ঢাকা ০৫:০৪ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল ২০২৬, ৩০ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
শেরপুরে পিছিয়ে পড়া প্রান্তিক হরিজন সম্প্রদায়ের শিশু শিক্ষার্থীর মাঝে শিক্ষা উপকরণ বিতরণ সংগীতের কথা ও সুর মানুষের হৃদয় ছুয়ে প্রশান্তি নিয়ে আসে এডভোকেট এম এ হান্নান খান মাঠে যারা আজ দৌড়াচ্ছে, তারাই একদিন দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাবে-এডভোকেট এম.এ হান্নান খান বাকৃবিতে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মকর্তাদের ২৮তম বুনিয়াদী প্রশিক্ষণ ময়মনসিংহে হত্যা মামলায় ৫ জনের যাবজ্জীবন হাম মোকাবিলায় সরকার বদ্ধপরিকর : স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী অঙ্গীকার ভঙ্গ করেছে সরকার, অধিকার আদায়ে ছাড় নয়: জামায়াত আমীর কুষ্টিয়ায় পীরের আস্তানায় ভাঙচুর-অগ্নিসংযোগ, কথিত পীর নিহত মার্চে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ৫৩২ : রোড সেফটি ফাউন্ডেশন ট্রাক্টরের ধাক্কায় প্রাণ গেল অটোরিকশা চালকের, আহত ৪

মিঠামইনে মনসুর হত্যা মামলা: একাধিক মামলা সত্ত্বেও বেপরোয়া আসামিরা, আতঙ্কে বাদীপক্ষ

অনলাইন ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ০১:০৭:৪৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ১ এপ্রিল ২০২৬
  • / 46
আজকের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

