ঢাকা ০৭:২৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
দক্ষিণ কেরানীগঞ্জে দুই কিশোরীকে ধর্ষণের অভিযোগ, পুলিশের সোর্স সাগর গ্রেপ্তার নবাবগঞ্জে ডিবি পুলিশের অভিযানে ইয়াবাসহ ৩ জন গ্রেপ্তার। আইইডিসিআর-এর পরিচালককে নিজ কার্যালয়ে মারধরের অভিযোগ আট বিভাগে বৃষ্টির আভাস, কমবে তাপমাত্রা এসআরবি-১৪, সিপিএসসি, ময়মনসিংহ এর পৃথক অভিযানে হত্যা ও অপহরণ মামলার ০২ আসামি গ্রেফতার। পুরান ঢাকায় এক পঙ্গু হতদরিদ্র ব্যক্তিকে হুইলচেয়ার উপহার দিলো ছাত্রদল নেতারা  হযরতপুরে চাচা হাজী দুঃখ মিয়া বিরুদ্ধে জাল দলিল ও জমি দখলের অভিযোগ তুলেছে ভাতিজা আলা. পুরান ঢাকার সফল সংগঠক মোস্তাকের জন্মদিন পালিত কেরানীগঞ্জে ডিবি পুলিশের অভিযানে ৫০ পিস ইয়াবাসহ একজন গ্রেপ্তার জেলা প্রশাসকের সঙ্গে অতুল বসাকের মতবিনিময়, রামরাই বিনোদন পার্কের প্রাচীর নির্মাণ নিয়ে আলোচনা

অলিম্পিক কমপ্লেক্সের ভিত্তিপ্রস্থর উদ্বোধন করলেন সেনাপ্রধান

অনলাইন ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ০৫:৫৫:২০ অপরাহ্ন, রবিবার, ১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • / 210
আজকের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

ময়মনসিংহের ত্রিশালের চেলের ঘাট এলাকায় ১৭৩ একর জমির মধ্যে অলিম্পিক কমপ্লেক্সের ভিত্তিপ্রস্থর উদ্বোধন করেছেন সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার উজ জামান। আগামী দিনে এই অলিম্পিক কমপ্লেক্স আন্তর্জাতিক ভেন্যুতে রূপান্তরিত হবে বলেও তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

রোববার (১ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে আনুষ্ঠানিকভাবে তিনি এই কমপ্লেক্স উদ্বোধন করেন।

এর আগে, এই অলিম্পিক কমপ্লেক্সের আদ্যোপান্ত তুলে ধরে জেনারেল ওয়াকার উজ জামান বলেন, আমরা অনেকদিন ধরে অলিম্পিক কমপ্লেক্সের স্বপ্ন দেখছি। বিভিন্ন স্থানে আমরা জায়গা দেখেছি, কিন্তু বিভিন্ন কারণে তা বাস্তবায়ন করা যায়নি। তারপর আমি ত্রিশালের স্পোর্টস স্কুল এলাকায় আলিম্পিক ভিলেজ করার সিদ্ধান্ত নিই। এখানে সব ধরনের সুবিধা সহজেই পাওয়া যাবে। এতে আমরা জাতীয় পর্যায়ে ক্রীড়ায় ভালো অবদান রাখতে পারবো। পাশাপাশি এখানে জাতীয় এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ের প্রতিযোগিতা করবো। এতে সেনাবাহিনী এবং অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশনের মধ্যে একটা যৌথ প্রচেষ্টা থাকবে। এখানে জাতীয় এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ের সব প্রতিযোগিতা অগ্রাধিকার পাবে। দেশী ক্রীড়াবিদরাও এখানে নিয়মিত প্রশিক্ষণ নিতে পারবেন।

