ঢাকা ০৪:২১ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
আইইডিসিআর-এর পরিচালককে নিজ কার্যালয়ে মারধরের অভিযোগ আট বিভাগে বৃষ্টির আভাস, কমবে তাপমাত্রা এসআরবি-১৪, সিপিএসসি, ময়মনসিংহ এর পৃথক অভিযানে হত্যা ও অপহরণ মামলার ০২ আসামি গ্রেফতার। পুরান ঢাকায় এক পঙ্গু হতদরিদ্র ব্যক্তিকে হুইলচেয়ার উপহার দিলো ছাত্রদল নেতারা  হযরতপুরে চাচা হাজী দুঃখ মিয়া বিরুদ্ধে জাল দলিল ও জমি দখলের অভিযোগ তুলেছে ভাতিজা আলা. পুরান ঢাকার সফল সংগঠক মোস্তাকের জন্মদিন পালিত কেরানীগঞ্জে ডিবি পুলিশের অভিযানে ৫০ পিস ইয়াবাসহ একজন গ্রেপ্তার জেলা প্রশাসকের সঙ্গে অতুল বসাকের মতবিনিময়, রামরাই বিনোদন পার্কের প্রাচীর নির্মাণ নিয়ে আলোচনা সাংবাদিক মুন্না মিয়ার মৃত্যুতে ডিএসইসির শোক কেরানীগঞ্জে ডিবির বিশেষ অভিযান: ইয়াবা ও হেরোইনসহ দুই মাদক কারবারি গ্রেপ্তার, প্রতারণা মামলায় আরও দুইজন আটক।

ঐতিহাসিক ‘গৌরিপুর লজ’ ভবনে আবাসিক ব্যবহার বন্ধের দাবি, দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত করার আহ্বান

অনলাইন ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ১১:৩৭:২৫ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৯ জুন ২০২৬
  • / 113
আজকের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

 

ময়মনসিংহ, ৯ জুন ২০২৬:

ময়মনসিংহ শহরের অন্যতম ঐতিহাসিক স্থাপনা ‘গৌরিপুর লজ’ ভবনে আবাসিক কার্যক্রম বন্ধ করে তা সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করার দাবি জানিয়েছে পুরাকীর্তি সংরক্ষণ কমিটি, ময়মনসিংহ অঞ্চল।

মঙ্গলবার (৯ জুন) সোনালী ব্যাংক পিএলসি’র বিভাগীয় কার্যালয়ের জেনারেল ম্যানেজার বরাবর দেওয়া এক লিখিত আবেদনে এ দাবি জানানো হয়।

আবেদনে বলা হয়, ময়মনসিংহ শহরের প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত ‘গৌরিপুর লজ’ একটি গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক স্থাপনা, যা গৌরিপুরের জমিদার ব্রজেন্দ্র কিশোর রায় চৌধুরীর নির্মিত। স্থাপত্যশৈলীর দিক থেকে এটি শহরের হাতেগোনা তিনটি ‘এ’ ক্যাটাগরির ঐতিহাসিক ভবনের একটি। অন্য দুটি হলো শশীলজ ও আলেকজান্দ্রা ক্যাসেল।

বর্তমানে ভবনটি সোনালী ব্যাংক পিএলসি, ময়মনসিংহ অঞ্চল ব্যবহার করছে। পূর্বে এখানে ব্যাংকিং কার্যক্রম পরিচালিত হলেও সম্প্রতি পাশে নতুন বহুতল ভবন নির্মাণ করে ব্যাংকিং কার্যক্রম স্থানান্তর করা হয়েছে। তবে মূল ঐতিহাসিক ভবনটিকে বর্তমানে ব্যাংক কর্মকর্তাদের ডরমেটরি বা আবাসিক হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে।

সংগঠনটির অভিযোগ, কোনো প্রত্নতাত্ত্বিক অনুমতি ছাড়াই ভবনটির অভ্যন্তরীণ কাঠামোতে পরিবর্তন আনা হচ্ছে, যা ঐতিহ্যবাহী স্থাপনাটির স্থায়ী ক্ষতির কারণ হতে পারে। পাশাপাশি আবাসিক ব্যবহারের কারণে নিরাপত্তা ও গোপনীয়তার অজুহাতে সাধারণ দর্শনার্থী, গবেষক ও পর্যটকরা ভবনটি পরিদর্শনের সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।

পুরাকীর্তি সংরক্ষণ কমিটির সদস্য সচিব ইমতিয়াজ আহমেদ বলেন, “ঐতিহাসিক স্থাপনাগুলো কেবল কোনো প্রতিষ্ঠানের সম্পদ নয়, এগুলো পুরো জাতির ঐতিহ্য। এ ধরনের অপব্যবহার বন্ধ না হলে আমাদের ইতিহাস ধ্বংস হয়ে যাবে।”

