ঢাকা ০৩:০৮ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
মালয়েশিয়ায় আন্তর্জাতিক সম্মেলনে ‘গ্লোবাল এক্সিলেন্স লিডারশিপ অ্যাওয়ার্ড ২০২৬’ পেলেন সংগীতশিল্পী লায়ন মো. ওমর ফারুক দক্ষিণ কেরানীগঞ্জে দুই কিশোরীকে ধর্ষণের অভিযোগ, পুলিশের সোর্স সাগর গ্রেপ্তার নবাবগঞ্জে ডিবি পুলিশের অভিযানে ইয়াবাসহ ৩ জন গ্রেপ্তার। আইইডিসিআর-এর পরিচালককে নিজ কার্যালয়ে মারধরের অভিযোগ আট বিভাগে বৃষ্টির আভাস, কমবে তাপমাত্রা এসআরবি-১৪, সিপিএসসি, ময়মনসিংহ এর পৃথক অভিযানে হত্যা ও অপহরণ মামলার ০২ আসামি গ্রেফতার। পুরান ঢাকায় এক পঙ্গু হতদরিদ্র ব্যক্তিকে হুইলচেয়ার উপহার দিলো ছাত্রদল নেতারা  হযরতপুরে চাচা হাজী দুঃখ মিয়া বিরুদ্ধে জাল দলিল ও জমি দখলের অভিযোগ তুলেছে ভাতিজা আলা. পুরান ঢাকার সফল সংগঠক মোস্তাকের জন্মদিন পালিত কেরানীগঞ্জে ডিবি পুলিশের অভিযানে ৫০ পিস ইয়াবাসহ একজন গ্রেপ্তার

চট্টগ্রামে বন্যা পরিস্থিতি অপরিবর্তিত, চার উপজেলায় পানিবন্দি ৮ লাখ মানুষ

অনলাইন ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ১০:১৭:৪৫ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১২ জুলাই ২০২৬
  • / 78
আজকের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

 

নিজস্ব প্রতিবেদক:

টানা এক সপ্তাহের অতি বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে চট্টগ্রামের বন্যা পরিস্থিতির তেমন কোনো উন্নতি হয়নি। সাতকানিয়া, লোহাগাড়া, বাঁশখালী ও চন্দনাইশ উপজেলার বিস্তীর্ণ এলাকা এখনো পানির নিচে রয়েছে। রোববার সকাল থেকে আবারও ভারী বৃষ্টি শুরু হওয়ায় দুর্গত মানুষের দুর্ভোগ আরও বেড়েছে।

প্রশাসনের তথ্যমতে, চার উপজেলায় প্রায় ৮ লাখ মানুষ পানিবন্দি অবস্থায় মানবেতর জীবনযাপন করছেন। সাতকানিয়ার ১৭টি ইউনিয়ন ও পৌরসভার অধিকাংশ এলাকা প্লাবিত রয়েছে। সাঙ্গু নদীর পানি এখনো বিপৎসীমার ১৯ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় কেরানীহাট-বান্দরবান মহাসড়কের বিভিন্ন অংশ তলিয়ে গেছে এবং যোগাযোগ ব্যবস্থা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।

লোহাগাড়া, বাঁশখালী ও চন্দনাইশের নিম্নাঞ্চলও এখনো পানির নিচে। উপকূলীয় বাঁশখালীর একাধিক ইউনিয়নে জোয়ারের পানি ও টানা বর্ষণে হাজার হাজার মানুষ আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থান নিয়েছেন। দুর্গত এলাকায় বিশুদ্ধ পানি, শুকনো খাবার, ওষুধ ও শিশুখাদ্যের সংকট দেখা দিয়েছে।

জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের জন্য ত্রাণ বিতরণ অব্যাহত রয়েছে। স্থানীয় প্রশাসন, সেনাবাহিনী, ফায়ার সার্ভিস ও স্বেচ্ছাসেবীরা উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম পরিচালনা করছেন।

জেলা প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, মহানগরসহ বিভিন্ন উপজেলায় প্রায় ১ লাখ ৮৮ হাজার ৬৪৮টি পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এবারের বন্যায় প্রায় ৪০ কোটি টাকার মৎস্যসম্পদ এবং প্রায় ২৮ কোটি টাকার প্রাণিসম্পদের ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে।

এদিকে আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় চট্টগ্রামে ১৪২.৭ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড হয়েছে। আগামী ২৪ ঘণ্টায় দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা থাকায় বন্যা পরিস্থিতির দ্রুত উন্নতির সম্ভাবনা কম বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

চট্টগ্রামে বন্যা পরিস্থিতি অপরিবর্তিত, চার উপজেলায় পানিবন্দি ৮ লাখ মানুষ

আপডেট সময় : ১০:১৭:৪৫ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১২ জুলাই ২০২৬

 

নিজস্ব প্রতিবেদক:

টানা এক সপ্তাহের অতি বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে চট্টগ্রামের বন্যা পরিস্থিতির তেমন কোনো উন্নতি হয়নি। সাতকানিয়া, লোহাগাড়া, বাঁশখালী ও চন্দনাইশ উপজেলার বিস্তীর্ণ এলাকা এখনো পানির নিচে রয়েছে। রোববার সকাল থেকে আবারও ভারী বৃষ্টি শুরু হওয়ায় দুর্গত মানুষের দুর্ভোগ আরও বেড়েছে।

প্রশাসনের তথ্যমতে, চার উপজেলায় প্রায় ৮ লাখ মানুষ পানিবন্দি অবস্থায় মানবেতর জীবনযাপন করছেন। সাতকানিয়ার ১৭টি ইউনিয়ন ও পৌরসভার অধিকাংশ এলাকা প্লাবিত রয়েছে। সাঙ্গু নদীর পানি এখনো বিপৎসীমার ১৯ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় কেরানীহাট-বান্দরবান মহাসড়কের বিভিন্ন অংশ তলিয়ে গেছে এবং যোগাযোগ ব্যবস্থা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।

লোহাগাড়া, বাঁশখালী ও চন্দনাইশের নিম্নাঞ্চলও এখনো পানির নিচে। উপকূলীয় বাঁশখালীর একাধিক ইউনিয়নে জোয়ারের পানি ও টানা বর্ষণে হাজার হাজার মানুষ আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থান নিয়েছেন। দুর্গত এলাকায় বিশুদ্ধ পানি, শুকনো খাবার, ওষুধ ও শিশুখাদ্যের সংকট দেখা দিয়েছে।

জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের জন্য ত্রাণ বিতরণ অব্যাহত রয়েছে। স্থানীয় প্রশাসন, সেনাবাহিনী, ফায়ার সার্ভিস ও স্বেচ্ছাসেবীরা উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম পরিচালনা করছেন।

জেলা প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, মহানগরসহ বিভিন্ন উপজেলায় প্রায় ১ লাখ ৮৮ হাজার ৬৪৮টি পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এবারের বন্যায় প্রায় ৪০ কোটি টাকার মৎস্যসম্পদ এবং প্রায় ২৮ কোটি টাকার প্রাণিসম্পদের ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে।

এদিকে আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় চট্টগ্রামে ১৪২.৭ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড হয়েছে। আগামী ২৪ ঘণ্টায় দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা থাকায় বন্যা পরিস্থিতির দ্রুত উন্নতির সম্ভাবনা কম বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।