এসএ টিভির প্রতিবেদনের বিরুদ্ধে বংশাল থানার ওসির তীব্র প্রতিবাদ
- আপডেট সময় : ০৫:৫১:৪০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৮ এপ্রিল ২০২৫
- / 346
সম্প্রতি এসএ টিভিতে প্রচারিত “ঢাকা বংশাল থানার ওসির নেতৃত্বে পার্সেল মালামাল লুট” শীর্ষক প্রতিবেদনটিকে ‘অসত্য, বিভ্রান্তিকর ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ দাবি করে তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) বংশাল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রফিকুল ইসলাম।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, ৬ এপ্রিল ২০২৫ খ্রিস্টাব্দ রাত ৯টা ৫ মিনিটের দিকে ওসির নেতৃত্বে বংশাল থানার একটি টিম রাজধানীর তাঁতিবাজার মোড় সংলগ্ন এসএ পরিবহনের স্টোররুম ও আশপাশের এলাকা থেকে বিপুল পরিমাণ বিদেশি (ভারতীয় ও মায়ানমার) অবৈধ পণ্য জব্দ করে। অভিযোগ ওঠে, মালামাল জব্দের কোনো তালিকা না করে সেগুলো লুট করা হয় এবং পুলিশের পক্ষ থেকে গ্রাহকদের কাছে ৫ লাখ টাকা ঘুষ দাবি করা হয়েছে।
তবে বংশাল থানার ওসি রফিকুল ইসলাম জানান, “এসএ টিভিতে প্রচারিত প্রতিবেদনটি সম্পূর্ণরূপে মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। আমরা গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযানে গিয়ে প্রায় ৩৩ লাখ ৫৩ হাজার টাকার অবৈধ বিদেশি পণ্য জব্দ করি—যার মধ্যে ছিল তেল, সাবান, চকলেট, পারফিউম, ফেসওয়াশ ও কাপড়সহ নানা পণ্য। এসব পণ্যের বৈধ আমদানির সঠিক কাগজপত্র কেউ দেখাতে পারেনি। এমনকি এসএ পরিবহন কর্তৃপক্ষ নিজেরাই লিখিতভাবে জব্দযোগ্য পণ্যের তালিকা পুলিশের হাতে তুলে দেয় এবং চালান ও কোড নম্বরসহ কাগজে স্বাক্ষর নিয়ে মালামাল গাড়িতে তুলে দেয়।”
তিনি আরও জানান, “জব্দকৃত পণ্যের সঠিক তালিকা প্রণয়ন করে যথাযথভাবে সংরক্ষণ করা হয়েছে এবং কাউকে কোনো ঘুষ চাওয়া হয়নি। আদালতের অনুমতি ছাড়া কোনো মালামাল হস্তান্তরের সুযোগ নেই। প্রতিবেদনে যেসব অভিযোগ করা হয়েছে, সেগুলোর একটিও প্রমাণযোগ্য নয়। বরং মালামাল থানায় আনার পর কেউ থানায় এসে কোনো অভিযোগই জানায়নি।”
প্রতিবেদনে আরও দাবি করা হয়েছিল, “থানায় নিয়ে বস্তাগুলো কাটাছেঁড়া করে মালামাল ভাগাভাগি করা হয়েছে।” এ প্রসঙ্গে ওসি রফিকুল ইসলাম বলেন, “ঘটনার দিন ভারী বৃষ্টির কারণে কিছু কার্টন ভিজে গিয়ে ছিঁড়ে যায়। সেগুলো সুরক্ষার জন্য আমাদের সদস্যরা গুছিয়ে রাখছিল, সম্ভবত সেই ভিডিও দৃশ্যকে উদ্দেশ্যমূলকভাবে বিকৃতভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে। থানার প্রতিটি জায়গায় সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপিত, মালামাল ভাগাভাগির কোনো সুযোগই নেই।”
অতীত অভিযানের নজির
ওসি রফিকুল ইসলাম অতীতের আরও কয়েকটি অভিযানের কথা উল্লেখ করে বলেন, “২৫ মার্চ ২০২৫ তারিখে আর্মানিটোলা এলাকার হোসেন ট্রান্সপোর্ট থেকে ২৬ লাখ টাকার শুল্কবিহীন শাড়ি এবং ৩০ মার্চ এসএ পরিবহন থেকেই ১১ লাখ ৮০ হাজার টাকার শাড়ি জব্দ করে আদালতে পাঠানো হয়েছিল। এছাড়াও আমাদের নেতৃত্বে আড়াই টনের বেশি অবৈধ পলিথিনও জব্দ করে আদালতে পাঠানো হয়।”
ডিএমপির বার্তা ও আহ্বান
বিষয়টি নিয়ে লালবাগ জোনের ডেপুটি কমিশনার বলেন, “দেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশ বাহিনী নিরলসভাবে কাজ করছে। কুরিয়ার ও ট্রান্সপোর্টের মাধ্যমে অবৈধ পণ্য সরবরাহ বন্ধে পুলিশ নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করছে। এসব অপপ্রচার পেশাদার বাহিনীর মনোবলে আঘাত হানতে পারে।”
তিনি আরও বলেন, “সংবাদ প্রচারের আগে তথ্য যাচাই করা অত্যন্ত জরুরি। দায়িত্বশীল সাংবাদিকতা জনস্বার্থে কাজ করে, পক্ষপাতদুষ্ট বা মনগড়া প্রতিবেদন নয়। পুলিশের বিরুদ্ধে মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রকাশ থেকে বিরত থাকার জন্য আমরা গণমাধ্যমকে অনুরোধ জানাচ্ছি।”
ডিএমপি ও বংশাল থানা কর্তৃপক্ষ এসএ টিভির প্রচারিত প্রতিবেদনটির বিরুদ্ধে তীব্র নিন্দা জানিয়ে তা অপসারণ করে প্রকৃত তথ্য প্রকাশের দাবি জানিয়েছে।



















