ঢাকা ০৯:২৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
মালয়েশিয়ায় আন্তর্জাতিক সম্মেলনে ‘গ্লোবাল এক্সিলেন্স লিডারশিপ অ্যাওয়ার্ড ২০২৬’ পেলেন সংগীতশিল্পী লায়ন মো. ওমর ফারুক দক্ষিণ কেরানীগঞ্জে দুই কিশোরীকে ধর্ষণের অভিযোগ, পুলিশের সোর্স সাগর গ্রেপ্তার নবাবগঞ্জে ডিবি পুলিশের অভিযানে ইয়াবাসহ ৩ জন গ্রেপ্তার। আইইডিসিআর-এর পরিচালককে নিজ কার্যালয়ে মারধরের অভিযোগ আট বিভাগে বৃষ্টির আভাস, কমবে তাপমাত্রা এসআরবি-১৪, সিপিএসসি, ময়মনসিংহ এর পৃথক অভিযানে হত্যা ও অপহরণ মামলার ০২ আসামি গ্রেফতার। পুরান ঢাকায় এক পঙ্গু হতদরিদ্র ব্যক্তিকে হুইলচেয়ার উপহার দিলো ছাত্রদল নেতারা  হযরতপুরে চাচা হাজী দুঃখ মিয়া বিরুদ্ধে জাল দলিল ও জমি দখলের অভিযোগ তুলেছে ভাতিজা আলা. পুরান ঢাকার সফল সংগঠক মোস্তাকের জন্মদিন পালিত কেরানীগঞ্জে ডিবি পুলিশের অভিযানে ৫০ পিস ইয়াবাসহ একজন গ্রেপ্তার

জানালেন প্রধান উপদেষ্টা

যুক্তরাষ্ট্র থেকে তুলা ও তেল আমদানি বাড়াতে চায় বাংলাদেশ

অনলাইন ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ১২:১৭:২৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ মে ২০২৫
  • / 187
আজকের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

বাংলাদেশি পণ্যের ওপর ওয়াশিংটনের ৩৭ শতাংশ শুল্ক আরোপের সিদ্ধান্তের পরিপ্রেক্ষিতে যুক্তরাষ্ট্র থেকে আরও বেশি তুলা ও তেল আমদানি করতে চায় ঢাকা। এই বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রকে ইতোমধ্যে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে প্রস্তাবও দেওয়া হয়েছে। এই প্রস্তাব ব্যবহার করে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে শুল্ক নিয়ে বাংলাদেশ আলোচনা করবে বলে জানিয়েছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস।

বৃহস্পতিবার (২৯ মে) জাপানে অনুষ্ঠিত নিক্কেই এশিয়া বৈঠকের ফাঁকে দেশটির সংবাদমাধ্যম নিক্কেই এশিয়াকে এসব তথ্য জানিয়েছেন প্রফেসর ইউনূস।

তিনি বলেন, “মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যেহেতু বিশ্বের প্রত্যেক দেশের সঙ্গে বাণিজ্য ঘাটতি কমাতে চান তাই আমরা এ প্রস্তাব দিয়েছি। যদি আমেরিকান পণ্য আরও বেশি কেনার প্রস্তাব গৃহীত হয় তাহলে বাংলাদেশ অন্যান্য দেশ থেকে এ পণ্য আমদানি কমিয়ে দেবে। আর যুক্তরাষ্ট্র থেকে বেশি করে আমদানি করবে।”

ড. ইউনূস বলেন, “উদাহরণ স্বরূপ, আমরা মধ্য এশিয়া থেকে প্রচুর তুলা কিনি। ভারত থেকে, অন্যান্য দেশ থেকে, এখন আমরা ভাবছি… কেন আমরা তুলা যুক্তরাষ্ট্র থেকে কিনি না? এতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আমাদের বাণিজ্য ঘাটতি অনেক বেশি কমবে।”

চলতি অর্থ বছরে গত জুন থেকে, যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশ ৬ দশমিক ৮ বিলিয়ন ডলার মূল্যের পণ্য রপ্তানি করেছে। দেশটি থেকে আমদানি করেছে ২ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলারের পণ্য। যারমধ্যে তুলা ছিল ৩৬১ মিলিয়ন ডলারের।

বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ পোশাক উৎপাদনকারী হিসেবে বাংলাদেশ এ অর্থ বছরে ৭ দশমিক ৯ বিলিয়ন ডলারের তুলা কিনেছে। যার কিছু এসেছে মধ্য এশিয়ার উজবেকিস্তান ও তুর্কমেনিস্তান থেকে। সব মিলিয়ে এ অর্থ বছরে ঢাকা যত পণ্য আমদানি করেছে তার মধ্যে তুলাই ছিল ১২ দশমিক ৫ শতাংশ।

প্রধান উপদেষ্টা জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রে যারা তুলা উৎপাদন করে তাদের সঙ্গে বাংলাদেশের সখ্যতা তৈরি হয়েছে; যারা মার্কিন প্রশাসনে বাংলাদেশকে রাজনৈতিক সুবিধা দেয়। তিনি বলেন, “যুক্তরাষ্ট্রের তুলা উৎপাদনকারীরা আমাদের খুব ভালো বন্ধুতে পরিণত হয়েছে। তারা আমাদের মার্কিন প্রশাসনে কিছু রাজনৈতিক সুবিধা দেয়।”

অপরদিকে জ্বালানির ক্ষেত্রে বাংলাদেশ মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু এই পণ্যটিও যুক্তরাষ্ট্র থেকে কেনা যেতে পারে বলে মন্তব্য করেন প্রফেসর ইউনূস।

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কবে কখন বাণিজ্য নিয়ে আলোচনা হবে সেটির দিন-তারিখ এখনও নির্ধারণ হয়নি বলে জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা। এছাড়া শুল্ক কতটা ছাড় করানো যাবে সেটিও নিশ্চিত নয়। তবে ট্রাম্প বাড়তি শুল্ক আরোপের যে হুমকি দিয়েছেন সেটিকে ‘বাংলাদেশ হুমকি হিসেবে না দেখে সুযোগ হিসেবে দেখে’ বলেও জানান তিনি।

ড. ইউনূস এই সাক্ষাৎকার যখন দেন তখন যুক্তরাষ্ট্রের আন্তর্জাতিক বাণিজ্য আদালত ট্রাম্পের নতুন শুল্ক আরোপ কার্যকরের ওপর স্থগিতাদেশ দিয়েছেন। আদালত বলেছেন, সংবিধান অনুযায়ী বাণিজ্য নিয়ন্ত্রণের দায়িত্ব কংগ্রেসের। প্রেসিডেন্ট আইনসভার এই দায়িত্বকে অগ্রাহ্য করতে পারবেন না।

সাক্ষাৎকারে ড. ইউনূস বলেছেন, সাবেক স্বৈরাচার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আমলে বাংলাদেশ থেকে ২৩৪ বিলিয়ন ডলার পাচার হয়েছে। এছাড়া দেশের ভেতর লুটপাট হওয়া ১১ থেকে ১২ বিলিয়ন ডলার শনাক্ত ও সেগুলো বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে।

তিনি বলেন, যখন অন্তর্বর্তী সরকার এই অর্থগুলো উদ্ধার করতে পারবে তখন দুটি আলাদা ফান্ড গঠন করা হবে। যেগুলো থেকে শিক্ষা ও স্বাস্থ্যখাতে অর্থ দেওয়া হবে। এছাড়া গরীব মানুষকে উদ্যোক্তা বানিয়ে তাদের জীবন ‘বদলে’ দিতে এসব অর্থ কাজে লাগানো হবে।

এদিকে গত সপ্তাহে জানা যায়, ড. ইউনূস প্রধান উপদেষ্টার পদ থেকে পদত্যাগ করতে চেয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে নিক্কেই এশিয়াকে তিনি বলেন, “আমি বাংলাদেশে এ প্রশ্নের উত্তর দিইনি। যেহেতু আমি বাংলাদেশে এ নিয়ে কিছু বলিনি, যদি আমি এখন জাপানে এ ব্যাপারে বলি, তাহলে বিষয়টি আমার জন্য ঝামেলা সৃষ্টি করবে।”

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

জানালেন প্রধান উপদেষ্টা

যুক্তরাষ্ট্র থেকে তুলা ও তেল আমদানি বাড়াতে চায় বাংলাদেশ

আপডেট সময় : ১২:১৭:২৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ মে ২০২৫

বাংলাদেশি পণ্যের ওপর ওয়াশিংটনের ৩৭ শতাংশ শুল্ক আরোপের সিদ্ধান্তের পরিপ্রেক্ষিতে যুক্তরাষ্ট্র থেকে আরও বেশি তুলা ও তেল আমদানি করতে চায় ঢাকা। এই বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রকে ইতোমধ্যে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে প্রস্তাবও দেওয়া হয়েছে। এই প্রস্তাব ব্যবহার করে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে শুল্ক নিয়ে বাংলাদেশ আলোচনা করবে বলে জানিয়েছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস।

বৃহস্পতিবার (২৯ মে) জাপানে অনুষ্ঠিত নিক্কেই এশিয়া বৈঠকের ফাঁকে দেশটির সংবাদমাধ্যম নিক্কেই এশিয়াকে এসব তথ্য জানিয়েছেন প্রফেসর ইউনূস।

তিনি বলেন, “মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যেহেতু বিশ্বের প্রত্যেক দেশের সঙ্গে বাণিজ্য ঘাটতি কমাতে চান তাই আমরা এ প্রস্তাব দিয়েছি। যদি আমেরিকান পণ্য আরও বেশি কেনার প্রস্তাব গৃহীত হয় তাহলে বাংলাদেশ অন্যান্য দেশ থেকে এ পণ্য আমদানি কমিয়ে দেবে। আর যুক্তরাষ্ট্র থেকে বেশি করে আমদানি করবে।”

ড. ইউনূস বলেন, “উদাহরণ স্বরূপ, আমরা মধ্য এশিয়া থেকে প্রচুর তুলা কিনি। ভারত থেকে, অন্যান্য দেশ থেকে, এখন আমরা ভাবছি… কেন আমরা তুলা যুক্তরাষ্ট্র থেকে কিনি না? এতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আমাদের বাণিজ্য ঘাটতি অনেক বেশি কমবে।”

চলতি অর্থ বছরে গত জুন থেকে, যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশ ৬ দশমিক ৮ বিলিয়ন ডলার মূল্যের পণ্য রপ্তানি করেছে। দেশটি থেকে আমদানি করেছে ২ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলারের পণ্য। যারমধ্যে তুলা ছিল ৩৬১ মিলিয়ন ডলারের।

বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ পোশাক উৎপাদনকারী হিসেবে বাংলাদেশ এ অর্থ বছরে ৭ দশমিক ৯ বিলিয়ন ডলারের তুলা কিনেছে। যার কিছু এসেছে মধ্য এশিয়ার উজবেকিস্তান ও তুর্কমেনিস্তান থেকে। সব মিলিয়ে এ অর্থ বছরে ঢাকা যত পণ্য আমদানি করেছে তার মধ্যে তুলাই ছিল ১২ দশমিক ৫ শতাংশ।

প্রধান উপদেষ্টা জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রে যারা তুলা উৎপাদন করে তাদের সঙ্গে বাংলাদেশের সখ্যতা তৈরি হয়েছে; যারা মার্কিন প্রশাসনে বাংলাদেশকে রাজনৈতিক সুবিধা দেয়। তিনি বলেন, “যুক্তরাষ্ট্রের তুলা উৎপাদনকারীরা আমাদের খুব ভালো বন্ধুতে পরিণত হয়েছে। তারা আমাদের মার্কিন প্রশাসনে কিছু রাজনৈতিক সুবিধা দেয়।”

অপরদিকে জ্বালানির ক্ষেত্রে বাংলাদেশ মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু এই পণ্যটিও যুক্তরাষ্ট্র থেকে কেনা যেতে পারে বলে মন্তব্য করেন প্রফেসর ইউনূস।

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কবে কখন বাণিজ্য নিয়ে আলোচনা হবে সেটির দিন-তারিখ এখনও নির্ধারণ হয়নি বলে জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা। এছাড়া শুল্ক কতটা ছাড় করানো যাবে সেটিও নিশ্চিত নয়। তবে ট্রাম্প বাড়তি শুল্ক আরোপের যে হুমকি দিয়েছেন সেটিকে ‘বাংলাদেশ হুমকি হিসেবে না দেখে সুযোগ হিসেবে দেখে’ বলেও জানান তিনি।

ড. ইউনূস এই সাক্ষাৎকার যখন দেন তখন যুক্তরাষ্ট্রের আন্তর্জাতিক বাণিজ্য আদালত ট্রাম্পের নতুন শুল্ক আরোপ কার্যকরের ওপর স্থগিতাদেশ দিয়েছেন। আদালত বলেছেন, সংবিধান অনুযায়ী বাণিজ্য নিয়ন্ত্রণের দায়িত্ব কংগ্রেসের। প্রেসিডেন্ট আইনসভার এই দায়িত্বকে অগ্রাহ্য করতে পারবেন না।

সাক্ষাৎকারে ড. ইউনূস বলেছেন, সাবেক স্বৈরাচার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আমলে বাংলাদেশ থেকে ২৩৪ বিলিয়ন ডলার পাচার হয়েছে। এছাড়া দেশের ভেতর লুটপাট হওয়া ১১ থেকে ১২ বিলিয়ন ডলার শনাক্ত ও সেগুলো বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে।

তিনি বলেন, যখন অন্তর্বর্তী সরকার এই অর্থগুলো উদ্ধার করতে পারবে তখন দুটি আলাদা ফান্ড গঠন করা হবে। যেগুলো থেকে শিক্ষা ও স্বাস্থ্যখাতে অর্থ দেওয়া হবে। এছাড়া গরীব মানুষকে উদ্যোক্তা বানিয়ে তাদের জীবন ‘বদলে’ দিতে এসব অর্থ কাজে লাগানো হবে।

এদিকে গত সপ্তাহে জানা যায়, ড. ইউনূস প্রধান উপদেষ্টার পদ থেকে পদত্যাগ করতে চেয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে নিক্কেই এশিয়াকে তিনি বলেন, “আমি বাংলাদেশে এ প্রশ্নের উত্তর দিইনি। যেহেতু আমি বাংলাদেশে এ নিয়ে কিছু বলিনি, যদি আমি এখন জাপানে এ ব্যাপারে বলি, তাহলে বিষয়টি আমার জন্য ঝামেলা সৃষ্টি করবে।”