ঢাকা ০৬:৩৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
আইইডিসিআর-এর পরিচালককে নিজ কার্যালয়ে মারধরের অভিযোগ আট বিভাগে বৃষ্টির আভাস, কমবে তাপমাত্রা এসআরবি-১৪, সিপিএসসি, ময়মনসিংহ এর পৃথক অভিযানে হত্যা ও অপহরণ মামলার ০২ আসামি গ্রেফতার। পুরান ঢাকায় এক পঙ্গু হতদরিদ্র ব্যক্তিকে হুইলচেয়ার উপহার দিলো ছাত্রদল নেতারা  হযরতপুরে চাচা হাজী দুঃখ মিয়া বিরুদ্ধে জাল দলিল ও জমি দখলের অভিযোগ তুলেছে ভাতিজা আলা. পুরান ঢাকার সফল সংগঠক মোস্তাকের জন্মদিন পালিত কেরানীগঞ্জে ডিবি পুলিশের অভিযানে ৫০ পিস ইয়াবাসহ একজন গ্রেপ্তার জেলা প্রশাসকের সঙ্গে অতুল বসাকের মতবিনিময়, রামরাই বিনোদন পার্কের প্রাচীর নির্মাণ নিয়ে আলোচনা সাংবাদিক মুন্না মিয়ার মৃত্যুতে ডিএসইসির শোক কেরানীগঞ্জে ডিবির বিশেষ অভিযান: ইয়াবা ও হেরোইনসহ দুই মাদক কারবারি গ্রেপ্তার, প্রতারণা মামলায় আরও দুইজন আটক।

উচ্চ আদালতে মামলা চলাকালে ২ কোটি ৯৩ লাখ টাকার অধিগ্রহণ ক্ষতিপূরণ বিতরণের অভিযোগ, এলএ বিভাগের বিরুদ্ধে যোগসাজশের দাবি

অনলাইন ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ০৯:১৫:৫০ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৫ জুলাই ২০২৬
  • / 92
আজকের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

নিজস্ব প্রতিবেদক | কেরানীগঞ্জ, ঢাকা

ঢাকার কেরানীগঞ্জে বিচারাধীন জমির অধিগ্রহণ ক্ষতিপূরণের প্রায় ২ কোটি ৯৩ লাখ টাকা বিতরণ ও উত্তোলনকে কেন্দ্র করে গুরুতর অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। উচ্চ আদালতে রিট এবং দেওয়ানি মামলা চলমান থাকা সত্ত্বেও সংশ্লিষ্ট এলএ (ভূমি অধিগ্রহণ) বিভাগের কিছু কর্মকর্তা-কর্মচারীর যোগসাজশে ক্ষতিপূরণের অর্থ উত্তোলন করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, কেরানীগঞ্জ দক্ষিণ থানার পশ্চিমদী এলাকার মরহুম আফতাব উদ্দিন তিনটি দলিলের মাধ্যমে মোট ৬১ শতাংশ জমি ক্রয় করেন। মৃত্যুর পর তিনি এক ছেলে ও পাঁচ মেয়েসহ ওয়ারিশ রেখে যান। পরবর্তীতে তার ছেলে আকবর আলী একটি ভুয়া ও জাল ‘না-দাবি’ দলিল তৈরি করে জমি নিজের নামে নামজারি করেন বলে অভিযোগ ওঠে। আকবর আলীর মৃত্যুর পর তার উত্তরাধিকারীরাও ওই দলিলের ভিত্তিতে নিজেদের নামে নামজারি সম্পন্ন করেন।

পরে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন ক্যাম্পাস নির্মাণের জন্য জেলা প্রশাসনের মাধ্যমে জমিটি অধিগ্রহণ করা হলে, আফতাব উদ্দিনের পাঁচ মেয়ে জানতে পারেন যে তাদের উত্তরাধিকারী হিসেবে বাদ দিয়ে ক্ষতিপূরণের অর্থ উত্তোলনের চেষ্টা চলছে। এ ঘটনায় তারা নামজারি বাতিলের আবেদন করেন এবং বিষয়টি নিয়ে উচ্চ আদালতে রিট, দেওয়ানি মামলা ও ভূমি আপিল বোর্ডে মামলা দায়ের করেন।

