ঢাকা ০৪:২৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
আইইডিসিআর-এর পরিচালককে নিজ কার্যালয়ে মারধরের অভিযোগ আট বিভাগে বৃষ্টির আভাস, কমবে তাপমাত্রা এসআরবি-১৪, সিপিএসসি, ময়মনসিংহ এর পৃথক অভিযানে হত্যা ও অপহরণ মামলার ০২ আসামি গ্রেফতার। পুরান ঢাকায় এক পঙ্গু হতদরিদ্র ব্যক্তিকে হুইলচেয়ার উপহার দিলো ছাত্রদল নেতারা  হযরতপুরে চাচা হাজী দুঃখ মিয়া বিরুদ্ধে জাল দলিল ও জমি দখলের অভিযোগ তুলেছে ভাতিজা আলা. পুরান ঢাকার সফল সংগঠক মোস্তাকের জন্মদিন পালিত কেরানীগঞ্জে ডিবি পুলিশের অভিযানে ৫০ পিস ইয়াবাসহ একজন গ্রেপ্তার জেলা প্রশাসকের সঙ্গে অতুল বসাকের মতবিনিময়, রামরাই বিনোদন পার্কের প্রাচীর নির্মাণ নিয়ে আলোচনা সাংবাদিক মুন্না মিয়ার মৃত্যুতে ডিএসইসির শোক কেরানীগঞ্জে ডিবির বিশেষ অভিযান: ইয়াবা ও হেরোইনসহ দুই মাদক কারবারি গ্রেপ্তার, প্রতারণা মামলায় আরও দুইজন আটক।

কটিয়াদীর প্রবেশমুখে ময়লার পাহাড়, বাড়ছে স্বাস্থ্যঝুঁকি

অনলাইন ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ০৬:১৬:৩৫ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬
  • / 96
আজকের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

কিশোরগঞ্জের কটিয়াদীতে পরিকল্পিত ও স্থায়ী ডাম্পিং স্টেশন না থাকায় শহরের বিভিন্ন এলাকা থেকে সংগ্রহ করা বর্জ্য ফেলা হচ্ছে মহাসড়কের পাশে। ফলে কটিয়াদী বাসস্ট্যান্ড কাঁচাবাজার সংলগ্ন এলাকায় গড়ে উঠেছে বিশাল ময়লার ভাগাড়। প্রতিদিন টনের পর টন বর্জ্য জমে পরিবেশ দূষণ, স্বাস্থ্যঝুঁকি ও জনদুর্ভোগ বাড়লেও কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেই বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।

সরেজমিনে দেখা যায়, কটিয়াদী সদরের প্রধান প্রবেশদ্বার হিসেবে পরিচিত এই বাসস্ট্যান্ড এলাকাটি দিয়ে প্রতিদিন হাজারো মানুষ ও যানবাহন চলাচল করে। কিন্তু শহরের প্রবেশমুখেই রাস্তার পাশে বিশাল ময়লার স্তূপ জমে থাকায় দূর থেকেই নাকে আসে পচা বর্জ্যের তীব্র দুর্গন্ধ। কটিয়াদীতে আগত মানুষের কাছে শহরের প্রথম দৃশ্যই এই দুর্গন্ধযুক্ত আবর্জনার পাহাড়।

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, পৌর এলাকায় পরিকল্পিত ও স্থায়ী কোনো ডাম্পিং স্টেশন না থাকায় শহরের বিভিন্ন ওয়ার্ড থেকে সংগ্রহ করা বর্জ্য এনে এই স্থানে ফেলা হচ্ছে। প্রতিদিন প্রায় ২০ টন বা তারও বেশি বর্জ্য এখানে জমা হচ্ছে। নিয়মিত অপসারণ কিংবা বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে ব্যবস্থাপনার অভাবে দিন দিন এই স্তূপ বড় হচ্ছে।

বিশেষ করে গ্রীষ্মকাল ও বর্ষা মৌসুমে পরিস্থিতি আরও নাজুক হয়ে পড়ে। কাঁচাবাজারের কয়েকজন ব্যবসায়ী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, দুপুরের দিকে রোদ বাড়লে দুর্গন্ধ আরও তীব্র হয়ে যায়। অনেক ব্যবসায়ীকে নাক-মুখ ঢেকে দোকানে বসতে হয়। দুর্গন্ধের কারণে ক্রেতারাও বাজারে আসতে চান না। এতে ব্যবসা পরিচালনা করা অত্যন্ত কষ্টকর হয়ে উঠেছে।