সেনাপ্রধান আরও বলেন, আমাদের স্বপ্ন অনেক বড়। আপনারা ইতোমধ্যে জেনেছেন, কী অবকাঠামো এতে থাকবে। এর জন্য প্রচুর অর্থ প্রয়োজন। আমরা এক মাসের মধ্যে জমি কিনে এটার সূচনা করেছি। এ জন্য চব্বিশ কন্সস্ট্রাকশন বিগ্রেড এবং জিওসি ১৯ পদাতিক ডিভিশনকে আমি ধন্যবাদ জানাচ্ছি, তারা সুন্দরভাবে এই কাজটা করেছে। কিন্তু এখানে অনেক কাজ আছে, এটার জন্য প্রচুর অর্থের প্রয়োজন হবে। যত তাড়াতাড়ি আমরা অর্থ পাব, তত তাড়াতাড়ি কমপ্লেক্সে তৈরি হবে। কনস্ট্রাকশন বিগ্রেড রেডি আছে, আর্কিটেকও নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। বাইরের পরামর্শক এবং আর্কিটেকরাও এসেছেন, সবকিছুই সেট। যেখান থেকেই হোক এই টাকার যোগান দিতে হবে। বিভিন্ন ব্যাংকের মালিকরাও আছেন, তারাও টাকা দেবেন। মধ্যপাচ্য থেকেও টাকা আনার জন্য অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশন কাজ করবে বলে আমি আশা করছি।

ওয়াকার উজ জামান বলেন, অলিম্পিক কমপ্লেক্সে জাতীয় পর্যায়ের একটি বড় কাজ। আমাদের যারা তরুণ প্রজন্ম আছে, যুবক-যুবতি যারা আছে। তাদের বেশি বেশি করে আমরা খেলাধুলার সঙ্গে সম্পৃক্ত করতে চাইছি। এতে চরিত্র গঠনের একটি বিশাল কাজ হবে, বলে আমি বিশ্বাস করি। আমি জীবনে কোনো ক্রীড়াবিদকে খারাপ কাজে জড়িত হতে দেখিনি, এটাই খেলাধুলার মাহাত্ম্য। কোনো ক্রীড়াবিদ কখনো নেশা করে না। এজন্য আমি মনে করি দেশের তরুণ প্রজন্মের চরিত্র গঠনের জন্য খেলাধুলা অতিব গুরুত্বপূর্ণ। এতে সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধি করা হলে তরুণ প্রজন্মেরও খেলাধুলায় আগ্রহের কোনো কমতি থাকবে না। সমস্যা হলো, আমাদের সুযোগ-সুবিধা নেই, পরিবেশ নেই। কিন্তু এই অলিম্পিক কমপ্লেক্স তৈরি হলে এখানে খেলাধুলার সুন্দর একটি পরিবেশ সৃষ্টি হবে। এতে থাকবে আবাসিক এবং প্রশিক্ষণের সুযোগ। পাশাপাশি এই অলিম্পিক কমপ্লেক্সের সঙ্গে যদি একটি শাটল ট্রেনের ব্যবস্থা করা যায়, তাহলে যাতায়ত সুবিধা আরও বেড়ে যাবে। আমরা স্বপ্ন দেখেছি, স্বপ্ন দেখানোর চেষ্টা করছি। ইনশাল্লাহ, কাজ শুরু হয়ে গেছে, এক সময় এটার কাজ শেষ হবে। তখন এটা হবে দেশ এবং জাতীর জন্য একটি বড় কাজ। এক দিন এই অলিম্পিক কমপ্লেক্স আর্ন্তজাতিক ভেন্যুতে রূপান্তরিত হবে। এশিয়ান গেইসের মতো বড় বড় খেলা এখানে অনুষ্ঠিত হবে।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সচিব মাহাবুবুল আলম, বাংলাদেশ অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশনের মহাসচিব জোবায়দুর রহমান রানা, অলিম্পিক কমপ্লেক্স প্রকল্পের পরিচালক কর্নেল কুতুব প্রমুখ। এ সময় উপস্থিত সবার উদ্দেশে একটি স্বচিত্র প্রতিবেদনের মাধ্যমে নির্মাণাধীন এই অলিম্পিক্স কমপ্লেক্সের নানাদিক তুলে ধরা হয়।

