কিডনি রোগ নির্ণয় সহজ হলেও চিকিৎসা ব্যয়বহুল: আলোচনা সভা
- আপডেট সময় : ০৩:০৬:২৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ১১ মার্চ ২০২৬
- / 37
বিশ্ব কিডনি দিবস ২০২৬ উপলক্ষে বাংলাদেশ রেনাল অ্যাসোসিয়েশনের উদ্যোগে রাজধানীর ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব কিডনি ডিজিজেস অ্যান্ড ইউরোলজি (নিডোর) অডিটোরিয়ামে বুধবার (১১ মার্চ) একটি আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সভায় বক্তারা বলেন, কিডনি রোগ নির্ণয় তুলনামূলকভাবে সহজ হলেও চিকিৎসা অত্যন্ত ব্যয়বহুল। তাই সময়মতো রোগ শনাক্তকরণের ওপর গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।
আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ রেনাল অ্যাসোসিয়েশনের আহ্বায়ক অধ্যাপক ডা. মো. নজরুল ইসলাম, স্বাগত বক্তব্য দেন যুগ্ম আহ্বায়ক ডা. শাহনেওয়াজ দেওয়ান। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ড্যাবের মহাসচিব ডা. মো. জহিরুল ইসলাম শাকিল, নিডোর পরিচালক অধ্যাপক ডা. মো. আব্দুল কেনান, ড্যাবের কোষাধ্যক্ষ ডা. মো. মেহেদী হাসান, সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব ডা. একেএম খালেকুজ্জামান দিপু, বিশিষ্ট কিডনি রোগ বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. হারুন অর রশীদ, সহযোগী অধ্যাপক ডা. মেজবাহ উদ্দিন নোমান, বাংলাদেশ রেনাল অ্যাসোসিয়েশনের কোষাধ্যক্ষ ডা. মো. আব্দুল মুকীত এবং সাংগঠনিক সম্পাদক ডা. মো. রেজাউল আলম প্রমুখ।
বক্তারা বলেন, কিডনি রোগের চিকিৎসার খরচ একটি পরিবারের জন্য বহনযোগ্য নয়, এবং এই ব্যয়ভার শুধু রোগী নয়, রাষ্ট্র ও সমাজের জন্যও বড় চ্যালেঞ্জ। তাই স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে রোগ প্রতিরোধ ও চিকিৎসায় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।
তারা আরও জানান, প্রাথমিকভাবে কিডনি রোগ নির্ণয় প্রস্রাব পরীক্ষার মাধ্যমে সহজেই সম্ভব। ইউনিয়ন সাব-সেন্টার, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, জেলা সদর হাসপাতাল, মেডিকেল কলেজ ও ডায়াবেটিস কেয়ার সেন্টারগুলোতে প্রয়োজনীয় পরীক্ষা ও প্রযুক্তি সহজলভ্য করা গেলে প্রাথমিক পর্যায়ে রোগ শনাক্ত করা সম্ভব হবে এবং জটিলতা কমানো যাবে।
সভায় উল্লেখ করা হয়, ২০১৯ সালে প্রকাশিত আটটি গবেষণার ওপর পরিচালিত একটি সিস্টেমিক রিভিউ অনুসারে বাংলাদেশে কিডনি রোগের প্রাদুর্ভাব প্রায় ২২.৪৮%, যা ১৭ কোটির বেশি মানুষের দেশে ৩ কোটি ৮২ লাখ রোগী নির্দেশ করে। প্রতি বছর ৩০–৪০ হাজার মানুষের কিডনি বিকল হচ্ছে, এবং নতুন রোগীদের প্রায় ৮০% প্রয়োজনীয় চিকিৎসা না পাওয়ায় মৃত্যু ঘটছে। বর্তমানে কিডনি রোগ মৃত্যুর কারণ হিসেবে অষ্টম স্থানে রয়েছে এবং ২০৪০ সালের মধ্যে এটি পঞ্চম স্থানে পৌঁছানোর আশঙ্কা রয়েছে।
সভাপতির বক্তব্যে অধ্যাপক ডা. মো. নজরুল ইসলাম বলেন, নীরবঘাতক কিডনি রোগ প্রতিরোধে জনসচেতনতা জরুরি। ভেজাল খাবার পরিহার, ওজন নিয়ন্ত্রণ, উচ্চ রক্তচাপ ও ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে কিডনি রোগ প্রতিরোধ করা সম্ভব।
এবারের বিশ্ব কিডনি দিবসের প্রতিপাদ্য ছিল:
“সুস্থ কিডনি সকলের তরে, মানুষের যত্নে বাঁচাও ধরণী।”




















