ঢাকা ০৭:০২ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
নবাবগঞ্জে ডিবি পুলিশের অভিযানে ইয়াবাসহ ৩ জন গ্রেপ্তার। আইইডিসিআর-এর পরিচালককে নিজ কার্যালয়ে মারধরের অভিযোগ আট বিভাগে বৃষ্টির আভাস, কমবে তাপমাত্রা এসআরবি-১৪, সিপিএসসি, ময়মনসিংহ এর পৃথক অভিযানে হত্যা ও অপহরণ মামলার ০২ আসামি গ্রেফতার। পুরান ঢাকায় এক পঙ্গু হতদরিদ্র ব্যক্তিকে হুইলচেয়ার উপহার দিলো ছাত্রদল নেতারা  হযরতপুরে চাচা হাজী দুঃখ মিয়া বিরুদ্ধে জাল দলিল ও জমি দখলের অভিযোগ তুলেছে ভাতিজা আলা. পুরান ঢাকার সফল সংগঠক মোস্তাকের জন্মদিন পালিত কেরানীগঞ্জে ডিবি পুলিশের অভিযানে ৫০ পিস ইয়াবাসহ একজন গ্রেপ্তার জেলা প্রশাসকের সঙ্গে অতুল বসাকের মতবিনিময়, রামরাই বিনোদন পার্কের প্রাচীর নির্মাণ নিয়ে আলোচনা সাংবাদিক মুন্না মিয়ার মৃত্যুতে ডিএসইসির শোক

ফুলবাড়িয়ায় বসছে ঐতিহ্যবাহী হুমগুটি খেলার ২৬৭তম আসর

অনলাইন ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ০৮:৫৫:১২ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৪ জানুয়ারী ২০২৬
  • / 214
আজকের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়া উপজেলায় আড়াইশ বছরেরও বেশি পুরোনো ঐতিহ্যবাহী হুমগুটি খেলার ২৬৭তম আসর বসছে আগামীকাল ১৪ জানুয়ারি, পৌষ মাসের শেষ দিনে। স্থানীয়ভাবে এই দিনটি পরিচিত ‘পুহুরা’ নামে। প্রতি বছরের মতো এবারও ফুলবাড়িয়ার লক্ষ্মীপুর গ্রামের বড়ই আটা এলাকায় তালুক ও পরগনার ঐতিহাসিক সীমানায় অনুষ্ঠিত হবে এই ব্যতিক্রমধর্মী লোকখেলা।
হুমগুটি খেলা মূলত একটি দলগত শক্তি ও সাহসের পরীক্ষা। খেলাটির কেন্দ্রবিন্দুতে থাকে প্রায় ২২ কেজি ওজনের পিতলের তৈরি গোলাকার একটি বল, যাকে স্থানীয় ভাষায় বলা হয় ‘হুমগুডি’। খেলা শুরু হলে মাঠজুড়ে হাজারো মানুষের ঢল নামে, আর চারপাশে প্রতিধ্বনিত হয়
“জিতই আবা দিয়া গুটি ধররে হেইও…”
স্থানীয়রা জানান, সাধারণত আমন ধান কাটা শেষ হওয়ার পর এবং বোরো আবাদ শুরুর আগের এই ফসলবিহীন সময়ে খোলা তৃণভূমিতে খেলাটি জমে ওঠে। গ্রামবাংলার খেটে খাওয়া কৃষাণ পরিবারের সুস্থ-সবল যুবক থেকে শুরু করে প্রাক-প্রবীণ বয়সীরাও এই খেলায় অংশ নেন।

হুমগুটি তৈরি করা হয় একটি বৃহদাকার পিতলের কলসির গলার নিচের গোলাকার অংশ দিয়ে। এর ভেতরে এমনভাবে মাটি ঠেসে ভরা হয় যে, মুখ বন্ধ করার পর হাতুড়ি দিয়ে পেটালেও ভেতরের মাটি বের করা যায় না। সেই ভারী গুটিই দুই পক্ষ নিজেদের দখলে নেওয়ার জন্য মাঠে নামেন।

স্থানীয় ইতিহাস অনুযায়ী, প্রায় ২৫০ বছর আগে মুক্তাগাছার রাজা শশীকান্ত আচার্য্য ও ত্রিশালের বৈলরের জমিদার হেমচন্দ্র রায়ের মধ্যে জমির পরিমাপ নিয়ে বিরোধ সৃষ্টি হয়। তখন তালুক ও পরগনায় জমির মাপের ভিন্নতা ছিল তালুকে প্রতি কাঠা ছিল ১০ শতাংশ, আর পরগনায় সাড়ে ৬ শতাংশ।
এই বিরোধ মীমাংসার জন্য লক্ষ্মীপুর গ্রামের বড়ই আটা এলাকায় আয়োজন করা হয় এই হুমগুটি খেলা। শর্ত ছিল যে পক্ষ গুটি দখলে রাখতে পারবে, সেই এলাকা হবে ‘তালুক’, আর পরাজিত অংশ পরিচিত হবে ‘পরগনা’ নামে। সেই খেলায় মুক্তাগাছা জমিদারের প্রজারা বিজয়ী হন।

জমিদারি প্রথা বিলুপ্ত হলেও ঐতিহ্য থেমে থাকেনি। স্থানীয় মোড়ল পরিবার প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে এই খেলার আয়োজন করে আসছে।
প্রতিবছর বিকেল সোয়া ৪টায় খেলা শুরু হয় এবং সন্ধ্যা পর্যন্ত চলে এই জনসমাগমে ভরপুর ঐতিহ্যবাহী আয়োজন।

স্থানীয়দের মতে, হুমগুটি খেলা ফুলবাড়িয়ার ইতিহাস, ঐতিহ্য ও গ্রামীণ শক্তির প্রতীক।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ফুলবাড়িয়ায় বসছে ঐতিহ্যবাহী হুমগুটি খেলার ২৬৭তম আসর

আপডেট সময় : ০৮:৫৫:১২ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৪ জানুয়ারী ২০২৬

ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়া উপজেলায় আড়াইশ বছরেরও বেশি পুরোনো ঐতিহ্যবাহী হুমগুটি খেলার ২৬৭তম আসর বসছে আগামীকাল ১৪ জানুয়ারি, পৌষ মাসের শেষ দিনে। স্থানীয়ভাবে এই দিনটি পরিচিত ‘পুহুরা’ নামে। প্রতি বছরের মতো এবারও ফুলবাড়িয়ার লক্ষ্মীপুর গ্রামের বড়ই আটা এলাকায় তালুক ও পরগনার ঐতিহাসিক সীমানায় অনুষ্ঠিত হবে এই ব্যতিক্রমধর্মী লোকখেলা।
হুমগুটি খেলা মূলত একটি দলগত শক্তি ও সাহসের পরীক্ষা। খেলাটির কেন্দ্রবিন্দুতে থাকে প্রায় ২২ কেজি ওজনের পিতলের তৈরি গোলাকার একটি বল, যাকে স্থানীয় ভাষায় বলা হয় ‘হুমগুডি’। খেলা শুরু হলে মাঠজুড়ে হাজারো মানুষের ঢল নামে, আর চারপাশে প্রতিধ্বনিত হয়
“জিতই আবা দিয়া গুটি ধররে হেইও…”
স্থানীয়রা জানান, সাধারণত আমন ধান কাটা শেষ হওয়ার পর এবং বোরো আবাদ শুরুর আগের এই ফসলবিহীন সময়ে খোলা তৃণভূমিতে খেলাটি জমে ওঠে। গ্রামবাংলার খেটে খাওয়া কৃষাণ পরিবারের সুস্থ-সবল যুবক থেকে শুরু করে প্রাক-প্রবীণ বয়সীরাও এই খেলায় অংশ নেন।

হুমগুটি তৈরি করা হয় একটি বৃহদাকার পিতলের কলসির গলার নিচের গোলাকার অংশ দিয়ে। এর ভেতরে এমনভাবে মাটি ঠেসে ভরা হয় যে, মুখ বন্ধ করার পর হাতুড়ি দিয়ে পেটালেও ভেতরের মাটি বের করা যায় না। সেই ভারী গুটিই দুই পক্ষ নিজেদের দখলে নেওয়ার জন্য মাঠে নামেন।

স্থানীয় ইতিহাস অনুযায়ী, প্রায় ২৫০ বছর আগে মুক্তাগাছার রাজা শশীকান্ত আচার্য্য ও ত্রিশালের বৈলরের জমিদার হেমচন্দ্র রায়ের মধ্যে জমির পরিমাপ নিয়ে বিরোধ সৃষ্টি হয়। তখন তালুক ও পরগনায় জমির মাপের ভিন্নতা ছিল তালুকে প্রতি কাঠা ছিল ১০ শতাংশ, আর পরগনায় সাড়ে ৬ শতাংশ।
এই বিরোধ মীমাংসার জন্য লক্ষ্মীপুর গ্রামের বড়ই আটা এলাকায় আয়োজন করা হয় এই হুমগুটি খেলা। শর্ত ছিল যে পক্ষ গুটি দখলে রাখতে পারবে, সেই এলাকা হবে ‘তালুক’, আর পরাজিত অংশ পরিচিত হবে ‘পরগনা’ নামে। সেই খেলায় মুক্তাগাছা জমিদারের প্রজারা বিজয়ী হন।

জমিদারি প্রথা বিলুপ্ত হলেও ঐতিহ্য থেমে থাকেনি। স্থানীয় মোড়ল পরিবার প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে এই খেলার আয়োজন করে আসছে।
প্রতিবছর বিকেল সোয়া ৪টায় খেলা শুরু হয় এবং সন্ধ্যা পর্যন্ত চলে এই জনসমাগমে ভরপুর ঐতিহ্যবাহী আয়োজন।

স্থানীয়দের মতে, হুমগুটি খেলা ফুলবাড়িয়ার ইতিহাস, ঐতিহ্য ও গ্রামীণ শক্তির প্রতীক।