নিজস্ব প্রতিবেদক:
কিশোরগঞ্জের মিঠামইন উপজেলায় ২০২০ সালের আলোচিত মনসুর হত্যা মামলাকে ঘিরে আবারও উদ্বেগজনক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। একাধিক গুরুতর মামলা থাকার পরও অভিযুক্তরা প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে—এমন অভিযোগ উঠেছে ভুক্তভোগী পরিবার ও স্থানীয়দের কাছ থেকে। এতে করে বাদীপক্ষসহ সাধারণ এলাকাবাসীর মধ্যে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে।
ভুক্তভোগীদের দাবি, প্রশাসনের চোখের সামনেই আসামিরা বেপরোয়া আচরণ করে যাচ্ছে। মামলার পর থেকেই তারা প্রভাব বিস্তার করে বাদীপক্ষকে নিয়মিত হুমকি দিয়ে আসছে। পরিবার-পরিজনদের বাড়িতে না পেয়ে হামলা, ভাঙচুর এবং লুটপাটের ঘটনাও ঘটছে বলে অভিযোগ রয়েছে। পাশাপাশি বাদীপক্ষের ফসলি জমি জোরপূর্বক দখল করে রাখার কথাও জানিয়েছেন ক্ষতিগ্রস্তরা। এতে করে পরিবারগুলো আর্থিকভাবে মারাত্মক ক্ষতির মুখে পড়েছে এবং সামাজিকভাবেও চাপে রয়েছে।
জানা গেছে, এ ঘটনায় দায়ের করা মামলার নম্বর ১৯/২২। ২০২০ সালের ৫ নভেম্বর বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে সংঘটিত এই ঘটনার পর দণ্ডবিধি ১৮৬০-এর ১৪৩, ৩৪১, ৩২৩, ৩২৪, ৩২৫, ৩২৬, ৩০৭, ৩০২, ৫০৬ ও ১১৪ ধারায় মামলা দায়ের করা হয়। এসব ধারায় গুরুতর অপরাধের অভিযোগ থাকলেও আসামিদের অনেকেই এখনো গ্রেপ্তারের বাইরে রয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। ফলে এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।
বাদীপক্ষের এক সদস্য জানান, “আমরা ন্যায়বিচারের আশায় মামলা করেছি। কিন্তু এখন নিজেরাই নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। আসামিরা আমাদের বাড়িঘর ভাঙচুর করছে, জমি দখল করে রেখেছে। আমরা কোথাও শান্তিতে থাকতে পারছি না।” তার দাবি, দ্রুত আসামিদের গ্রেপ্তার এবং দখলকৃত সম্পত্তি উদ্ধার না হলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হতে পারে।
এদিকে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যেও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। অনেকেই ভয়ে প্রকাশ্যে কিছু বলতে সাহস পাচ্ছেন না। এলাকাবাসীর মতে, আসামিদের দৌরাত্ম্যের কারণে এলাকায় এক ধরনের অস্থিরতা বিরাজ করছে, যা যেকোনো সময় বড় ধরনের সংঘর্ষে রূপ নিতে পারে।
অনুসন্ধানে থানা সূত্রে জানা যায়, এই ঘটনায় শুধু এক পক্ষ নয়, বরং উভয় পক্ষের বিরুদ্ধেই পাল্টাপাল্টি মামলা রয়েছে। অর্থাৎ, মামলার বাদী ও বিবাদী উভয় পক্ষের ব্যক্তিরাই বিভিন্ন মামলায় আসামি হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন। ফলে পুরো ঘটনাটি আরও জটিল আকার ধারণ করেছে।
এছাড়া নিহত আয়ুব নবীর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে নতুন করে একটি রহস্যজনক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে বলে জানা গেছে। একটি পক্ষ এই ঘটনাকে ঘিরে নতুন মামলা দায়েরের চেষ্টা চালাচ্ছে বলেও সূত্র জানিয়েছে। এ বিষয়ে থানা পুলিশ ডাক্তার কর্তৃক প্রদত্ত মেডিকেল রিপোর্টের ভিত্তিতে বিষয়টি বিশ্লেষণ করছে এবং প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
বর্তমানে পুরো এলাকায় এক ধরনের অজানা আতঙ্ক বিরাজ করছে। স্থানীয়রা আশঙ্কা করছেন, যেকোনো সময় আবারও দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বেঁধে যেতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে অনেক পরিবার নিরাপত্তাহীনতায় দিন কাটাচ্ছে।
এ বিষয়ে মিঠামইন থানা পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, অভিযোগগুলো গুরুত্বসহকারে তদন্ত করা হচ্ছে। পুলিশ বলছে, তারা ইতোমধ্যে ঘটনার বিভিন্ন দিক খতিয়ে দেখছে এবং সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। পাশাপাশি এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে নিয়মিত নজরদারি জোরদার করা হয়েছে বলেও দাবি করেছে পুলিশ।
তবে ভুক্তভোগী পরিবার ও এলাকাবাসীর দাবি, শুধু তদন্ত নয়—দ্রুত দৃশ্যমান পদক্ষেপ প্রয়োজন। তারা আসামিদের দ্রুত গ্রেপ্তার, দখলকৃত সম্পত্তি উদ্ধার এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
এলাকাবাসীর প্রত্যাশা, প্রশাসন দ্রুত ও কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করবে, যাতে করে দীর্ঘদিনের এই আতঙ্ক ও অস্থিরতার অবসান ঘটে এবং ভুক্তভোগী পরিবারগুলো স্বাভাবিক জীবনে ফিরে যেতে পারে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

মিঠামইনে মনসুর হত্যা মামলা: একাধিক মামলা সত্ত্বেও বেপরোয়া আসামিরা, আতঙ্কে বাদীপক্ষ

