দক্ষিণ কেরানীগঞ্জে দুই কিশোরীকে ধর্ষণের অভিযোগ, পুলিশের সোর্স সাগর গ্রেপ্তার
- আপডেট সময় : ০১:১৩:৪২ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬
- / 7
নিজস্ব প্রতিবেদক, দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ: ঢাকার দক্ষিণ কেরানীগঞ্জে ১২ ও ১৪ বছর বয়সী দুই কিশোরীকে আটকে রেখে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগে সাগর নামে পুলিশের এক সোর্সকে গ্রেপ্তার করেছে থানা পুলিশ। এ ঘটনায় সাগর, লামিয়াসহ অজ্ঞাতনামা আরও চার থেকে পাঁচজনের বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা হয়েছে। গ্রেপ্তার সাগরকে অধিকতর জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পাঁচ দিনের রিমান্ড চেয়ে আদালতে পাঠিয়েছে পুলিশ।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানাধীন কালীগঞ্জের কৈবর্ত্যপাড়া এলাকায় বসবাসরত প্রতিবেশী দুই কিশোরী গত ২৮ সেপ্টেম্বর নিখোঁজ হয়। পরে তাদের একজনের মা থানায় নিখোঁজ ডায়েরি করেন। দীর্ঘদিন পর গত ১৬ অক্টোবর কিশোরী দুটি তাদের নানাবাড়িতে ফিরে আসে। এরপর তাদের কাছ থেকে নির্যাতনের অভিযোগের বিষয়টি জানতে পারেন স্বজনেরা।
অভিযোগে বলা হয়েছে, কালীগঞ্জ বাজারে হারুন মিয়ার মার্কেটের ষষ্ঠ তলায় সাগরের পরিচালিত একটি নাচের স্কুলে নিয়ে কিশোরী দুটিকে আটকে রাখা হয়। পরে তাদের পরিবারের সদস্যরা খোঁজাখুঁজি করছেন—এমন আশঙ্কায় সাগর ও লামিয়া তাদের রাজধানীর বসুন্ধরা এলাকার একটি বাড়িতে নিয়ে যায়। সেখানে দীর্ঘ ২২ দিন আটকে রেখে চার থেকে পাঁচজন মিলে পালাক্রমে ধর্ষণ করে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
একপর্যায়ে কিশোরী দুটি অসুস্থ হয়ে পড়লে অভিযুক্তরা তাদের সেখানে রেখে পালিয়ে যায় বলে অভিযোগ রয়েছে। পরে সেখান থেকে পালিয়ে কেরানীগঞ্জের উদ্দেশে রওনা হয় তারা। পথিমধ্যে সাগর কদমতলী এলাকায় অবস্থান করছে এবং তাদের আবারও ধরে নিয়ে যেতে পারে—এমন খবর পেয়ে তারা কদমতলীতে না নেমে বিক্রমপুরে নানাবাড়িতে চলে যায়। পরে তাদের হাসপাতালে ভর্তি করে চিকিৎসা দেওয়া হয়।
চিকিৎসা শেষে মঙ্গলবার কিশোরী দুটির একজনের মা তাসলিমা বেগম বাদী হয়ে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানায় মামলা করেন। মামলায় সাগর ও লামিয়ার নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা আরও চার থেকে পাঁচজনকে আসামি করা হয়েছে।
দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আজগর হোসেন জানান, মামলা দায়েরের পর সাগরকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত অন্যদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। অধিকতর জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সাগরের পাঁচ দিনের রিমান্ড আবেদন করে তাকে আদালতে পাঠানো হয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, এ ঘটনায় জড়িত অন্য অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।




















