মুলতবি প্রস্তাব ইস্যুতে বিরোধী দলের সমালোচনা, ‘সংসদকে আগের কালচারে ফেরানো যাবে না’—স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
- আপডেট সময় : ০৯:১১:০২ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৯ মার্চ ২০২৬
- / 168
সংসদে উত্থাপিত মুলতবি প্রস্তাবের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে বিরোধী দলের তীব্র সমালোচনা করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমেদ। তিনি বলেছেন, সংসদীয় বিধি অনুসরণ না করেই বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান প্রস্তাবটি উত্থাপন করেছেন, যা বিধিসম্মত নয়।
রোববার (২৯ মার্চ) জাতীয় সংসদ অধিবেশনে পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
‘নোটিশ বিধিসম্মত নয়’
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, জনগুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে মুলতবি প্রস্তাব আনতে হলে নির্দিষ্ট নিয়ম অনুসরণ করতে হয়। তিনি উল্লেখ করেন, প্রস্তাবটি ৬২ বিধি অনুযায়ী দেওয়া হলেও এর প্রকৃতি অনুযায়ী এটি ৬৮ বিধির আওতায় পড়ার কথা।
তিনি স্পিকারকে উদ্দেশ করে বলেন, “নোটিশটি সংশোধন করে গ্রহণ করা যেতে পারে, অথবা বিরোধীদলীয় নেতাকে নতুন করে সংশোধিত নোটিশ দিতে বলা যেতে পারে।”
‘সংসদকে আগের সংস্কৃতিতে ফেরানো যাবে না’
বিরোধী দলকে উদ্দেশ করে তিনি বলেন, যথাযথ প্রক্রিয়া ছাড়া গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আলোচনা করা যাবে না। তিনি স্পিকারের কাছে ‘প্রটেকশন’ চেয়ে বলেন, সংসদ যেন আগের বিশৃঙ্খল সংস্কৃতিতে ফিরে না যায়।
মুলতবি প্রস্তাবের সীমাবদ্ধতা
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, মুলতবি প্রস্তাবের মাধ্যমে শুধু নির্দিষ্ট বিষয় উত্থাপন করা যায়, কিন্তু এর আড়ালে সংবিধান সংশোধন বা আইন প্রণয়নের মতো বিষয় বিস্তারিত আলোচনা করা যায় না।
তিনি বলেন, “জুলাই জাতীয় সনদ, সংবিধান সংস্কার আদেশ বা বাস্তবায়ন আদেশ—এসব নিয়ে পূর্ণাঙ্গ আলোচনা করতে হলে আলাদা দিন নির্ধারণ করতে হবে।”
আইনি বাধ্যবাধকতার বিষয়
বিধি ৬৩ উল্লেখ করে তিনি বলেন, যেসব বিষয়ের সমাধান আইন প্রণয়ন বা সংবিধান সংশোধনের মাধ্যমে করতে হয়, সেগুলো মুলতবি প্রস্তাবের আওতায় আনা যায় না।
তিনি উদাহরণ দিয়ে বলেন, সাধারণত দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি বা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির মতো বিষয়েই মুলতবি প্রস্তাব আনা হয়, আইন প্রণয়ন সংশ্লিষ্ট বিষয়ে নয়।
সংবিধান সংস্কারে যৌথ কমিটির প্রস্তাব
সর্বশেষে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী একটি প্রস্তাব তুলে ধরেন। তিনি বলেন, সংবিধান সংশোধনের জন্য সরকারি ও বিরোধী দলসহ সকল পক্ষকে নিয়ে একটি সংসদীয় কমিটি গঠন করা যেতে পারে।
তিনি বলেন, “আমরা একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সংবিধান সংশোধন করতে চাই, যাতে দেশের বর্তমান বাস্তবতা ও জনগণের প্রত্যাশা প্রতিফলিত হয়।”
তিনি আরও জানান, জুলাই জাতীয় সনদের আলোকে ভবিষ্যতে সংবিধান সংশোধনের উদ্যোগ নেওয়া হতে পারে এবং এ বিষয়ে স্পিকারের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত হবে।



