স্থানীয় ব্যবসায়ী সারোয়ার বলেন, রাস্তার পাশে ময়লা ফেলার কারণে প্রতিদিন মানুষ চরম ভোগান্তিতে পড়ছে। দুর্গন্ধ এতটাই তীব্র যে পথচারীদের নাকে হাত দিয়ে চলাচল করতে হয়। ময়লার কারণে রিকশা ও সিএনজি সড়কের মাঝখানে দাঁড়াতে বাধ্য হয়, এতে যানজট সৃষ্টি হচ্ছে এবং দুর্ঘটনার ঝুঁকিও বাড়ছে। আমরা ব্যবসা করছি, কিন্তু দুর্গন্ধের কারণে গ্রাহক ও পথচারীরা বিরক্ত হচ্ছেন। এই পরিবেশে নানা ধরনের রোগব্যাধির ঝুঁকি লেগেই আছে।

তিনি আরও অভিযোগ করে বলেন, প্রশাসনকে একাধিকবার জানানো হলেও এখনো কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। জনবসতি ও ব্যস্ত সড়কের পাশে নয়, নির্ধারিত খোলা বা নিম্নাঞ্চলে ময়লা ফেলা হোক। পাশাপাশি ময়লা পরিবহনের গাড়িগুলো যেন সঠিকভাবে ঢেকে আনা-নেওয়া করা হয়, যাতে দুর্গন্ধ ও যানজট কমে।

যাত্রী শহীদ মিয়া বলেন, আমরা প্রতিদিন এই রাস্তা দিয়ে যাতায়াত করি, কিন্তু এখন রাস্তার পাশ ময়লার ভাগাড়ে পরিণত হয়েছে। অসহ্য দুর্গন্ধে চলাচল করা খুবই কষ্টকর হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে শ্বাসকষ্টের রোগীরা এই দূষিত বাতাসে আরও বেশি ঝুঁকিতে পড়ছেন। অনেক সময় নাক-মুখ চেপে বা শ্বাস আটকে রাস্তা পার হতে হয়। এত বড় সমস্যা কি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরে পড়ে না? আমরা প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিদের কাছে অনুরোধ জানাই, দ্রুত এই ময়লা অপসারণ করে মানুষের দুর্ভোগের অবসান ঘটানো হোক।

 

রিকশাচালক রুবেল মিয়া বলেন, রাস্তাঘাটের অবস্থা খুবই খারাপ, প্রায় অর্ধেক রাস্তা ময়লার কারণে সংকুচিত হয়ে গেছে। এতে প্রতিনিয়ত যানজট সৃষ্টি হচ্ছে। দুর্গন্ধের কারণে পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়ে যায়, ফলে সবসময় মুখ ঢেকে চলাচল করতে হয়, যা আমাদের স্বাস্থ্যের জন্যও ক্ষতিকর।

স্থানীয়রা জানান, ময়লার স্তূপে মাছি, মশা ও বিভিন্ন রোগবাহী পোকামাকড়ের উপদ্রব ভয়াবহভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। আশপাশের বাড়িঘর ও দোকানপাটে ডায়রিয়া, চর্মরোগ, শ্বাসকষ্টসহ বিভিন্ন রোগের ঝুঁকি বাড়ছে, যা শিশু ও বয়স্কদের জন্য সবচেয়ে বেশি উদ্বেগজনক।

বর্ষাকালে বৃষ্টির পানি ময়লার স্তূপের ভেতর দিয়ে প্রবাহিত হয়ে কালো ও দুর্গন্ধযুক্ত তরল বর্জ্যে পরিণত হয়, যা মহাসড়ক ও আশপাশের এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে।

সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো, মহাসড়কের প্রায় তিন ফুট জায়গা দখল করে এই ময়লা ফেলা হচ্ছে। ব্যস্ত এই আঞ্চলিক মহাসড়কের একাংশ বর্জ্যের দখলে চলে যাওয়ায় রাস্তার কার্যকর প্রস্থ কমে গেছে, যার ফলে প্রতিনিয়ত সৃষ্টি হচ্ছে তীব্র যানজট।

