ঢাকা ০৯:২১ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
মালয়েশিয়ায় আন্তর্জাতিক সম্মেলনে ‘গ্লোবাল এক্সিলেন্স লিডারশিপ অ্যাওয়ার্ড ২০২৬’ পেলেন সংগীতশিল্পী লায়ন মো. ওমর ফারুক দক্ষিণ কেরানীগঞ্জে দুই কিশোরীকে ধর্ষণের অভিযোগ, পুলিশের সোর্স সাগর গ্রেপ্তার নবাবগঞ্জে ডিবি পুলিশের অভিযানে ইয়াবাসহ ৩ জন গ্রেপ্তার। আইইডিসিআর-এর পরিচালককে নিজ কার্যালয়ে মারধরের অভিযোগ আট বিভাগে বৃষ্টির আভাস, কমবে তাপমাত্রা এসআরবি-১৪, সিপিএসসি, ময়মনসিংহ এর পৃথক অভিযানে হত্যা ও অপহরণ মামলার ০২ আসামি গ্রেফতার। পুরান ঢাকায় এক পঙ্গু হতদরিদ্র ব্যক্তিকে হুইলচেয়ার উপহার দিলো ছাত্রদল নেতারা  হযরতপুরে চাচা হাজী দুঃখ মিয়া বিরুদ্ধে জাল দলিল ও জমি দখলের অভিযোগ তুলেছে ভাতিজা আলা. পুরান ঢাকার সফল সংগঠক মোস্তাকের জন্মদিন পালিত কেরানীগঞ্জে ডিবি পুলিশের অভিযানে ৫০ পিস ইয়াবাসহ একজন গ্রেপ্তার

কিশোরগঞ্জে ইউপি সচিবের সুদের খপ্পরে বিপর্যস্ত আরেক ইউপি সচিব

নিজস্ব প্রতিবেদক, কিশোরগঞ্জ
  • আপডেট সময় : ১০:০৩:৪৭ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৫ ডিসেম্বর ২০২৫
  • / 107

কিশোরগঞ্জে ইউপি সচিবের সুদের খপ্পরে বিপর্যস্ত আরেক ইউপি সচিব

আজকের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

সহকর্মীর কাছ থেকে নেওয়া ঋণের টাকা পরিশোধ করার পরও চেক জালিয়াতি ও সুদের খপ্পরে পড়ে সর্বস্বান্ত হওয়ার অভিযোগ উঠেছে কিশোরগঞ্জের অষ্টগ্রাম উপজেলার এক প্রশাসনিক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে। ভুক্তভোগী অবসরপ্রাপ্ত ইউপি সচিব আসাদুজ্জামান আসাদ বর্তমানে নিঃস্ব হয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। এই ঘটনার জেরে অর্থের অভাবে তার মেয়ের মেডিকেল কলেজের ভর্তি কার্যক্রম আটকে গেছে এবং শিক্ষাজীবন এক বছর পিছিয়ে গেছে।

অভিযুক্ত ব্যক্তির নাম কামরুজ্জামান খান শিরিন। তিনি অষ্টগ্রাম উপজেলার পূর্ব অষ্টগ্রাম ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক সচিব এবং বর্তমানে প্রশাসনিক কর্মকর্তা হিসেবে কর্মরত আছেন।

ভুক্তভোগী আসাদুজ্জামান আসাদ জানান, ২০১৯ সালের জুন মাসে তীব্র আর্থিক সংকটে পড়ে তিনি তার সহকর্মী কামরুজ্জামান খান শিরিনের কাছ থেকে ২ লাখ টাকা ধার নেন। জামানত হিসেবে শিরিন তার কাছ থেকে ৩ লাখ টাকার একটি চেক রেখে দেন। আসাদুজ্জামানের দাবি, পরের বছর অর্থাৎ ২০২০ সালের এপ্রিল মাসে তিনি ধারের ২ লাখ টাকা পরিশোধ করেন এবং শিরিনের দাবি অনুযায়ী সুদ বাবদ আরও ৯০ হাজার টাকা প্রদান করেন।

