কার ছায়ায় কেরানীগঞ্জে বহাল তবিয়তে নিষিদ্ধ পলিথিনের ডন আনিস ও আমিনুল
- আপডেট সময় : ১০:১০:১১ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৩ জুলাই ২০২৬
- / 162
কেরানীগঞ্জ প্রতিনিধি
সরকারের কঠোর নিষেধাজ্ঞা, পরিবেশবিদদের উদ্বেগ আর প্রশাসনের তথাকথিত ‘নজরদারি’—সবকিছুকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে ঢাকার কেরানীগঞ্জে দেদারসে চলছে নিষিদ্ধ পলিথিনের রমরমা ব্যবসা। আর এই অবৈধ সাম্রাজ্যের মূল হোতা হিসেবে উঠে এসেছে আনিস ও তার সহযোগী আমিনুল এর নাম। স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রশাসনের নাকের ডগায় দীর্ঘদিন ধরে এই ব্যবসা চালিয়ে তারা আজ কোটি কোটি টাকার মালিক, বানিয়েছেন আলিশান বাড়ি-গাড়ি। কিন্তু প্রশ্ন উঠেছে, কার ইশারায় এবং কোন অদৃশ্য শক্তির জোরে আইনকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে এখনো বহাল তবিয়তে আছেন এই আনিস?
অনুসন্ধানে জানা যায়, কেরানীগঞ্জের বিভিন্ন এলাকায় গড়ে ওঠা এই অবৈধ পলিথিন সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে কেউ কথা বলতে গেলেই নেমে আসে নির্যাতনের হুমকি। স্থানীয় সংবাদকর্মীরা এই নিষিদ্ধ ব্যবসার বিরুদ্ধে একাধিকবার সচিত্র প্রতিবেদন প্রকাশ করলেও থামানো যায়নি আনিসের দৌরাত্ম্য। উল্টো কোনো সাংবাদিক নিউজ করলেই তাকে মিথ্যা মামলায় ফাঁসানো, পুলিশি হয়রানি এবং প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া এই চক্রের নিয়মিত নিয়মে পরিণত হয়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় এক গণমাধ্যমকর্মী বলেন:
“আনিস আর আমিনুলের সিন্ডিকেট এতটাই শক্তিশালী যে, তাদের বিরুদ্ধে নিউজ করলেই থানা-পুলিশ ব্যবহার করে সাংবাদিকদের ওপর চাপ সৃষ্টি করা হয়। তাদের রয়েছে নিজস্ব একটি ক্যাডার বাহিনী, যারা মাঠপর্যায়ে হুমকি-ধামকি দিয়ে সবার মুখ বন্ধ করে রাখে।”
নেপথ্যে কে? কার ইশারায় এই অভয় অরণ্য?
পরিবেশ আইনের তোয়াক্কা না করে কীভাবে বছরের পর বছর কেরানীগঞ্জে এই ব্যবসা চলছে, তা নিয়ে এলাকায় কান পাতলেই শোনা যায় এক প্রভাবশালী মহলের নাম। স্থানীয় সূত্রগুলোর দাবি, শুধু প্রশাসনকে ‘ম্যানেজ’ করেই আনিস ক্ষান্ত হননি; বরং স্থানীয় রাজনৈতিক প্রভাবশালী মহলের কিছু অসাধু নেতা এবং প্রশাসনের ভেতরের কালো ভেড়াদের নিয়মিত বড় অঙ্কের মাসোহারা বা ‘বখরা’ দিয়েই এই অবৈধ সাম্রাজ্য টিকিয়ে রাখা হয়েছে।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নাকের ডগায় প্রতিদিন ট্রাকের পর ট্রাক নিষিদ্ধ পলিথিন কেরানীগঞ্জ থেকে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে পড়লেও রহস্যজনক কারণে তারা নীরব। সাধারণ মানুষের প্রশ্ন—আইন সবার জন্য সমান হলেও আনিস ও আমিনুলের ক্ষেত্রে কেন আইন এত ঠুঁটো জগন্নাথ?
শূন্য থেকে কোটিপতি: পলিথিনেই ভাগ্যবদল
অনুসন্ধানে আরও জানা গেছে, একসময় সাধারণ জীবনযাপন করা আনিস ও আমিনুল পলিথিনের এই নিষিদ্ধ ব্যবসায় নামার পর আলাদিনের চেরাগ হাতে পান। বিগত কয়েক বছরে কেরানীগঞ্জসহ বিভিন্ন এলাকায় নামে-বেনামে জমি, বিলাসবহুল বাড়ি এবং গাড়ির মালিক হয়েছেন তারা। পরিবেশ ধ্বংসকারী এই ব্যবসার অবৈধ টাকায় রাতারাতি আঙুল ফুলে কলাগাছ বনে গেছেন এই দুই ভাই।
এই বিষয়ে স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তাদের সাথে যোগাযোগ করা হলে তারা বরাবরই “বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে” এবং “অভিযান চালানো হবে” বলে চেনা ছকে উত্তর দেন। তবে বাস্তবে কোনো দৃশ্যমান পদক্ষেপ না থাকায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও হতাশা বিরাজ করছে।
জনগণের দাবি: অবিলম্বে এই ‘পলিথিন ডন’ আনিস ও আমিনুলের খুঁটির জোর কোথায় তা খতিয়ে দেখে, তাদের পেছনের গডফাদারদের মুখোশ উন্মোচন করা হোক এবং সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করে এই অবৈধ ব্যবসা চিরতরে বন্ধ করা হোক।



















