ঢাকা ০৯:১৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
মালয়েশিয়ায় আন্তর্জাতিক সম্মেলনে ‘গ্লোবাল এক্সিলেন্স লিডারশিপ অ্যাওয়ার্ড ২০২৬’ পেলেন সংগীতশিল্পী লায়ন মো. ওমর ফারুক দক্ষিণ কেরানীগঞ্জে দুই কিশোরীকে ধর্ষণের অভিযোগ, পুলিশের সোর্স সাগর গ্রেপ্তার নবাবগঞ্জে ডিবি পুলিশের অভিযানে ইয়াবাসহ ৩ জন গ্রেপ্তার। আইইডিসিআর-এর পরিচালককে নিজ কার্যালয়ে মারধরের অভিযোগ আট বিভাগে বৃষ্টির আভাস, কমবে তাপমাত্রা এসআরবি-১৪, সিপিএসসি, ময়মনসিংহ এর পৃথক অভিযানে হত্যা ও অপহরণ মামলার ০২ আসামি গ্রেফতার। পুরান ঢাকায় এক পঙ্গু হতদরিদ্র ব্যক্তিকে হুইলচেয়ার উপহার দিলো ছাত্রদল নেতারা  হযরতপুরে চাচা হাজী দুঃখ মিয়া বিরুদ্ধে জাল দলিল ও জমি দখলের অভিযোগ তুলেছে ভাতিজা আলা. পুরান ঢাকার সফল সংগঠক মোস্তাকের জন্মদিন পালিত কেরানীগঞ্জে ডিবি পুলিশের অভিযানে ৫০ পিস ইয়াবাসহ একজন গ্রেপ্তার

আবাসিকে গ্যাস সংকট চরমে, ভোগান্তিতে নগরবাসী

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • আপডেট সময় : ০৮:৫০:০৬ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ মে ২০২৫
  • / 113
আজকের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

বর্তমানে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন আবাসিক এলাকায় গ্যাস সংকট চরম আকার ধারণ করেছে। দিনের অধিকাংশ সময়ই পাইপলাইনে গ্যাস না থাকায় রান্নাসহ নিত্যকার কাজ করতে ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন সাধারণ গ্রাহকরা।

গ্যাস সরবরাহ ও চাহিদার ব্যবধান

দেশে প্রতিদিন গ্যাসের চাহিদা প্রায় ৪ হাজার মিলিয়ন ঘনফুট হলেও সরবরাহ হচ্ছে মাত্র ২ হাজার ৭০০ মিলিয়ন ঘনফুট। ফলে দৈনিক ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৩০০ মিলিয়ন ঘনফুট। সরবরাহকৃত গ্যাসের মধ্যে ৪৩% ব্যবহৃত হচ্ছে বিদ্যুৎ খাতে, ১৮% শিল্পখাতে, ২৮% অন্যান্য খাতে এবং আবাসিক খাত পাচ্ছে মাত্র ১১%।

ভোগান্তিতে রাজধানীবাসী

রাজধানীর রামপুরা, মগবাজার, বনশ্রীসহ বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দারা জানিয়েছেন, সকাল থেকে রাত পর্যন্ত গ্যাস না থাকায় রান্না করা সম্ভব হয় না। চাকরিজীবীরা বাধ্য হয়ে রাতে রান্না করে রাখতে হচ্ছে। কেউ কেউ বাইরে থেকে খাবার কিনে খাচ্ছেন, যা ব্যয়বহুল ও স্বাস্থ্যঝুঁকিপূর্ণ।

একজন গ্রাহক নাইমা রহমান বলেন, “সকালে গ্যাস না থাকায় খাবার কিনে আনতে হয়, অথচ মাসে ঠিকই গ্যাস বিল দিতে হয়। এটা অত্যন্ত অন্যায়।”

বিকল্প হিসেবে এলপি গ্যাস, বাড়ছে ব্যয়

গ্যাস সংকটে অনেকেই বাধ্য হয়ে বিকল্প হিসেবে ব্যবহার করছেন এলপি গ্যাস। তবে এতে খরচ অনেক বেড়ে যাচ্ছে। আবাসিকে দুই চুলার মাসিক বিল ১,০৮০ টাকা হলেও ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের বাজারমূল্য ১,৪৫০ টাকা, যা সরকারি নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে ১০০–২০০ টাকা বেশি।

মোহাম্মদপুরের বাসিন্দা আল আমিন বলেন, “সরকারি গ্যাস না থাকায় এলপি গ্যাস ব্যবহার করছি। খরচ বাড়লেও উপায় নেই।”

সংশ্লিষ্টদের ভাষ্য

পেট্রোবাংলার পরিচালক (অপারেশন অ্যান্ড মাইনস) প্রকৌশলী মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, “দেশীয় গ্যাস উৎপাদন কমে যাওয়ায় চাহিদা মেটানো যাচ্ছে না। গরমের কারণে বিদ্যুতের চাহিদা বেড়েছে, ফলে বিদ্যুৎ খাতে গ্যাস সরবরাহও বাড়াতে হয়েছে। চেষ্টা চলছে গ্যাসকূপ থেকে উৎপাদন বাড়ানোর, যাতে সামগ্রিক সরবরাহ পরিস্থিতি উন্নত করা যায়।”

