দেশেই প্রথম সমন্বিত অণুশৈবালভিত্তিক অ্যাকোয়াফিড প্রযুক্তি উদ্ভাবন, সফল বাকৃবির গবেষণা
- আপডেট সময় : ১০:০৫:৫৪ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১ জুলাই ২০২৬
- / 22
নিজস্ব প্রতিবেদক
দেশীয় পুষ্টিকর মিঠাপানির অণুশৈবাল ব্যবহার করে দেশে প্রথমবারের মতো স্বল্পব্যয়ী, পরিবেশবান্ধব ও টেকসই লাইভ ফিড (জীবন্ত খাদ্য) এবং অ্যাকোয়াফিড উৎপাদন প্রযুক্তি উদ্ভাবন করেছেন Bangladesh Agricultural University-এর গবেষকরা। এ প্রযুক্তি মৎস্যচাষে ব্যয়বহুল প্রোটিন উৎস ফিশমিলের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে আরও টেকসই উৎপাদন ব্যবস্থা গড়ে তুলতে সহায়ক হবে বলে মনে করছেন গবেষকরা।
Bangladesh Agricultural University-এর ফিশারিজ ম্যানেজমেন্ট বিভাগের অধ্যাপক ড. সালেহা খানের নেতৃত্বে একটি গবেষক দল এই প্রযুক্তি উদ্ভাবন করেন। তিন বছর মেয়াদি গবেষণা প্রকল্পটি পরিচালিত হয় Bangladesh Academy of Sciences এবং United States Department of Agriculture-এর অর্থায়নে।
প্রধান গবেষক অধ্যাপক ড. সালেহা খান জানান, দেশের মিঠাপানির মৎস্যচাষে অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ হলো মাছের লার্ভা ও পোনার জন্য মানসম্পন্ন জীবন্ত খাদ্য এবং সাশ্রয়ী জলজ খাদ্যের অভাব। এই সমস্যা সমাধানের লক্ষ্যেই দেশীয় অণুশৈবাল ব্যবহার করে টেকসই ও কম খরচে লাইভ ফিড এবং অ্যাকোয়াফিড উৎপাদনের প্রযুক্তি উদ্ভাবনের উদ্যোগ নেওয়া হয়।
তিনি বলেন, গবেষণার মূল উদ্দেশ্য ছিল ব্যয়বহুল প্রোটিন উৎস, বিশেষ করে ফিশমিলের ওপর নির্ভরতা কমানোর কার্যকর বিকল্প খুঁজে বের করা। সেই লক্ষ্যেই দেশে প্রথমবারের মতো সমন্বিত অণুশৈবালভিত্তিক প্রযুক্তি সফলভাবে উদ্ভাবিত হয়েছে।
গবেষণার বিভিন্ন ধাপ সম্পর্কে ড. সালেহা খান জানান, প্রথম পর্যায়ে দেশীয় Scenedesmus sp. সফলভাবে পৃথক করা হয় এবং স্থানীয়ভাবে সহজলভ্য জৈব উপাদান ব্যবহার করে স্বল্প খরচে ব্যাপক উৎপাদনের প্রযুক্তি উন্নয়ন করা হয়।
দ্বিতীয় পর্যায়ে উৎপাদিত অণুশৈবাল ব্যবহার করে মাছের লার্ভার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ জীবন্ত খাদ্য জুপ্ল্যাঙ্কটনের উৎপাদন ও পুষ্টিমান উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি করা হয়।
তৃতীয় ধাপে পুষ্টিবর্ধিত লাইভ ফিড ব্যবহার করে মাছের রেণু ও পোনা প্রতিপালনে উন্নত বৃদ্ধি, অধিক বেঁচে থাকা এবং উন্নত গুণগত মান নিশ্চিত করা সম্ভব হয়েছে।
সবশেষে উৎপাদিত মাইক্রোঅ্যালগাল বায়োমাস অ্যাকোয়াফিডে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। এতে ফিশমিলের আংশিক বিকল্প হিসেবে সফলভাবে ব্যবহার করা সম্ভব হয়েছে, যা অধিক টেকসই অ্যাকোয়াফিড উৎপাদনের নতুন সম্ভাবনা তৈরি করেছে।
গবেষকরা বলছেন, এই গবেষণার সবচেয়ে বড় সাফল্য শুধু মাইক্রোঅ্যালজি উৎপাদনে সীমাবদ্ধ নয়; বরং একটি একক গবেষণা কাঠামোর মাধ্যমে দেশীয় মাইক্রোঅ্যালজি পৃথকীকরণ, স্বল্প ব্যয়ে চাষ, জীবন্ত খাদ্য উৎপাদন, লার্ভা প্রতিপালন এবং ফিশমিল প্রতিস্থাপন—সবকিছুকে সমন্বিত করে একটি পূর্ণাঙ্গ মিঠাপানির মৎস্যচাষ উৎপাদন ব্যবস্থা গড়ে তোলা হয়েছে।
গবেষকদের মতে, এ প্রযুক্তি পরিবেশবান্ধব ও টেকসই মৎস্যচাষ সম্প্রসারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। পাশাপাশি উৎপাদন ব্যয় কমানো, হ্যাচারির দক্ষতা বৃদ্ধি এবং বিকল্প জলজ খাদ্য উৎপাদনে এটি একটি উল্লেখযোগ্য বৈজ্ঞানিক অগ্রগতি হিসেবে বিবেচিত হবে।
