অভিযোগে বলা হয়, পাওনা ও অতিরিক্ত টাকা পাওয়ার পরও কামরুজ্জামান খান শিরিন জামানত হিসেবে রাখা চেকটি ফেরত দেননি। উল্টো চলতি বছরের ২৭ এপ্রিল আসাদুজ্জামানকে কিছু না জানিয়েই রূপালী ব্যাংক কিশোরগঞ্জ শাখা থেকে ওই চেকের মাধ্যমে আরও ৩ লাখ টাকা তুলে নেন শিরিন।

আসাদুজ্জামান আসাদ আক্ষেপ করে বলেন, “বিপদের সময় সহকর্মী ভেবে বিশ্বাস করে টাকা নিয়েছিলাম। কিন্তু সে আমার বিশ্বাস ভেঙে প্রতারণা করেছে। আসল ও সুদসহ টাকা দেওয়ার পরও আমার চেক দিয়ে ব্যাংক থেকে আরও ৩ লাখ টাকা তুলে আমাকে পথে বসিয়ে দিয়েছে। এখন অসুস্থ শরীর নিয়ে অর্থের চিন্তায় আমি দিশেহারা।”

এই জালিয়াতির সরাসরি প্রভাব পড়েছে আসাদের পরিবারের ওপর। আসাদের মেঝ মেয়ে ও বেসরকারি মেডিকেলের শেষ বর্ষের শিক্ষার্থী জান্নাতুল আইরিন দিলরুবা বলেন, “আমার বড় বোন আয়াতুল্লাহ সুরাইয়া ইভার মেডিকেলে ফরম পূরণের জন্য ব্যাংকে টাকা তুলতে গিয়ে দেখি অ্যাকাউন্টের ৩ লাখ টাকা গত ২৭ এপ্রিল তুলে নেওয়া হয়েছে। টাকার অভাবে আপুর ফরম পূরণ করা সম্ভব হয়নি, ফলে তার শিক্ষাজীবন এক বছর পিছিয়ে গেছে। বাবা এমনিতেই অসুস্থ, তার ওপর এই ঘটনায় তিনি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন।”

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে কামরুজ্জামান খান শিরিন তার বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ অস্বীকার করেন। তিনি বলেন, “আসাদুজ্জামান চেক জমা দিয়ে আমার কাছ থেকে ৩ লাখ টাকা নিয়েছিলেন, পরবর্তীতে আমি সেই চেক জমা দিয়ে টাকা তুলেছি।” ফোনে বিস্তারিত কথা বলতে অনিহা প্রকাশ করে তিনি বলেন, সাক্ষাতে এ বিষয়ে বিস্তারিত কথা বলবেন।

এ বিষয়ে অষ্টগ্রাম উপজেলার নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) দিলশাদ জাহান জানান, “এখন পর্যন্ত এ ঘটনায় কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। ভুক্তভোগী লিখিত অভিযোগ দিলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

কিশোরগঞ্জে ইউপি সচিবের সুদের খপ্পরে বিপর্যস্ত আরেক ইউপি সচিব

আপডেট সময় : ১০:০৩:৪৭ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৫ ডিসেম্বর ২০২৫

সহকর্মীর কাছ থেকে নেওয়া ঋণের টাকা পরিশোধ করার পরও চেক জালিয়াতি ও সুদের খপ্পরে পড়ে সর্বস্বান্ত হওয়ার অভিযোগ উঠেছে কিশোরগঞ্জের অষ্টগ্রাম উপজেলার এক প্রশাসনিক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে। ভুক্তভোগী অবসরপ্রাপ্ত ইউপি সচিব আসাদুজ্জামান আসাদ বর্তমানে নিঃস্ব হয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। এই ঘটনার জেরে অর্থের অভাবে তার মেয়ের মেডিকেল কলেজের ভর্তি কার্যক্রম আটকে গেছে এবং শিক্ষাজীবন এক বছর পিছিয়ে গেছে।

