গণভোট অধ্যাদেশ সংসদে তোলা হবে না, ১২ এপ্রিল বাতিল—বিএনপি; ভিন্নমত জামায়াতের
- আপডেট সময় : ০৯:০৫:০৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৯ মার্চ ২০২৬
- / 162
গণভোট অধ্যাদেশ সংসদে উত্থাপন করা হবে না বলে জানিয়েছে বিএনপি। ফলে আগামী ১২ এপ্রিলের মধ্যে এটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হয়ে যাবে। তবে বিএনপি বলছে, ইতোমধ্যে অধ্যাদেশের অধীনে গণভোট সম্পন্ন হওয়ায় এটি বাতিল হলেও সেই গণভোট অবৈধ হবে না।
রোববার (২৯ মার্চ) রাতে জাতীয় সংসদের বিশেষ কমিটির বৈঠক সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে। কমিটি আগামী ২ এপ্রিল তাদের প্রতিবেদন সংসদে জমা দেবে।
সংবিধানের ৯৩ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, অন্তর্বর্তী সরকারের জারি করা ১৩৩টি অধ্যাদেশ ত্রয়োদশ সংসদের প্রথম অধিবেশনের শুরুতেই উত্থাপন করা হয়। এসব অধ্যাদেশ ৩০ দিনের মধ্যে অনুমোদিত না হলে ১২ এপ্রিলের মধ্যে স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হয়ে যাবে।
গণভোট অধ্যাদেশ আর থাকছে না
বিশেষ কমিটির সদস্য ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ ইঙ্গিত দিয়েছেন, গণভোট অধ্যাদেশ সংসদে আর তোলা হবে না। তিনি বলেন, “গণভোট ইতোমধ্যেই সম্পন্ন হয়েছে, তাই ভবিষ্যতে এই অধ্যাদেশের আর কোনো ব্যবহার নেই।”
তিনি আরও জানান, গণভোট সংবিধানের বাধ্যতামূলক অংশ নয়। এটি আয়োজনের জন্য আলাদা করে অধ্যাদেশ জারি করা হয়েছিল, যা ইতোমধ্যে ব্যবহৃত হয়েছে। তাই এটিকে আইন আকারে অনুমোদনের প্রয়োজন নেই।
একাধিক অধ্যাদেশে মতবিরোধ
গণভোট অধ্যাদেশ ছাড়াও অন্তর্বর্তী সরকারের জারি করা ১৩৩টি অধ্যাদেশের মধ্যে অন্তত ১৫টিতে সরকারি দল ও বিরোধী দলের মধ্যে মতৈক্য হয়নি।
সরকারি দল মানবাধিকার কমিশন, বিচারপতি নিয়োগ, গুম প্রতিরোধ এবং দুর্নীতি দমন কমিশন সংক্রান্ত অধ্যাদেশে পরিবর্তন আনতে চায়। এ বিষয়ে আপত্তি জানিয়ে নোট অব ডিসেন্ট (ভিন্নমত) দিয়েছে জামায়াতে ইসলামী।
জামায়াতের আপত্তি
বিশেষ কমিটির সদস্য ও জামায়াতের এমপি রফিকুল ইসলাম খান বলেন, “গণভোট, মানবাধিকার কমিশন ও বিচার বিভাগ পৃথকীকরণসহ অন্তত ১৫টি অধ্যাদেশে আমরা ভিন্নমত দিয়েছি।”
তিনি অভিযোগ করেন, সরকারি দল সংখ্যাগরিষ্ঠতার জোরে কিছু অধ্যাদেশ পাস করাতে চায় এবং গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানগুলোকে দলীয়করণের চেষ্টা করছে।
রফিকুল ইসলাম আরও বলেন, “পুরো জাতি গণভোটে অংশ নিয়েছে। এখন এটিকে বাতিলের কথা বলা হচ্ছে, যা আমরা প্রত্যাখ্যান করছি। যদি গণভোট সংবিধানবহির্ভূত হয়, তাহলে একই দিনে হওয়া জাতীয় সংসদ নির্বাচন কীভাবে বৈধ হয়?”
তিনি গণভোটের ফলাফল কার্যকর করার দাবি জানান।
সামনে কী
সালাহউদ্দিন আহমদ জানান, ১৩৩টি অধ্যাদেশের মধ্যে কিছু হুবহু পাস করা হবে, কিছু সংশোধন করে উত্থাপন করা হবে এবং কিছু অধ্যাদেশ উত্থাপনই করা হবে না। যেগুলো এখন পাস হবে না, সেগুলো পরবর্তীতে বিল আকারে সংসদে আনা হতে পারে।
কমিটির বৈঠকে যেসব বিষয়ে ঐকমত্য হয়নি, সেগুলো চূড়ান্ত আলোচনার জন্য পুনরায় সংসদ অধিবেশনে তোলা হবে।
উল্লেখ্য, বিশেষ কমিটির তৃতীয় দিনের বৈঠকটি সংসদের ক্যাবিনেট কক্ষে প্রায় তিন ঘণ্টা ধরে অনুষ্ঠিত হয়।






