অভিযোগ অনুযায়ী, এলএ কেস নং ০২.০৭.০২/২০১৮-২০১৯-এর শুনানি শেষে তৎকালীন অধিগ্রহণ কর্মকর্তা মো. আব্দুল হালিম ২১ জুলাই ২০২৫ তারিখে আদেশে উল্লেখ করেন যে, চতুর্থ যুগ্ম জেলা জজ আদালতের দেওয়ানি মামলা নং ২৫১/২০২৫ এবং ভূমি আপিল বোর্ডের মিস রিভিশন মামলা নং ১৪১/২০২৫ নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত ক্ষতিপূরণ বিতরণ স্থগিত রাখা যেতে পারে। মামলার রায় অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণের কথাও ওই আদেশে উল্লেখ ছিল।

কিন্তু অভিযোগ রয়েছে, ওই আদেশ উপেক্ষা করে ডিসেম্বর ২০২৫-এ এলএ শাখা-২ এর অধিগ্রহণ কর্মকর্তা মো. আব্দুল হালিম ও সার্ভেয়ার সিরাজুল ইসলামের যোগসাজশে আকবর আলীর ছেলে হারুন অর রশিদ ও ইব্রাহিম খলিলুল্লাহ জাল কাগজপত্র ব্যবহার করে প্রায় ২ কোটি ৯৩ লাখ টাকার ক্ষতিপূরণ উত্তোলন করেন।

এ ঘটনায় ১৪ জুলাই ২০২৬ তারিখে আফতাব উদ্দিনের মেয়ে আমিনা খাতুন জেলা প্রশাসক ও অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (এলএ)-এর কাছে লিখিত অভিযোগ দাখিল করেন। অভিযোগে তিনি বিচারাধীন বিরোধ থাকা সত্ত্বেও ক্ষতিপূরণের অর্থ বিতরণ ও উত্তোলনের ঘটনায় পুনঃসার্টিফিকেট মামলা রুজু, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারী ও সুবিধাভোগীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানান।

ভুক্তভোগী আমিনা খাতুন বলেন,
“আমাদের বাবার রেখে যাওয়া জমির অধিগ্রহণের টাকা থেকে আমরা পাঁচ বোন ও আমাদের উত্তরাধিকারীরা যেন আইন অনুযায়ী প্রাপ্য অংশ পাই। বিষয়টির সুষ্ঠু তদন্ত ও ন্যায়বিচার চাই।”

এ বিষয়ে অভিযুক্তদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। অভিযোগের বিষয়ে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকেও আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

উল্লেখ্য, উপরের প্রতিবেদনটি অভিযোগকারী পক্ষের লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে প্রস্তুত করা হয়েছে। অভিযোগের সত্যতা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্ত ও আদালতের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভরশীল।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

উচ্চ আদালতে মামলা চলাকালে ২ কোটি ৯৩ লাখ টাকার অধিগ্রহণ ক্ষতিপূরণ বিতরণের অভিযোগ, এলএ বিভাগের বিরুদ্ধে যোগসাজশের দাবি

আপডেট সময় : ০৯:১৫:৫০ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৫ জুলাই ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক | কেরানীগঞ্জ, ঢাকা

ঢাকার কেরানীগঞ্জে বিচারাধীন জমির অধিগ্রহণ ক্ষতিপূরণের প্রায় ২ কোটি ৯৩ লাখ টাকা বিতরণ ও উত্তোলনকে কেন্দ্র করে গুরুতর অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। উচ্চ আদালতে রিট এবং দেওয়ানি মামলা চলমান থাকা সত্ত্বেও সংশ্লিষ্ট এলএ (ভূমি অধিগ্রহণ) বিভাগের কিছু কর্মকর্তা-কর্মচারীর যোগসাজশে ক্ষতিপূরণের অর্থ উত্তোলন করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, কেরানীগঞ্জ দক্ষিণ থানার পশ্চিমদী এলাকার মরহুম আফতাব উদ্দিন তিনটি দলিলের মাধ্যমে মোট ৬১ শতাংশ জমি ক্রয় করেন। মৃত্যুর পর তিনি এক ছেলে ও পাঁচ মেয়েসহ ওয়ারিশ রেখে যান। পরবর্তীতে তার ছেলে আকবর আলী একটি ভুয়া ও জাল ‘না-দাবি’ দলিল তৈরি করে জমি নিজের নামে নামজারি করেন বলে অভিযোগ ওঠে। আকবর আলীর মৃত্যুর পর তার উত্তরাধিকারীরাও ওই দলিলের ভিত্তিতে নিজেদের নামে নামজারি সম্পন্ন করেন।