ট্রাকচালক রেদোয়ান বলেন, প্রতিদিন এখানে ময়লা ফেলার কারণে প্রায়ই রাস্তা বন্ধ হয়ে যায়, এতে দুর্ঘটনার ঝুঁকি তৈরি হয় এবং নানা ধরনের অসুবিধা দেখা দেয়। তীব্র দুর্গন্ধের কারণে চলাচল করাও খুবই কষ্টকর। আমরা চাই, এখানে আর ময়লা না ফেলে অন্য কোনো নির্ধারিত স্থানে তা সরিয়ে ফেলা হোক।

স্থায়ী ডাম্পিং গ্রাউন্ড না থাকার বিষয়টি স্বীকার করে পৌর প্রশাসক ও কটিয়াদী উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) লাবনী আক্তার তারানা বলেন, পৌরসভা ২০০২ সালে প্রতিষ্ঠিত হলেও এত বছরেও স্থায়ী ডাম্পিং গ্রাউন্ডের উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। এখন হুট করে জায়গা চাইলে তা পাওয়া সহজ নয়।

তিনি আরও জানান, এর আগে চুরিয়াকোনা এলাকায় খাস জমিতে ডাম্পিং গ্রাউন্ড স্থাপনের চেষ্টা করা হলেও স্থানীয়দের বাধায় তা করা যায়নি। পরবর্তীতে সেখানে সরকারি নির্দেশনায় স্টেডিয়াম নির্মাণের পরিকল্পনা আসায় সেই জায়গাটি আর ব্যবহার করা সম্ভব হচ্ছে না। বর্তমানে আশ্রয়ণ প্রকল্পের কারণে অধিকাংশ খাস জমি ব্যবহার হয়ে যাওয়ায় উপযুক্ত জায়গা পাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে। তবে জনবসতি থেকে দূরে এবং যাতায়াত সুবিধাজনক এমন নতুন স্থানের সন্ধান চালানো হচ্ছে বলে তিনি জানান।

কিশোরগঞ্জ সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী শাকিল মোহাম্মদ ফয়সাল বলেন, কটিয়াদী বাসস্ট্যান্ড এলাকায় মহাসড়কের পাশে ময়লা ফেলার বিষয়টি নিয়ে আমি সম্প্রতি জেলা প্রশাসক (ডিসি) মহোদয়কে সরাসরি অবহিত করেছি। এর আগেও এ বিষয়ে কয়েকবার লিখিতভাবে চিঠি দেওয়া হয়েছে। মহাসড়কের পাশে এভাবে বর্জ্য ফেলা সড়কের জন্য ক্ষতিকর এবং জনদুর্ভোগ সৃষ্টি করছে। জেলা প্রশাসক বিষয়টি দেখবেন বলে আশ্বাস দিয়েছেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

কটিয়াদীর প্রবেশমুখে ময়লার পাহাড়, বাড়ছে স্বাস্থ্যঝুঁকি

আপডেট সময় : ০৬:১৬:৩৫ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬

কিশোরগঞ্জের কটিয়াদীতে পরিকল্পিত ও স্থায়ী ডাম্পিং স্টেশন না থাকায় শহরের বিভিন্ন এলাকা থেকে সংগ্রহ করা বর্জ্য ফেলা হচ্ছে মহাসড়কের পাশে। ফলে কটিয়াদী বাসস্ট্যান্ড কাঁচাবাজার সংলগ্ন এলাকায় গড়ে উঠেছে বিশাল ময়লার ভাগাড়। প্রতিদিন টনের পর টন বর্জ্য জমে পরিবেশ দূষণ, স্বাস্থ্যঝুঁকি ও জনদুর্ভোগ বাড়লেও কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেই বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।

সরেজমিনে দেখা যায়, কটিয়াদী সদরের প্রধান প্রবেশদ্বার হিসেবে পরিচিত এই বাসস্ট্যান্ড এলাকাটি দিয়ে প্রতিদিন হাজারো মানুষ ও যানবাহন চলাচল করে। কিন্তু শহরের প্রবেশমুখেই রাস্তার পাশে বিশাল ময়লার স্তূপ জমে থাকায় দূর থেকেই নাকে আসে পচা বর্জ্যের তীব্র দুর্গন্ধ। কটিয়াদীতে আগত মানুষের কাছে শহরের প্রথম দৃশ্যই এই দুর্গন্ধযুক্ত আবর্জনার পাহাড়।

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, পৌর এলাকায় পরিকল্পিত ও স্থায়ী কোনো ডাম্পিং স্টেশন না থাকায় শহরের বিভিন্ন ওয়ার্ড থেকে সংগ্রহ করা বর্জ্য এনে এই স্থানে ফেলা হচ্ছে। প্রতিদিন প্রায় ২০ টন বা তারও বেশি বর্জ্য এখানে জমা হচ্ছে। নিয়মিত অপসারণ কিংবা বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে ব্যবস্থাপনার অভাবে দিন দিন এই স্তূপ বড় হচ্ছে।

বিশেষ করে গ্রীষ্মকাল ও বর্ষা মৌসুমে পরিস্থিতি আরও নাজুক হয়ে পড়ে। কাঁচাবাজারের কয়েকজন ব্যবসায়ী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, দুপুরের দিকে রোদ বাড়লে দুর্গন্ধ আরও তীব্র হয়ে যায়। অনেক ব্যবসায়ীকে নাক-মুখ ঢেকে দোকানে বসতে হয়। দুর্গন্ধের কারণে ক্রেতারাও বাজারে আসতে চান না। এতে ব্যবসা পরিচালনা করা অত্যন্ত কষ্টকর হয়ে উঠেছে।

স্থানীয় ব্যবসায়ী সারোয়ার বলেন, রাস্তার পাশে ময়লা ফেলার কারণে প্রতিদিন মানুষ চরম ভোগান্তিতে পড়ছে। দুর্গন্ধ এতটাই তীব্র যে পথচারীদের নাকে হাত দিয়ে চলাচল করতে হয়। ময়লার কারণে রিকশা ও সিএনজি সড়কের মাঝখানে দাঁড়াতে বাধ্য হয়, এতে যানজট সৃষ্টি হচ্ছে এবং দুর্ঘটনার ঝুঁকিও বাড়ছে। আমরা ব্যবসা করছি, কিন্তু দুর্গন্ধের কারণে গ্রাহক ও পথচারীরা বিরক্ত হচ্ছেন। এই পরিবেশে নানা ধরনের রোগব্যাধির ঝুঁকি লেগেই আছে।

তিনি আরও অভিযোগ করে বলেন, প্রশাসনকে একাধিকবার জানানো হলেও এখনো কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। জনবসতি ও ব্যস্ত সড়কের পাশে নয়, নির্ধারিত খোলা বা নিম্নাঞ্চলে ময়লা ফেলা হোক। পাশাপাশি ময়লা পরিবহনের গাড়িগুলো যেন সঠিকভাবে ঢেকে আনা-নেওয়া করা হয়, যাতে দুর্গন্ধ ও যানজট কমে।

যাত্রী শহীদ মিয়া বলেন, আমরা প্রতিদিন এই রাস্তা দিয়ে যাতায়াত করি, কিন্তু এখন রাস্তার পাশ ময়লার ভাগাড়ে পরিণত হয়েছে। অসহ্য দুর্গন্ধে চলাচল করা খুবই কষ্টকর হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে শ্বাসকষ্টের রোগীরা এই দূষিত বাতাসে আরও বেশি ঝুঁকিতে পড়ছেন। অনেক সময় নাক-মুখ চেপে বা শ্বাস আটকে রাস্তা পার হতে হয়। এত বড় সমস্যা কি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরে পড়ে না? আমরা প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিদের কাছে অনুরোধ জানাই, দ্রুত এই ময়লা অপসারণ করে মানুষের দুর্ভোগের অবসান ঘটানো হোক।

 

রিকশাচালক রুবেল মিয়া বলেন, রাস্তাঘাটের অবস্থা খুবই খারাপ, প্রায় অর্ধেক রাস্তা ময়লার কারণে সংকুচিত হয়ে গেছে। এতে প্রতিনিয়ত যানজট সৃষ্টি হচ্ছে। দুর্গন্ধের কারণে পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়ে যায়, ফলে সবসময় মুখ ঢেকে চলাচল করতে হয়, যা আমাদের স্বাস্থ্যের জন্যও ক্ষতিকর।

