ঢাকা ১২:২৩ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
মালয়েশিয়ায় আন্তর্জাতিক সম্মেলনে ‘গ্লোবাল এক্সিলেন্স লিডারশিপ অ্যাওয়ার্ড ২০২৬’ পেলেন সংগীতশিল্পী লায়ন মো. ওমর ফারুক দক্ষিণ কেরানীগঞ্জে দুই কিশোরীকে ধর্ষণের অভিযোগ, পুলিশের সোর্স সাগর গ্রেপ্তার নবাবগঞ্জে ডিবি পুলিশের অভিযানে ইয়াবাসহ ৩ জন গ্রেপ্তার। আইইডিসিআর-এর পরিচালককে নিজ কার্যালয়ে মারধরের অভিযোগ আট বিভাগে বৃষ্টির আভাস, কমবে তাপমাত্রা এসআরবি-১৪, সিপিএসসি, ময়মনসিংহ এর পৃথক অভিযানে হত্যা ও অপহরণ মামলার ০২ আসামি গ্রেফতার। পুরান ঢাকায় এক পঙ্গু হতদরিদ্র ব্যক্তিকে হুইলচেয়ার উপহার দিলো ছাত্রদল নেতারা  হযরতপুরে চাচা হাজী দুঃখ মিয়া বিরুদ্ধে জাল দলিল ও জমি দখলের অভিযোগ তুলেছে ভাতিজা আলা. পুরান ঢাকার সফল সংগঠক মোস্তাকের জন্মদিন পালিত কেরানীগঞ্জে ডিবি পুলিশের অভিযানে ৫০ পিস ইয়াবাসহ একজন গ্রেপ্তার

ডিজেল সংকটে বন্ধ হতে পারে মশা নিধনের ফগিং, চরম ভোগান্তিতে নগরবাসী

অনলাইন ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ০৬:২২:০৩ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৫ এপ্রিল ২০২৬
  • / 130
আজকের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি
রাজধানী ঢাকায় মশার উপদ্রব দিন দিন অসহনীয় পর্যায়ে পৌঁছেছে। এরই মধ্যে নতুন করে দেখা দিয়েছে ডিজেল সংকট, যা মশা নিধনের প্রধান কার্যক্রম ‘ফগিং’ বা ধোঁয়া ছিটানো বন্ধ হওয়ার আশঙ্কা তৈরি করেছে। ফলে নগরবাসীর দুর্ভোগ আরও বাড়ার শঙ্কা দেখা দিয়েছে। ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন সূত্রে জানা গেছে, ফগিং কার্যক্রম পরিচালনার জন্য বিপুল পরিমাণ ডিজেল প্রয়োজন। বর্তমানে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের প্রায় সোয়া তিন লাখ লিটার এবং দক্ষিণ সিটির প্রায় দুই লাখ লিটার ডিজেলের জরুরি চাহিদা রয়েছে। কিন্তু বাজারে ডিজেলের সংকট থাকায় প্রয়োজনীয় জ্বালানি সংগ্রহে হিমশিম খেতে হচ্ছে সংশ্লিষ্টদের। কীটনাশক সরবরাহকারীরা জানিয়েছেন, মশা মারার ওষুধের সঙ্গে মেশানোর জন্য প্রয়োজনীয় ডিজেল না পাওয়ায় উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। এতে করে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ওষুধ সরবরাহ না হলে ফগিং কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যেতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে মশার উপদ্রব আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। গত এক দশকে মশা নিয়ন্ত্রণে দুই সিটি কর্পোরেশন প্রায় ৮৩০ কোটি টাকা ব্যয় করেছে। চলতি অর্থবছরেও ১৫৪ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। তবুও মশা নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ফল আসেনি। বিভিন্ন সময়ে ড্রোন ব্যবহার, জলাশয়ে মাছ ও ব্যাঙ ছাড়া— এমন নানা উদ্যোগ নেওয়া হলেও সেগুলোও তেমন সফল হয়নি। এদিকে নগরবাসী অভিযোগ করছেন, নিয়মিত ফগিং কার্যক্রম চোখে পড়ে না। অনেক এলাকায় দিন-রাত মশার যন্ত্রণায় অতিষ্ঠ মানুষ বাধ্য হয়ে কয়েল জ্বালিয়ে বা মশারির মধ্যে থাকতে হচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শুধু ওষুধ ছিটিয়ে মশা নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয়। পরিবেশ পরিষ্কার রাখা, পানি জমে থাকা স্থান অপসারণ এবং জনসচেতনতা বাড়ানোর মাধ্যমে সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণ জরুরি। সিটি কর্পোরেশনের কর্মকর্তারা আশ্বাস দিয়েছেন, ডিজেল সংকট দ্রুত সমাধানের চেষ্টা চলছে এবং মশা নিধন কার্যক্রম চালু রাখতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। বর্তমান পরিস্থিতিতে ডিজেল সরবরাহ নিশ্চিত করা না গেলে রাজধানীতে মশার উপদ্রব আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করতে পারে— এমন আশঙ্কাই এখন নগরবাসীর মধ্যে সবচেয়ে বড় উদ্বেগ।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ডিজেল সংকটে বন্ধ হতে পারে মশা নিধনের ফগিং, চরম ভোগান্তিতে নগরবাসী