আবেদনে দুটি প্রধান দাবি জানানো হয়—
প্রথমত, ‘গৌরিপুর লজ’ ভবনে চলমান সব ধরনের আবাসিক কার্যক্রম অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে এবং ভবনের মূল কাঠামো সংরক্ষণে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে।
দ্বিতীয়ত, ভবনটি দেশি-বিদেশি দর্শনার্থী ও গবেষকদের জন্য উন্মুক্ত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।

সংগঠনটির নেতারা আশা প্রকাশ করেন, একটি রাষ্ট্রীয় দায়িত্বশীল প্রতিষ্ঠান হিসেবে সোনালী ব্যাংক পিএলসি দ্রুত এ বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করবে এবং ময়মনসিংহের ঐতিহ্য সংরক্ষণে ভূমিকা রাখবে।

এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন স্থানীয় সচেতন মহল।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ঐতিহাসিক ‘গৌরিপুর লজ’ ভবনে আবাসিক ব্যবহার বন্ধের দাবি, দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত করার আহ্বান

আপডেট সময় : ১১:৩৭:২৫ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৯ জুন ২০২৬

 

ময়মনসিংহ, ৯ জুন ২০২৬:

ময়মনসিংহ শহরের অন্যতম ঐতিহাসিক স্থাপনা ‘গৌরিপুর লজ’ ভবনে আবাসিক কার্যক্রম বন্ধ করে তা সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করার দাবি জানিয়েছে পুরাকীর্তি সংরক্ষণ কমিটি, ময়মনসিংহ অঞ্চল।

মঙ্গলবার (৯ জুন) সোনালী ব্যাংক পিএলসি’র বিভাগীয় কার্যালয়ের জেনারেল ম্যানেজার বরাবর দেওয়া এক লিখিত আবেদনে এ দাবি জানানো হয়।

আবেদনে বলা হয়, ময়মনসিংহ শহরের প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত ‘গৌরিপুর লজ’ একটি গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক স্থাপনা, যা গৌরিপুরের জমিদার ব্রজেন্দ্র কিশোর রায় চৌধুরীর নির্মিত। স্থাপত্যশৈলীর দিক থেকে এটি শহরের হাতেগোনা তিনটি ‘এ’ ক্যাটাগরির ঐতিহাসিক ভবনের একটি। অন্য দুটি হলো শশীলজ ও আলেকজান্দ্রা ক্যাসেল।

বর্তমানে ভবনটি সোনালী ব্যাংক পিএলসি, ময়মনসিংহ অঞ্চল ব্যবহার করছে। পূর্বে এখানে ব্যাংকিং কার্যক্রম পরিচালিত হলেও সম্প্রতি পাশে নতুন বহুতল ভবন নির্মাণ করে ব্যাংকিং কার্যক্রম স্থানান্তর করা হয়েছে। তবে মূল ঐতিহাসিক ভবনটিকে বর্তমানে ব্যাংক কর্মকর্তাদের ডরমেটরি বা আবাসিক হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে।

সংগঠনটির অভিযোগ, কোনো প্রত্নতাত্ত্বিক অনুমতি ছাড়াই ভবনটির অভ্যন্তরীণ কাঠামোতে পরিবর্তন আনা হচ্ছে, যা ঐতিহ্যবাহী স্থাপনাটির স্থায়ী ক্ষতির কারণ হতে পারে। পাশাপাশি আবাসিক ব্যবহারের কারণে নিরাপত্তা ও গোপনীয়তার অজুহাতে সাধারণ দর্শনার্থী, গবেষক ও পর্যটকরা ভবনটি পরিদর্শনের সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।

পুরাকীর্তি সংরক্ষণ কমিটির সদস্য সচিব ইমতিয়াজ আহমেদ বলেন, “ঐতিহাসিক স্থাপনাগুলো কেবল কোনো প্রতিষ্ঠানের সম্পদ নয়, এগুলো পুরো জাতির ঐতিহ্য। এ ধরনের অপব্যবহার বন্ধ না হলে আমাদের ইতিহাস ধ্বংস হয়ে যাবে।”

আবেদনে দুটি প্রধান দাবি জানানো হয়—
প্রথমত, ‘গৌরিপুর লজ’ ভবনে চলমান সব ধরনের আবাসিক কার্যক্রম অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে এবং ভবনের মূল কাঠামো সংরক্ষণে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে।
দ্বিতীয়ত, ভবনটি দেশি-বিদেশি দর্শনার্থী ও গবেষকদের জন্য উন্মুক্ত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।

সংগঠনটির নেতারা আশা প্রকাশ করেন, একটি রাষ্ট্রীয় দায়িত্বশীল প্রতিষ্ঠান হিসেবে সোনালী ব্যাংক পিএলসি দ্রুত এ বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করবে এবং ময়মনসিংহের ঐতিহ্য সংরক্ষণে ভূমিকা রাখবে।

এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন স্থানীয় সচেতন মহল।