ঢাকা ০৪:২২ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
আইইডিসিআর-এর পরিচালককে নিজ কার্যালয়ে মারধরের অভিযোগ আট বিভাগে বৃষ্টির আভাস, কমবে তাপমাত্রা এসআরবি-১৪, সিপিএসসি, ময়মনসিংহ এর পৃথক অভিযানে হত্যা ও অপহরণ মামলার ০২ আসামি গ্রেফতার। পুরান ঢাকায় এক পঙ্গু হতদরিদ্র ব্যক্তিকে হুইলচেয়ার উপহার দিলো ছাত্রদল নেতারা  হযরতপুরে চাচা হাজী দুঃখ মিয়া বিরুদ্ধে জাল দলিল ও জমি দখলের অভিযোগ তুলেছে ভাতিজা আলা. পুরান ঢাকার সফল সংগঠক মোস্তাকের জন্মদিন পালিত কেরানীগঞ্জে ডিবি পুলিশের অভিযানে ৫০ পিস ইয়াবাসহ একজন গ্রেপ্তার জেলা প্রশাসকের সঙ্গে অতুল বসাকের মতবিনিময়, রামরাই বিনোদন পার্কের প্রাচীর নির্মাণ নিয়ে আলোচনা সাংবাদিক মুন্না মিয়ার মৃত্যুতে ডিএসইসির শোক কেরানীগঞ্জে ডিবির বিশেষ অভিযান: ইয়াবা ও হেরোইনসহ দুই মাদক কারবারি গ্রেপ্তার, প্রতারণা মামলায় আরও দুইজন আটক।

প্লট দুর্নীতির মামলায় হাসিনা-জয়-পুতুল ছাড়া আরও যাদের সাজা হলো

অনলাইন ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ১০:৪৭:২৮ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৭ নভেম্বর ২০২৫
  • / 150
আজকের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

ক্ষমতার অপব্যবহার করে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পে সরকারি প্লট বরাদ্দ নেওয়ার ৩ মামলায় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ২১ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। এ ছাড়া এক মামলায় তার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়কে পাঁচ বছর, আরেক মামলায় মেয়ে সায়মা ওয়াজেদ পুতুলকে পাঁচ বছর কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। তিন মামলায় আরও ১৯ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের প্রশাসনিক কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম সরকারকে খালাস দিয়েছেন আদালত।

আজ (বৃহস্পতিবার) ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৫ এর বিচারক মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল মামুন এসব মামলায় রায় ঘোষণা করেন।

রায় ঘোষণার সময় আসামি খুরশীদ আলমকে আদালতে তোলা হয়। এরপর সাজা পরোয়ানা দিয়ে কারাগারে পাঠানো হয়। বাকি আসামিরা পলাতক থাকায় আদালত তাদের বিরুদ্ধে সাজা পরোয়ানাসহ গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন।

গত রোববার এসব মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে থাকা একমাত্র আসামি রাজউকের সাবেক সদস্য (এস্টেট ও ভূমি) মোহাম্মদ খুরশীদ আলমের পক্ষে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে রায়ের জন্য আজকের দিন ধার্য করেন আদালত। অপর আসামিরা পলাতক থাকায় তাদের পক্ষে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন হয়নি। তারা আত্মপক্ষ শুনানিতে নিজেদের নির্দোষ দাবি করতে পারেননি।

আদালত সূত্রে জানা যায়, প্লট বরাদ্দের দুর্নীতির অভিযোগে গত জানুয়ারিতে পৃথক ৬টি মামলা করে দুদক। মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়, মেয়ে সায়মা ওয়াজেদ (পুতুল), বোন শেখ রেহানা, রেহানার মেয়ে ও ব্রিটিশ এমপি টিউলিপ রিজওয়ানা সিদ্দিক, ছেলে রাদওয়ান মুজিব সিদ্দিক ও অপর মেয়ে আজমিনা সিদ্দিকসহ আরও অনেককে আসামি করা হয়।

গত ৩১ জুলাই ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৫ এর বিচারক মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল মামুন তিন মামলায় আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন। অপরদিকে বাকি ৩ মামলায় ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৪-এর বিচারক মো. রবিউল আলম আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন।

মামলার অভিযোগে বলা হয়, সরকারের সর্বোচ্চ পদে থাকাকালে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তার পরিবার ক্ষমতার অপব্যবহার করেন। অযোগ্য হলেও তারা পূর্বাচল আবাসন প্রকল্পের ২৭ নম্বর সেক্টরে ১০ কাঠা করে প্লট বরাদ্দ নেন।

রায় ঘোষণার পর দুদক প্রসিকিউটর মইনুল হাসান প্রেস ব্রিফিংয়ে বলেন, শেখ হাসিনাকে পৃথক তিন মামলায় ৭ বছর করে ২১ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। আমরা এ রায়ে খুশি নই। আমরা প্রত্যাশা করেছিলাম প্রত্যেক মামলায় শেখ হাসিনার সর্বোচ্চ সাজা যাবজ্জীবন কারাদণ্ড হবে। দুদকের সাথে কথা বলে আমরা এ রায়ের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে যাব কি না সিদ্ধান্ত নেব। দোষী প্রমাণিত হলেও সর্বোচ্চ সাজা না হওয়ায় আমরা এ রায়ে অখুশি হয়েছি।

কার কত বছরের সাজা

শেখ হাসিনা : ৩ মামলায় ৭ বছর করে মোট ২১ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড। এক লাখ টাকা করে মোট ৩ লাখ টাকা অর্থদণ্ড অনাদায়ে আরও ৬ মাস করে দেড় বছরের কারাদণ্ড।

সজীব ওয়াজেদ জয় : এক মামলায় ৫ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড। এক লাখ টাকা অর্থদণ্ড, অনাদায়ে আরও ৬ মাসের কারাদণ্ড।

সায়মা ওয়াজেদ পুতুল : এক মামলায় ৫ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড। এক লাখ টাকা অর্থদণ্ড, অনাদায়ে আরও ৬ মাসের কারাদণ্ড।

প্রধানমন্ত্রীর সাবেক একান্ত সচিব মোহাম্মদ সালাহ উদ্দিন : ২ মামলায় ৬ বছর করে মোট ১২ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড। এক লাখ টাকা করে মোট ২ লাখ টাকা অর্থদণ্ড, অনাদায়ে ৬ মাস করে এক বছরের কারাদণ্ড।

সাবেক প্রতিমন্ত্রী শরীফ আহমেদ : ৩ মামলায় ৬ বছর করে মোট ১৮ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড। এক লাখ টাকা করে মোট ৩ লাখ টাকা অর্থদণ্ড, অনাদায়ে আরও ৬ মাস করে দেড় বছরের কারাদণ্ড।

গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সাবেক সচিব মো. শহীদ উল্লা খন্দকার : ৩ মামলায় ৬ বছর করে মোট ১৮ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড। এক লাখ টাকা করে মোট ৩ লাখ টাকা অর্থদণ্ড, অনাদায়ে আরও ৬ মাস করে দেড় বছরের কারাদণ্ড।

গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সাবেক অতিরিক্ত সচিব (প্রশাসন) কাজী ওয়াছি উদ্দিন : ৩ মামলায় ৬ বছর করে মোট ১৮ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড। এক লাখ টাকা করে মোট ৩ লাখ টাকা অর্থদণ্ড, অনাদায়ে আরও ৬ মাস করে দেড় বছরের কারাদণ্ড।

সাবেক সিনিয়র সহকারী সচিব পূরবী গোলদার : ৩ মামলায় ১ বছর করে মোট ৩ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড। পাঁচ, দশ ও পাঁচ হাজার টাকা করে মোট ২০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড, অনাদায়ে আরও ১ মাস করে ৩ মাসের কারাদণ্ড।

রাজউকের সাবেক চেয়ারম্যান মো. আনিছুর রহমান মিঞা : ৩ মামলায় ৫ বছর করে মোট ১৫ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড। পঞ্চাশ হাজার টাকা করে মোট দেড় লাখ টাকা অর্থদণ্ড, অনাদায়ে আরও ৩ মাস করে ৯ মাসের কারাদণ্ড।

রাজউকের সাবেক সদস্য (পরিকল্পনা) মোহাম্মদ নাসির উদ্দীন : ৩ মামলায় ৩ বছর করে মোট ৯ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড। ২০ হাজার টাকা করে মোট ষাট হাজার টাকা অর্থদণ্ড, অনাদায়ে আরও ২ মাস করে ৬ মাসের কারাদণ্ড।

মেজর (ইঞ্জিনিয়ার) সামসুদ্দীন আহমদ চৌধুরী (অব.) : ৩ মামলায় ৩ বছর করে মোট ৯ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড। ২০ হাজার টাকা করে মোট ষাট হাজার টাকা অর্থদণ্ড, অনাদায়ে আরও ২ মাস করে ৬ মাসের কারাদণ্ড।

রাজউকের সদস্য (প্রশাসন ও অর্থ) কবির আল আসাদ : এক মামলায় তিন বছরের সশ্রম কারাদণ্ড। ২০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড, অনাদায়ে আরও দুই মাস কারাদণ্ড।

রাজউকের সদস্য (উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ) তন্ময় দাস : ২ মামলায় ৩ বছর করে মোট ৬ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড। ২০ হাজার টাকা করে মোট ৪০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড, অনাদায়ে আরও ২ মাস করে ৪ মাসের কারাদণ্ড।

রাজউকের সদস্য (এস্টেট ও ভূমি) মো. নুরুল ইসলাম : ২ মামলায় ৩ বছর করে মোট ৬ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড। ২০ হাজার টাকা করে মোট ৪০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড, অনাদায়ে আরও ২ মাস করে ৪ মাসের কারাদণ্ড।

রাজউকের সদস্য (উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ) মো. শফিউল হক : এক মামলায় ৩ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড। ২০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড অনাদায়ে আরও ২ মাসের কারাদণ্ড।

রাজউকের পরিচালক (এস্টেট ও ভূমি-২) শেখ শাহিনুল ইসলাম : এক মামলায় তিন বছরের সশ্রম কারাদণ্ড। ২০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড, অনাদায়ে আরও দুই মাস কারাদণ্ড।

রাজউকের পরিচালক (এস্টেট ও ভূমি-২) মো. কামরুল ইসলাম : এক মামলায় তিন বছরের সশ্রম কারাদণ্ড। ২০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড, অনাদায়ে আরও দুই মাস কারাদণ্ড।

রাজউকের সহকারী পরিচালক (এস্টেট ও ভূমি-৩) মো. হাফিজুর রহমান : এক মামলায় ১ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড। ৫ হাজার টাকা অর্থদণ্ড, অনাদায়ে আরও এক মাস কারাদণ্ড।

রাজউকের সহকারী পরিচালক (এস্টেট ও ভূমি-৩) মো. হাবিবুর রহমান সবুজ : এক মামলায় ১ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড। ৫ হাজার টাকা অর্থদণ্ড, অনাদায়ে আরও এক মাস কারাদণ্ড।

রাজউকের সহকারী পরিচালক (এস্টেট ও ভূমি-৩) নায়েব আলী শরীফ : ২ মামলায় ১ বছর করে মোট ২ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড। ৫ হাজার টাকা করে মোট ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড, অনাদায়ে আরও ১ মাস করে ২ মাসের কারাদণ্ড।

রাজউকের সহকারী পরিচালক (এস্টেট ও ভূমি-৩) মাজহারুল ইসলাম : এক মামলায় ১ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড। ৫ হাজার টাকা অর্থদণ্ড, অনাদায়ে আরও এক মাস কারাদণ্ড।

রাজউকের সাবেক সদস্য (এস্টেট ও ভূমি) মোহাম্মদ খুরশীদ আলম : ৩ মামলায় ১ বছর করে মোট ৩ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড। ৫ হাজার টাকা করে মোট ১৫ হাজার টাকা অর্থদণ্ড, অনাদায়ে আরও ১ মাস করে ৩ মাসের কারাদণ্ড।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

প্লট দুর্নীতির মামলায় হাসিনা-জয়-পুতুল ছাড়া আরও যাদের সাজা হলো

আপডেট সময় : ১০:৪৭:২৮ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৭ নভেম্বর ২০২৫

ক্ষমতার অপব্যবহার করে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পে সরকারি প্লট বরাদ্দ নেওয়ার ৩ মামলায় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ২১ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। এ ছাড়া এক মামলায় তার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়কে পাঁচ বছর, আরেক মামলায় মেয়ে সায়মা ওয়াজেদ পুতুলকে পাঁচ বছর কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। তিন মামলায় আরও ১৯ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের প্রশাসনিক কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম সরকারকে খালাস দিয়েছেন আদালত।

আজ (বৃহস্পতিবার) ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৫ এর বিচারক মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল মামুন এসব মামলায় রায় ঘোষণা করেন।

রায় ঘোষণার সময় আসামি খুরশীদ আলমকে আদালতে তোলা হয়। এরপর সাজা পরোয়ানা দিয়ে কারাগারে পাঠানো হয়। বাকি আসামিরা পলাতক থাকায় আদালত তাদের বিরুদ্ধে সাজা পরোয়ানাসহ গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন।

গত রোববার এসব মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে থাকা একমাত্র আসামি রাজউকের সাবেক সদস্য (এস্টেট ও ভূমি) মোহাম্মদ খুরশীদ আলমের পক্ষে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে রায়ের জন্য আজকের দিন ধার্য করেন আদালত। অপর আসামিরা পলাতক থাকায় তাদের পক্ষে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন হয়নি। তারা আত্মপক্ষ শুনানিতে নিজেদের নির্দোষ দাবি করতে পারেননি।