এর আগে, এদিন সকাল ১০টায় সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার উজ জামান ময়মনসিংহ নগরীর সার্কিট হাউজ মাঠে হেলিকপ্টারে অবতরণ করেন। এরপর তিনি ময়মনসিংহ বিভাগীয় প্রশাসনের কর্মকর্তাদের সঙ্গে এক নির্বাচনী মতবিনিময় সভায় মিলিত হন। সেখান থেকে সেনাপ্রধান হেলিকপ্টার যোগে ত্রিশালের সেনা প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে গিয়ে সেনা সদস্যসদের সালাম গ্রহণ করে তাদের উদ্দেশে বক্তব্য দেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

অলিম্পিক কমপ্লেক্সের ভিত্তিপ্রস্থর উদ্বোধন করলেন সেনাপ্রধান

আপডেট সময় : ০৫:৫৫:২০ অপরাহ্ন, রবিবার, ১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

ময়মনসিংহের ত্রিশালের চেলের ঘাট এলাকায় ১৭৩ একর জমির মধ্যে অলিম্পিক কমপ্লেক্সের ভিত্তিপ্রস্থর উদ্বোধন করেছেন সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার উজ জামান। আগামী দিনে এই অলিম্পিক কমপ্লেক্স আন্তর্জাতিক ভেন্যুতে রূপান্তরিত হবে বলেও তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

রোববার (১ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে আনুষ্ঠানিকভাবে তিনি এই কমপ্লেক্স উদ্বোধন করেন।

এর আগে, এই অলিম্পিক কমপ্লেক্সের আদ্যোপান্ত তুলে ধরে জেনারেল ওয়াকার উজ জামান বলেন, আমরা অনেকদিন ধরে অলিম্পিক কমপ্লেক্সের স্বপ্ন দেখছি। বিভিন্ন স্থানে আমরা জায়গা দেখেছি, কিন্তু বিভিন্ন কারণে তা বাস্তবায়ন করা যায়নি। তারপর আমি ত্রিশালের স্পোর্টস স্কুল এলাকায় আলিম্পিক ভিলেজ করার সিদ্ধান্ত নিই। এখানে সব ধরনের সুবিধা সহজেই পাওয়া যাবে। এতে আমরা জাতীয় পর্যায়ে ক্রীড়ায় ভালো অবদান রাখতে পারবো। পাশাপাশি এখানে জাতীয় এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ের প্রতিযোগিতা করবো। এতে সেনাবাহিনী এবং অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশনের মধ্যে একটা যৌথ প্রচেষ্টা থাকবে। এখানে জাতীয় এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ের সব প্রতিযোগিতা অগ্রাধিকার পাবে। দেশী ক্রীড়াবিদরাও এখানে নিয়মিত প্রশিক্ষণ নিতে পারবেন।

সেনাপ্রধান আরও বলেন, আমাদের স্বপ্ন অনেক বড়। আপনারা ইতোমধ্যে জেনেছেন, কী অবকাঠামো এতে থাকবে। এর জন্য প্রচুর অর্থ প্রয়োজন। আমরা এক মাসের মধ্যে জমি কিনে এটার সূচনা করেছি। এ জন্য চব্বিশ কন্সস্ট্রাকশন বিগ্রেড এবং জিওসি ১৯ পদাতিক ডিভিশনকে আমি ধন্যবাদ জানাচ্ছি, তারা সুন্দরভাবে এই কাজটা করেছে। কিন্তু এখানে অনেক কাজ আছে, এটার জন্য প্রচুর অর্থের প্রয়োজন হবে। যত তাড়াতাড়ি আমরা অর্থ পাব, তত তাড়াতাড়ি কমপ্লেক্সে তৈরি হবে। কনস্ট্রাকশন বিগ্রেড রেডি আছে, আর্কিটেকও নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। বাইরের পরামর্শক এবং আর্কিটেকরাও এসেছেন, সবকিছুই সেট। যেখান থেকেই হোক এই টাকার যোগান দিতে হবে। বিভিন্ন ব্যাংকের মালিকরাও আছেন, তারাও টাকা দেবেন। মধ্যপাচ্য থেকেও টাকা আনার জন্য অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশন কাজ করবে বলে আমি আশা করছি।

