গণহত্যা মামলায় শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান খাঁনের মৃত্যুদণ্ড
- আপডেট সময় : ১১:১৩:৩৭ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৭ নভেম্বর ২০২৫
- / 120
চব্বিশের জুলাই–আগস্টে সংঘটিত গণহত্যার দায়ে মানবতাবিরোধী অপরাধ মামলায় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামালের মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।
একই মামলায় রাজসাক্ষী হিসেবে সাক্ষ্য দেওয়া সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুনকে অভিযুক্ত হিসেবে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
রায় ঘোষণা
সোমবার (১৭ নভেম্বর) দুপুর ১২টা ৪০ মিনিটে ৪৫৩ পৃষ্ঠার রায়ের অংশবিশেষ পড়া শুরু করেন বিচারিক প্যানেলের সদস্য বিচারক মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।
বিশেষ প্যানেলে ছিলেন—
-
ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদার
-
বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ
২ ঘণ্টা ১০ মিনিট স্থায়ী কার্যক্রম শেষে দুপুর ২টা ৫০ মিনিটে রায় ঘোষণা করা হয়।
অভিযোগ ও দণ্ড
শেখ হাসিনা
-
অভিযোগ-১: উসকানি, মারণাস্ত্র, ড্রোন ও হেলিকপ্টার ব্যবহারের নির্দেশ এবং আবু সাঈদ হত্যার দায়ে আমৃত্যু কারাদণ্ড।
-
অভিযোগ-২: চানখারপুলে ছয় হত্যা ও আশুলিয়ায় ছয় লাশ পোড়ানোর ঘটনায় মৃত্যুদণ্ড।
আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল
-
অভিযোগ-২: চানখারপুল হত্যা ও আশুলিয়ায় লাশ পোড়ানোর ঘটনায় মৃত্যুদণ্ড।
চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন (সাবেক আইজিপি)
-
একই অভিযোগে দোষী হলেও রাজসাক্ষী হওয়ায় ৫ বছরের কারাদণ্ড।
একই সঙ্গে তিন আসামির সম্পদ বাজেয়াপ্তের নির্দেশ দিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল।
মামলার বিবরণ
-
আসামি: ৩ জন
-
আনীত অভিযোগ: মানবতাবিরোধী অপরাধের ৫টি অভিযোগ
-
সাক্ষী: ৮৪ জন
-
অভিযোগপত্র: ৮,৭৪৭ পৃষ্ঠা
-
তথ্যসূত্র: ২,০১৮ পৃষ্ঠা
-
জব্দতালিকা ও প্রমাণাদি: ৪,০০৫ পৃষ্ঠা
-
শহীদ তালিকার বিবরণ: ২,৭২৪ পৃষ্ঠা
-
গত ১২ মে তদন্ত প্রতিবেদন চিফ প্রসিকিউটরের কাছে জমা দেওয়া হয়।
নিরাপত্তা পরিস্থিতি
রায়কে কেন্দ্র করে ট্রাইব্যুনাল ও সুপ্রিম কোর্ট এলাকায় পুলিশের পাশাপাশি র্যাব, এপিবিএন, বিজিবি ও সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হয়।
১৬ নভেম্বর সন্ধ্যার পর দোয়েল চত্বর থেকে শিক্ষাভবনমুখী সড়কে যান চলাচল সীমিত করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
বর্তমান অবস্থা
-
শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান খাঁন পলাতক।
-
সাবেক আইজিপি মামুন প্রায় এক বছর ধরে কারাগারে আছেন এবং রাজসাক্ষী হিসেবে আদালতে সাক্ষ্য দিয়েছেন।























