ঢাকা ০৪:৪৬ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬, ২০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

তাহিরপুরে কথিত এক সাংবাদিকের চাঁদাবাজি ও অপপ্রচারে অতিষ্ঠ এলাকাবাসী

হাওর অঞ্চল প্রতিনিধি, তাহিরপুর, সুনামগঞ্জ।
  • আপডেট সময় : ০৪:০১:০০ অপরাহ্ন, বুধবার, ৩ জুন ২০২৬
  • / 10
আজকের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

 

তাহিরপুরে এক কথিত সাংবাদিকের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, প্রতারণা ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে মিথ্যা অপপ্রচারের অভিযোগ উঠেছে। তার এমন কর্মকাণ্ডে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছেন এলাকাবাসী। অভিযুক্ত ব্যক্তি স্মার্টফোনের মাধ্যমে বিভিন্ন পত্রিকার লোগো ও ছবি এডিট করে ভুয়া সংবাদ তৈরি করে ফেসবুকে প্রচার করেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। এ ঘটনায় গত সোমবার ভুক্তভোগী শাহা আলম নামে একজন তাহিরপুর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। মঙ্গলবার বিকালে তাহিরপুর থানার উপপরিদর্শক মোহাম্মদ আলী ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে তার প্রমাণও পেয়েছেন বলে জানিয়েছেন।
জানা যায়, উপজেলার বড়দল দক্ষিণ ইউনিয়নের সাধেরখলা গ্রামের বাসিন্দা শাহা আলম জীবিকার তাগিদে নরসিংদীতে শ্রমিকের কাজ করেন। তার অনুপস্থিতিতে বাড়িতে থাকা মুদি দোকান পরিচালনা করেন তার স্ত্রী রাহেলা খাতুন। গত ২০ মে বিকেলে একই ইউনিয়নের পুরানখালাস গ্রামের জালাল মিয়ার ছেলে অভিযুক্ত কথিত সাংবাদিক রফিকুল ইসলাম নিজেকে ‘রূপান্তর’ নামের একটি পত্রিকার সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে শাহা আলমের স্ত্রীর দোকানে যান। এসময় তিনি শাহা আলম মাদকসহ পুলিশের হাতে আটক হয়েছেন বলে এআই দিয়ে ছবি তৈরি করে দেখান এবং তাকে ছাড়িয়ে আনতে ৩০ হাজার টাকা লাগবে বলে জানান। পরে তার কথায় বিশ্বাস করে শাহা আলমের স্ত্রী তাকে ১০ হাজার টাকা দেন। পরবর্তীতে শাহা আলমের সঙ্গে যোগাযোগ হলে তিনি বিষয়টি জানতে পেরে স্ত্রীকে আর টাকা না দেওয়ার পরামর্শ দেন। এতে অভিযুক্ত রফিকুল ক্ষিপ্ত হয়ে তাদের পরিবারের বিরুদ্ধে ফেসবুকে মিথ্যা সংবাদ ও অপপ্রচার চালাতে শুরু করেন। অভিযুক্ত রফিকুল শাহা আলমের সৌদি প্রবাসী ছোট ভাইয়ের ছবি এডিট করে তাকে মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত দেখিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচার করেন। এছাড়া শাহা আলমের শ্বশুরকে ডেকে ভিডিও ধারণ করে সেটিও ফেসবুকে ছড়িয়ে দেন। এসব ঘটনায় শাহা আলম ও তার পরিবারের সদস্যরা চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।

স্থানীয়দের অভিযোগ, ওই কথিত সাংবাদিক রফিকুল ইসলাম এলাকায় কখনও সাংবাদিক, কখনও পুলিশ পরিচয়ে মাদক, বালু, ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা ও চোরাচালান সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন ব্যক্তিকে ভয়ভীতি দেখিয়ে চাঁদাবাজি করে আসছেন। তার এমন কর্মকাণ্ডে এলাকার সাধারণ মানুষ অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছেন।

স্থানীয় ওয়ার্ড সদস্য আবু মেম্বার বলেন, রফিকুল ইসলাম হঠাৎ নিজেকে সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে এলাকার সহজ সরল মানুষদের হয়রানি করছেন। সে পুলিশের ভয় এবং এআই দিয়ে ছবি এডিট করে পত্রিকা তৈরি করে সাধারণ মানুষদের কাছ থেকে টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। যারা তাকে টাকা দিতে অপারগতা প্রকাশ করে তাদের ছবি বিকৃত করে অপপ্রচার করে। প্রকৃতপক্ষে সে কোনো সাংবাদিক না একজন গ্রাম্য হাতুড়ি ডাক্তার। তিনি বলেন, আমার জানামতে সে প্রাইমারি গণ্ডি পার হয়নি।

অভিযুক্ত রফিকুল ইসলাম বলেন, আমি মোবাইল দিয়ে পত্রিকা তৈরি করে অনিয়মগুলি প্রচার করেছিলাম। টাকা নেওয়ার বিষয়টি স্থানীয় চেয়ারম্যানের ভাই জিল্লুর রহমান সমাধান করে দিয়েছেন বলে দাবি করেন তিনি।

তাহিরপুর থানার অফিসার ইনচার্জ আমিনুল ইসলাম বলেন, লিখিত অভিযোগ পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে প্রাথমিক ভাবে তার প্রমাণ পেয়েছে। অভিযুক্ত ব্যক্তির বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