ওয়াকার উজ জামান বলেন, অলিম্পিক কমপ্লেক্সে জাতীয় পর্যায়ের একটি বড় কাজ। আমাদের যারা তরুণ প্রজন্ম আছে, যুবক-যুবতি যারা আছে। তাদের বেশি বেশি করে আমরা খেলাধুলার সঙ্গে সম্পৃক্ত করতে চাইছি। এতে চরিত্র গঠনের একটি বিশাল কাজ হবে, বলে আমি বিশ্বাস করি। আমি জীবনে কোনো ক্রীড়াবিদকে খারাপ কাজে জড়িত হতে দেখিনি, এটাই খেলাধুলার মাহাত্ম্য। কোনো ক্রীড়াবিদ কখনো নেশা করে না। এজন্য আমি মনে করি দেশের তরুণ প্রজন্মের চরিত্র গঠনের জন্য খেলাধুলা অতিব গুরুত্বপূর্ণ। এতে সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধি করা হলে তরুণ প্রজন্মেরও খেলাধুলায় আগ্রহের কোনো কমতি থাকবে না। সমস্যা হলো, আমাদের সুযোগ-সুবিধা নেই, পরিবেশ নেই। কিন্তু এই অলিম্পিক কমপ্লেক্স তৈরি হলে এখানে খেলাধুলার সুন্দর একটি পরিবেশ সৃষ্টি হবে। এতে থাকবে আবাসিক এবং প্রশিক্ষণের সুযোগ। পাশাপাশি এই অলিম্পিক কমপ্লেক্সের সঙ্গে যদি একটি শাটল ট্রেনের ব্যবস্থা করা যায়, তাহলে যাতায়ত সুবিধা আরও বেড়ে যাবে। আমরা স্বপ্ন দেখেছি, স্বপ্ন দেখানোর চেষ্টা করছি। ইনশাল্লাহ, কাজ শুরু হয়ে গেছে, এক সময় এটার কাজ শেষ হবে। তখন এটা হবে দেশ এবং জাতীর জন্য একটি বড় কাজ। এক দিন এই অলিম্পিক কমপ্লেক্স আর্ন্তজাতিক ভেন্যুতে রূপান্তরিত হবে। এশিয়ান গেইসের মতো বড় বড় খেলা এখানে অনুষ্ঠিত হবে।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সচিব মাহাবুবুল আলম, বাংলাদেশ অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশনের মহাসচিব জোবায়দুর রহমান রানা, অলিম্পিক কমপ্লেক্স প্রকল্পের পরিচালক কর্নেল কুতুব প্রমুখ। এ সময় উপস্থিত সবার উদ্দেশে একটি স্বচিত্র প্রতিবেদনের মাধ্যমে নির্মাণাধীন এই অলিম্পিক্স কমপ্লেক্সের নানাদিক তুলে ধরা হয়।

এর আগে, এদিন সকাল ১০টায় সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার উজ জামান ময়মনসিংহ নগরীর সার্কিট হাউজ মাঠে হেলিকপ্টারে অবতরণ করেন। এরপর তিনি ময়মনসিংহ বিভাগীয় প্রশাসনের কর্মকর্তাদের সঙ্গে এক নির্বাচনী মতবিনিময় সভায় মিলিত হন। সেখান থেকে সেনাপ্রধান হেলিকপ্টার যোগে ত্রিশালের সেনা প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে গিয়ে সেনা সদস্যসদের সালাম গ্রহণ করে তাদের উদ্দেশে বক্তব্য দেন।