করিমগঞ্জে তান্ত্রিকতার ফাঁদে গৃহবধূ সর্বস্বান্ত: সন্ত্রাসী বিপুলের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু
- আপডেট সময় : ০২:২০:৪০ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৫
- / 96
কিশোরগঞ্জ জেলার করিমগঞ্জ উপজেলায় তান্ত্রিকতার প্রলোভন দেখিয়ে এক গৃহবধূকে ঘরছাড়া, শারীরিক নির্যাতন ও স্বর্ণালঙ্কারসহ নগদ অর্থ আত্মসাতের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে বিপুল নামের এক দুশ্চরিত্র ব্যক্তির বিরুদ্ধে। অভিযোগে বলা হয়, দীর্ঘদিন ধরে বিপুল নিজেকে তান্ত্রিক পরিচয়ে প্রভাব বিস্তার করে গৃহবধূ রুমাকে মানসিকভাবে নিয়ন্ত্রণে রেখে সর্বস্ব হাতিয়ে নেয় এবং নির্যাতন চালিয়ে তাকে বাধ্য করে স্বামীর ঘর ছেড়ে বের হতে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, বিপুল করিমগঞ্জ থানার বিভিন্ন এলাকায় তান্ত্রিকতা ও জাদুটোনা দেখিয়ে নারীদের প্রতারিত করে আসছে। তার বিরুদ্ধে পূর্বেও একাধিক নারী নির্যাতন ও প্রতারণার অভিযোগ উঠলেও প্রভাবশালী মহলের ছত্রচ্ছায়ায় থেকে যায় তিনি। বর্তমানে অভিযোগকারী নারীর স্বর্ণালঙ্কার ও নগদ টাকার পুরো অঙ্ক আত্মসাৎ করেও বিপুল প্রকাশ্যে এলাকায় ঘুরে বেড়াচ্ছে, যার ফলে ভুক্তভোগী পরিবার চরম নিরাপত্তাহীনতায় আছে।
এ ঘটনায় করিমগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জের (ওসি) নিকট লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। ওসি নিশ্চিত করে বলেন, অভিযোগ গুরুত্বের সাথে গ্রহণ করা হয়েছে এবং তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে থানার এএসআই আলীমকে। তিনি ইতোমধ্যে ঘটনাস্থল পরিদর্শন ও সাক্ষ্যগ্রহণ কার্যক্রম শুরু করেছেন।
ভুক্তভোগী রুমা গণমাধ্যমকে জানান, “তান্ত্রিকতা ও মন্ত্রের কথা বলে আমাকে ক্রমাগত ভয়ভীতি দেখিয়ে আমার কাছ থেকে স্বর্ণালঙ্কার ও টাকা নিয়ে নেয় বিপুল। পরে আমাকে নির্যাতন শুরু করলে আমি প্রাণ বাঁচাতে বাড়ি থেকে পালিয়ে আসি।”
এদিকে এলাকাবাসী জানিয়েছেন, বিপুলের তৎপরতার কারণে সমাজে এক ধরনের আতঙ্ক বিরাজ করছে। তারা প্রশাসনের দ্রুত পদক্ষেপের দাবি জানিয়ে বলেন, এই ধরনের প্রতারক ও নারী নির্যাতনকারীদের আইনের আওতায় না আনলে আরও অনেক নিরীহ নারী প্রতারণার শিকার হবে।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতিশ্রুতি
করিমগঞ্জ থানা সূত্রে জানা গেছে, প্রাথমিক তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে দ্রুত মামলা রুজু ও আসামি গ্রেপ্তারের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। থানার দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বলেন, “নারী নির্যাতন ও প্রতারণার ঘটনাকে কোনোভাবেই ছাড় দেওয়া হবে না। আইনের মাধ্যমে এই ঘটনার সঠিক বিচার নিশ্চিত করা হবে।”
সচেতন মহলের আহ্বান
সামাজিক সংগঠন ও সচেতন মহল মনে করছেন, তান্ত্রিকতা ও কুসংস্কারের মাধ্যমে নারীদের প্রতারণা ও নির্যাতনের ঘটনা নতুন নয়। এসব অপরাধ বন্ধে প্রশাসনের পাশাপাশি জনসচেতনতাও জরুরি।



















