চালু হচ্ছে এনইআইআর সিস্টেম: বন্ধ হবে অবৈধ মোবাইল ফোনের ব্যবহার
- আপডেট সময় : ১০:৪৬:২৩ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৫
- / 254
অবৈধ মোবাইল হ্যান্ডসেটের ব্যবহার রোধ ও টেলিযোগাযোগ খাতে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আগামী ১৬ ডিসেম্বর চালু হচ্ছে ন্যাশনাল ইক্যুইপমেন্ট আইডেন্টিটি রেজিস্টার (এনইআইআর) সিস্টেম। এর মাধ্যমে দেশের নেটওয়ার্কে নিবন্ধনবিহীন বা আনঅফিসিয়াল মোবাইল সেটের ব্যবহার সম্পূর্ণভাবে বন্ধ হবে বলে আশা করছে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি)।
বুধবার (২৯ অক্টোবর) বিটিআরসির বোর্ডরুমে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব।
তিনি বলেন, “এনইআইআর চালুর মাধ্যমে দেশের টেলিযোগাযোগ খাতে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা হবে।”
এই কেন্দ্রীয় ব্যবস্থার মাধ্যমে প্রতিটি মোবাইল হ্যান্ডসেটের আন্তর্জাতিকভাবে অনুমোদিত আইএমইআই নম্বর ব্যবহারকারীর জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) ও ব্যবহৃত সিমের সঙ্গে যুক্ত হয়ে নিবন্ধিত হবে। ফলে বৈধ ও অবৈধ হ্যান্ডসেট সহজেই শনাক্ত করা সম্ভব হবে।
ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব জানান, এই ব্যবস্থা চালু হলে অবৈধভাবে আমদানিকৃত বা নকল ফোনের ব্যবহার সম্পূর্ণরূপে বন্ধ হবে। এর ফলে সরকার প্রতি বছর বিপুল পরিমাণ রাজস্ব ক্ষতি থেকে রক্ষা পাবে, দেশীয় মোবাইল উৎপাদন শিল্প আরও সুরক্ষিত হবে এবং চুরি বা অপরাধে ব্যবহৃত ডিভাইস দ্রুত শনাক্ত ও ব্লক করা সম্ভব হবে।
তিনি আরও বলেন, “এনইআইআর শুধু একটি প্রযুক্তিগত উদ্যোগ নয়, এটি নাগরিক নিরাপত্তা, রাষ্ট্রীয় শৃঙ্খলা ও টেলিযোগাযোগ খাতের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার একটি জাতীয় অঙ্গীকার।”
বিটিআরসির পাশাপাশি দেশের চারটি মোবাইল অপারেটর— গ্রামীণফোন, রবি আজিয়াটা, বাংলালিংক ও টেলিটক বাংলাদেশ— নিজেদের ইক্যুইপমেন্ট আইডেন্টিটি রেজিস্টার (ইআইআর) সিস্টেম উন্নয়নে কাজ করছে।
ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব আরও জানান, এনইআইআর চালুর ফলে মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস) জালিয়াতি, সিম প্রতারণা ও স্ক্যাম কার্যকরভাবে রোধ করা যাবে। একই সঙ্গে ইকেওয়াইসি যাচাই আরও শক্তিশালী হবে, টেলিকম খাতের নিরাপত্তা ও রাজস্ব আদায় উভয়ই বাড়বে।
তিনি বলেন, “১৬ ডিসেম্বর থেকে বাংলাদেশের টেলিকম খাত একটি নতুন, নিরাপদ ও স্বচ্ছ যুগে প্রবেশ করবে। সবাইকে বৈধ হ্যান্ডসেট ব্যবহারে উৎসাহিত করুন।”
সংবাদ সম্মেলনে বিটিআরসি চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) এমদাদ উল বারীসহ অন্যান্য কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।




















