ঢাকা ০২:০২ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
মালয়েশিয়ায় আন্তর্জাতিক সম্মেলনে ‘গ্লোবাল এক্সিলেন্স লিডারশিপ অ্যাওয়ার্ড ২০২৬’ পেলেন সংগীতশিল্পী লায়ন মো. ওমর ফারুক দক্ষিণ কেরানীগঞ্জে দুই কিশোরীকে ধর্ষণের অভিযোগ, পুলিশের সোর্স সাগর গ্রেপ্তার নবাবগঞ্জে ডিবি পুলিশের অভিযানে ইয়াবাসহ ৩ জন গ্রেপ্তার। আইইডিসিআর-এর পরিচালককে নিজ কার্যালয়ে মারধরের অভিযোগ আট বিভাগে বৃষ্টির আভাস, কমবে তাপমাত্রা এসআরবি-১৪, সিপিএসসি, ময়মনসিংহ এর পৃথক অভিযানে হত্যা ও অপহরণ মামলার ০২ আসামি গ্রেফতার। পুরান ঢাকায় এক পঙ্গু হতদরিদ্র ব্যক্তিকে হুইলচেয়ার উপহার দিলো ছাত্রদল নেতারা  হযরতপুরে চাচা হাজী দুঃখ মিয়া বিরুদ্ধে জাল দলিল ও জমি দখলের অভিযোগ তুলেছে ভাতিজা আলা. পুরান ঢাকার সফল সংগঠক মোস্তাকের জন্মদিন পালিত কেরানীগঞ্জে ডিবি পুলিশের অভিযানে ৫০ পিস ইয়াবাসহ একজন গ্রেপ্তার

হাজারো প্রাণের আত্মত্যাগের বিনিময়ে আমরা একটি দায়বদ্ধ সংসদ পেয়েছি: প্রধানমন্ত্রী

অনলাইন ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ০২:৩০:০৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১২ মার্চ ২০২৬
  • / 156
আজকের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

দীর্ঘ দেড় দশকের দুঃশাসন ও ফ্যাসিবাদের অবসান ঘটিয়ে জনগণের ভোটে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের নিয়ে গঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের যাত্রা শুরু হয়েছে। এই ঐতিহাসিক মুহূর্তে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, এখন থেকে জাতীয় সংসদ হবে দেশের সব যুক্তি-তর্ক ও জাতীয় সমস্যা সমাধানের মূল কেন্দ্রবিন্দু।

বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে দেওয়া বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। এর আগে স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকারের অনুপস্থিতিতে সংসদের কার্যপ্রণালি বিধি অনুযায়ী প্রবীণ রাজনীতিবিদ ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন-এর নাম অধিবেশনের সভাপতি হিসেবে প্রস্তাব করেন প্রধানমন্ত্রী।

বক্তৃতার শুরুতে প্রধানমন্ত্রী ১৯৭১ সালের স্বাধীনতা যুদ্ধ থেকে শুরু করে ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে শহীদদের গভীর কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করেন। তিনি বলেন, ফ্যাসিবাদের নির্মমতার শিকার অসংখ্য মানুষের কান্না এবং হাজারো প্রাণের আত্মত্যাগের বিনিময়ে আজ দেশ একটি দায়বদ্ধ সংসদ পেয়েছে। যারা গুম, খুন এবং আয়নাঘরের মতো নির্মম নির্যাতনের শিকার হয়েছেন, তাদের সাহসিকতার ফলেই দেশে গণতন্ত্র ফিরে এসেছে।

সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া-কে সংসদীয় গণতন্ত্রের অগ্রদূত হিসেবে উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, দেশনেত্রী খালেদা জিয়া সংসদীয় গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিয়েছিলেন। কিন্তু বিগত শাসনামলে সেই সংসদকে প্রহসনে পরিণত করা হয়েছিল। তিনি আপসহীনভাবে গণতন্ত্রের জন্য লড়াই করেছেন, তবে এই ঐতিহাসিক মুহূর্তটি দেখে যেতে পারেননি। আমরা তাকে গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করছি।

একইসঙ্গে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান-এর উক্তি তুলে ধরে তিনি বলেন, “জনগণই যদি রাজনৈতিক দল হয়, তবে আমি সেই দলেই আছি।” ব্যক্তি বা দলের চেয়ে জনগণের স্বার্থই বড়—এটাই বিএনপির মূল দর্শন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, তিনি দলীয়ভাবে নির্বাচিত হলেও প্রধানমন্ত্রী হিসেবে এই সংসদে পুরো দেশের প্রতিনিধিত্ব করছেন। রাজনৈতিক কর্মসূচিতে ভিন্নতা থাকতে পারে, কিন্তু একটি সার্বভৌম, নিরাপদ ও স্বনির্ভর বাংলাদেশ গড়ে তোলার প্রশ্নে সবার ঐক্য থাকা জরুরি। প্রতিটি পরিবারকে স্বনির্ভর করার মাধ্যমে সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়তে তিনি সংসদ সদস্যদের সহযোগিতা কামনা করেন।