তাহিরপুরে কথিত এক সাংবাদিকের চাঁদাবাজি ও অপপ্রচারে অতিষ্ঠ এলাকাবাসী

আপডেট সময় : ০৪:০১:০০ অপরাহ্ন, বুধবার, ৩ জুন ২০২৬

 

তাহিরপুরে এক কথিত সাংবাদিকের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, প্রতারণা ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে মিথ্যা অপপ্রচারের অভিযোগ উঠেছে। তার এমন কর্মকাণ্ডে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছেন এলাকাবাসী। অভিযুক্ত ব্যক্তি স্মার্টফোনের মাধ্যমে বিভিন্ন পত্রিকার লোগো ও ছবি এডিট করে ভুয়া সংবাদ তৈরি করে ফেসবুকে প্রচার করেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। এ ঘটনায় গত সোমবার ভুক্তভোগী শাহা আলম নামে একজন তাহিরপুর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। মঙ্গলবার বিকালে তাহিরপুর থানার উপপরিদর্শক মোহাম্মদ আলী ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে তার প্রমাণও পেয়েছেন বলে জানিয়েছেন।
জানা যায়, উপজেলার বড়দল দক্ষিণ ইউনিয়নের সাধেরখলা গ্রামের বাসিন্দা শাহা আলম জীবিকার তাগিদে নরসিংদীতে শ্রমিকের কাজ করেন। তার অনুপস্থিতিতে বাড়িতে থাকা মুদি দোকান পরিচালনা করেন তার স্ত্রী রাহেলা খাতুন। গত ২০ মে বিকেলে একই ইউনিয়নের পুরানখালাস গ্রামের জালাল মিয়ার ছেলে অভিযুক্ত কথিত সাংবাদিক রফিকুল ইসলাম নিজেকে ‘রূপান্তর’ নামের একটি পত্রিকার সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে শাহা আলমের স্ত্রীর দোকানে যান। এসময় তিনি শাহা আলম মাদকসহ পুলিশের হাতে আটক হয়েছেন বলে এআই দিয়ে ছবি তৈরি করে দেখান এবং তাকে ছাড়িয়ে আনতে ৩০ হাজার টাকা লাগবে বলে জানান। পরে তার কথায় বিশ্বাস করে শাহা আলমের স্ত্রী তাকে ১০ হাজার টাকা দেন। পরবর্তীতে শাহা আলমের সঙ্গে যোগাযোগ হলে তিনি বিষয়টি জানতে পেরে স্ত্রীকে আর টাকা না দেওয়ার পরামর্শ দেন। এতে অভিযুক্ত রফিকুল ক্ষিপ্ত হয়ে তাদের পরিবারের বিরুদ্ধে ফেসবুকে মিথ্যা সংবাদ ও অপপ্রচার চালাতে শুরু করেন। অভিযুক্ত রফিকুল শাহা আলমের সৌদি প্রবাসী ছোট ভাইয়ের ছবি এডিট করে তাকে মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত দেখিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচার করেন। এছাড়া শাহা আলমের শ্বশুরকে ডেকে ভিডিও ধারণ করে সেটিও ফেসবুকে ছড়িয়ে দেন। এসব ঘটনায় শাহা আলম ও তার পরিবারের সদস্যরা চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।

স্থানীয়দের অভিযোগ, ওই কথিত সাংবাদিক রফিকুল ইসলাম এলাকায় কখনও সাংবাদিক, কখনও পুলিশ পরিচয়ে মাদক, বালু, ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা ও চোরাচালান সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন ব্যক্তিকে ভয়ভীতি দেখিয়ে চাঁদাবাজি করে আসছেন। তার এমন কর্মকাণ্ডে এলাকার সাধারণ মানুষ অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছেন।

স্থানীয় ওয়ার্ড সদস্য আবু মেম্বার বলেন, রফিকুল ইসলাম হঠাৎ নিজেকে সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে এলাকার সহজ সরল মানুষদের হয়রানি করছেন। সে পুলিশের ভয় এবং এআই দিয়ে ছবি এডিট করে পত্রিকা তৈরি করে সাধারণ মানুষদের কাছ থেকে টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। যারা তাকে টাকা দিতে অপারগতা প্রকাশ করে তাদের ছবি বিকৃত করে অপপ্রচার করে। প্রকৃতপক্ষে সে কোনো সাংবাদিক না একজন গ্রাম্য হাতুড়ি ডাক্তার। তিনি বলেন, আমার জানামতে সে প্রাইমারি গণ্ডি পার হয়নি।

অভিযুক্ত রফিকুল ইসলাম বলেন, আমি মোবাইল দিয়ে পত্রিকা তৈরি করে অনিয়মগুলি প্রচার করেছিলাম। টাকা নেওয়ার বিষয়টি স্থানীয় চেয়ারম্যানের ভাই জিল্লুর রহমান সমাধান করে দিয়েছেন বলে দাবি করেন তিনি।

তাহিরপুর থানার অফিসার ইনচার্জ আমিনুল ইসলাম বলেন, লিখিত অভিযোগ পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে প্রাথমিক ভাবে তার প্রমাণ পেয়েছে। অভিযুক্ত ব্যক্তির বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে