্রিল মাস পর্যন্ত সংশোধিত লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় রাজস্ব ঘাটতি দাঁড়িয়েছে প্রায় ১ লাখ ৪ হাজার ৫৩৩ কোটি টাকা।

ওই একই সময়ে প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয়েছে ১০.৬০ শতাংশ। দশ মাসে এনবিআরের রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৪ লাখ ৩১ হাজার ৪৬১ কোটি ২৭ লাখ টাকা। বিপরীতে আদায় হয় ৩ লাখ ২৬ হাজার ৯২৮ কোটি ১৬ লাখ টাকা। অর্থবছরের নয় মাসেও প্রায় ৯৮ হাজার কোটি টাকা পিছিয়ে ছিল এনবিআর। নয় মাসে প্রবৃদ্ধি ছিল ১১.১৫ শতাংশ।

বছর শেষে রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করতে হলে মে ও জুন মাসে ১ লাখ ৭৬ হাজার কোটি টাকার রাজস্ব আদায় করতে হবে প্রতিষ্ঠানটিকে। বিগত দিনের পরিসংখ্যান বিবেচনা করলে যা প্রায় অসম্ভব বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

এনবিআরের পরিসংখ্যান বিভাগ থেকে পাওয়া তথ্যানুসারে, চলতি অর্থ বছরে কাস্টমস খাতে আদায় ৯০ হাজার ৭৬২ কোটি ৭৪ লাখ টাকা, ভ্যাট বিভাগে ১ লাখ ২৬ হাজার ৫৪৩ কোটি ২৫ লাখ টাকা এবং আয়কর খাতে আদায় হয়েছে ১ লাখ ৯ হাজার ৬২২ কোটি ১৭ লাখ টাকা।

 

তিন বিভাগের মধ্যে আয়কর বিভাগে সর্বোচ্চ ১১.৫৯ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জন করেও ঘাটতি সর্বোচ্চ। আয়কর বিভাগে ঘাটতি প্রায় ৪৪ হাজার ৩৩ কোটি টাকা। এরপর ভ্যাট খাতে ৩৫ হাজার ৩০৮ কোটি এবং কাস্টমস খাতে ২৫ হাজার ১৯২ কোটি টাকার ঘাটতিতে পড়েছে।

অন্যদিকে শুধু এপ্রিল মাসেই সংশোধিত লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় প্রায় ৬ হাজার ৫৪৮ কোটি টাকার ঘাটতি হয়েছে। এপ্রিল মাসে এনবিআরের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৪৫ হাজার ৬০৮ কোটি ৬৭ লাখ টাকা। বিপরীতে আদায় হয় ৩৯ হাজার ৬০ কোটি টাকা। প্রবৃদ্ধি মাত্র ৬.৭১ শতাংশ।

খাতভিত্তিক তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, এপ্রিল মাসে কাস্টমস খাতে রাজস্ব আদায় হয় ১০ হাজার ৫৩৯ কোটি টাকা, যা আগের বছরের তুলনায় ১৭.৯৫ শতাংশ বেশি। অন্যদিকে ভ্যাটে ঋণাত্মক প্রবৃদ্ধি হয়েছে। রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা ১৮ হাজার ৩১৩ কোটি ২ লাখ টাকার বিপরীতে আদায় ১৭ হাজার ৪০৩ কোটি টাকা। প্রবৃদ্ধি মাইনাস ৩.১৭ শতাংশ। আর আয়কর খাতে আদায় হয়েছে ১১ হাজার ১১৮ কোটি টাকা, যেখানে লক্ষ্যমাত্রা ১৪ হাজার ৫৩৬ কোটি ৫৭ লাখ টাকা। যা আগের বছরের তুলনায় ১৪.৬৬ শতাংশ বেশি।

এ বিষয়ে এনবিআরে কর বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, আমদানি কমে যাওয়া, ব্যবসায়িক মন্দা, কর ফাঁকি এবং প্রত্যাশিত হারে বিনিয়োগ না বাড়ায় রাজস্ব আদায়ে ধীরগতি। চলতি অর্থবছরের বাকি সময়ে রাজস্ব আদায় আরও জোরদার হচ্ছে। ফলে ঘাটতি কমে আসবে।

গত ২০২৪-২৫ অর্থবছরের পুরো সময়ে রাজস্ব ঘাটতি ছিল ৯২ হাজার ৬২৬ কোটি টাকা। সেইবার রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল ৪ লাখ ৬৩ হাজার ৫০০ টাকা; আর এনবিআর আদায় করে ৩ লাখ ৭০ হাজার ৮৭৪ কোটি টাকা।

চলতি অর্থবছরের শুরুতে এনবিআরের রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৪ লাখ ৯৯ হাজার কোটি টাকা। পরে গত ১০ নভেম্বর বাজেট মনিটরিং ও সম্পদ কমিটি তা বাড়িয়ে ৫ লাখ ০৩ হাজার কোটি টাকা নির্ধারণ করা হয়।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

১০ মাস শেষে ঘাটতির পাহাড়, ১.০৪ লাখ কোটি টাকা পিছিয়ে এনবিআর!

আপডেট সময় : ০৫:১০:৩১ অপরাহ্ন, বুধবার, ২০ মে ২০২৬

চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম ১০ মাসে (জুলাই-এপ্রিল) শেষে রাজস্ব ঘাটতির পাহাড়ের মুখে পড়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। এপ্রিল মাস পর্যন্ত সংশোধিত লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় রাজস্ব ঘাটতি দাঁড়িয়েছে প্রায় ১ লাখ ৪ হাজার ৫৩৩ কোটি টাকা।

ওই একই সময়ে প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয়েছে ১০.৬০ শতাংশ। দশ মাসে এনবিআরের রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৪ লাখ ৩১ হাজার ৪৬১ কোটি ২৭ লাখ টাকা। বিপরীতে আদায় হয় ৩ লাখ ২৬ হাজার ৯২৮ কোটি ১৬ লাখ টাকা। অর্থবছরের নয় মাসেও প্রায় ৯৮ হাজার কোটি টাকা পিছিয়ে ছিল এনবিআর। নয় মাসে প্রবৃদ্ধি ছিল ১১.১৫ শতাংশ।

বছর শেষে রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করতে হলে মে ও জুন মাসে ১ লাখ ৭৬ হাজার কোটি টাকার রাজস্ব আদায় করতে হবে প্রতিষ্ঠানটিকে। বিগত দিনের পরিসংখ্যান বিবেচনা করলে যা প্রায় অসম্ভব বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

এনবিআরের পরিসংখ্যান বিভাগ থেকে পাওয়া তথ্যানুসারে, চলতি অর্থ বছরে কাস্টমস খাতে আদায় ৯০ হাজার ৭৬২ কোটি ৭৪ লাখ টাকা, ভ্যাট বিভাগে ১ লাখ ২৬ হাজার ৫৪৩ কোটি ২৫ লাখ টাকা এবং আয়কর খাতে আদায় হয়েছে ১ লাখ ৯ হাজার ৬২২ কোটি ১৭ লাখ টাকা।

 

তিন বিভাগের মধ্যে আয়কর বিভাগে সর্বোচ্চ ১১.৫৯ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জন করেও ঘাটতি সর্বোচ্চ। আয়কর বিভাগে ঘাটতি প্রায় ৪৪ হাজার ৩৩ কোটি টাকা। এরপর ভ্যাট খাতে ৩৫ হাজার ৩০৮ কোটি এবং কাস্টমস খাতে ২৫ হাজার ১৯২ কোটি টাকার ঘাটতিতে পড়েছে।

অন্যদিকে শুধু এপ্রিল মাসেই সংশোধিত লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় প্রায় ৬ হাজার ৫৪৮ কোটি টাকার ঘাটতি হয়েছে। এপ্রিল মাসে এনবিআরের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৪৫ হাজার ৬০৮ কোটি ৬৭ লাখ টাকা। বিপরীতে আদায় হয় ৩৯ হাজার ৬০ কোটি টাকা। প্রবৃদ্ধি মাত্র ৬.৭১ শতাংশ।

খাতভিত্তিক তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, এপ্রিল মাসে কাস্টমস খাতে রাজস্ব আদায় হয় ১০ হাজার ৫৩৯ কোটি টাকা, যা আগের বছরের তুলনায় ১৭.৯৫ শতাংশ বেশি। অন্যদিকে ভ্যাটে ঋণাত্মক প্রবৃদ্ধি হয়েছে। রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা ১৮ হাজার ৩১৩ কোটি ২ লাখ টাকার বিপরীতে আদায় ১৭ হাজার ৪০৩ কোটি টাকা। প্রবৃদ্ধি মাইনাস ৩.১৭ শতাংশ। আর আয়কর খাতে আদায় হয়েছে ১১ হাজার ১১৮ কোটি টাকা, যেখানে লক্ষ্যমাত্রা ১৪ হাজার ৫৩৬ কোটি ৫৭ লাখ টাকা। যা আগের বছরের তুলনায় ১৪.৬৬ শতাংশ বেশি।

এ বিষয়ে এনবিআরে কর বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, আমদানি কমে যাওয়া, ব্যবসায়িক মন্দা, কর ফাঁকি এবং প্রত্যাশিত হারে বিনিয়োগ না বাড়ায় রাজস্ব আদায়ে ধীরগতি। চলতি অর্থবছরের বাকি সময়ে রাজস্ব আদায় আরও জোরদার হচ্ছে। ফলে ঘাটতি কমে আসবে।

গত ২০২৪-২৫ অর্থবছরের পুরো সময়ে রাজস্ব ঘাটতি ছিল ৯২ হাজার ৬২৬ কোটি টাকা। সেইবার রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল ৪ লাখ ৬৩ হাজার ৫০০ টাকা; আর এনবিআর আদায় করে ৩ লাখ ৭০ হাজার ৮৭৪ কোটি টাকা।

চলতি অর্থবছরের শুরুতে এনবিআরের রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৪ লাখ ৯৯ হাজার কোটি টাকা। পরে গত ১০ নভেম্বর বাজেট মনিটরিং ও সম্পদ কমিটি তা বাড়িয়ে ৫ লাখ ০৩ হাজার কোটি টাকা নির্ধারণ করা হয়।