বর্তমান সংসদের বিশেষ পরিস্থিতি তুলে ধরে তিনি বলেন, বিগত সরকারের জনবিরোধী কর্মকাণ্ডের কারণে সৃষ্ট জনরোষে সাবেক স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকারদের কাউকেই খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না; তারা হয় কারাগারে, না হয় পলাতক।

সংকটকালীন এই অধিবেশনে সভাপতিত্বের প্রস্তাব প্রসঙ্গে তিনি ১৯৭৩ সালের উদাহরণ টেনে বলেন, সে সময় তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ মুজিবুর রহমান মাওলানা আব্দুর রশিদ তর্কবাগীশ-এর নাম প্রস্তাব করেছিলেন। আজকের এই নজিরবিহীন পরিস্থিতিতে প্রবীণ সংসদ সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেনের সভাপতিত্বে সংসদের কার্যক্রম শুরু করা হচ্ছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

হাজারো প্রাণের আত্মত্যাগের বিনিময়ে আমরা একটি দায়বদ্ধ সংসদ পেয়েছি: প্রধানমন্ত্রী

আপডেট সময় : ০২:৩০:০৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১২ মার্চ ২০২৬

দীর্ঘ দেড় দশকের দুঃশাসন ও ফ্যাসিবাদের অবসান ঘটিয়ে জনগণের ভোটে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের নিয়ে গঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের যাত্রা শুরু হয়েছে। এই ঐতিহাসিক মুহূর্তে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, এখন থেকে জাতীয় সংসদ হবে দেশের সব যুক্তি-তর্ক ও জাতীয় সমস্যা সমাধানের মূল কেন্দ্রবিন্দু।

বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে দেওয়া বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। এর আগে স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকারের অনুপস্থিতিতে সংসদের কার্যপ্রণালি বিধি অনুযায়ী প্রবীণ রাজনীতিবিদ ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন-এর নাম অধিবেশনের সভাপতি হিসেবে প্রস্তাব করেন প্রধানমন্ত্রী।

বক্তৃতার শুরুতে প্রধানমন্ত্রী ১৯৭১ সালের স্বাধীনতা যুদ্ধ থেকে শুরু করে ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে শহীদদের গভীর কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করেন। তিনি বলেন, ফ্যাসিবাদের নির্মমতার শিকার অসংখ্য মানুষের কান্না এবং হাজারো প্রাণের আত্মত্যাগের বিনিময়ে আজ দেশ একটি দায়বদ্ধ সংসদ পেয়েছে। যারা গুম, খুন এবং আয়নাঘরের মতো নির্মম নির্যাতনের শিকার হয়েছেন, তাদের সাহসিকতার ফলেই দেশে গণতন্ত্র ফিরে এসেছে।

সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া-কে সংসদীয় গণতন্ত্রের অগ্রদূত হিসেবে উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, দেশনেত্রী খালেদা জিয়া সংসদীয় গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিয়েছিলেন। কিন্তু বিগত শাসনামলে সেই সংসদকে প্রহসনে পরিণত করা হয়েছিল। তিনি আপসহীনভাবে গণতন্ত্রের জন্য লড়াই করেছেন, তবে এই ঐতিহাসিক মুহূর্তটি দেখে যেতে পারেননি। আমরা তাকে গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করছি।

একইসঙ্গে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান-এর উক্তি তুলে ধরে তিনি বলেন, “জনগণই যদি রাজনৈতিক দল হয়, তবে আমি সেই দলেই আছি।” ব্যক্তি বা দলের চেয়ে জনগণের স্বার্থই বড়—এটাই বিএনপির মূল দর্শন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, তিনি দলীয়ভাবে নির্বাচিত হলেও প্রধানমন্ত্রী হিসেবে এই সংসদে পুরো দেশের প্রতিনিধিত্ব করছেন। রাজনৈতিক কর্মসূচিতে ভিন্নতা থাকতে পারে, কিন্তু একটি সার্বভৌম, নিরাপদ ও স্বনির্ভর বাংলাদেশ গড়ে তোলার প্রশ্নে সবার ঐক্য থাকা জরুরি। প্রতিটি পরিবারকে স্বনির্ভর করার মাধ্যমে সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়তে তিনি সংসদ সদস্যদের সহযোগিতা কামনা করেন।

বর্তমান সংসদের বিশেষ পরিস্থিতি তুলে ধরে তিনি বলেন, বিগত সরকারের জনবিরোধী কর্মকাণ্ডের কারণে সৃষ্ট জনরোষে সাবেক স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকারদের কাউকেই খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না; তারা হয় কারাগারে, না হয় পলাতক।

সংকটকালীন এই অধিবেশনে সভাপতিত্বের প্রস্তাব প্রসঙ্গে তিনি ১৯৭৩ সালের উদাহরণ টেনে বলেন, সে সময় তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ মুজিবুর রহমান মাওলানা আব্দুর রশিদ তর্কবাগীশ-এর নাম প্রস্তাব করেছিলেন। আজকের এই নজিরবিহীন পরিস্থিতিতে প্রবীণ সংসদ সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেনের সভাপতিত্বে সংসদের কার্যক্রম শুরু করা হচ্ছে।