আদালত সূত্রে জানা যায়, প্লট বরাদ্দের দুর্নীতির অভিযোগে গত জানুয়ারিতে পৃথক ৬টি মামলা করে দুদক। মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়, মেয়ে সায়মা ওয়াজেদ (পুতুল), বোন শেখ রেহানা, রেহানার মেয়ে ও ব্রিটিশ এমপি টিউলিপ রিজওয়ানা সিদ্দিক, ছেলে রাদওয়ান মুজিব সিদ্দিক ও অপর মেয়ে আজমিনা সিদ্দিকসহ আরও অনেককে আসামি করা হয়।

গত ৩১ জুলাই ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৫ এর বিচারক মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল মামুন তিন মামলায় আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন। অপরদিকে বাকি ৩ মামলায় ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৪-এর বিচারক মো. রবিউল আলম আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন।

মামলার অভিযোগে বলা হয়, সরকারের সর্বোচ্চ পদে থাকাকালে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তার পরিবার ক্ষমতার অপব্যবহার করেন। অযোগ্য হলেও তারা পূর্বাচল আবাসন প্রকল্পের ২৭ নম্বর সেক্টরে ১০ কাঠা করে প্লট বরাদ্দ নেন।

রায় ঘোষণার পর দুদক প্রসিকিউটর মইনুল হাসান প্রেস ব্রিফিংয়ে বলেন, শেখ হাসিনাকে পৃথক তিন মামলায় ৭ বছর করে ২১ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। আমরা এ রায়ে খুশি নই। আমরা প্রত্যাশা করেছিলাম প্রত্যেক মামলায় শেখ হাসিনার সর্বোচ্চ সাজা যাবজ্জীবন কারাদণ্ড হবে। দুদকের সাথে কথা বলে আমরা এ রায়ের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে যাব কি না সিদ্ধান্ত নেব। দোষী প্রমাণিত হলেও সর্বোচ্চ সাজা না হওয়ায় আমরা এ রায়ে অখুশি হয়েছি।

কার কত বছরের সাজা

শেখ হাসিনা : ৩ মামলায় ৭ বছর করে মোট ২১ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড। এক লাখ টাকা করে মোট ৩ লাখ টাকা অর্থদণ্ড অনাদায়ে আরও ৬ মাস করে দেড় বছরের কারাদণ্ড।

সজীব ওয়াজেদ জয় : এক মামলায় ৫ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড। এক লাখ টাকা অর্থদণ্ড, অনাদায়ে আরও ৬ মাসের কারাদণ্ড।

সায়মা ওয়াজেদ পুতুল : এক মামলায় ৫ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড। এক লাখ টাকা অর্থদণ্ড, অনাদায়ে আরও ৬ মাসের কারাদণ্ড।

প্রধানমন্ত্রীর সাবেক একান্ত সচিব মোহাম্মদ সালাহ উদ্দিন : ২ মামলায় ৬ বছর করে মোট ১২ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড। এক লাখ টাকা করে মোট ২ লাখ টাকা অর্থদণ্ড, অনাদায়ে ৬ মাস করে এক বছরের কারাদণ্ড।

সাবেক প্রতিমন্ত্রী শরীফ আহমেদ : ৩ মামলায় ৬ বছর করে মোট ১৮ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড। এক লাখ টাকা করে মোট ৩ লাখ টাকা অর্থদণ্ড, অনাদায়ে আরও ৬ মাস করে দেড় বছরের কারাদণ্ড।

গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সাবেক সচিব মো. শহীদ উল্লা খন্দকার : ৩ মামলায় ৬ বছর করে মোট ১৮ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড। এক লাখ টাকা করে মোট ৩ লাখ টাকা অর্থদণ্ড, অনাদায়ে আরও ৬ মাস করে দেড় বছরের কারাদণ্ড।

গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সাবেক অতিরিক্ত সচিব (প্রশাসন) কাজী ওয়াছি উদ্দিন : ৩ মামলায় ৬ বছর করে মোট ১৮ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড। এক লাখ টাকা করে মোট ৩ লাখ টাকা অর্থদণ্ড, অনাদায়ে আরও ৬ মাস করে দেড় বছরের কারাদণ্ড।

সাবেক সিনিয়র সহকারী সচিব পূরবী গোলদার : ৩ মামলায় ১ বছর করে মোট ৩ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড। পাঁচ, দশ ও পাঁচ হাজার টাকা করে মোট ২০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড, অনাদায়ে আরও ১ মাস করে ৩ মাসের কারাদণ্ড।

রাজউকের সাবেক চেয়ারম্যান মো. আনিছুর রহমান মিঞা : ৩ মামলায় ৫ বছর করে মোট ১৫ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড। পঞ্চাশ হাজার টাকা করে মোট দেড় লাখ টাকা অর্থদণ্ড, অনাদায়ে আরও ৩ মাস করে ৯ মাসের কারাদণ্ড।

রাজউকের সাবেক সদস্য (পরিকল্পনা) মোহাম্মদ নাসির উদ্দীন : ৩ মামলায় ৩ বছর করে মোট ৯ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড। ২০ হাজার টাকা করে মোট ষাট হাজার টাকা অর্থদণ্ড, অনাদায়ে আরও ২ মাস করে ৬ মাসের কারাদণ্ড।

মেজর (ইঞ্জিনিয়ার) সামসুদ্দীন আহমদ চৌধুরী (অব.) : ৩ মামলায় ৩ বছর করে মোট ৯ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড। ২০ হাজার টাকা করে মোট ষাট হাজার টাকা অর্থদণ্ড, অনাদায়ে আরও ২ মাস করে ৬ মাসের কারাদণ্ড।

রাজউকের সদস্য (প্রশাসন ও অর্থ) কবির আল আসাদ : এক মামলায় তিন বছরের সশ্রম কারাদণ্ড। ২০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড, অনাদায়ে আরও দুই মাস কারাদণ্ড।

রাজউকের সদস্য (উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ) তন্ময় দাস : ২ মামলায় ৩ বছর করে মোট ৬ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড। ২০ হাজার টাকা করে মোট ৪০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড, অনাদায়ে আরও ২ মাস করে ৪ মাসের কারাদণ্ড।

রাজউকের সদস্য (এস্টেট ও ভূমি) মো. নুরুল ইসলাম : ২ মামলায় ৩ বছর করে মোট ৬ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড। ২০ হাজার টাকা করে মোট ৪০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড, অনাদায়ে আরও ২ মাস করে ৪ মাসের কারাদণ্ড।

রাজউকের সদস্য (উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ) মো. শফিউল হক : এক মামলায় ৩ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড। ২০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড অনাদায়ে আরও ২ মাসের কারাদণ্ড।

রাজউকের পরিচালক (এস্টেট ও ভূমি-২) শেখ শাহিনুল ইসলাম : এক মামলায় তিন বছরের সশ্রম কারাদণ্ড। ২০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড, অনাদায়ে আরও দুই মাস কারাদণ্ড।

রাজউকের পরিচালক (এস্টেট ও ভূমি-২) মো. কামরুল ইসলাম : এক মামলায় তিন বছরের সশ্রম কারাদণ্ড। ২০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড, অনাদায়ে আরও দুই মাস কারাদণ্ড।

রাজউকের সহকারী পরিচালক (এস্টেট ও ভূমি-৩) মো. হাফিজুর রহমান : এক মামলায় ১ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড। ৫ হাজার টাকা অর্থদণ্ড, অনাদায়ে আরও এক মাস কারাদণ্ড।

রাজউকের সহকারী পরিচালক (এস্টেট ও ভূমি-৩) মো. হাবিবুর রহমান সবুজ : এক মামলায় ১ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড। ৫ হাজার টাকা অর্থদণ্ড, অনাদায়ে আরও এক মাস কারাদণ্ড।

রাজউকের সহকারী পরিচালক (এস্টেট ও ভূমি-৩) নায়েব আলী শরীফ : ২ মামলায় ১ বছর করে মোট ২ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড। ৫ হাজার টাকা করে মোট ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড, অনাদায়ে আরও ১ মাস করে ২ মাসের কারাদণ্ড।

রাজউকের সহকারী পরিচালক (এস্টেট ও ভূমি-৩) মাজহারুল ইসলাম : এক মামলায় ১ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড। ৫ হাজার টাকা অর্থদণ্ড, অনাদায়ে আরও এক মাস কারাদণ্ড।

রাজউকের সাবেক সদস্য (এস্টেট ও ভূমি) মোহাম্মদ খুরশীদ আলম : ৩ মামলায় ১ বছর করে মোট ৩ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড। ৫ হাজার টাকা করে মোট ১৫ হাজার টাকা অর্থদণ্ড, অনাদায়ে আরও ১ মাস করে ৩ মাসের কারাদণ্ড।