তিনি আরও জানান, চাহিদা মেটাতে এলএনজি আমদানি বাড়ানো হলেও তা এখনো পর্যাপ্ত নয়।

আবাসিকে গ্যাস সংকট দীর্ঘমেয়াদে স্থায়ী হলে নাগরিক জীবনে ভোগান্তি আরও বাড়বে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনার মাধ্যমে গ্যাস উৎপাদন ও সরবরাহ ব্যবস্থার উন্নয়নই একমাত্র সমাধান।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আবাসিকে গ্যাস সংকট চরমে, ভোগান্তিতে নগরবাসী

আপডেট সময় : ০৮:৫০:০৬ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ মে ২০২৫

বর্তমানে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন আবাসিক এলাকায় গ্যাস সংকট চরম আকার ধারণ করেছে। দিনের অধিকাংশ সময়ই পাইপলাইনে গ্যাস না থাকায় রান্নাসহ নিত্যকার কাজ করতে ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন সাধারণ গ্রাহকরা।

গ্যাস সরবরাহ ও চাহিদার ব্যবধান

দেশে প্রতিদিন গ্যাসের চাহিদা প্রায় ৪ হাজার মিলিয়ন ঘনফুট হলেও সরবরাহ হচ্ছে মাত্র ২ হাজার ৭০০ মিলিয়ন ঘনফুট। ফলে দৈনিক ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৩০০ মিলিয়ন ঘনফুট। সরবরাহকৃত গ্যাসের মধ্যে ৪৩% ব্যবহৃত হচ্ছে বিদ্যুৎ খাতে, ১৮% শিল্পখাতে, ২৮% অন্যান্য খাতে এবং আবাসিক খাত পাচ্ছে মাত্র ১১%।

ভোগান্তিতে রাজধানীবাসী

রাজধানীর রামপুরা, মগবাজার, বনশ্রীসহ বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দারা জানিয়েছেন, সকাল থেকে রাত পর্যন্ত গ্যাস না থাকায় রান্না করা সম্ভব হয় না। চাকরিজীবীরা বাধ্য হয়ে রাতে রান্না করে রাখতে হচ্ছে। কেউ কেউ বাইরে থেকে খাবার কিনে খাচ্ছেন, যা ব্যয়বহুল ও স্বাস্থ্যঝুঁকিপূর্ণ।

একজন গ্রাহক নাইমা রহমান বলেন, “সকালে গ্যাস না থাকায় খাবার কিনে আনতে হয়, অথচ মাসে ঠিকই গ্যাস বিল দিতে হয়। এটা অত্যন্ত অন্যায়।”

বিকল্প হিসেবে এলপি গ্যাস, বাড়ছে ব্যয়

গ্যাস সংকটে অনেকেই বাধ্য হয়ে বিকল্প হিসেবে ব্যবহার করছেন এলপি গ্যাস। তবে এতে খরচ অনেক বেড়ে যাচ্ছে। আবাসিকে দুই চুলার মাসিক বিল ১,০৮০ টাকা হলেও ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের বাজারমূল্য ১,৪৫০ টাকা, যা সরকারি নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে ১০০–২০০ টাকা বেশি।

মোহাম্মদপুরের বাসিন্দা আল আমিন বলেন, “সরকারি গ্যাস না থাকায় এলপি গ্যাস ব্যবহার করছি। খরচ বাড়লেও উপায় নেই।”

সংশ্লিষ্টদের ভাষ্য

পেট্রোবাংলার পরিচালক (অপারেশন অ্যান্ড মাইনস) প্রকৌশলী মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, “দেশীয় গ্যাস উৎপাদন কমে যাওয়ায় চাহিদা মেটানো যাচ্ছে না। গরমের কারণে বিদ্যুতের চাহিদা বেড়েছে, ফলে বিদ্যুৎ খাতে গ্যাস সরবরাহও বাড়াতে হয়েছে। চেষ্টা চলছে গ্যাসকূপ থেকে উৎপাদন বাড়ানোর, যাতে সামগ্রিক সরবরাহ পরিস্থিতি উন্নত করা যায়।”

তিনি আরও জানান, চাহিদা মেটাতে এলএনজি আমদানি বাড়ানো হলেও তা এখনো পর্যাপ্ত নয়।

আবাসিকে গ্যাস সংকট দীর্ঘমেয়াদে স্থায়ী হলে নাগরিক জীবনে ভোগান্তি আরও বাড়বে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনার মাধ্যমে গ্যাস উৎপাদন ও সরবরাহ ব্যবস্থার উন্নয়নই একমাত্র সমাধান।