স্থানীয়রা জানান, ময়লার স্তূপে মাছি, মশা ও বিভিন্ন রোগবাহী পোকামাকড়ের উপদ্রব ভয়াবহভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। আশপাশের বাড়িঘর ও দোকানপাটে ডায়রিয়া, চর্মরোগ, শ্বাসকষ্টসহ বিভিন্ন রোগের ঝুঁকি বাড়ছে, যা শিশু ও বয়স্কদের জন্য সবচেয়ে বেশি উদ্বেগজনক।

বর্ষাকালে বৃষ্টির পানি ময়লার স্তূপের ভেতর দিয়ে প্রবাহিত হয়ে কালো ও দুর্গন্ধযুক্ত তরল বর্জ্যে পরিণত হয়, যা মহাসড়ক ও আশপাশের এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে।

সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো, মহাসড়কের প্রায় তিন ফুট জায়গা দখল করে এই ময়লা ফেলা হচ্ছে। ব্যস্ত এই আঞ্চলিক মহাসড়কের একাংশ বর্জ্যের দখলে চলে যাওয়ায় রাস্তার কার্যকর প্রস্থ কমে গেছে, যার ফলে প্রতিনিয়ত সৃষ্টি হচ্ছে তীব্র যানজট।

ট্রাকচালক রেদোয়ান বলেন, প্রতিদিন এখানে ময়লা ফেলার কারণে প্রায়ই রাস্তা বন্ধ হয়ে যায়, এতে দুর্ঘটনার ঝুঁকি তৈরি হয় এবং নানা ধরনের অসুবিধা দেখা দেয়। তীব্র দুর্গন্ধের কারণে চলাচল করাও খুবই কষ্টকর। আমরা চাই, এখানে আর ময়লা না ফেলে অন্য কোনো নির্ধারিত স্থানে তা সরিয়ে ফেলা হোক।

স্থায়ী ডাম্পিং গ্রাউন্ড না থাকার বিষয়টি স্বীকার করে পৌর প্রশাসক ও কটিয়াদী উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) লাবনী আক্তার তারানা বলেন, পৌরসভা ২০০২ সালে প্রতিষ্ঠিত হলেও এত বছরেও স্থায়ী ডাম্পিং গ্রাউন্ডের উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। এখন হুট করে জায়গা চাইলে তা পাওয়া সহজ নয়।

তিনি আরও জানান, এর আগে চুরিয়াকোনা এলাকায় খাস জমিতে ডাম্পিং গ্রাউন্ড স্থাপনের চেষ্টা করা হলেও স্থানীয়দের বাধায় তা করা যায়নি। পরবর্তীতে সেখানে সরকারি নির্দেশনায় স্টেডিয়াম নির্মাণের পরিকল্পনা আসায় সেই জায়গাটি আর ব্যবহার করা সম্ভব হচ্ছে না। বর্তমানে আশ্রয়ণ প্রকল্পের কারণে অধিকাংশ খাস জমি ব্যবহার হয়ে যাওয়ায় উপযুক্ত জায়গা পাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে। তবে জনবসতি থেকে দূরে এবং যাতায়াত সুবিধাজনক এমন নতুন স্থানের সন্ধান চালানো হচ্ছে বলে তিনি জানান।

কিশোরগঞ্জ সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী শাকিল মোহাম্মদ ফয়সাল বলেন, কটিয়াদী বাসস্ট্যান্ড এলাকায় মহাসড়কের পাশে ময়লা ফেলার বিষয়টি নিয়ে আমি সম্প্রতি জেলা প্রশাসক (ডিসি) মহোদয়কে সরাসরি অবহিত করেছি। এর আগেও এ বিষয়ে কয়েকবার লিখিতভাবে চিঠি দেওয়া হয়েছে। মহাসড়কের পাশে এভাবে বর্জ্য ফেলা সড়কের জন্য ক্ষতিকর এবং জনদুর্ভোগ সৃষ্টি করছে। জেলা প্রশাসক বিষয়টি দেখবেন বলে আশ্বাস দিয়েছেন।