নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে বিনিয়োগের দাবিতে ময়মনসিংহে মানববন্ধন
- আপডেট সময় : ০৬:৫৪:৩৩ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৭ জুলাই ২০২৬
- / 69
নিজস্ব প্রতিবেদক, ময়মনসিংহ:
নগরীর সরকারি স্থাপনা ও জনসেবামূলক অবকাঠামোতে সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্থাপনের মাধ্যমে ময়মনসিংহকে ‘পরিচ্ছন্ন জ্বালানির শহর’ হিসেবে গড়ে তোলার দাবিতে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সোমবার সকালে নগরের টাউন হল প্রাঙ্গণে পরিবেশবাদী সংগঠন অন্যচিত্র ফাউন্ডেশন, ফোরাম অন ইকোলজি অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (এফইডি) ময়মনসিংহ, কোস্টাল লাইভলিহুড অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল অ্যাকশন নেটওয়ার্ক (ক্লিন) এবং বাংলাদেশ ওয়ার্কিং গ্রুপ অন ইকোলজি অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (বিডব্লিউজিইডি)-এর যৌথ উদ্যোগে এ কর্মসূচি পালন করা হয়। এতে পরিবেশকর্মী, উন্নয়নকর্মী, শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন।

মানববন্ধনে প্রতিবেশ ও উন্নয়ন ফোরামের সভাপতি সেলিমা বেগম বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় স্থানীয় সরকারকে নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে বিনিয়োগ বাড়াতে হবে। সরকারি ভবন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও হাসপাতালসহ জনসেবামূলক স্থাপনায় সৌরবিদ্যুৎ স্থাপন করলে বিদ্যুৎ ব্যয় কমার পাশাপাশি পরিবেশ সুরক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা সম্ভব।
অন্যচিত্র ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক রেবেকা সুলতানা বলেন, সিটি করপোরেশনের অধীন বাসস্ট্যান্ড, যাত্রীছাউনি, পার্ক, লেকের ওয়াকওয়ে, সরকারি ভবনের ছাদ, ব্রহ্মপুত্র নদের চর, জলাশয় ও অকৃষি খাস জমিতে সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প বাস্তবায়নের যথেষ্ট সম্ভাবনা রয়েছে। এসব প্রকল্প থেকে উৎপাদিত উদ্বৃত্ত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করে সিটি করপোরেশনের নতুন আয়ের উৎস তৈরি করা যেতে পারে।
উন্নয়নকর্মী ইমন সরকার বলেন, বিদ্যমান নেট মিটারিং সুবিধার কার্যকর ব্যবহার নিশ্চিত করা গেলে স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলো শুধু ভোক্তা নয়, বরং পরিচ্ছন্ন জ্বালানির উৎপাদক হিসেবেও ভূমিকা রাখতে পারবে। এতে জাতীয় বিদ্যুৎ ব্যবস্থার ওপর চাপ কমবে এবং জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা হ্রাস পাবে।
মানববন্ধন থেকে বক্তারা দ্রুত একটি সমন্বিত ‘সোলার সিটি’ কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন, সিটি করপোরেশনের আওতাধীন উপযোগী স্থাপনাগুলোকে পর্যায়ক্রমে সৌরবিদ্যুতের আওতায় আনা এবং ময়মনসিংহকে দেশের পরিচ্ছন্ন জ্বালানিনির্ভর নগর হিসেবে গড়ে তোলার আহ্বান জানান।
বক্তারা বলেন, নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে বিনিয়োগ কোনো ব্যয় নয়; বরং এটি দীর্ঘমেয়াদে অর্থনৈতিকভাবে লাভজনক, পরিবেশবান্ধব ও টেকসই উন্নয়নের ভিত্তি।



