আপডেট সময় : ০৬:২২:০৩ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৫ এপ্রিল ২০২৬
রাজধানী ঢাকায় মশার উপদ্রব দিন দিন অসহনীয় পর্যায়ে পৌঁছেছে। এরই মধ্যে নতুন করে দেখা দিয়েছে ডিজেল সংকট, যা মশা নিধনের প্রধান কার্যক্রম ‘ফগিং’ বা ধোঁয়া ছিটানো বন্ধ হওয়ার আশঙ্কা তৈরি করেছে। ফলে নগরবাসীর দুর্ভোগ আরও বাড়ার শঙ্কা দেখা দিয়েছে। ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন সূত্রে জানা গেছে, ফগিং কার্যক্রম পরিচালনার জন্য বিপুল পরিমাণ ডিজেল প্রয়োজন। বর্তমানে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের প্রায় সোয়া তিন লাখ লিটার এবং দক্ষিণ সিটির প্রায় দুই লাখ লিটার ডিজেলের জরুরি চাহিদা রয়েছে। কিন্তু বাজারে ডিজেলের সংকট থাকায় প্রয়োজনীয় জ্বালানি সংগ্রহে হিমশিম খেতে হচ্ছে সংশ্লিষ্টদের। কীটনাশক সরবরাহকারীরা জানিয়েছেন, মশা মারার ওষুধের সঙ্গে মেশানোর জন্য প্রয়োজনীয় ডিজেল না পাওয়ায় উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। এতে করে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ওষুধ সরবরাহ না হলে ফগিং কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যেতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে মশার উপদ্রব আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। গত এক দশকে মশা নিয়ন্ত্রণে দুই সিটি কর্পোরেশন প্রায় ৮৩০ কোটি টাকা ব্যয় করেছে। চলতি অর্থবছরেও ১৫৪ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। তবুও মশা নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ফল আসেনি। বিভিন্ন সময়ে ড্রোন ব্যবহার, জলাশয়ে মাছ ও ব্যাঙ ছাড়া— এমন নানা উদ্যোগ নেওয়া হলেও সেগুলোও তেমন সফল হয়নি। এদিকে নগরবাসী অভিযোগ করছেন, নিয়মিত ফগিং কার্যক্রম চোখে পড়ে না। অনেক এলাকায় দিন-রাত মশার যন্ত্রণায় অতিষ্ঠ মানুষ বাধ্য হয়ে কয়েল জ্বালিয়ে বা মশারির মধ্যে থাকতে হচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শুধু ওষুধ ছিটিয়ে মশা নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয়। পরিবেশ পরিষ্কার রাখা, পানি জমে থাকা স্থান অপসারণ এবং জনসচেতনতা বাড়ানোর মাধ্যমে সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণ জরুরি। সিটি কর্পোরেশনের কর্মকর্তারা আশ্বাস দিয়েছেন, ডিজেল সংকট দ্রুত সমাধানের চেষ্টা চলছে এবং মশা নিধন কার্যক্রম চালু রাখতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। বর্তমান পরিস্থিতিতে ডিজেল সরবরাহ নিশ্চিত করা না গেলে রাজধানীতে মশার উপদ্রব আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করতে পারে— এমন আশঙ্কাই এখন নগরবাসীর মধ্যে সবচেয়ে বড় উদ্বেগ।