ঢাকা ০৫:০৩ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০১ অগাস্ট ২০২৬, ১৬ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
দক্ষিণ কেরানীগঞ্জে ৮০০ পিস ইয়াবাসহ ৪ মাদক কারবারি গ্রেপ্তার কমলগঞ্জে মাদ্রাসার প্রিন্সিপালের বিরুদ্ধে অনিয়ম-দুর্নীতি ও অসামাজিক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ। মধুপুরে বাস-ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত ৩, আহত অন্তত ২৫ বিতাড়িত হওয়ার দুই দশক পর ফের কলকাতায় তসলিমা নাসরিন ‘আর অনলাইনে আসা হবে না’ পোস্টের পরদিন খালে মিলল গার্মেন্টস কর্মীর মরদেহ ৮ বছরে ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশন, বদলায়নি বর্ধিত ওয়ার্ডের চিত্র মে ও জুন মাসে ঢাকা জেলার শ্রেষ্ঠ গোয়েন্দা কর্মকর্তা নির্বাচিত এসআই এনামুল হক উবহাটা ইউনিয়নের মানুষের সেবায় কাজ করতে চান সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থী রিপন তরফদার মোবাইল চুরির অপবাদে নাতিকে মারধর, বাধা দিতে গিয়ে দাদা খুন: দুই অভিযুক্ত গ্রেফতার ময়মনসিংহে ডিবি-থানা পুলিশের যৌথ অভিযানে আরও ৯ ছিনতাইকারী গ্রেফতার

অচল সিসিটিভিতে ‘অন্ধ’ ময়মনসিংহ নজরদারি ভেঙে পড়ায় বাড়ছে ছিনতাই-চুরি সরকারি বরাদ্দ না থাকায় নতুন ক্যামেরা স্থাপন সম্ভব নয়; পুলিশ

অনলাইন ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ০৬:২৭:৩২ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৩ জুলাই ২০২৬
  • / 39
আজকের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

 

নিজস্ব প্রতিবেদক, ময়মনসিংহ

ময়মনসিংহ শহরের নিরাপত্তা ব্যবস্থার অন্যতম ভরসা সিসিটিভি ক্যামেরা এখন নিজেই অচল। রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে একের পর এক বিকল হয়ে পড়ায় শহরের গুরুত্বপূর্ণ অনেক এলাকা নজরদারির বাইরে চলে গেছে। এর সুযোগে বাড়ছে ছিনতাই, চুরি, মারামারি ও ইভটিজিংসহ নানা অপরাধ।

অপরাধ দমনে ২০১৬ সালে বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের সহায়তায় ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে ২২০টি সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়। ভালুকা, ত্রিশাল ও সদরের প্রায় ৬৩ কিলোমিটার সড়ক এই নজরদারির আওতায় আসে। পুলিশ সুপার কার্যালয়ের মিডিয়া সেন্টার থেকে নিয়মিত এসব ক্যামেরা মনিটরিং করা হতো। পরবর্তীতে এর ইতিবাচক ফলাফলের ভিত্তিতে শহরের গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতেও ক্যামেরা স্থাপন করা হয়।

কিন্তু নিয়মিত তদারকি ও রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে বর্তমানে অধিকাংশ ক্যামেরাই অচল। নগরের বাইপাস মোড়, মাসকান্দা, চরপাড়া, ব্রীজের মোড়, তাজমহল, গাঙ্গিনারপাড়, নতুন বাজার, টাউন হল,জিরো পয়েন্ট ও জেলা প্রশাসক কার্যালয়সহ বিভিন্ন এলাকায় বসানো ক্যামেরাগুলোর অনেকগুলো বিকল হয়ে আছে। কোথাও সংযোগ বিচ্ছিন্ন, কোথাও ক্যামেরা নষ্ট, আবার কোথাও কেবল খুঁটি থাকলেও ক্যামেরার অস্তিত্ব নেই।

এই পরিস্থিতিতে শহরে অপরাধ প্রবণতা বাড়ছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। সাম্প্রতিক সময়ে ঘটে যাওয়া ছিনতাই ও চুরির ঘটনায় সিসিটিভি ফুটেজ না থাকায় তদন্তে জটিলতা তৈরি হচ্ছে। অপরাধীদের শনাক্ত করাও কঠিন হয়ে পড়ছে।

স্থানীয়রা জানান, রাতে অনেক এলাকায় নিরাপত্তা নেই বললেই চলে। দিনের বেলাতেও ঘটছে চুরি ও ছিনতাইয়ের ঘটনা। তাদের মতে, সিসিটিভি ক্যামেরা সচল থাকলে অপরাধ নিয়ন্ত্রণ সহজ হতো।

জেলা নাগরিক আন্দোলনের সাধারণ সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার নুরুল আমীন কালাম বলেন, যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে ক্যামেরাগুলো নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। অপরাধ দমনে সিসিটিভির বিকল্প নেই। তাই দ্রুত এগুলো সচল করা জরুরি।

