কর্ণফুলীতে ড্রেজিং বন্ধ, চট্টগ্রাম বন্দর সিএমপিকে জরুরি চিঠি পাঠাল
- আপডেট সময় : ০১:৩০:৩৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ১১ মার্চ ২০২৬
- / 142
বাকলিয়া থানা কর্ণফুলী নদীতে ড্রেজিং কার্যক্রম বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছে। এ সিদ্ধান্তের ফলে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হয়ে দেশের বৈদেশিক বাণিজ্যে প্রভাব পড়তে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ। তাই তারা চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ (সিএমপি) কমিশনারকে জরুরি চিঠি পাঠিয়ে নদীতে ড্রেজিং কার্যক্রম নির্বিঘ্ন রাখার জন্য সহযোগিতা চেয়েছে।
মঙ্গলবার (১০ মার্চ) বন্দরের হাইড্রোগ্রাফার বিভাগ থেকে পাঠানো চিঠিতে স্বাক্ষর করেছেন বন্দর সচিব। চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, দেশের প্রধান সমুদ্রবন্দর হিসেবে চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে দেশের মোট বৈদেশিক বাণিজ্যের প্রায় ৯২ শতাংশ আমদানি-রপ্তানি সম্পন্ন হয়। নদীতে পলি জমে নাব্যতা কমে গেলে বড় জাহাজ বন্দরে প্রবেশে বাধার মুখে পড়ে এবং জাহাজ হ্যান্ডলিং সক্ষমতা কমে যায়। এতে জাতীয় অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।
চিঠিতে আরও বলা হয়, শাহ আমানত সেতুর উজান ও ভাটিতে ক্যাপিটাল ড্রেজিং শেষ হওয়ার পর সংরক্ষণ ড্রেজিং চলছে। সদরঘাট থেকে বাকলিয়া চর পর্যন্ত এলাকায় আটটি খালের মুখে ড্রেজিং করা হয়েছে, যা শহরের পানি প্রবাহ সহজতর করছে এবং বর্ষা মৌসুমে জলাবদ্ধতা কমাতে সহায়ক হচ্ছে।
বন্দর সূত্র জানায়, বাকলিয়া চর, শিকলবাহা, নাজিরচর ও কালুরঘাট এলাকায় নদীর গভীরতা কমে যাওয়ায় বন্দর কর্তৃপক্ষ আইন-২০২২ অনুযায়ী তিনটি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে ড্রেজিংয়ের অনুমতি দিয়েছে। তবে গত বছরের ৯ নভেম্বর থেকে চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত নিরাপত্তা কারণে ড্রেজিং বন্ধ রাখা হয়েছিল। এরপর ১ মার্চ থেকে কাজ শুরু হলেও আবারও বাকলিয়া থানার নির্দেশে কার্যক্রম বন্ধ হয়েছে।
বন্দর চিঠিতে সতর্ক করে বলেছে, দীর্ঘদিন ড্রেজিং বন্ধ থাকলে নদীর নাব্যতা দ্রুত কমে যাবে, জাহাজ চলাচলে বিঘ্ন ঘটবে, বৈদেশিক বাণিজ্য ক্ষতিগ্রস্ত হবে এবং চট্টগ্রামে জলাবদ্ধতার ঝুঁকিও বাড়বে। তাই দেশের অর্থনৈতিক কার্যক্রম সচল রাখতে সিএমপির সহযোগিতা প্রয়োজন, দ্রুত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য জরুরি অনুরোধ জানিয়েছে বন্দর কর্তৃপক্ষ।



