পরে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন ক্যাম্পাস নির্মাণের জন্য জেলা প্রশাসনের মাধ্যমে জমিটি অধিগ্রহণ করা হলে, আফতাব উদ্দিনের পাঁচ মেয়ে জানতে পারেন যে তাদের উত্তরাধিকারী হিসেবে বাদ দিয়ে ক্ষতিপূরণের অর্থ উত্তোলনের চেষ্টা চলছে। এ ঘটনায় তারা নামজারি বাতিলের আবেদন করেন এবং বিষয়টি নিয়ে উচ্চ আদালতে রিট, দেওয়ানি মামলা ও ভূমি আপিল বোর্ডে মামলা দায়ের করেন।

অভিযোগ অনুযায়ী, এলএ কেস নং ০২.০৭.০২/২০১৮-২০১৯-এর শুনানি শেষে তৎকালীন অধিগ্রহণ কর্মকর্তা মো. আব্দুল হালিম ২১ জুলাই ২০২৫ তারিখে আদেশে উল্লেখ করেন যে, চতুর্থ যুগ্ম জেলা জজ আদালতের দেওয়ানি মামলা নং ২৫১/২০২৫ এবং ভূমি আপিল বোর্ডের মিস রিভিশন মামলা নং ১৪১/২০২৫ নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত ক্ষতিপূরণ বিতরণ স্থগিত রাখা যেতে পারে। মামলার রায় অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণের কথাও ওই আদেশে উল্লেখ ছিল।

কিন্তু অভিযোগ রয়েছে, ওই আদেশ উপেক্ষা করে ডিসেম্বর ২০২৫-এ এলএ শাখা-২ এর অধিগ্রহণ কর্মকর্তা মো. আব্দুল হালিম ও সার্ভেয়ার সিরাজুল ইসলামের যোগসাজশে আকবর আলীর ছেলে হারুন অর রশিদ ও ইব্রাহিম খলিলুল্লাহ জাল কাগজপত্র ব্যবহার করে প্রায় ২ কোটি ৯৩ লাখ টাকার ক্ষতিপূরণ উত্তোলন করেন।

এ ঘটনায় ১৪ জুলাই ২০২৬ তারিখে আফতাব উদ্দিনের মেয়ে আমিনা খাতুন জেলা প্রশাসক ও অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (এলএ)-এর কাছে লিখিত অভিযোগ দাখিল করেন। অভিযোগে তিনি বিচারাধীন বিরোধ থাকা সত্ত্বেও ক্ষতিপূরণের অর্থ বিতরণ ও উত্তোলনের ঘটনায় পুনঃসার্টিফিকেট মামলা রুজু, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারী ও সুবিধাভোগীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানান।

ভুক্তভোগী আমিনা খাতুন বলেন,
“আমাদের বাবার রেখে যাওয়া জমির অধিগ্রহণের টাকা থেকে আমরা পাঁচ বোন ও আমাদের উত্তরাধিকারীরা যেন আইন অনুযায়ী প্রাপ্য অংশ পাই। বিষয়টির সুষ্ঠু তদন্ত ও ন্যায়বিচার চাই।”

এ বিষয়ে অভিযুক্তদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। অভিযোগের বিষয়ে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকেও আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

উল্লেখ্য, উপরের প্রতিবেদনটি অভিযোগকারী পক্ষের লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে প্রস্তুত করা হয়েছে। অভিযোগের সত্যতা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্ত ও আদালতের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভরশীল।