ইলিশ আহরণে বড় পতন: এক বছরে উৎপাদন কমেছে ২৩ শতাংশ
- আপডেট সময় : ১০:৫০:৪৭ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৫
- / 157
বিগত চার বছরের মধ্যে চলতি মৌসুমে ইলিশ আহরণ সবচেয়ে কম হয়েছে। মৎস্য অধিদপ্তরের তথ্য বলছে, এক বছরের ব্যবধানে ইলিশ উৎপাদন ২৩ শতাংশ কমেছে, যা দেশের ইলিশ সম্পদের জন্য অশনিসংকেত হিসেবে দেখা হচ্ছে।
২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা শেষে বরিশালের নদীতে জাল ফেললেও আশানুরূপ মাছ পাচ্ছেন না জেলেরা। তাদের অভিযোগ—নিষেধাজ্ঞার সময়েও অসাধু জেলেরা ইলিশ শিকার করায় এবার ইলিশের পরিমাণ কমেছে।
📉 উৎপাদন কমার পরিসংখ্যান
মৎস্য অধিদপ্তরের বরিশাল বিভাগীয় কার্যালয়ের তথ্যমতে, ২০২৫ সালের জুলাই, আগস্ট ও সেপ্টেম্বর মাসে আহরিত হয়েছে ৭৯ হাজার ৩১০ মেট্রিক টন ইলিশ, যা গত বছরের ১ লাখ ৩ হাজার ৬৪৭ টন থেকে ২৪ হাজার ৩৩৭ টন কম। অর্থাৎ উৎপাদন ২২.৯৯ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে।
২০০৩ সালে আহরিত হয়েছিল ১ লাখ ৩ হাজার ৭৯৭ টন, ২০২২ সালে ১ লাখ ৫ হাজার ৫১৫ টন ইলিশ। ধারাবাহিক এই পতন নিয়ে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এটি ইলিশ সম্পদের জন্য একটি গুরুতর সতর্কবার্তা।
এ বছরের জুলাই ও আগস্টে আহরণ ২০২৪ সালের তুলনায় যথাক্রমে ৩৩.২০ ও ৪৭.৩১ শতাংশ কমেছে। দুই মাসে আহরিত হয়েছে ৩৫ হাজার ৯৯৪ টন, যা আগের বছরের তুলনায় ৩৮.৯৩ শতাংশ কম।
⚓ নিষেধাজ্ঞা শেষে জেলেদের হতাশা
প্রতি বছর আশ্বিন মাসের পূর্ণিমা ও অমাবস্যার মধ্যবর্তী ২২ দিন মা ইলিশ রক্ষায় মাছ ধরা বন্ধ থাকে। এ বছর নিষেধাজ্ঞা শুরু হয় ৪ অক্টোবর এবং শেষ হয় ২৬ অক্টোবর মধ্যরাতে।
তবে নিষেধাজ্ঞা শেষে নদীতে জাল ফেলেও বেশিরভাগ জেলে খালি হাতে ফিরেছেন।
ভোলার জেলে জালাল মিয়া বলেন, “নিষেধাজ্ঞার সময় মৌসুমি জেলেরা মাছ ধরে নিয়েছে। নদীতে এখন ইলিশ নেই।”
বরিশালের ব্যবসায়ী জুয়েল বলেন, “আগে নিষেধাজ্ঞা শেষে শত শত মণ ইলিশ বাজারে আসত, এবার ১০ মণও আসেনি। তাই দামও কমেনি।”
প্রশাসন অবশ্য অভিযোগ অস্বীকার করেছে। তারা বলছে, বিগত চার বছরের মধ্যে সবচেয়ে কঠোর অভিযান চালানো হয়েছে এ বছর।
🚓 অভিযান ও আইনি ব্যবস্থা
মৎস্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, এ বছর নিষেধাজ্ঞার ২২ দিনে বরিশাল বিভাগে ৩ হাজার ৫৩১টি অভিযান পরিচালিত হয়েছে—যা গত বছরের তুলনায় বেশি।
-
২০২৪ সালে অভিযান: ৩,৩৯৪টি
-
২০২৩ সালে অভিযান: ২,৮৩৭টি
-
২০২২ সালে অভিযান: ২,৮৬৫টি
এ বছর ৮৯৩ জন জেলে কারাদণ্ড পেয়েছেন (২০২৪ সালে ছিল ৬৮১ জন)।
জব্দ করা হয়েছে ১ কোটি ৩৮ লাখ ৫৯ হাজার ৯০০ মিটার কারেন্ট জাল, যা গত বছরের তুলনায় অনেক বেশি।
বরিশাল জেলা মৎস্য কর্মকর্তা রিপন কান্তি ঘোষ বলেন, “কিছু অসাধু জেলে শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ছিল। বিভিন্ন স্থানে বাধার মুখে পড়েছি। তবে নিষেধাজ্ঞা শেষ হয়েছে, কয়েক দিনের মধ্যেই ইলিশের সরবরাহ বাড়বে বলে আশা করছি।”
🎓 বিশেষজ্ঞদের মতামত
পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের মাৎস্যবিজ্ঞান অনুষদের ডিন প্রফেসর ড. সাজেদুল হক বলেন,
“এবার জেলেদের সঙ্গে প্রশাসনের সংঘর্ষ উদ্বেগজনক। ইলিশের উৎপাদন বাড়াতে হলে সমন্বিত উদ্যোগ নিতে হবে। জেলেদের প্রণোদনা ও সচেতনতা বৃদ্ধি করতে হবে, যাতে তারা বুঝতে পারেন—মা ইলিশ রক্ষা করলে ভবিষ্যতে তারাই আরও বেশি ইলিশ ধরতে পারবেন।”
সারকথা:
নিষেধাজ্ঞা ও অভিযান থাকা সত্ত্বেও ইলিশ আহরণে বড় পতন দেখা দিয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ইলিশ সম্পদ রক্ষায় এখনই কার্যকর ও টেকসই পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।






















