ঢাকা ০৭:২৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
দক্ষিণ কেরানীগঞ্জে দুই কিশোরীকে ধর্ষণের অভিযোগ, পুলিশের সোর্স সাগর গ্রেপ্তার নবাবগঞ্জে ডিবি পুলিশের অভিযানে ইয়াবাসহ ৩ জন গ্রেপ্তার। আইইডিসিআর-এর পরিচালককে নিজ কার্যালয়ে মারধরের অভিযোগ আট বিভাগে বৃষ্টির আভাস, কমবে তাপমাত্রা এসআরবি-১৪, সিপিএসসি, ময়মনসিংহ এর পৃথক অভিযানে হত্যা ও অপহরণ মামলার ০২ আসামি গ্রেফতার। পুরান ঢাকায় এক পঙ্গু হতদরিদ্র ব্যক্তিকে হুইলচেয়ার উপহার দিলো ছাত্রদল নেতারা  হযরতপুরে চাচা হাজী দুঃখ মিয়া বিরুদ্ধে জাল দলিল ও জমি দখলের অভিযোগ তুলেছে ভাতিজা আলা. পুরান ঢাকার সফল সংগঠক মোস্তাকের জন্মদিন পালিত কেরানীগঞ্জে ডিবি পুলিশের অভিযানে ৫০ পিস ইয়াবাসহ একজন গ্রেপ্তার জেলা প্রশাসকের সঙ্গে অতুল বসাকের মতবিনিময়, রামরাই বিনোদন পার্কের প্রাচীর নির্মাণ নিয়ে আলোচনা

ময়মনসিংহে সোহেল হত্যা: মূলহোতাসহ ৪ আসামি গ্রেপ্তার

অনলাইন ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ১২:৩৬:৩৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৬ জুলাই ২০২৬
  • / 84
আজকের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

ময়মনসিংহের কোতোয়ালী মডেল থানার মীরকান্দাপাড়া এলাকায় সোহেল সরকার (২৫) হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় মূলহোতাসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

 

রোববার (২৬ জুলাই) ময়মনসিংহ জেলা পুলিশের পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

পুলিশের দাবি, গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তিরা প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন। তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত ধারালো দা, কোদাল, নিহতের রক্তমাখা পোশাক ও একজোড়া স্যান্ডেল উদ্ধার করা হয়েছে।

নিহত সোহেল সরকার ময়মনসিংহ সদর উপজেলার পরানগঞ্জ ইউনিয়নের মীরকান্দাপাড়া গ্রামের নূরুল ইসলামের ছেলে।

 

পুলিশ জানায়, গত ১৬ জুলাই সকাল সাড়ে ৮টার দিকে নিজ বাড়ি থেকে নিখোঁজ হন সোহেল। বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তার সন্ধান না পেয়ে পরিবারের সদস্যরা কোতোয়ালী মডেল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।

এরপর গত ২২ জুলাই বিকেলে স্থানীয় বাসিন্দাদের খবরে পুলিশ ও স্বজনরা পরানগঞ্জ ইউনিয়নের মীরকান্দাপাড়া গ্রামের অম্বিকাগঞ্জ কলেজ মাঠের উত্তর পাশের একটি বাগানে গিয়ে একটি বিচ্ছিন্ন মাথা দেখতে পান। পরে ঘটনাস্থলের পাশেই স্কুলের সীমানাপ্রাচীর-সংলগ্ন মাটির নিচ থেকে মাথাবিহীন মরদেহ উদ্ধার করা হয়। স্বজনরা মরদেহটি সোহেল সরকারের বলে শনাক্ত করেন। পরবর্তীতে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।

এ ঘটনায় ২৫ জুলাই নিহতের বাবা নূরুল ইসলাম বাদী হয়ে কোতোয়ালী মডেল থানায় অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে মামলা দায়ের করেন।

 

পুলিশ জানায়, ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনায় পুলিশ সুপারের সার্বিক তত্ত্বাবধানে এবং অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) ও কোতোয়ালী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার নির্দেশনায় একটি বিশেষ তদন্ত দল কাজ শুরু করে। তথ্যপ্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে জড়িতদের শনাক্ত করে অভিযান চালিয়ে চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন- মীরকান্দাপাড়া গ্রামের আব্দুল রশিদের ছেলে সেলিম ওরফে নাপিত সেলিম (৩২), একই গ্রামের মজিবর রহমানের ছেলে মো. সেলিম (৩০), রমজান আলীর ছেলে আব্দুল কাদির ওরফে আলামিন (২৫) এবং আব্দুল জলিলের ছেলে লাল চাঁন ওরফে লালু (২৬)।

পুলিশ আরও জানায়, ২৫ জুলাই দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে ভালুকা উপজেলার আঙ্গারগাড়া গ্রাম থেকে মো. সেলিমকে আটক করা হয়। পরবর্তীতে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে কোতোয়ালী থানার সারবাজার এলাকা থেকে সেলিম ওরফে নাপিত সেলিমকে গ্রেপ্তার করা হয়। একই দিন মীরকান্দাপাড়া এলাকা থেকে আলামিন এবং শহরের মহারাজা রোড এলাকা থেকে লালুকে গ্রেপ্তার করা হয়।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, পুলিশের কাছে দেওয়া জবানবন্দিতে মো. সেলিম দাবি করেছেন, তার দ্বিতীয় স্ত্রীকে নিয়ে সোহেল সরকার গত তিন মাস ধরে গোপনে ঢাকায় বসবাস করছিলেন। বিষয়টি জানতে পেরে তিনি কৌশলে সোহেলকে ঢাকা থেকে ডেকে আনেন। পরবর্তীতে অন্য আসামিদের সঙ্গে পূর্বপরিকল্পিতভাবে তাকে হত্যা করা হয় বলে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানিয়েছেন তিনি।

