ঢাকা ০৭:৪৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
দক্ষিণ কেরানীগঞ্জে দুই কিশোরীকে ধর্ষণের অভিযোগ, পুলিশের সোর্স সাগর গ্রেপ্তার নবাবগঞ্জে ডিবি পুলিশের অভিযানে ইয়াবাসহ ৩ জন গ্রেপ্তার। আইইডিসিআর-এর পরিচালককে নিজ কার্যালয়ে মারধরের অভিযোগ আট বিভাগে বৃষ্টির আভাস, কমবে তাপমাত্রা এসআরবি-১৪, সিপিএসসি, ময়মনসিংহ এর পৃথক অভিযানে হত্যা ও অপহরণ মামলার ০২ আসামি গ্রেফতার। পুরান ঢাকায় এক পঙ্গু হতদরিদ্র ব্যক্তিকে হুইলচেয়ার উপহার দিলো ছাত্রদল নেতারা  হযরতপুরে চাচা হাজী দুঃখ মিয়া বিরুদ্ধে জাল দলিল ও জমি দখলের অভিযোগ তুলেছে ভাতিজা আলা. পুরান ঢাকার সফল সংগঠক মোস্তাকের জন্মদিন পালিত কেরানীগঞ্জে ডিবি পুলিশের অভিযানে ৫০ পিস ইয়াবাসহ একজন গ্রেপ্তার জেলা প্রশাসকের সঙ্গে অতুল বসাকের মতবিনিময়, রামরাই বিনোদন পার্কের প্রাচীর নির্মাণ নিয়ে আলোচনা

ময়মনসিংহে টেঁটার আঘাতে আহত যুবকের মৃত্যু

অনলাইন ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ০৪:১১:৫০ অপরাহ্ন, সোমবার, ১ জুন ২০২৬
  • / 98
আজকের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

 

ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জে কিশোরদের তুচ্ছ বিরোধকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের সংঘর্ষে টেঁটার আঘাতে আহত শিপন মিয়া (১৮) নামে এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। সোমবার (১ জুন) দুপুর দেড়টার দিকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়।

 

নিহত শিপন মিয়া উপজেলার উচাখিলা ইউনিয়নের মরিচারচর গ্রামের রমজান আলীর ছেলে। তার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন তার বড় বোন সুমা আক্তার। তার মৃত্যুর খবরে এলাকায় নতুন করে উত্তেজনা দেখা দিয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ঈদের দিন ব্রহ্মপুত্র নদের পাড়ে এক তরুণীকে উদ্দেশ করে অশালীন মন্তব্যকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের কিশোরদের মধ্যে বিরোধের সৃষ্টি হয়। পরে স্থানীয়ভাবে বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা করা হলেও রাতে মরিচারচর এলাকার ইব্রাহিম মিয়ার ওপর হামলার ঘটনা ঘটে। এর জেরে রোববার সকালে ইব্রাহিমের সমর্থকেরা চরআলগী গ্রামে হামলা চালায়।

অভিযোগ রয়েছে, হামলাকারীরা অন্তত ২০টি বাড়িতে ভাঙচুর চালায়, মূল্যবান মালামাল লুট করে এবং শতাধিক খড়ের গাদায় আগুন দেয়। পাশাপাশি নাজিম উদ্দিন নামে এক ব্যক্তির মেয়ের বিয়ের জন্য প্রস্তুত করা খাবার, বাসনপত্র ও অতিথিদের বসার ব্যবস্থাও নষ্ট করা হয়। এতে বিয়ের আয়োজন ব্যাহত হয়।

একপর্যায়ে চরআলগী পক্ষের লোকজন পাল্টা হামলা চালালে সংঘর্ষে টেঁটার আঘাতে আহত হন শিপন মিয়া। পরে তাকে উদ্ধার করে রোববার বিকেলে ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। অবস্থার অবনতি হলে সোমবার তাকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে নেওয়ার পথেই তার মৃত্যু হয়।

এ ঘটনায় চরআলগী পক্ষের লোকজনের বাড়িঘরে হামলা ও ভাঙচুরের অভিযোগে মরিচারচর এলাকার ৪১ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও ১০০ থেকে ১৫০ জনকে আসামি করে রোববার রাতে একটি মামলা করা হয়েছে। ওই মামলায় তিনজনকে গ্রেপ্তার করে সোমবার আদালতে পাঠানো হয়েছে। নিহত শিপন ওই মামলার আসামিপক্ষের লোকজনের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন বলে জানা গেছে।

