দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ-এর কালিন্দী ইউনিয়ন-এর গদাবাগ মৌজায় ৪ শতাংশ জমি অবৈধভাবে দখলের অভিযোগে এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে।
ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেট পরিকল্পিতভাবে জমিটি দখলের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। অভিযোগ অনুযায়ী, উত্তম চন্দ্র সরকার ও তার সহযোগীরা স্থানীয় প্রভাবশালী পরিচয় ব্যবহার করে জমি দখলের অপচেষ্টা করছেন। জমির মালিক শাহনাজ বেগমের জমি সরাসরি দখল করতে না পেরে সেখানে মসজিদ নির্মাণের সাইনবোর্ড টাঙিয়ে ধর্মীয় আবেগকে কাজে লাগানোর চেষ্টা করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, ইট-বালু ব্যবসায়ী খোরশেদ আলমের নেতৃত্বে বর্তমানে জমিতে মাটি ভরাটের কাজ চলছে। কয়েক মাস আগে জমির গাছ কেটে দখলের প্রথম ধাপ সম্পন্ন করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।
এ ঘটনায় রাজনৈতিক মাত্রাও যুক্ত হয়েছে। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, খোরশেদ আলম নিজেকে কেরানীগঞ্জ মডেল থানার কালিন্দী ইউনিয়ন যুবদলের সাধারণ সম্পাদক পরিচয় দিয়ে প্রভাব বিস্তার করছেন। এমনকি একটি রাজনৈতিক দলের নাম ব্যবহার করে প্রশাসন ও এলাকাবাসীর ওপর চাপ সৃষ্টি করার অভিযোগও উঠেছে।
জমির মালিকপক্ষ জানায়, থানায় অভিযোগ করার পর সামাজিকভাবে সমাধানের কথা বলে বিষয়টি এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করা হয়। পরবর্তীতে তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শন ও হয়রানির শিকার হতে হয়েছে বলেও দাবি করেন তারা।
সম্প্রতি পুনরায় মাটি ভরাটের খবর পেয়ে ভুক্তভোগী আবু বকর সিদ্দিক কেরানীগঞ্জ মডেল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন। জিডিতে সম্ভাব্য অপ্রীতিকর ঘটনার আশঙ্কার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।
সরেজমিনে তথ্য সংগ্রহে গেলে সাংবাদিকদেরও বাধার সম্মুখীন হতে হয়েছে বলে জানা গেছে। এর আগে কয়েক দফা সালিশ বৈঠকেও উত্তেজনা ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে।
ভুক্তভোগী পরিবারগুলো সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন। স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের নাম ও রাজনৈতিক প্রভাব ব্যবহার করে জমি দখলের অভিযোগ অত্যন্ত গুরুতর। বিষয়টি নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে দ্রুত সমাধান করা প্রয়োজন।
অভিযুক্তদের বক্তব্য জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।



