পুলিশের দাবি, হত্যার পর মরদেহ গুমের চেষ্টা করা হয়েছিল। এ ঘটনায় আরও কয়েকজন জড়িত ব্যক্তি পলাতক রয়েছেন। তাদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ময়মনসিংহে সোহেল হত্যা: মূলহোতাসহ ৪ আসামি গ্রেপ্তার

আপডেট সময় : ১২:৩৬:৩৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৬ জুলাই ২০২৬

ময়মনসিংহের কোতোয়ালী মডেল থানার মীরকান্দাপাড়া এলাকায় সোহেল সরকার (২৫) হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় মূলহোতাসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

 

রোববার (২৬ জুলাই) ময়মনসিংহ জেলা পুলিশের পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

পুলিশের দাবি, গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তিরা প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন। তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত ধারালো দা, কোদাল, নিহতের রক্তমাখা পোশাক ও একজোড়া স্যান্ডেল উদ্ধার করা হয়েছে।

নিহত সোহেল সরকার ময়মনসিংহ সদর উপজেলার পরানগঞ্জ ইউনিয়নের মীরকান্দাপাড়া গ্রামের নূরুল ইসলামের ছেলে।

 

পুলিশ জানায়, গত ১৬ জুলাই সকাল সাড়ে ৮টার দিকে নিজ বাড়ি থেকে নিখোঁজ হন সোহেল। বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তার সন্ধান না পেয়ে পরিবারের সদস্যরা কোতোয়ালী মডেল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।

এরপর গত ২২ জুলাই বিকেলে স্থানীয় বাসিন্দাদের খবরে পুলিশ ও স্বজনরা পরানগঞ্জ ইউনিয়নের মীরকান্দাপাড়া গ্রামের অম্বিকাগঞ্জ কলেজ মাঠের উত্তর পাশের একটি বাগানে গিয়ে একটি বিচ্ছিন্ন মাথা দেখতে পান। পরে ঘটনাস্থলের পাশেই স্কুলের সীমানাপ্রাচীর-সংলগ্ন মাটির নিচ থেকে মাথাবিহীন মরদেহ উদ্ধার করা হয়। স্বজনরা মরদেহটি সোহেল সরকারের বলে শনাক্ত করেন। পরবর্তীতে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।

এ ঘটনায় ২৫ জুলাই নিহতের বাবা নূরুল ইসলাম বাদী হয়ে কোতোয়ালী মডেল থানায় অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে মামলা দায়ের করেন।

 

পুলিশ জানায়, ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনায় পুলিশ সুপারের সার্বিক তত্ত্বাবধানে এবং অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) ও কোতোয়ালী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার নির্দেশনায় একটি বিশেষ তদন্ত দল কাজ শুরু করে। তথ্যপ্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে জড়িতদের শনাক্ত করে অভিযান চালিয়ে চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন- মীরকান্দাপাড়া গ্রামের আব্দুল রশিদের ছেলে সেলিম ওরফে নাপিত সেলিম (৩২), একই গ্রামের মজিবর রহমানের ছেলে মো. সেলিম (৩০), রমজান আলীর ছেলে আব্দুল কাদির ওরফে আলামিন (২৫) এবং আব্দুল জলিলের ছেলে লাল চাঁন ওরফে লালু (২৬)।

পুলিশ আরও জানায়, ২৫ জুলাই দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে ভালুকা উপজেলার আঙ্গারগাড়া গ্রাম থেকে মো. সেলিমকে আটক করা হয়। পরবর্তীতে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে কোতোয়ালী থানার সারবাজার এলাকা থেকে সেলিম ওরফে নাপিত সেলিমকে গ্রেপ্তার করা হয়। একই দিন মীরকান্দাপাড়া এলাকা থেকে আলামিন এবং শহরের মহারাজা রোড এলাকা থেকে লালুকে গ্রেপ্তার করা হয়।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, পুলিশের কাছে দেওয়া জবানবন্দিতে মো. সেলিম দাবি করেছেন, তার দ্বিতীয় স্ত্রীকে নিয়ে সোহেল সরকার গত তিন মাস ধরে গোপনে ঢাকায় বসবাস করছিলেন। বিষয়টি জানতে পেরে তিনি কৌশলে সোহেলকে ঢাকা থেকে ডেকে আনেন। পরবর্তীতে অন্য আসামিদের সঙ্গে পূর্বপরিকল্পিতভাবে তাকে হত্যা করা হয় বলে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানিয়েছেন তিনি।

পুলিশের দাবি, হত্যার পর মরদেহ গুমের চেষ্টা করা হয়েছিল। এ ঘটনায় আরও কয়েকজন জড়িত ব্যক্তি পলাতক রয়েছেন। তাদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।