নিহতের বড় বোন সুমা আক্তার বলেন, আমার ভাই মারা যাওয়ার আগে বারবার বলছিল, ‘আপা, আমার খুব কষ্ট হচ্ছে। আমি বোধহয় বাঁচবো না।’ আমি বুঝতে পারিনি আমার ভাইটা সত্যিই চলে যাবে। যারা আমার ভাইকে মেরেছে, আমি তাদের শাস্তি চাই।

 

ঈশ্বরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রবিউল আজম বলেন, দুই পক্ষের সংঘর্ষে আহত এক যুবক চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। নিহতের পরিবারের লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ময়মনসিংহে টেঁটার আঘাতে আহত যুবকের মৃত্যু

আপডেট সময় : ০৪:১১:৫০ অপরাহ্ন, সোমবার, ১ জুন ২০২৬

 

ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জে কিশোরদের তুচ্ছ বিরোধকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের সংঘর্ষে টেঁটার আঘাতে আহত শিপন মিয়া (১৮) নামে এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। সোমবার (১ জুন) দুপুর দেড়টার দিকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়।

 

নিহত শিপন মিয়া উপজেলার উচাখিলা ইউনিয়নের মরিচারচর গ্রামের রমজান আলীর ছেলে। তার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন তার বড় বোন সুমা আক্তার। তার মৃত্যুর খবরে এলাকায় নতুন করে উত্তেজনা দেখা দিয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ঈদের দিন ব্রহ্মপুত্র নদের পাড়ে এক তরুণীকে উদ্দেশ করে অশালীন মন্তব্যকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের কিশোরদের মধ্যে বিরোধের সৃষ্টি হয়। পরে স্থানীয়ভাবে বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা করা হলেও রাতে মরিচারচর এলাকার ইব্রাহিম মিয়ার ওপর হামলার ঘটনা ঘটে। এর জেরে রোববার সকালে ইব্রাহিমের সমর্থকেরা চরআলগী গ্রামে হামলা চালায়।

অভিযোগ রয়েছে, হামলাকারীরা অন্তত ২০টি বাড়িতে ভাঙচুর চালায়, মূল্যবান মালামাল লুট করে এবং শতাধিক খড়ের গাদায় আগুন দেয়। পাশাপাশি নাজিম উদ্দিন নামে এক ব্যক্তির মেয়ের বিয়ের জন্য প্রস্তুত করা খাবার, বাসনপত্র ও অতিথিদের বসার ব্যবস্থাও নষ্ট করা হয়। এতে বিয়ের আয়োজন ব্যাহত হয়।

একপর্যায়ে চরআলগী পক্ষের লোকজন পাল্টা হামলা চালালে সংঘর্ষে টেঁটার আঘাতে আহত হন শিপন মিয়া। পরে তাকে উদ্ধার করে রোববার বিকেলে ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। অবস্থার অবনতি হলে সোমবার তাকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে নেওয়ার পথেই তার মৃত্যু হয়।

এ ঘটনায় চরআলগী পক্ষের লোকজনের বাড়িঘরে হামলা ও ভাঙচুরের অভিযোগে মরিচারচর এলাকার ৪১ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও ১০০ থেকে ১৫০ জনকে আসামি করে রোববার রাতে একটি মামলা করা হয়েছে। ওই মামলায় তিনজনকে গ্রেপ্তার করে সোমবার আদালতে পাঠানো হয়েছে। নিহত শিপন ওই মামলার আসামিপক্ষের লোকজনের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন বলে জানা গেছে।

নিহতের বড় বোন সুমা আক্তার বলেন, আমার ভাই মারা যাওয়ার আগে বারবার বলছিল, ‘আপা, আমার খুব কষ্ট হচ্ছে। আমি বোধহয় বাঁচবো না।’ আমি বুঝতে পারিনি আমার ভাইটা সত্যিই চলে যাবে। যারা আমার ভাইকে মেরেছে, আমি তাদের শাস্তি চাই।

 

ঈশ্বরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রবিউল আজম বলেন, দুই পক্ষের সংঘর্ষে আহত এক যুবক চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। নিহতের পরিবারের লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।