এ বিষয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আশরাফুল করিম জানান, অধিকাংশ ক্যামেরা বেসরকারি অর্থায়নে স্থাপন করা হয়েছিল। ইন্টারনেট, নেটওয়ার্ক ও বিদ্যুৎ সমস্যার কারণে অনেক ক্যামেরা অচল হয়ে পড়েছে। পুলিশ নিজস্ব তহবিল থেকে সীমিতভাবে রক্ষণাবেক্ষণ করছে। তবে নতুন করে স্থাপন বা বড় পরিসরে সংস্কারের জন্য প্রয়োজন সরকারি বরাদ্দ। সেই বরাদ্দ না থাকায় নতুন ক্যামেরা বসানো সম্ভব হচ্ছে না।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, শহরের ৮৮টি সিসিটিভি ক্যামেরার মধ্যে বর্তমানে সচল রয়েছে মাত্র ৫৬টি, বাকি ৩২টি অচল অবস্থায় আছে।

নগরবাসীর আশঙ্কা, দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে অপরাধ পরিস্থিতি আরও অবনতির দিকে যাবে এবং শহরের নিরাপত্তা ঝুঁকির মুখে পড়বে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

অচল সিসিটিভিতে ‘অন্ধ’ ময়মনসিংহ নজরদারি ভেঙে পড়ায় বাড়ছে ছিনতাই-চুরি সরকারি বরাদ্দ না থাকায় নতুন ক্যামেরা স্থাপন সম্ভব নয়; পুলিশ

আপডেট সময় : ০৬:২৭:৩২ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৩ জুলাই ২০২৬

 

নিজস্ব প্রতিবেদক, ময়মনসিংহ

ময়মনসিংহ শহরের নিরাপত্তা ব্যবস্থার অন্যতম ভরসা সিসিটিভি ক্যামেরা এখন নিজেই অচল। রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে একের পর এক বিকল হয়ে পড়ায় শহরের গুরুত্বপূর্ণ অনেক এলাকা নজরদারির বাইরে চলে গেছে। এর সুযোগে বাড়ছে ছিনতাই, চুরি, মারামারি ও ইভটিজিংসহ নানা অপরাধ।

অপরাধ দমনে ২০১৬ সালে বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের সহায়তায় ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে ২২০টি সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়। ভালুকা, ত্রিশাল ও সদরের প্রায় ৬৩ কিলোমিটার সড়ক এই নজরদারির আওতায় আসে। পুলিশ সুপার কার্যালয়ের মিডিয়া সেন্টার থেকে নিয়মিত এসব ক্যামেরা মনিটরিং করা হতো। পরবর্তীতে এর ইতিবাচক ফলাফলের ভিত্তিতে শহরের গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতেও ক্যামেরা স্থাপন করা হয়।

কিন্তু নিয়মিত তদারকি ও রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে বর্তমানে অধিকাংশ ক্যামেরাই অচল। নগরের বাইপাস মোড়, মাসকান্দা, চরপাড়া, ব্রীজের মোড়, তাজমহল, গাঙ্গিনারপাড়, নতুন বাজার, টাউন হল,জিরো পয়েন্ট ও জেলা প্রশাসক কার্যালয়সহ বিভিন্ন এলাকায় বসানো ক্যামেরাগুলোর অনেকগুলো বিকল হয়ে আছে। কোথাও সংযোগ বিচ্ছিন্ন, কোথাও ক্যামেরা নষ্ট, আবার কোথাও কেবল খুঁটি থাকলেও ক্যামেরার অস্তিত্ব নেই।

এই পরিস্থিতিতে শহরে অপরাধ প্রবণতা বাড়ছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। সাম্প্রতিক সময়ে ঘটে যাওয়া ছিনতাই ও চুরির ঘটনায় সিসিটিভি ফুটেজ না থাকায় তদন্তে জটিলতা তৈরি হচ্ছে। অপরাধীদের শনাক্ত করাও কঠিন হয়ে পড়ছে।

স্থানীয়রা জানান, রাতে অনেক এলাকায় নিরাপত্তা নেই বললেই চলে। দিনের বেলাতেও ঘটছে চুরি ও ছিনতাইয়ের ঘটনা। তাদের মতে, সিসিটিভি ক্যামেরা সচল থাকলে অপরাধ নিয়ন্ত্রণ সহজ হতো।

জেলা নাগরিক আন্দোলনের সাধারণ সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার নুরুল আমীন কালাম বলেন, যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে ক্যামেরাগুলো নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। অপরাধ দমনে সিসিটিভির বিকল্প নেই। তাই দ্রুত এগুলো সচল করা জরুরি।

এ বিষয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আশরাফুল করিম জানান, অধিকাংশ ক্যামেরা বেসরকারি অর্থায়নে স্থাপন করা হয়েছিল। ইন্টারনেট, নেটওয়ার্ক ও বিদ্যুৎ সমস্যার কারণে অনেক ক্যামেরা অচল হয়ে পড়েছে। পুলিশ নিজস্ব তহবিল থেকে সীমিতভাবে রক্ষণাবেক্ষণ করছে। তবে নতুন করে স্থাপন বা বড় পরিসরে সংস্কারের জন্য প্রয়োজন সরকারি বরাদ্দ। সেই বরাদ্দ না থাকায় নতুন ক্যামেরা বসানো সম্ভব হচ্ছে না।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, শহরের ৮৮টি সিসিটিভি ক্যামেরার মধ্যে বর্তমানে সচল রয়েছে মাত্র ৫৬টি, বাকি ৩২টি অচল অবস্থায় আছে।

নগরবাসীর আশঙ্কা, দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে অপরাধ পরিস্থিতি আরও অবনতির দিকে যাবে এবং শহরের নিরাপত্তা ঝুঁকির মুখে পড়বে।