ময়মনসিংহে পরিবহন সেক্টরে অস্থিরতা, ক্ষোভে সাধারণ বাস মালিকরা
- আপডেট সময় : ০৩:৪৪:৩৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৫
- / 109
ময়মনসিংহে পছন্দমতো রুট না পাওয়া, ইউনাইটেড ব্যানার থেকে বাস সরিয়ে দেওয়া, স্থানীয় মালিকদের তুলনায় ঢাকার মালিকদের তিনগুণ বেশি বাস চলাচল, নেতাদের পছন্দমতো কর্মচারী নিয়োগসহ নানা অনিয়ম ও বৈষম্যের অভিযোগে পরিবহন সেক্টরে অস্থিরতা বিরাজ করছে। এসব কারণে সাধারণ ও বঞ্চিত বাস মালিকদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।
শনিবার (২৫ অক্টোবর) বিকেলে নগরীর শাহজাহান সেন্টারে “যাত্রীসেবার মান উন্নয়ন, যানজট নিরসন ও পরিবহন ব্যবসার উন্নয়ন” শীর্ষক এক আলোচনা সভায় এসব অভিযোগ তুলে ধরেন বাস মালিকরা। সভায় তারা জিলা মোটর মালিক সমিতির বর্তমান নেতৃত্বের বিরুদ্ধে বৈষম্যমূলক আচরণের অভিযোগ এনে নেতৃত্ব পরিবর্তনের দাবি জানান।
সভায় বাস মালিক মো. সাইফুল ইসলাম অভিযোগ করেন,
“আমার একটি বাস ইউনাইটেড ব্যানারে ঢাকা-ময়মনসিংহ রুটে চলতো, কিন্তু বর্তমান কমিটি সেটি সরিয়ে দিয়েছে। আমার মতো আরও অনেক মালিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।”
অন্য মালিক মো. বিল্লাল হোসেন বলেন,
“মালিক হয়েও আমরা নির্যাতিত। নিয়মিত চাঁদা দিলেও কোনো কল্যাণ ফান্ড নেই। নেতাদের ইচ্ছামতো সমিতি চলছে—সাধারণ মালিকদের কথা কেউ ভাবছে না।”
পরিবহন ব্যবসায়ী গোলাম শাহরিয়ার শরীফ জানান,
“ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে প্রায় ৭০টি বাস চলছে, এর মধ্যে মাত্র ২৩টি ময়মনসিংহের মালিকদের, বাকি সব ঢাকার। আগে এমন ছিল না, এখন আমাদের বঞ্চিত করা হচ্ছে।”
বাস মালিক তোফাজ্জল হোসেন বলেন,
“বর্তমান নেতৃত্বের কারণে সাধারণ মালিকরা ব্যবসা করতে পারছে না। নিয়ম-নীতি উপেক্ষা করে শ্যামলা ছায়া পরিবহন অবৈধভাবে চলছে। পরিবহন সেক্টরকে টিকিয়ে রাখতে মালিকবান্ধব নেতা এনামুল হক আকন্দ লিটনকে নেতৃত্বে আনা দরকার।”
মো. ফখরুদ্দিন মুন্না অভিযোগ করেন,
“অযোগ্য নেতৃত্বে পরিবহন সেক্টরের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ হচ্ছে। দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞ ব্যবসায়ীদের মূল্যায়ন করা হচ্ছে না। যোগ্য নেতৃত্ব ছাড়া এই অবস্থা থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব নয়।”
গৌরীপুর উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান ও পরিবহন ব্যবসায়ী তানজিল চৌধুরী লিলি বলেন,
“যেকোনো প্রতিষ্ঠানের জন্য যোগ্য নেতৃত্ব প্রয়োজন। আমরা মালিকবান্ধব সমিতি গড়তে চাই, যাতে কেউ হয়রানির শিকার না হন।”
তিনি আরও প্রস্তাব দেন, বাস মালিকদের কাছ থেকে মাসিক চাঁদা নিয়ে একটি কল্যাণ তহবিল গঠন করা হোক।
কোতোয়ালি কৃষক দলের সভাপতি ও বাস মালিক মাসুদুর রহমান নির্ভিক বলেন,
“বর্তমান কমিটির ব্যর্থতার কারণে সাধারণ মালিকদের কথা শুনছে না শ্রমিকরা। নেতাদের পছন্দমতো কর্মচারী নিয়োগ দেওয়ায় শ্রমিক-মালিক সম্পর্কের অবনতি ঘটেছে, এতে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে ব্যবসায়ী সমাজ।”
সভায় সভাপতির বক্তব্যে ময়মনসিংহ মহানগর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক এনামুল হক আকন্দ লিটন বলেন,
“নেতৃত্ব বড় বিষয় নয়, আমরা সাধারণ মালিকদের কল্যাণে কাজ করতে চাই। অনেক মালিক রোড পাচ্ছেন না, তাই নতুন সংগঠন গঠনের বিষয়ে আমরা চিন্তাভাবনা করছি।”
তিনি আরও বলেন,
“ঢাকার মালিকদের অতিরিক্ত বাস চলাচলের বিষয়টি কেন্দ্রীয় পর্যায়ে আলোচনা করে সমাধানের চেষ্টা করব।”
সভাটি সঞ্চালনা করেন পরিবহন নেতা মো. রফিকুল আলম শামীম। উপস্থিত ছিলেন ব্যবসায়ী নেতা নাজিম উদ্দিন খান, তিতুমীর সরকার, খোরশেদ আলমসহ শতাধিক বাস মালিক।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে ময়মনসিংহ জিলা মোটর মালিক সমিতির সভাপতি ও দক্ষিণ জেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আলমগীর মাহমুদ আলম বলেন,
“সারা দেশেই পরিবহন সেক্টরে সংস্কার দরকার। তবে সংস্কার আনতে হবে মালিক-শ্রমিকদের ঐকমত্যে। আমরা চেষ্টা করছি সবার কল্যাণে কাজ করতে, কিন্তু নির্বাচিত সরকার ছাড়া এটি পূর্ণভাবে সম্ভব নয়, কারণ নিয়ন্ত্রণ ক্ষমতা কেন্দ্রীয় ফেডারেশনের হাতে।”



