অভিযুক্ত ব্যক্তির নাম কামরুজ্জামান খান শিরিন। তিনি অষ্টগ্রাম উপজেলার পূর্ব অষ্টগ্রাম ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক সচিব এবং বর্তমানে প্রশাসনিক কর্মকর্তা হিসেবে কর্মরত আছেন।

ভুক্তভোগী আসাদুজ্জামান আসাদ জানান, ২০১৯ সালের জুন মাসে তীব্র আর্থিক সংকটে পড়ে তিনি তার সহকর্মী কামরুজ্জামান খান শিরিনের কাছ থেকে ২ লাখ টাকা ধার নেন। জামানত হিসেবে শিরিন তার কাছ থেকে ৩ লাখ টাকার একটি চেক রেখে দেন। আসাদুজ্জামানের দাবি, পরের বছর অর্থাৎ ২০২০ সালের এপ্রিল মাসে তিনি ধারের ২ লাখ টাকা পরিশোধ করেন এবং শিরিনের দাবি অনুযায়ী সুদ বাবদ আরও ৯০ হাজার টাকা প্রদান করেন।

অভিযোগে বলা হয়, পাওনা ও অতিরিক্ত টাকা পাওয়ার পরও কামরুজ্জামান খান শিরিন জামানত হিসেবে রাখা চেকটি ফেরত দেননি। উল্টো চলতি বছরের ২৭ এপ্রিল আসাদুজ্জামানকে কিছু না জানিয়েই রূপালী ব্যাংক কিশোরগঞ্জ শাখা থেকে ওই চেকের মাধ্যমে আরও ৩ লাখ টাকা তুলে নেন শিরিন।

আসাদুজ্জামান আসাদ আক্ষেপ করে বলেন, “বিপদের সময় সহকর্মী ভেবে বিশ্বাস করে টাকা নিয়েছিলাম। কিন্তু সে আমার বিশ্বাস ভেঙে প্রতারণা করেছে। আসল ও সুদসহ টাকা দেওয়ার পরও আমার চেক দিয়ে ব্যাংক থেকে আরও ৩ লাখ টাকা তুলে আমাকে পথে বসিয়ে দিয়েছে। এখন অসুস্থ শরীর নিয়ে অর্থের চিন্তায় আমি দিশেহারা।”

এই জালিয়াতির সরাসরি প্রভাব পড়েছে আসাদের পরিবারের ওপর। আসাদের মেঝ মেয়ে ও বেসরকারি মেডিকেলের শেষ বর্ষের শিক্ষার্থী জান্নাতুল আইরিন দিলরুবা বলেন, “আমার বড় বোন আয়াতুল্লাহ সুরাইয়া ইভার মেডিকেলে ফরম পূরণের জন্য ব্যাংকে টাকা তুলতে গিয়ে দেখি অ্যাকাউন্টের ৩ লাখ টাকা গত ২৭ এপ্রিল তুলে নেওয়া হয়েছে। টাকার অভাবে আপুর ফরম পূরণ করা সম্ভব হয়নি, ফলে তার শিক্ষাজীবন এক বছর পিছিয়ে গেছে। বাবা এমনিতেই অসুস্থ, তার ওপর এই ঘটনায় তিনি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন।”

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে কামরুজ্জামান খান শিরিন তার বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ অস্বীকার করেন। তিনি বলেন, “আসাদুজ্জামান চেক জমা দিয়ে আমার কাছ থেকে ৩ লাখ টাকা নিয়েছিলেন, পরবর্তীতে আমি সেই চেক জমা দিয়ে টাকা তুলেছি।” ফোনে বিস্তারিত কথা বলতে অনিহা প্রকাশ করে তিনি বলেন, সাক্ষাতে এ বিষয়ে বিস্তারিত কথা বলবেন।

এ বিষয়ে অষ্টগ্রাম উপজেলার নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) দিলশাদ জাহান জানান, “এখন পর্যন্ত এ ঘটনায় কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। ভুক্তভোগী লিখিত অভিযোগ দিলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”