ময়মনসিংহ–শেরপুর সীমান্তে বিজিবির টানা অভিযানে কোটি টাকার চোরাচালানী মালামাল জব্দ
- আপডেট সময় : ০৯:০০:১৬ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২০ নভেম্বর ২০২৫
- / 106
কাভার্ডভ্যান–ইজিবাইকসহ একাধিক রুটে অভিযান, কঠোর নজরদারিতে ৩৯ বিজিবি
ময়মনসিংহ ব্যাটালিয়ন (৩৯ বিজিবি)-এর ধারাবাহিক বিশেষ অভিযানে শেরপুর ও ময়মনসিংহ সীমান্ত অঞ্চল আবারও চোরাচালানবিরোধী কঠোর নজরদারির আওতায় এসেছে। টানা দুইদিনের পৃথক অভিযানে প্রায় এক কোটি টাকার ভারতীয় চোরাচালানী পণ্য, একটি কাভার্ডভ্যান এবং একটি ব্যাটারিচালিত ইজিবাইক জব্দ করেছে টহল দল। এতে সীমান্তজুড়ে চোরাকারবারিদের মাঝে ব্যাপক আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
বিজিবি সূত্রে জানা যায়, সীমান্ত এলাকার বিভিন্ন রুট ব্যবহার করে চোরাকারবারিরা দীর্ঘদিন ধরে ভারতীয় পণ্য পাচারের চেষ্টা চালিয়ে আসছিল। সম্প্রতি তথ্য পাওয়ার পর ১৯ ও ২০ নভেম্বর টানা অভিযান চালানো হয় নালিতাবাড়ীর নাকুগাঁও স্থলবন্দর, শ্রীবরদীর রাজাপাহাড় এলাকা এবং হালুয়াঘাটের পূর্ব গোবরাকুড়া–গাবরাখালী সীমান্ত পথজুড়ে।
এই সকল রুট দিয়ে ভারতীয় কম্বল, প্যান্টের কাপড়, হোয়াইট বিউটি ফেসওয়াশ, ডাব সাবানসহ বিভিন্ন প্রসাধনী ও দৈনন্দিন ব্যবহার্য পণ্য, এমনকি গরু পাচারের চেষ্টাও চলছিল বলে জানায় বিজিবি।
অভিযানে উদ্ধার হওয়া পণ্য ও যানবাহনের সরকারি মূল্য নির্ধারণ হয় ৭১ লাখ ৬ হাজার ৬০০ টাকা।
৩৯ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল মেহেদী হাসান জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে প্রতিটি অভিযান পরিচালিত হয়েছে এবং টহল দল অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে চোরাচালানের রুটগুলোতে নজরদারি অব্যাহত রেখেছে।
তিনি বলেন, “সীমান্ত এলাকায় চোরাচালান, মাদক এবং অবৈধ অনুপ্রবেশ রোধে বিজিবি ২৪ ঘণ্টা সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। আমাদের কঠোর অভিযান ও নজরদারি ভবিষ্যতেও জোরদারভাবে চলবে।”
স্থানীয় সূত্র বলছে, চোরাকারবারিরা এখন ট্রাক, কাভার্ডভ্যান, ইজিবাইকের মত বিভিন্ন ছোট–বড় যানবাহন ব্যবহার করে সীমান্ত পথে দ্রুত পণ্য সরানোর চেষ্টা করছে। কিন্তু ৩৯ বিজিবি সম্প্রতি নজরদারি পদ্ধতি আরও কঠোর করায় এসব যানবাহনও সহজে নজর এড়াতে পারছে না।
অতীতের তুলনায় বিজিবির আধুনিক টহল ব্যবস্থা, সিকিউরিটি নেটওয়ার্ক ও তথ্য সংগ্রহ প্রক্রিয়া আরও শক্তিশালী হওয়ায় সীমান্তে চোরাচালান দমনে দৃশ্যমান সাফল্য এসেছে।
অভিযান বাড়ায় সীমান্ত এলাকায় বসবাসকারী সাধারণ মানুষ স্বস্তি প্রকাশ করেছেন। তাদের মতে, দীর্ঘদিন ধরে এই সীমান্ত রুটগুলো দিয়ে চোরাচালান, মাদক পরিবহন ও অনুপ্রবেশের কারণে এলাকাজুড়ে একটি অস্থির পরিবেশ তৈরি হয়েছিল।
কিন্তু সর্বশেষ টানা অভিযানের ফলে চোরাকারবারিদের কার্যক্রম অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে এসেছে।




