আপডেট সময় : ০১:০৭:৪৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ১ এপ্রিল ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক:
কিশোরগঞ্জের মিঠামইন উপজেলায় ২০২০ সালের আলোচিত মনসুর হত্যা মামলাকে ঘিরে আবারও উদ্বেগজনক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। একাধিক গুরুতর মামলা থাকার পরও অভিযুক্তরা প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে—এমন অভিযোগ উঠেছে ভুক্তভোগী পরিবার ও স্থানীয়দের কাছ থেকে। এতে করে বাদীপক্ষসহ সাধারণ এলাকাবাসীর মধ্যে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে।
ভুক্তভোগীদের দাবি, প্রশাসনের চোখের সামনেই আসামিরা বেপরোয়া আচরণ করে যাচ্ছে। মামলার পর থেকেই তারা প্রভাব বিস্তার করে বাদীপক্ষকে নিয়মিত হুমকি দিয়ে আসছে। পরিবার-পরিজনদের বাড়িতে না পেয়ে হামলা, ভাঙচুর এবং লুটপাটের ঘটনাও ঘটছে বলে অভিযোগ রয়েছে। পাশাপাশি বাদীপক্ষের ফসলি জমি জোরপূর্বক দখল করে রাখার কথাও জানিয়েছেন ক্ষতিগ্রস্তরা। এতে করে পরিবারগুলো আর্থিকভাবে মারাত্মক ক্ষতির মুখে পড়েছে এবং সামাজিকভাবেও চাপে রয়েছে।
জানা গেছে, এ ঘটনায় দায়ের করা মামলার নম্বর ১৯/২২। ২০২০ সালের ৫ নভেম্বর বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে সংঘটিত এই ঘটনার পর দণ্ডবিধি ১৮৬০-এর ১৪৩, ৩৪১, ৩২৩, ৩২৪, ৩২৫, ৩২৬, ৩০৭, ৩০২, ৫০৬ ও ১১৪ ধারায় মামলা দায়ের করা হয়। এসব ধারায় গুরুতর অপরাধের অভিযোগ থাকলেও আসামিদের অনেকেই এখনো গ্রেপ্তারের বাইরে রয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। ফলে এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।
বাদীপক্ষের এক সদস্য জানান, “আমরা ন্যায়বিচারের আশায় মামলা করেছি। কিন্তু এখন নিজেরাই নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। আসামিরা আমাদের বাড়িঘর ভাঙচুর করছে, জমি দখল করে রেখেছে। আমরা কোথাও শান্তিতে থাকতে পারছি না।” তার দাবি, দ্রুত আসামিদের গ্রেপ্তার এবং দখলকৃত সম্পত্তি উদ্ধার না হলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হতে পারে।
এদিকে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যেও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। অনেকেই ভয়ে প্রকাশ্যে কিছু বলতে সাহস পাচ্ছেন না। এলাকাবাসীর মতে, আসামিদের দৌরাত্ম্যের কারণে এলাকায় এক ধরনের অস্থিরতা বিরাজ করছে, যা যেকোনো সময় বড় ধরনের সংঘর্ষে রূপ নিতে পারে।
অনুসন্ধানে থানা সূত্রে জানা যায়, এই ঘটনায় শুধু এক পক্ষ নয়, বরং উভয় পক্ষের বিরুদ্ধেই পাল্টাপাল্টি মামলা রয়েছে। অর্থাৎ, মামলার বাদী ও বিবাদী উভয় পক্ষের ব্যক্তিরাই বিভিন্ন মামলায় আসামি হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন। ফলে পুরো ঘটনাটি আরও জটিল আকার ধারণ করেছে।
এছাড়া নিহত আয়ুব নবীর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে নতুন করে একটি রহস্যজনক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে বলে জানা গেছে। একটি পক্ষ এই ঘটনাকে ঘিরে নতুন মামলা দায়েরের চেষ্টা চালাচ্ছে বলেও সূত্র জানিয়েছে। এ বিষয়ে থানা পুলিশ ডাক্তার কর্তৃক প্রদত্ত মেডিকেল রিপোর্টের ভিত্তিতে বিষয়টি বিশ্লেষণ করছে এবং প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
বর্তমানে পুরো এলাকায় এক ধরনের অজানা আতঙ্ক বিরাজ করছে। স্থানীয়রা আশঙ্কা করছেন, যেকোনো সময় আবারও দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বেঁধে যেতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে অনেক পরিবার নিরাপত্তাহীনতায় দিন কাটাচ্ছে।
এ বিষয়ে মিঠামইন থানা পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, অভিযোগগুলো গুরুত্বসহকারে তদন্ত করা হচ্ছে। পুলিশ বলছে, তারা ইতোমধ্যে ঘটনার বিভিন্ন দিক খতিয়ে দেখছে এবং সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। পাশাপাশি এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে নিয়মিত নজরদারি জোরদার করা হয়েছে বলেও দাবি করেছে পুলিশ।
তবে ভুক্তভোগী পরিবার ও এলাকাবাসীর দাবি, শুধু তদন্ত নয়—দ্রুত দৃশ্যমান পদক্ষেপ প্রয়োজন। তারা আসামিদের দ্রুত গ্রেপ্তার, দখলকৃত সম্পত্তি উদ্ধার এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
এলাকাবাসীর প্রত্যাশা, প্রশাসন দ্রুত ও কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করবে, যাতে করে দীর্ঘদিনের এই আতঙ্ক ও অস্থিরতার অবসান ঘটে এবং ভুক্তভোগী পরিবারগুলো স্বাভাবিক জীবনে ফিরে যেতে পারে।